পাকিস্তানে ফের বাড়ল জ্বালানির দাম, ডিজেল ৩৭৫ রুপি লিটার; বাড়বে পরিবহণ ও নিত্যপণ্যের খরচের আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের জ্বালানি বাজারে। সরকার পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহণ ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬.৩৯ পাকিস্তানি রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৭.৮৩ পাকিস্তানি রুপি বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দামে এক লিটার পেট্রোলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২৭.১২ পাকিস্তানি রুপি। অন্যদিকে, হাই-স্পিড ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৩৭৫.০৪ পাকিস্তানি রুপি। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ডিভিশনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। এদিকে, জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন অল পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এপিপিপিওএ)। সংগঠনটি দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিলেও, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন থেকে প্রতিদিন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হবে। এতদিন প্রতি সপ্তাহে একবার নতুন দাম ঘোষণা করা হতো। পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি (ওজিআরএ) প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে অল পাকিস্তান ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন দাম পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়ই সমস্যায় পড়বেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেট্রোলের দাম বাড়লে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের ব্যবহারকারীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও বিস্তৃত। কারণ ট্রাক, বাস, মালবাহী যান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং বড় জেনারেটরে মূলত ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পেলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে এক লিটার ডিজেলের দাম ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি রুপি এবং পেট্রোলের দাম ৪৫৮.৪১ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছিল। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসায় দাম কমলেও, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে আবারও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপরই পাকিস্তানে জ্বালানির দামের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা, ইরানে মার্কিন বিমান অভিযান অব্যাহত
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/রিয়াদ/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। একই সময়ে ইরানে টানা ১২তম রাতেও বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন ‘এনসেলিয়া’ এবং ‘লায়লা’ নামে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ, সাধারণ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হুথিদের দাবি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, যার ফলে দুই জাহাজেই আগুন লাগে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। গোষ্ঠীটির বক্তব্য, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। টানা ১২তম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, টানা ১২তম রাতেও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, অভিযানে নৌ সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক কার্যকলাপেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং একটি জাহাজকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে ইরান হামলা চালালে তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লিখেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে হামলা হলে তার জবাব সরাসরি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দেওয়া হবে। ইরানের পাল্টা বার্তা ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন হুঁশিয়ারির পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং যারা এ ধরনের অভিযানে সহযোগিতা করবে, তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও দাবি করেছে, মার্কিন হুমকি কার্যকর হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। নতুন হামলার দাবি, নিহতের খবর ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুশেহর, খুজেস্তান-সহ একাধিক এলাকায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহরের একটি সামরিক স্থাপনায় দু’দফা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া খুজেস্তানের আন্দিমেস্ক এলাকার উপকণ্ঠেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইরাক-ইরান সীমান্তের সালামচেহ সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পশ্চিম কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প দোহায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গোলাবারুদের ডিপো এবং স্থলবাহিনীর রসদ সংরক্ষণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে ইরান বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৮৮ ডলারের উপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
পদত্যাগ করতে পারেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি? জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে, সরকারি ঘোষণা এখনও নেই
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ-সহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে সূত্র উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার কথা বিবেচনা করছেন। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত বঙ্গভবন বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিতকরণ মেলেনি। সূত্রের দাবি, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে বিএনপির প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নাম সামনে আসে, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমানে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ তাঁর কার্যকালের মধ্যেই বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বঙ্গভবন-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রাম নিতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন বলেও ওই সূত্রের দাবি। তবে এই তথ্যেরও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং তাঁর সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও তাঁকে সরানো হয়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
বালোচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী হামলা, বাসে এলোপাথাড়ি গুলি; নিহত ৩, জারি অনির্দিষ্টকালের কার্ফু
