মালিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত, আরও ২৪ সেনা বন্দী
সকাল সকাল ডেস্ক পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। আরও অন্তত ২৪ সেনাকে বন্দী করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। এএফপিকে আজ রোববার সূত্রগুলো জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর আনেফিস থেকে সেনারা সরে যাওয়ার সময় তাঁদের বহরে হামলা চালানো হয়। ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘হামলায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৪ জনকে বন্দী করা হয়েছে।’ স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মালির সেনাবাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি এটি।
‘রক্তের বদলে রক্ত!’ সপরিবারে ট্রাম্পকে খুনের হুমকি ইরানের! তেহরানের বুকে ঝুলল ৭টি কফিনের বিলবোর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্ব রাজনীতিতে যেন এক চরম যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি! কোনও রকম রাখঢাক না রেখেই এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং তাঁর পুরো পরিবারকে সরাসরি খুনের হুমকি দিল ইরান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ ইরানের রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত প্যালেস্টাইন স্কোয়্যারে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বিশালাকার বিলবোর্ড। যেখানে দেখা যাচ্ছে— মার্কিন পতাকায় মোড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া এবং তাঁদের পাঁচ সন্তানের নিথর দেহের কফিন। আর সেই ছবির পাশে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে, ‘Blood for Blood’ বা রক্তের বদলে রক্ত। শুধু এই একটি বিলবোর্ডই নয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের আনাচে-কানাচে দেখা যাচ্ছে একাধিক উস্কানিমূলক গ্রাফিত্তি। যেমন এনঘেলাব স্কোয়্যারের একটি দেওয়ালে আঁকা হয়েছে কালো কফিনে শুয়ে থাকা ট্রাম্পের ছবি, যার পাশে লেখা রয়েছে ‘We Kill Trump’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)। অন্য কোথাও আবার রাইফেলের নিশানায় রাখা হয়েছে ট্রাম্পের মুখ, কিংবা কফিনের ওপর সেঁটে দেওয়া হয়েছে তাঁর ছবি। এমনকি একটি গ্রাফিত্তিতে ‘Who’s Next?’ (এর পর কে?) লিখে প্রয়াত মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের এই চরম আগ্রাসী রূপের নেপথ্যে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী অতীত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সেই ভয়াবহ হামলায় খামেনেইয়ের পাশাপাশি প্রাণ হারান তাঁর মেয়ে, জামাই, পুত্রবধূ এবং এক নাতনিও। এই ঘটনার পর থেকেই কার্যত প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছে গোটা ইরান। বর্তমানে সে দেশের সমস্ত সরকারি অফিস থেকে শুরু করে বড় বড় বহুতলের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে খামেনেই ও তাঁর পরিবারের ছবি। আর এবার তার সঙ্গেই যোগ হলো ট্রাম্পকে সপরিবারে খতম করার এই প্রকাশ্য হুমকি। সম্প্রতি জুন মাসে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর সেখানে নতুন নেতৃত্ব উঠে এসেছে ঠিকই, কিন্তু তারাও এখন আর নেই। তবে এর মানে এই নয় যে আমি নিরাপদ। ইরানের হিটলিস্টে এখন সবার উপরে আমার নাম রয়েছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া সেই জল্পনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক সফরসূচির একটি ঘটনা। ন্যাটো বৈঠকে যোগ দিতে ট্রাম্প যে বিশেষ বিমানে চড়ে তুরস্কে গিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনে ফিরে আসার সময় শেষ মুহূর্তে তিনি সেই ফ্লাইটটি আর ব্যবহার করেননি। কেন আকস্মিকভাবে এই উড়ান বদল করা হলো, সেই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে চরম নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণেই কি ট্রাম্পকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো?— তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা চলছে।
কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন লেবার নেতা
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সোমবার তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। শুক্রবার লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির (এনইসি) চেয়ারপার্সন শাবানা মাহমুদ বার্নহ্যামের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দলনেতা নির্বাচনে অন্য কোনও প্রার্থী মনোনীত না হওয়ায় বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, সোমবার কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজপ্রাসাদ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেদিনই তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। মাত্র দুই বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে শাসনভার গ্রহণের পর একাধিক নীতিগত পরিবর্তন, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফলের পর দলের অভ্যন্তরে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। টানা দুই দশক সংসদ সদস্য থাকার পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টরের মেয়র হন। সেখানকার উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থে সরব ভূমিকার কারণে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পান। সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি। ৫৬ বছর বয়সি বার্নহ্যামের জন্ম লিভারপুলে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা বার্নহ্যাম কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর বাবা ব্রিটিশ টেলিকমে প্রকৌশলী এবং মা ছিলেন একজন রিসেপশনিস্ট। তিনি নিজেকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও কল্যাণমূলক রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বার্নহ্যামের ভাবমূর্তি তাঁকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক খাতে তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি, ১কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণার দাবি; উদ্বেগ বাড়ল নিরাপত্তা নিয়ে
