পাকিস্তান বালোচিস্তান সংকট: বালোচিস্তান পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে! আসিম মুনিরকে পরোক্ষ কটাক্ষ ফজলুর রহমানের
সকাল সকাল ডেস্ক বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদকে তীব্র আক্রমণ, সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে বললেন—‘রাজনীতি করতে চাইলে উর্দি খুলে ভোটে নামুন’ Pakistan Balochistan Crisis আরও জটিল হয়ে উঠছে। বালোচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সশস্ত্র হামলার বৃদ্ধি এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান অসন্তোষের আবহে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (ফজল)-এর প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান প্রকাশ্যে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও পরোক্ষ কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। Pakistan Balochistan Crisis ঘিরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন পঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফজলুর রহমান দাবি করেন, বালোচিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁর অভিযোগ, বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ বাড়ার পর থেকেই প্রশাসনের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়েছে এবং বর্তমানে বহু অঞ্চলে সরকারের উপস্থিতি কার্যকর নয়। ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের বহু এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হামলা, অপহরণ এবং প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তাঁর কথায়, “দেশ ভেঙে পড়ছে, অথচ শাসকরা নীরব। কয়েক দিনের মধ্যেই পঞ্চাশেরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।” তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা জনসভায় সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর মন্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফজলুর রহমান বলেন, “যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে আগে উর্দি খুলে নির্বাচনে অংশ নিন। তখনই বোঝা যাবে জনগণ উর্দিধারীদের কতটা সমর্থন করে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের প্রভাব ও নেপথ্য ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বালোচিস্তানে বাড়ছে সহিংসতা ও নিরাপত্তা সংকট ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, বালোচিস্তানে ধারাবাহিক হামলা, অপহরণ এবং প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য, “দেশ ভেঙে পড়ছে, অথচ শাসকরা নীরব। কয়েক দিনের মধ্যেই পঞ্চাশেরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।” তবে এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরছে না এবং নিরাপত্তা সংকটের গুরুত্ব আড়াল করার চেষ্টা করছে। খাইবার পাখতুনখোয়াতেও বাড়ছে উদ্বেগ শুধু Pakistan Balochistan Crisis নয়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফজলুর রহমান। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান নিরাপত্তা নীতি কার্যকর নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সাধারণ মানুষকে অস্ত্র ধরার আহ্বান নিয়ে আপত্তি নিরাপত্তা কৌশল প্রসঙ্গেও তিনি কড়া মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান অত্যন্ত বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বিভাজন, প্রতিশোধের রাজনীতি এবং নতুন সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও বাড়ছে অসন্তোষ এদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’-র উদ্যোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপের আহ্বানও তোলেন। Background বিগত কয়েক বছরে বালোচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে নাশকতার ঘটনা বেড়েছে। একই সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায়ও জঙ্গি হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। Impact বিশ্লেষকদের মতে, Pakistan Balochistan Crisis-এর পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি ইসলামাবাদের উপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ফজলুর রহমানের মন্তব্য ভবিষ্যতে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। Official Statement এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফজলুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। Public Information বালোচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ হলেও দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদ, নিরাপত্তা অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই সংকটকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়েওলের ২ বছরের কারাদণ্ড, অবৈধ মতামত সমীক্ষা মামলায় দোষী
সকাল সকাল ডেস্ক রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ইউন সুক ইয়েওল, বাজেয়াপ্তের নির্দেশও আদালতের দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়েওল-কে অবৈধভাবে বিনামূল্যে মতামত সমীক্ষা গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালত। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ওন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক তহবিল আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কী অভিযোগ ছিল ইউন সুক ইয়েওলের বিরুদ্ধে? দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মিন জং-কির নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল অভিযোগ করে, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে ইউন সুক ইয়েওল এবং তাঁর স্ত্রী কিম কেওন হি রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী মিউং তে-কিউনের কাছ থেকে মোট ৫৮টি মতামত সমীক্ষা বিনামূল্যে গ্রহণ করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই সমীক্ষাগুলির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি ওন। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমীক্ষাগুলি বিনামূল্যে গ্রহণ করায় তা রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের সামিল বলে অভিযোগ করা হয়। আদালত কী বলল? আদালত অবশ্য তদন্তকারী সংস্থার সমস্ত অভিযোগ গ্রহণ করেনি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৫৮টি নয়, ১৪টি মতামত সমীক্ষা বিনামূল্যে গ্রহণের অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের মতে, এই সমীক্ষাগুলি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলি কার্যত অবৈধ রাজনৈতিক অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। সেই কারণেই ইউন সুক ইয়েওলকে রাজনৈতিক তহবিল আইন ভঙ্গের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রতিশ্রুতির অভিযোগ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মতামত সমীক্ষার বিনিময়ে ইউন সুক ইয়েওল ২০২২ সালের জুন মাসের সংসদীয় উপনির্বাচনে রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী কিম ইয়ং-সনের মনোনয়নে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আদালতের মতে, রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেন কঠোর সাজা দিল আদালত? রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, একজন জাতীয় নেতার কাছ থেকে জনগণ সর্বোচ্চ নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করে। কিন্তু ইউন সুক ইয়েওলের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকে দুর্বল করেছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ওন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা? একই মামলায় অভিযুক্ত রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী মিউং তে-কিউনকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। যদিও সরকারি কৌঁসুলিরা ইউন সুক ইয়েওলের জন্য চার বছর এবং মিউং তে-কিউনের জন্য তিন বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, ইউন সুক ইয়েওলের স্ত্রী ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি কিম কেওন হির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও সিউল হাই কোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আপিল করেছে সরকারি কৌঁসুলিপক্ষ। আইনি লড়াই এখনও শেষ নয় ইউন সুক ইয়েওলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমান রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। ফলে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউন সুক ইয়েওল ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে ঘিরে বিদ্রোহের অভিযোগে আরেকটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। সেই মামলার আপিলও বিচারাধীন রয়েছে। রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু ইউন সুক ইয়েওলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চিত করেনি, বরং দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল রাজনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থায়ন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং জনজবাবদিহি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
Bangkok Pub Fire: ব্যাঙ্ককের পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু, বহু আহত
সকাল সকাল ডেস্ক রাতের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল বিভীষিকায়, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখছে থাইল্যান্ড প্রশাসন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ব্যাঙ্কক পাব ফায়ার-এর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা থাইল্যান্ডে। কীভাবে ঘটল অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় সময় রবিবার গভীর রাত প্রায় ১টা নাগাদ ব্যাঙ্ককের ওই পানশালায় আগুন লাগার খবর পায় দমকল বাহিনী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পানশালার একাংশ আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। ভিতরে আটকে পড়া বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। দমকল বাহিনীর দাবি, দ্রুত অভিযান চালানোর ফলে আগুন পাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোখা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ত্রিশ মিনিটের প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ কয়েকজন আহতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকের শরীরে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন কীভাবে লাগল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না এবং পানশালায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে তৎপর দমকল ও প্রশাসন ঘটনার পরপরই দমকল, পুলিশ এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত বাইরে বের করে আনা হয়। আহতদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। সরকারের প্রতিক্রিয়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য হাসপাতালগুলিতে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি: ৭ বড় বার্তা, বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার ঘোষণা, বাড়ল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর প্রথম বড় বার্তা নতুন সর্বোচ্চ নেতার। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ‘প্রতিশোধ’-এর অঙ্গীকারে নতুন করে চর্চায় পশ্চিম এশিয়া। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে’। তাঁর দাবি, এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, বরং ইরানি জাতির দাবি এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, “প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের জাতির দাবি এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় ইরানের কাছে রয়েছে এবং কেউই জবাবদিহি এড়াতে পারবে না। ‘শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে’ প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে উদ্দেশ করে মোজতবা খামেনি বলেন, “আমরা শপথ করছি, অপরাধীদের কাছ থেকে আপনার পবিত্র রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধের সব শহীদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এই প্রতিশোধ কোনও একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করছে না। তাঁর কথায়, “আমরা বেঁচে থাকি বা না থাকি, এই প্রতিজ্ঞা পূরণ করা হবে।” ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পাল্টা বার্তা মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও হত্যাচেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক জবাব দেবে। ট্রাম্পের ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধের বার্তা সামনে আসায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ট্রাম্পকে হত্যার আশঙ্কা নিয়ে বিতর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনও নতুন বা নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। জনসমক্ষে আসেননি নতুন সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনও পর্যন্ত মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় তিনি আহত হয়েছিলেন। তবে এই দাবির স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। কোনও ভিডিও ভাষণ বা প্রকাশ্য বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক মন্তব্য ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদিও বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে, তবুও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির জেরে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। পটভূমি সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রকাশিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নতুন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। জনসাধারণের জন্য তথ্য আন্তর্জাতিক সংঘাত-সংক্রান্ত খবরের ক্ষেত্রে যাচাই করা সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করা উচিত। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত যাচাইবিহীন তথ্য থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সংক্ষিপ্ত সারাংশ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর এই বিবৃতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লিন্ডসে গ্রাহামের প্রয়াণ: ৭ বড় তথ্য, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর, শোকস্তব্ধ যুক্তরাষ্ট্র
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনের অবসান। রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকের ছায়া মার্কিন রাজনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা এবং সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ৭১ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। শনিবার (স্থানীয় সময়) তাঁর কার্যালয় এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। যদিও তাঁর অসুস্থতার প্রকৃতি বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কঠিন সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সকলের কাছে তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনার আবেদনও করা হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে ২০১৬ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের সময় তিনি ট্রাম্পের নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই নেতার সম্পর্কের বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে গ্রাহাম ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হন এবং কংগ্রেসে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে মার্কিন রাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতারাই তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং জনসেবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মৃত্যুর সময় লিন্ডসে গ্রাহাম মার্কিন সিনেটের বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি অর্থ বরাদ্দ কমিটি, বিচারবিষয়ক কমিটি এবং পরিবেশ ও গণপূর্তবিষয়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। বিচারপতি নিয়োগ, বাজেট এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান লিন্ডসে গ্রাহাম ১৯৯৪ সালে প্রথমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০২ সালে সাউথ ক্যারোলিনা থেকে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ২০০৩ সাল থেকে টানা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা, বাজেট এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। সমালোচক থেকে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ২০১৬ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই নেতার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীতে পরিণত হন এবং কংগ্রেসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও আইন প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় দৃঢ় অবস্থান লিন্ডসে গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইরান, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বরাবরই কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের প্রশ্নেও তিনি রিপাবলিকান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন মৃত্যুর সময় তিনি মার্কিন সিনেটের বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দ, বিচারবিষয়ক এবং পরিবেশ ও গণপূর্ত-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য ছিলেন। বাজেট প্রণয়ন, বিচারপতি নিয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ব্যক্তিগত জীবন লিন্ডসে গ্রাহাম অবিবাহিত ছিলেন। তিনি সাউথ ক্যারোলিনার সেনেকা শহরের বাসিন্দা ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে তিনি স্পষ্টভাষী, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং দৃঢ়চেতা নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর পর কী হবে? মার্কিন আইন অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর ফলে সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটের আসনটি শূন্য হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর একজন অস্থায়ী সিনেটর নিয়োগ করবেন। পরে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে ওই আসনের নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন রিপাবলিকান দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য লিন্ডসে গ্রাহামের কার্যালয় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। পরিবার সকলের কাছে প্রার্থনা চেয়েছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা শোক প্রকাশ করেছেন। জনসাধারণের জন্য তথ্য মার্কিন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, কোনও সিনেটরের মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অস্থায়ী নিয়োগ দিতে পারেন। পরবর্তীতে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। সংক্ষিপ্ত সারাংশ রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা ও মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইন অনুযায়ী, তাঁর শূন্য আসনে প্রথমে অস্থায়ী নিয়োগ এবং পরে বিশেষ নির্বাচন হবে।
টাইফুন বাভির তাণ্ডব: ৫ বড় প্রভাব, চীনে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড়, ফিলিপাইনে মৃত ১৭, তাইওয়ানে আহত ১৩৪
সকাল সকাল ডেস্ক ঝেজিয়াংয়ে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার বেগে আঘাত, ১৭ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে; পূর্ব এশিয়াজুড়ে জারি উচ্চ সতর্কতা। শক্তিশালী টাইফুন বাভি পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শনিবার রাতে চীনের পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং প্রদেশে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। প্রবল ঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একই সময়ে টাইফুনের প্রভাবে ফিলিপাইনে ভূমিধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাইওয়ানে আহত হয়েছেন ১৩৪ জন। তিন দেশেই জোরকদমে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থলভাগে আঘাত হানে টাইফুন বাভি। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়টির কেন্দ্রে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি কিছুটা কমলেও আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয় বড় ঘূর্ণিঝড়ে নতুন সংকটে চীন মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে এটি চীনে আঘাত হানা দ্বিতীয় বড় ঘূর্ণিঝড়। এর আগে ‘মায়সাক’ দক্ষিণ চীনের একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছিল। ফলে নতুন করে বাভির আঘাতে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন আরও তৎপর হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পূর্ব চীনের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শতাধিক বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। বহু রেলপথে ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া ফেরি পরিষেবা, স্কুল, কলেজ এবং একাধিক সরকারি অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনঝু শহরের বাসিন্দা হুয়াং জিংহুয়ান জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই তিনি পরিবারের জন্য কয়েক দিনের খাদ্য, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করেছেন। তাঁর কথায়, অতীতেও একাধিক টাইফুনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চললেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝেজিয়াং-সহ একাধিক প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। চীনের চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কমলা সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে। বিমান, ট্রেন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শতাধিক বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। বহু রেলপথে ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ফেরি পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ এবং একাধিক সরকারি দপ্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনে ভূমিধসে মৃত্যু ১৭ টাইফুনের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর জেরে পাহাড়ি অঞ্চলে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি হিসাবে, অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী, দমকল ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। তাইওয়ানে আহত ১৩৪, সরানো হয়েছে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ তাইওয়ানেও প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ আহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪ হাজার ২১০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তাইচুং শহর এবং হুয়ালিয়েন কাউন্টি থেকে ব্যাপক সংখ্যক বাসিন্দাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্কুল, সরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অধিকাংশ রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও সতর্কতা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি ধীরে ধীরে কমলেও এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন চীন, তাইওয়ান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, প্রবল দমকা হাওয়া এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির প্রশাসন উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করা এবং সরকারি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বর্ষাকালে একাধিক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের ঝড়ের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রভাব সরকারি বক্তব্য চীনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুন বাভির শক্তি ধীরে ধীরে কমলেও আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি ও প্রবল দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের জন্য তথ্য সংক্ষিপ্ত সারাংশ টাইফুন বাভি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে আছড়ে পড়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ফিলিপাইনে ভূমিধসে ১৭ জনের মৃত্যু এবং তাইওয়ানে ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। পূর্ব এশিয়াজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
পাকিস্তানের জনসংখ্যা সংকট: ৭ বড় কারণে নতুন কমিটিতে সেনাপ্রধান আসিম মুনির, কেন এই সিদ্ধান্ত?
সকাল সকাল ডেস্ক ঋণের চাপ, দ্রুত বাড়ছে জনসংখ্যা, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় কমিটিতে সেনাপ্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করায় শুরু বিতর্ক। গভীর অর্থনৈতিক সংকট, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এখন পাকিস্তানের সামনে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসলামাবাদ জনসংখ্যা-সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাব মূল্যায়নের জন্যই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের মতে, বিষয়টি শুধু পরিবার পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জাতীয় উন্নয়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জনসংখ্যা বৃদ্ধিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৫ কোটিরও বেশি। জনসংখ্যার বিচারে দেশটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই পাকিস্তান বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক জনবহুল দেশে পরিণত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন, খাদ্য নিরাপত্তা, পানীয় জল, জ্বালানি ও অবকাঠামোর ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতির ওপর বাড়ছে চাপ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং আন্তর্জাতিক ঋণনির্ভর অর্থনীতির সমস্যায় ভুগছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর তুলনায় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন কমিটিতে সেনাপ্রধান? এই সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। সরকারের বক্তব্য, জনসংখ্যা বৃদ্ধি কেবল সামাজিক সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সামরিক নেতৃত্বের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই কমিটি গঠনের সময় পাকিস্তান একাধিক নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। বালুচিস্তানে জঙ্গি হামলা, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে সামরিক নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর অন্যতম কারণ। সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, জনসংখ্যা-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী কমিটিতে সেনাপ্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে। পাকিস্তানি সাংবাদিক আসাদ তুর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে বহু ব্যবহারকারী ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন একাংশের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সরকার বিভিন্ন মন্ত্রক, প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রতিফলন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সব মিলিয়ে, ঋণের চাপ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংকট—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পাকিস্তানের নতুন কমিটি আগামী দিনে কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে দেশ-বিদেশের পর্যবেক্ষকদের। পটভূমি পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট, বৈদেশিক ঋণ এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যায় ভুগছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দেশটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য পাকিস্তান সরকারের দাবি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এই কমিটিতে সামরিক নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনসাধারণের জন্য তথ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই চার ক্ষেত্রের সমন্বিত উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে যে কোনও দেশের টেকসই অগ্রগতির ভিত্তি বলে বিশেষজ্ঞদের মত। সংক্ষিপ্ত সারাংশ দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাকিস্তান নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটিতে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে অন্তর্ভুক্ত করায় দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাম্পকে হত্যা করা হলে কী হবে? পরমাণু হামলা নাকি সামরিক প্রত্যাঘাত—মার্কিন উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ৭ বড় তথ্য
সকাল সকাল ডেস্ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর নতুন করে চর্চায় মার্কিন সংবিধান। প্রেসিডেন্ট নিহত হলে কার হাতে যায় ক্ষমতা, কীভাবে হয় সামরিক সিদ্ধান্ত—রইল বিস্তারিত। পশ্চিম এশিয়াকে ঘিরে উত্তেজনার আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনও হত্যাচেষ্টা সফল হয়, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য আগাম নির্দেশ দিয়ে রাখা হয়েছে। এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিহত হলে কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বা পরমাণু হামলা শুরু হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন সংবিধান ও আইনে এমন কোনও বিধান নেই, যেখানে প্রেসিডেন্টের মৃত্যু ঘটলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ শুরু হবে। বরং ক্ষমতা হস্তান্তর এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে কেন বাড়ল বিতর্ক? নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ইরান তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর বক্তব্য, এমন ঘটনা ঘটলে মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্রুত জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে এবং সে জন্য আগাম নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানির নিহত হওয়ার ঘটনা। সেই সময় থেকেই ইরানের বিভিন্ন শীর্ষ নেতা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। মার্কিন আইনে কী রয়েছে? মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী এবং ১৯৪৭ সালের প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের মৃত্যু, পদত্যাগ বা দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিলম্বে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কিছু ঘটলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এরপর গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক মূল্যায়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকবে। পরমাণু হামলা কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট—না। মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কেবল দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। কোনও প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত নির্দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না। অর্থাৎ নতুন প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন—সামরিক অভিযান হবে, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে, নাকি অন্য কোনও কৌশল গ্রহণ করা হবে। সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার পরিকল্পনা কী? মার্কিন প্রশাসনের কাছে ‘সরকারের ধারাবাহিকতা’ নামে একটি গোপন জরুরি পরিকল্পনা রয়েছে। যুদ্ধ, সন্ত্রাসী হামলা বা বড় জাতীয় সংকটের মধ্যেও সরকার যাতে কার্যকর থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কংগ্রেস এবং সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিধান রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার নির্দেশ এই পরিকল্পনার অংশ নয়। আগের প্রেসিডেন্টের নির্দেশ কি বাধ্যতামূলক? নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোনও প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যৎ প্রশাসনের জন্য সামরিক পরিকল্পনা রেখে যেতে পারেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। নতুন প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নতুন কৌশলও গ্রহণ করতে পারেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার ব্যবস্থা? মার্কিন প্রশাসনে ক্ষমতার শূন্যতা এড়াতে বহুস্তরীয় উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্টের পর প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার, সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোর এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও উত্তরাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে যে কোনও সংকটেও প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বাড়ছেই ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও আপাতত উত্তেজনা প্রশমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সংঘাত সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সম্ভাব্য হামলার জবাবে আগাম সামরিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী ভবিষ্যতের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকবে। জনসাধারণের জন্য তথ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট নিহত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ বা পারমাণবিক হামলা শুরু হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। এ ধরনের বিষয়ে শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর নির্ভর করা উচিত। সংক্ষিপ্ত সারাংশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে মার্কিন উত্তরাধিকার ব্যবস্থা। প্রেসিডেন্ট নিহত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ শুরু হয় না; নতুন প্রেসিডেন্টই সংবিধান অনুযায়ী সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
Hormuz Strait Crisis: 7 বড় প্রভাব, হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক ইরানের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা; বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে। Hormuz Strait Crisis ঘিরে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। ফলে পরিস্থিতির অবনতি হলে শুধু পশ্চিম এশিয়াই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, তেলের বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে এবং সংঘাত এড়াতে সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে। ## হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের অবস্থান ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। ইরানের দাবি, তাদের নির্দেশিত নৌপথ অনুসরণ না করায় একটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় জাহাজের ইঞ্জিনরুমে ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। একজন নাবিক নিখোঁজ থাকার কথাও জানানো হয়েছে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে তাদের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। একই সঙ্গে যেকোনও সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ## পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও সামরিক উত্তেজনা ইরানের ঘোষণার পর মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর দাবি করেছে। মার্কিন পক্ষের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। এদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। ## কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী? Hormuz Strait Crisis-এর অন্যতম কারণ এই জলপথের কৌশলগত গুরুত্ব। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে— ## আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ পরিস্থিতির জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলিও বিকল্প রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। জাতিসংঘ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও এখনও পর্যন্ত ইরান ও আমেরিকার অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি। ## বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি Hormuz Strait Crisis দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বজুড়ে পরিবহণ খরচ, শিল্প উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়তে পারে। তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ## Background হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহণ করিডর হিসেবে এটি বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। অতীতে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একাধিকবার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ## Impact ## Official Statement ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাদের সামরিক পদক্ষেপ। ## Public Information Featured Snippet (40–50 Words) Hormuz Strait Crisis ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
Bangladesh Rain Alert: 7 বড় প্রভাব, ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন ঢাকা, জারি অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা
সকাল সকাল ডেস্ক টানা বর্ষণে হাঁটু থেকে কোমর জল ঢাকার বহু এলাকায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে প্রশাসনের সতর্কতা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা টানা বর্ষণের জেরে কার্যত জলমগ্ন। Bangladesh Rain Alert-এর মধ্যে রবিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান জলে ডুবে যায়। নিচু এলাকায় কোথাও কোথাও জলস্তর ৩ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে গিয়েছে এবং অনেক ছোট ব্যবসায়ী দোকান খুলতে পারেননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও উপস্থিতির হার কম ছিল। হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদেরও গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। বহু অফিসে কর্মীরা দেরিতে পৌঁছেছেন অথবা বাড়ি থেকেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জলমগ্ন রাস্তায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে। খোলা ম্যানহোল, বিদ্যুতের তার এবং জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার জন্যও নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। ## ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, থমকে জনজীবন সকালের ব্যস্ত সময়েই রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক, গলি ও আবাসিক এলাকায় জল জমে যায়। বহু মানুষ বাড়ি থেকে বেরোতে পারেননি। যারা বেরিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই মাঝপথে আটকে পড়েন। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গণপরিবহনের একাংশ জলমগ্ন রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে শহরের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ## Bangladesh Rain Alert: আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা-সহ দেশের একাধিক বিভাগে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই দেশের অধিকাংশ এলাকায় এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। ## জলাবদ্ধতার নেপথ্যে কী কারণ? নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় সামান্য সময়ের ভারী বর্ষণেই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থা। বহু নর্দমা ও ড্রেন প্লাস্টিক ও আবর্জনায় ভরে থাকায় বৃষ্টির জল দ্রুত নেমে যেতে পারে না। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণ, খাল ও জলাধার ভরাট এবং প্রাকৃতিক জলনিকাশের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ## ব্যবসা, শিক্ষা ও জরুরি পরিষেবায় বড় প্রভাব ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে এবং অনেক ছোট ব্যবসায়ী দোকান খুলতেই পারেননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উপস্থিতির হার কম ছিল। হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদেরও গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক অফিসে কর্মীরা দেরিতে পৌঁছেছেন অথবা বাড়ি থেকেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ## প্রশাসনের সতর্কতা ও নাগরিকদের জন্য পরামর্শ জলমগ্ন রাস্তায় খোলা ম্যানহোল, বিদ্যুতের তার এবং জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকা এবং জলমগ্ন রাস্তা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর জলস্তরও বাড়তে শুরু করেছে। যদিও এখনও বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলিকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ## Background বাংলাদেশে বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রায়ই ভারী বৃষ্টিপাত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং নিকাশি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। ## Impact ## Official Statement বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে নতুন সতর্কতা জারি করা হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ## Public Information