সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন নীতিতে ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বিধি কার্যকর হবে। প্রশাসনের দাবি, ভিসার অপব্যবহার রোধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়মিত পর্যালোচনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন নীতির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়ায়ও ফেডারেল সরকারের নজরদারি বাড়বে।
বর্তমানে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় পড়াশোনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিদেশি শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে নতুন কোর্সে ভর্তি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দীর্ঘায়িত করেছেন। এতে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত চার বছর সময় লাগে। তবে স্নাতকোত্তর, গবেষণা এবং পিএইচডি-সহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কোর্স শেষ করতে অনেক ক্ষেত্রেই তার চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক বিষয়গুলিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যক্তিগত কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নির্ধারিত সময়ের বাইরে গড়ায়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে অথবা অন্য কোনও বৈধ ভিসা শ্রেণিতে পরিবর্তনের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হতো।
নীতির বিরোধিতা করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা)। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর একটি ব্যবস্থার উপর অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করবে এই নীতি। বাস্তবে যে সমস্যা প্রায় নেই, সেটির সমাধানের নাম করে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ এই পদক্ষেপ। এর আগে প্রশাসন কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছিল।
No Comment! Be the first one.