সকাল সকাল ডেস্ক বাগদাদ/ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণার দাবি করেছে ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২৩ কোটি টাকা। সংগঠনটির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানের অর্থ থেকেই এই পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় অভিযোগ আনা হয় এবং অতীতের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিশোধের কথাও উল্লেখ করা হয়। গোষ্ঠীটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাদের মতে অতীতের ঘটনাগুলির জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। একই সঙ্গে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনার উল্লেখ করেছে। এদিকে গালফ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন অভিযানে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পরই আইআরআই-এর এই প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। তবে সংগঠনটির দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এদিকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক ঘোষণার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানানো হয়নি।
নিয়ম না মানায় মুথুট ফাইন্যান্স-সহ ছয় সংস্থাকে জরিমানা করল আরবিআই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মুথুট ফাইন্যান্স-সহ ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর জরিমানা করেছে। সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিয়ম না মানা এবং তদারকির ক্ষেত্রে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে ২.৭০ লক্ষ টাকা থেকে ৬.২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। আরবিআইয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুথুট ফাইন্যান্সের উপর ৫.৮০ লক্ষ টাকা, অবেল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের উপর ৬.২০ লক্ষ টাকা, সত্য মাইক্রোক্যাপিটাল লিমিটেড ও প্যান এমামি কসমেডের উপর ৩.১০ লক্ষ টাকা করে এবং ধনী লোনস অ্যান্ড সার্ভিসেস ও মুথুট ভেহিকল অ্যান্ড অ্যাসেট ফিনান্সের উপর ২.৭০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, মুথুট ফাইন্যান্স গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাস নিয়মিত পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা এবং তার যথাযথ রিপোর্টিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি নিয়ম মেনে চলেনি। আরবিআই আরও জানিয়েছে, অবেল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, প্যান এমামি কসমেড, সত্য মাইক্রোক্যাপিটাল এবং অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধেও পৃথক পৃথক নিয়ন্ত্রক ত্রুটির প্রমাণ মিলেছে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির উপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তবে আরবিআই স্পষ্ট করেছে, এই জরিমানা শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির গ্রাহকদের সঙ্গে হওয়া কোনও লেনদেন বা পরিষেবার বৈধতার কোনও সম্পর্ক নেই।
এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা ৫,২৫৩ কোটি টাকা, এনপিএ-ও কমল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি রাষ্ট্রায়ত্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) চলতি অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই সময়ে ব্যাঙ্কের একক ভিত্তিতে নিট মুনাফা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে ৫,২৫৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ১,৬৭৫ কোটি টাকা। শেয়ার বাজারে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন, ২০২৬-এ শেষ হওয়া প্রথম ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের মোট আয় প্রায় স্থিতিশীল থেকে ৩৭,২৩১ কোটি টাকা হয়েছে। তবে সুদ থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৩২,৮৯৭ কোটি টাকা, যা গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে ছিল ৩১,৯৬৪ কোটি টাকা। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের পরিচালন মুনাফা বেড়ে ৭,৫১৯ কোটি টাকা হয়েছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭,০৮১ কোটি টাকা। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই সময়ে সম্পদের গুণগত মানেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। স্থূল অনুৎপাদক সম্পদ (গ্রস এনপিএ) মোট ঋণের ২.৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩.৭৮ শতাংশ। একইভাবে নেট এনপিএ কমে ০.২৬ শতাংশ হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ০.৩৮ শতাংশ। মোট অঙ্কের হিসাবে গ্রস এনপিএ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫,৩৮১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ছিল ৪২,৬৭৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে নেট এনপিএ কমে হয়েছে ৩,৪৩৩ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৪,১৩২ কোটি টাকা। পিএনবির এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট, ব্যাঙ্কের লাভজনকতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের গুণগত মানেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমেরিকা-ইরান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র, হরমোজগানে তিন নাগরিক নিহত, মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে হামলা, পাল্টা হামলা এবং একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের দাবি, শনিবার ভোরে হরমোজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে পাতা মাইনে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়েছে। আল জাজিরা, সিএনএন, গালফ নিউজ এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। এদিকে বন্দর আব্বাসে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও রেল স্টেশন লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাতার জানিয়েছে, দোহার কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহযোগিতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দুবাই প্রশাসনও শহরের ডাউনটাউন এলাকায় বিস্ফোরণের দাবিকে গুজব বলে জানিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে টানা সপ্তম রাত ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন বিমান হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইয়াজ্দ, লার, আহভাজ, সিরিক, বুশেহর, বন্দর