সকাল সকাল ডেস্ক
লন্ডন: ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সোমবার তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
শুক্রবার লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির (এনইসি) চেয়ারপার্সন শাবানা মাহমুদ বার্নহ্যামের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দলনেতা নির্বাচনে অন্য কোনও প্রার্থী মনোনীত না হওয়ায় বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, সোমবার কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজপ্রাসাদ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেদিনই তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
মাত্র দুই বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে শাসনভার গ্রহণের পর একাধিক নীতিগত পরিবর্তন, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফলের পর দলের অভ্যন্তরে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। টানা দুই দশক সংসদ সদস্য থাকার পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টরের মেয়র হন। সেখানকার উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থে সরব ভূমিকার কারণে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পান।
সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।
৫৬ বছর বয়সি বার্নহ্যামের জন্ম লিভারপুলে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা বার্নহ্যাম কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর বাবা ব্রিটিশ টেলিকমে প্রকৌশলী এবং মা ছিলেন একজন রিসেপশনিস্ট। তিনি নিজেকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও কল্যাণমূলক রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বার্নহ্যামের ভাবমূর্তি তাঁকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক খাতে তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
No Comment! Be the first one.