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অশান্ত বালোচিস্তান প্রদেশে ফের রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাস্তাং জেলার খুড় কোচা এলাকায় করাচিগামী একটি যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালালে অন্তত তিনজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। একই দিনে কোয়েটা-করাচি জাতীয় সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরপর এই দুই ঘটনার জেরে এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন। বালোচিস্তান স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বুধবার রাত ৯টা থেকে খুড় কোচা এলাকায় কার্ফু কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্ফু ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার বাস কোয়েটা থেকে করাচির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। খুড় কোচার গারো এলাকায় পৌঁছতেই পাহাড়ের ওপর থেকে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র হামলাকারীরা বাসটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আকস্মিক হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মাস্তাং জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে একই দিনে খুড় কোচার অঞ্জরি এলাকায় কোয়েটা-করাচি জাতীয় সড়কের একটি সেতুর নিচে পোঁতা বিস্ফোরক ফাটানো হয়। বিস্ফোরণে সেতুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক ঘণ্টার জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় সড়কের দু’প্রান্তে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিকল্প ব্যবস্থা করে ছোট গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজতে নিরাপত্তা বাহিনী পৃথক অভিযান শুরু করেছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একই দিনে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একটি সেনা কনভয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় মাস্তাং ও সুরাব জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ১০ জন জঙ্গিকে নিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মহিলা আত্মঘাতী জঙ্গি ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বালোচিস্তানে জঙ্গি হামলা, নাশকতা ও অপহরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে জিয়ারাত জেলার একটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়ে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল। এরপর থেকেই জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন শাবান’ নামে বৃহৎ অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বালোচিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সন্ত্রাসবাদ ও নাশকতা রুখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন পাকিস্তান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
সরাফা বাজারে সোনা-রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি, রুপোর দাম কেজিতে বাড়ল ৫,২০০ টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশের সরাফা বাজারে সপ্তাহের শুরুতেই সোনা ও রুপোর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেল। মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে ২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট—উভয় ধরনের সোনার দামই বেড়েছে। একই সঙ্গে রুপোর দামও প্রতি কেজিতে ৫,২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৪৭০ থেকে ১,৪৩,৬২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩১,৫১০ থেকে ১,৩১,৬৬০ টাকার মধ্যে। জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৬২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬৬০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫১০ টাকায়। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫২০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৫১০ টাকা রয়েছে। অন্যদিকে, জয়পুর ও লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৬২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬৬০ টাকায়। পাটনা ও ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এদিকে, রুপোর দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। প্রতি কেজিতে ৫,২০০ টাকা বেড়ে দিল্লির সরাফা বাজারে রুপোর দাম পৌঁছেছে ২,৩৫,১০০ টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবেই দেশীয় বাজারে সোনা ও রুপোর দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলে ইরানকে ‘বহুগুণ’ মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
সকাল সকাল ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হলে ইরানকে তার জন্য ‘বহুগুণ’ মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাতে এ খবর জানা গেছে। গতকাল সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যতবারই ইরান কোনো মার্কিন সৈন্যকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের এ হত্যার জন্য বহুগুণ মূল্য দিতে হবে।’ ট্রাম্প জানান, এ নির্দেশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন ও সামরিক বাহিনীর প্রত্যেক নেতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিবৃতি এমন এক সময়ে এল, যখন দক্ষিণ ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইরানের দাবি, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এ হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন গত সপ্তাহান্তে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর মধ্যে দুজন জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এবং একজন উত্তর ইরাকে নিহত হন। গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি রূপরেখা চুক্তি সই হওয়া সত্ত্বেও দুদেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এদিকে আলাদা আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন, তখন তাঁকে কোনোভাবে, কোনো অবস্থায় বা কোনো রূপেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যারা সম্প্রতি ৫২,০০০ নির্দোষ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে মার্কিন সৈন্য ও অন্যদের হত্যা করে আসছে।’ ট্রাম্পের মতে, ‘শুধু তাঁদেরই গ্রেপ্তার করা উচিত, যাঁরা ইরানকে মৃত্যু ও ধ্বংসের এই অভূতপূর্ব ঘূর্ণাবর্তের দিকে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি বহু বছর আগেই পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সমাধান করা উচিত ছিল।’ এদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের আইনি বিভাগ নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। মেয়র মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা দ্য হেগে (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত)। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছেন। আর আপনি দেখতে পাবেন, বিগত বছরগুলোতে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণেই অনেকে এ একই মত পোষণ করেন।’ সম্প্রতি নেতানিয়াহু তাঁর চলতি মাসের নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করে তা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পুনর্নির্ধারণ করেছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত, স্বীকার করল পেন্টাগন
সকাল সকাল ডেস্ক ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সহকারী শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ সেনাসদস্য ‘কোনো না কোনো মাত্রায় আঘাত’ পেয়েছেন। তবে তাঁদের বড় অংশই সামান্য মস্তিষ্কের আঘাত বা কনকাশনে ভুগেছেন। আহত সেনাদের ৯৬ শতাংশই ইতিমধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তবে এ সেনারা কীভাবে আহত হয়েছেন, তা পেন্টাগন প্রকাশ করেনি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের জবাবে শন পার্নেল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘তাঁরা আবারও লড়াইয়ে ফিরে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে যে পেন্টাগন ডজনখানেক মার্কিন সেনার আহত হওয়ার খবর জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে। এ অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পার্নেল গতকাল দিনের শুরুতে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘আহত সেনাদের সংখ্যা লুকিয়ে রাখার এ ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক অভিযোগকে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করছে। নিউইয়র্ক টাইমসের কিছু পক্ষপাতদুষ্ট লেখক মার্কিন সামরিক বাহিনী ও তার নেতৃত্বকে কালিমালিপ্ত করতে মরিয়া হয়ে এ মিথ্যাচার করছেন।’ পার্নেলের এ বক্তব্যের জবাবে নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল রোডস হা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেদনের নির্ভুলতার ব্যাপারে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের বেশ কয়েকটি হামলা এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য পেন্টাগন প্রকাশ করেনি।’ নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা সামরিক অভিযানের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, যা মার্কিন জনগণকে তাঁদের সরকার কীভাবে কাজ করছে, তা বুঝতে সাহায্য করে।’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার এ সর্বশেষ পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক আগের দিনই পেন্টাগন জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুজন মার্কিন সেনা নিহতের খবর জানায়। ফলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭–তে। ১৯ জুলাই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানে নিহত ওই দুই সেনার বিষয়ে কথা বলেন। নিহত সেনারা হলেন হাওয়াইয়ের ইভা বিচের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ওই মহান ব্যক্তিরা, ওই মহান দেশপ্রেমিকেরা সেখানে লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’
দেশীয় সরাফা বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনা, বেড়েছে রুপোর দামও
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশীয় সরাফা বাজারে রবিবার সোনার দামে ফের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। চেন্নাই ছাড়া দেশের অধিকাংশ শহরেই ১০ গ্রাম প্রতি ২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৬৬০ থেকে ৭৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, চেন্নাইয়ে সোনার দাম বেড়েছে ৩৬০ থেকে ৩৯০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। একই সঙ্গে রুপোর দামও প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকার মধ্যে। দিল্লির বাজারে রুপোর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। তবে সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাব বলছে, ওঠানামার মধ্যেও সোনা ও রুপো—দুই মূল্যবান ধাতুর দামই কমেছে। গত সপ্তাহে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি সর্বোচ্চ ১,০৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত। রুপোর দামও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার বর্তমান দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকা। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৫০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকা। একই দাম রয়েছে কলকাতার বাজারেও। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৫০ টাকা। লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কর্ণাটক, তেলঙ্গানা ও ওডিশার রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরেও সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এই তিন শহরে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম প্রতি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা–সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন জটিল হয়ে পড়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যেকোনো সময় অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ব্যক্তিদের পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পাশাপাশি নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট বাতিল এবং সময় সময় আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা বা মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। এ সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে সরকারি হিসাবে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬–তে। নিহত সেনাদের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ সময় কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। পরে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের নির্দেশনার পর গতকাল রাতে সেন্টকম নতুন করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, মার্কিন সেনাসদস্যদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বাহিনীকে দ্রুত শাস্তি দিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে আগের সাত রাতের তুলনায় এবার হামলার তীব্রতা বেশ কম ছিল। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে আবার হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান প্রায় প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গতকাল এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ‘শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন, যা তারা ভুলতে পারবে না। এর আগে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় মার্কিন হামলার মূল্য পুরো অঞ্চলকেই দিতে হবে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রথম দফার হামলায় ইরানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন এবং লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে আরও প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে শহরটিতে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাঁর কার্যালয় থেকে এখনো বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মামদানি। নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আপনি দেখবেন, অনেক মানুষই শুধু কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে যা ঘটেছে, সে কারণেই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন।’ আইন তাঁকে এমন কিছু করার অনুমতি দেয় কি না, প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে আমরা জাতীয় পর্যায়ে যা দেখেছি, তা হলো, কখনো কখনো নিজের মতো করে আইন তৈরি করা এবং আইনের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবণতা। তবে এমন কিছুতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানিয়েছেন। মামদানি ইসরায়েল সরকারের একজন কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিগত নিধন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মেয়র মামদানির মন্তব্যকে ‘নিছক রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএবিসি রেডিওর উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সেখানে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের সত্য ও নিজের নাগরিকদের রক্ষা করার অটুট অধিকার তুলে ধরবেন।’