আব্বাস, দারাব এবং কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হরমোজগান প্রদেশের প্রশাসনের দাবি, দুটি সেতু ও একটি সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। প্রদেশের উপ-রাজ্যপাল জানিয়েছেন, একাধিক স্থানে হামলায় তিনজনের মৃত্যু এবং আটজন আহত হয়েছেন। আইআরজিসির দাবি, বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার কথাও নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা আমেরিকা-সমর্থিত চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যৌথ অভিযানে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সমুদ্রে পাতা মাইনের কারণে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, গোলাবারুদ ডিপো এবং সংযোগকারী সেতু, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি ও আল আজরাক বিমানঘাঁটি এবং সামরিক জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেইয়ের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ১৪ দফা সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পরও যদি আমেরিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, তবে তেহরান কেবল পাল্টা হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উত্থান শেয়ার বাজারে, বাড়ল টাকার দাম
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: শুক্রবার স্বস্তির নিশ্বাস ভারতীয় শেয়ার বাজারে। পড়তি বাজারে কম দামে ভালো শেয়ার কেনার হিড়িকে সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে এক ধাক্কায় অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী হলো সূচক। এ দিনের বাজার বন্ধ হওয়ার সময় বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ৯৬৪.৫৮ পয়েন্ট বেড়ে পৌঁছেছে ৭৮,১৫১.৪৫ অঙ্কে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ২৬১.৫৫ পয়েন্ট উঠে ২৪,৩৩৪.৩০ অঙ্কে থিতু হয়েছে। শেয়ার বাজারের পাশাপাশি এ দিন স্বস্তি ফিরেছে মুদ্রার বাজারেও। মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে টানা তিন দিন পতনের পর অবশেষে শুক্রবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় টাকা। এ দিন ডলারের দাম ১৪ পয়সা কমে হয়েছে ৯৬.২৮ টাকা।
এক লক্ষেরও বেশি উপভোক্তাকে ৩,২১৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করলেন নির্মলা সীতারামন
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি/অমরাবতী: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের পালনাড়ু জেলার নরসারাওপেটে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলির ঋণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আওতায় এক লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার হাতে মোট ৩,২১৬ কোটি টাকার ঋণ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুও। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকারি খাতের ব্যাংকগুলির উদ্যোগে আয়োজিত এই বৃহৎ ঋণ সংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণি, কৃষক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপভোক্তাদের ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কৃষি এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নির্মলা সীতারামন এবং মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ইউনিয়ন ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) প্রকল্পের আওতায় দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের মধ্যে সাইকেলও বিতরণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানান, অনুমোদিত ঋণের মধ্যে কৃষি খাতের জন্য ২,৩৬৩ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতের জন্য ৩২৫ কোটি টাকা এবং আবাসন, শিক্ষা, যানবাহন ও সৌরশক্তি প্রকল্পের জন্য ৬২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে নির্মলা সীতারামন ও চন্দ্রবাবু নাইডু ইউনিয়ন ব্যাংকের সিএসআর উদ্যোগে প্রদান করা অ্যাম্বুল্যান্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ছাত্রীদের হাতে সাইকেল তুলে দেন। এই উদ্যোগকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি যুক্তরাষ্ট্রের, পড়াশোনা শেষে দেশ ছাড়তে সময় মাত্র ৩০ দিন
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন নীতিতে ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বিধি কার্যকর হবে। প্রশাসনের দাবি, ভিসার অপব্যবহার রোধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়মিত পর্যালোচনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নতুন নীতির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়ায়ও ফেডারেল সরকারের নজরদারি বাড়বে। বর্তমানে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় পড়াশোনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিদেশি শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে নতুন কোর্সে ভর্তি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দীর্ঘায়িত করেছেন। এতে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।” যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত চার বছর সময় লাগে। তবে স্নাতকোত্তর, গবেষণা এবং পিএইচডি-সহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কোর্স শেষ করতে অনেক ক্ষেত্রেই তার চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক বিষয়গুলিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যক্তিগত কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নির্ধারিত সময়ের বাইরে গড়ায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে অথবা অন্য কোনও বৈধ ভিসা শ্রেণিতে পরিবর্তনের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হতো। নীতির বিরোধিতা করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা)। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর একটি ব্যবস্থার উপর অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করবে এই নীতি। বাস্তবে যে সমস্যা প্রায় নেই, সেটির সমাধানের নাম করে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ এই পদক্ষেপ। এর আগে প্রশাসন কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছিল।