বার্লিনে উৎসবের ভিড়ে গাড়ি তুলে হামলা, নিহত ১, আহত অন্তত ১৬
সকাল সকাল ডেস্ক বার্লিন: জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ভিড়ের মধ্যে একটি গাড়ি উঠে যাওয়ার ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাকে সম্ভাব্য হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে জার্মান পুলিশ। শনিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গ গেট সংলগ্ন টিয়ারগার্টেনের দক্ষিণাংশে এই ঘটনা ঘটে। হতাহতের পরপরই অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং উপস্থিত মানুষকে শান্তভাবে এলাকা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাগেস স্পিগেল পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একটি সাদা রঙের ছোট গাড়ি হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। একাধিক মানুষকে চাপা দেওয়ার পর সেটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রোববার তিনি বলেন, অভিযুক্তকে ধরতে শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ওই ব্যক্তির ‘ইসলামিক বলয়ের’ সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ঘটনাস্থলের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে ২৫০টিরও বেশি যানবাহন প্রতিরোধক নিরাপত্তা ব্যারিয়ার বসানো ছিল এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিও চলছিল। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে একটি গাড়ি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। ঘটনার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা চালানো হয়। পুলিশি হেলিকপ্টার নিচু দিয়ে টহল দেয়, সার্চলাইট ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয় এবং ড্রোন মোতায়েন করা হয়। জার্মান পার্লামেন্ট ভবন রাইখস্টাগ সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়। ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ জার্মানিতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সমঅধিকার, বৈষম্যের অবসান এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার দাবিতে পালিত একটি বার্ষিক উৎসব। এ উপলক্ষে বার্লিন ও কোলনে সবচেয়ে বড় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস একে “ভয়ংকর অপরাধ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনারও এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি আমাদের স্বাধীন ও উন্মুক্ত সমাজের ওপর সরাসরি আঘাত। শান্তিপূর্ণ ও বর্ণিল এই সমাবেশকে নৃশংসভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।”
মিলেই ও নেতানিয়াহুর সমর্থনে ব্রাজিলে নির্বাচনী প্রচার শুরু ফ্লাভিও বলসোনারোর
সকাল সকাল ডেস্ক ব্রাসিলিয়া: ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ একাধিক বিদেশি নেতার সমর্থন পেয়েছেন তিনি। শনিবার লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন ফ্লাভিও। সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি দলীয় সম্মেলন নয়, বরং আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা। এটি ভালো ও মন্দের মধ্যকার এক সংগ্রাম।” সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় ফ্লাভিও বলসোনারো এখনও প্রেসিডেন্ট লুলার থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিতর্ক ও ধারাবাহিক ধাক্কার কারণে তাঁর প্রচারাভিযানও প্রত্যাশিত গতি পায়নি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থনের বার্তা তুলে ধরা হলেও ব্রাজিলের মূলধারার বহু রাজনৈতিক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। মধ্য-ডানপন্থী দলগুলির বড় অংশও এখনও ফ্লাভিওর প্রচার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। কারাবন্দি থাকায় সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। তাঁর পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে হাভিয়ের মিলেই প্রেসিডেন্ট লুলার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ফ্লাভিও বলসোনারোই ব্রাজিলকে “সমাজতন্ত্রের হাত” থেকে রক্ষা করতে পারবেন। ব্রাজিল সফরে এসে তিনি সাও পাওলোর গভর্নর তারসিসিও দে ফ্রেইতাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তায় ফ্লাভিওকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আপনি ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য একজন অসাধারণ ব্যক্তি এবং আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বেরও দৃঢ় সমর্থক।” এদিকে প্রেসিডেন্ট লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী ২ আগস্ট জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করছে। সেখানে ৮০ বছর বয়সি লুলার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লাভিও বলসোনারো ও তাঁর শিবিরের বিরুদ্ধে সমালোচনাও বাড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিদেশি সমর্থন কামনা করছেন, যা অনেকের মতে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত। এছাড়া, বাবার মতোই ফ্লাভিওও ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাঁরা দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্বাচন-সংক্রান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে ট্রাম্পের বিরোধিতাও করব: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি বা সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করতেও পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া তাঁর প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। বার্নহ্যাম জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক ইতিবাচক ছিল এবং ট্রাম্পকে তাঁর কাছে ‘খুবই আন্তরিক’ মনে হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ওপর তিনি আস্থা রাখেন কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, তাই বাস্তবতার নিরিখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সোমবার সম্প্রচারিত হতে যাওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, “আমি কখনও বলতে পারি না যে ট্রাম্পের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য হবে না। ব্রিটেনের স্বার্থে প্রয়োজন হলে অবশ্যই ভিন্ন মত প্রকাশ করব।” নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেই অবস্থান বদলাবে না। দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে বার্নহ্যাম স্পষ্ট বলেন, “অবশ্যই। যে কোনও সরকারের প্রথম দায়িত্ব নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।” ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর কাছে যা সঠিক বলে মনে হবে, তা বলতে তিনি কখনও দ্বিধা করবেন না। তবে প্রতিরক্ষা খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের প্রথম লক্ষ্য হবে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। চলতি বছরের শেষের দিকে বাজেট ঘোষণার আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণ হবে কি না—এই প্রশ্নে বার্নহ্যাম বলেন, “আমাদের সেই পথ খুঁজে বের করতেই হবে।” এদিকে ২০২৯ সালের আগে আগাম সাধারণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে দেশের মানুষ নতুন নির্বাচন চায় না। তাই সরকারের মূল লক্ষ্য হবে দেশকে স্থিতিশীল করা এবং উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনা।
জার্মানিতে বাড়ির ছাদে ভেঙে পড়ল ব্যক্তিগত বিমান, নিহত ২
সকাল সকাল ডেস্ক বার্লিন: জার্মানির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার একটি ছোট ব্যক্তিগত বিমান আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির ছাদে ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওল্ডেনবুর্গের কাছে গ্যান্ডারকেজে এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি একটি বাড়ির ঢালু ছাদে সজোরে আছড়ে পড়ে এবং ছাদের ভিতরে ঢুকে যায়। প্রথমে পুলিশ জানিয়েছিল, বিমানে থাকা দুই আরোহীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অপরজন নিখোঁজ রয়েছেন। পরে ধ্বংসাবশেষ সরানোর দীর্ঘ ও জটিল অভিযানের পর নিশ্চিত করা হয়, দুর্ঘটনায় দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বয়স যথাক্রমে ৬৫ ও ৭৭ বছর। তাঁরা দু’জনেই জার্মানির ব্রেমেন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাড়িগুলি খালি করে দেওয়া হয়। ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বালোচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ে হামলা, খাইবার পাখতুনখোয়ায় চেকপোস্ট উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা; নিহত ৪ জঙ্গি
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অশান্ত দুই প্রদেশ বালোচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদিকে বালোচিস্তানের নুশকি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় কনভয়ে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি নিরাপত্তা চেকপোস্ট উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে চার জঙ্গিকে হত্যা করার দাবি করেছে পাকিস্তান সেনা। দ্য বালোচিস্তান পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নুশকি জেলার বাটু এলাকার কাছে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীরা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় কনভয়ের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। কনভয়টি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে নুশকি শহরের দিকে যাচ্ছিল। হামলায় পাকিস্তান সেনার কয়েকজন সদস্য নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও সরকারি ভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি। হামলার সময় কনভয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে পুলিশ উপ-কমিশনারের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। উল্লেখ্য, দুই দিন আগেই নুশকি শহরের কাছে একই ধরনের হামলায় তিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছিলেন। নুশকি জেলায় সক্রিয় স্বাধীনতাকামী বালোচ বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনও কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি। এদিকে দুনিয়া নিউজ-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে পাকিস্তান সেনার জনসংযোগ শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলায় শনিবার জঙ্গিরা একটি নিরাপত্তা চেকপোস্টে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। আইএসপিআর-এর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী সময়মতো হামলা প্রতিহত করে এবং আত্মঘাতী হামলাকারীর বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে। পরে বিস্ফোরণে আত্মঘাতী হামলাকারীর মৃত্যু হয়। সেনার দাবি, গাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর বাকি তিন জঙ্গি পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী ওই ভবন ঘিরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকেই গুলি করে হত্যা করে। পাকিস্তান সেনার মতে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আর মাত্র ছয় দিন, শেষ তারিখ ৩১ জুলাই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : আয়করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (মূল্যায়ন বর্ষ ২০২৬-২৭) জন্য আইটিআর জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি রয়েছে। আয়কর বিভাগ শনিবার এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে করদাতাদের উদ্দেশে জানিয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য আইটিআর–১ এবং আইটিআর–২ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জমা দিতে হবে। বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি আয়কর ই–ফাইলিং পোর্টালে গিয়ে ৩১ জুলাইয়ের আগে রিটার্ন জমা দিলে কোনও জরিমানা দিতে হবে না। আয়কর বিভাগের মতে, অধিকাংশ বেতনভোগী এবং ব্যক্তিগত করদাতার উচিত নির্ধারিত সময়সীমার আগেই রিটার্ন জমা দেওয়া। কারণ ৩১ জুলাইয়ের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে বিলম্বিত রিটার্ন (বিলেটেড রিটার্ন) জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, সেক্ষেত্রে জরিমানা, অতিরিক্ত সুদ এবং একাধিক কর-সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা থাকে। আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ধারা ১৩৯(৪) অনুযায়ী, যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তাঁরা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অথবা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলো ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষ
সকাল সকাল ডেস্ক প্যারিস/মাদ্রিদ: ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে ফ্রান্স। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, আগুন দ্রুত বোর্দো শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বোর্দোর দক্ষিণে আটলান্টিক উপকূলের পর্যটনকেন্দ্র ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরও প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুনের কারণে উপদ্বীপে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে ৫০টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে গেছে। ফরাসি ও স্প্যানিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স থেকে প্রায় ২ লাখ এবং স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চল থেকে আরও ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক হাজার ২০০-র বেশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্পেন সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ধোঁয়ার ঝুঁকির কারণে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাস, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও স্পেন—উভয় দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চেয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ বলেন, দেশটি এত বড় দাবানল আগে দেখেনি এবং বোর্দোকে রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, মাদ্রিদের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কার্লোস নোভিয়ো জানান, রাজধানীর উপকণ্ঠে জ্বলতে থাকা দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাঁর কথায়, আগুনের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জরুরি বৈঠক ডেকে আরও এক হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত আগুনে প্রায় ২২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। ধোঁয়ার প্রভাব থেকে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়দের সুরক্ষায় জিরন্দ অঞ্চলে ১৫ লাখ মাস্ক পাঠানো হচ্ছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ক্যাপ ফেরে এলাকায় প্রায় ৪০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। এ সপ্তাহে ফ্রান্স ও ইতালিতে দাবানল নেভানোর সময় তিনজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা তিনটি বড় দাবানলের মধ্যে দুটি একত্রিত হয়ে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আগুন রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের নাভাস দেল রে শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে স্পেনের সবচেয়ে বড় দাবানলটি গুয়াদালাহারা প্রদেশে জ্বলছে, যেখানে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। ফ্রান্সে ক্যাপ ফেরে ও বিসকারোস অঞ্চলে দাবানলে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়েছে। মাদ্রিদ অঞ্চলেও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর ভূমি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও একের পর এক তাপপ্রবাহ ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন-এর সাম্প্রতিক গবেষণাতেও একই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ইতালির সিসিলি দ্বীপেও একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে এবং ফ্রান্সে আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন দমকলকর্মী।
টিকা নিতে অনীহা, ৩৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়া এবং টিকাবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির কারণেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৩১৮টি হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণকে ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর ২ হাজার ২৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস-এর সভাপতি ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন বলেন, এই পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য ছিল। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা এবং এটিকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এর প্রধান উপসর্গ। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস), স্থায়ী শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের ফলে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পাওয়ায় রোগটি আবার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেলিসা নোলান বলেন, অনেক সংক্রমণ শনাক্তই হচ্ছে না। তাঁর দাবি, যেসব পরিবার শিশুদের টিকা দিতে অনীহা দেখায়, তারা অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা গ্রহণেও পিছিয়ে থাকে। চলতি বছরে সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পর টিকা নিয়ে ভুল তথ্যের বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ফলে টিকাদান নিয়ে অনীহা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য হামের টিকা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক অঙ্গরাজ্যে ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুযোগের অপব্যবহারও সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি ছয়জন মার্কিন অভিভাবকের মধ্যে একজন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বা জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার অভাবের কারণে সন্তানদের টিকা দিতে দেরি করেন বা টিকা দিতে চান না। শ্বেতাঙ্গ এবং রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। মহামারি বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব ভবিষ্যতে আরও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য অন্যান্য সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে হুপিং কাশি, আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পাকিস্তানে ভয়াবহ হামলায় ১৫ নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু, পাল্টা অভিযানে নিহত ১২ জঙ্গি
সকাল সকাল ডেস্ক পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বড়সড় জঙ্গি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার একটি নিরাপত্তা চৌকিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, আত্মঘাতী হামলাকারী এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা একসঙ্গে হামলা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে নিরাপত্তা চৌকিতে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে থাকা জওয়ানরা তাদের প্রতিরোধ করেন। এরপর জঙ্গিরা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি চৌকির বাইরের দেওয়ালে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নিরাপত্তা চৌকির বড় অংশ ভেঙে পড়ে এবং বহু নিরাপত্তাকর্মী তার নিচে চাপা পড়েন। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনা জওয়ান, দু’জন পুলিশকর্মী এবং বন দফতরের এক প্রাক্তন আধিকারিক। বিস্ফোরণের তীব্রতায় চৌকির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলায় জড়িত অন্য জঙ্গিদের খুঁজতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলার পিছনে রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। যদিও এই হামলার দায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি টিটিপি। এই সংগঠনটি আফগানিস্তানের তালিবান থেকে আলাদা হলেও, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, টিটিপি-র জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় পায়। সেখান থেকে তারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আফগানিস্তানের মাটি কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সংখ্যা আবার বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে এই সাম্প্রতিক হামলা আবারও দেখিয়ে দিল, সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ এখনও পাকিস্তানের জন্য বড় নিরাপত্তা সংকট হয়ে রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি এবং বারবার এমন হামলার ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্রিটেনের নতুন মন্ত্রিসভায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উত্থান, মন্ত্রী থাকছেন কলকাতা-যোগ থাকা লিসা নন্দী
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিন লেবার সাংসদ—কানিশ্ক নারায়ণ, সৎবীর কৌর এবং হরপ্রীত উপ্পল। তাঁদের অন্তর্ভুক্তির ফলে ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষস্তরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আরও জোরদার হল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বিহারের মুজফ্ফরপুরে জন্মগ্রহণকারী কানিশ্ক নারায়ণ। তাঁকে দেশের নবগঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি ক্যাবিনেট অফিসের পাশাপাশি ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন। এআই নীতি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন সংক্রান্ত সরকারি পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে ব্রিটেনে পাড়ি দেওয়া কানিশ্ক নারায়ণ ওয়েলসে বেড়ে ওঠেন। ইটন কলেজ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ২০২৪ সালে ভেল অব গ্ল্যামরগান কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার সাংসদ সৎবীর কৌরও। তাঁকে সমতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে হিংসা প্রতিরোধ, সমতা রক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তাঁর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আর এক সাংসদ হরপ্রীত উপ্পলকে অ্যাসিস্ট্যান্ট হুইপ করা হয়েছে। সংসদে সরকারি কাজের সমন্বয়, গুরুত্বপূর্ণ ভোটে সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোটদানে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। ২০২৪ সালে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার আগে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মেয়র নির্বাচনী প্রচারেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার তামিল হিন্দু বংশোদ্ভূত উমা কুমারনকে বিদেশ মন্ত্রকের জুনিয়র মন্ত্রী করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান ফ্রন্ট বেঞ্চে দুই হিন্দু ও দুই শিখ মন্ত্রী রয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত লিসা নন্দী সংস্কৃতি সচিব হিসেবে নিজের পদ ধরে রেখেছেন। তাঁর পারিবারিক শিকড় কলকাতার সঙ্গে যুক্ত। লিসা নন্দীর বাবা কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে মন্ত্রিসভার রদবদলে কয়েকজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা দায়িত্ব হারিয়েছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক প্রাক্তন মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা এবং প্রাক্তন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রীত কৌর গিল নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। তাঁরা সাধারণ সাংসদ হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিফলন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যতমুখী খাতে কানিশ্ক নারায়ণের নিয়োগ আন্তর্জাতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।