হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে মার্কিন হামলা, নিহত ৪; পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে ফের দ্রুত অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতি। এক মাস আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ ইরানের হরমুজ প্রণালীর সংলগ্ন এলাকায় দুটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশে একটি সেতুর উপর হামলায় তিনজন নিহত এবং নয়জন আহত হন। পৃথকভাবে বন্দর আব্বাসে চালানো আরেকটি হামলায় একজনের মৃত্যু ও আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সামরিক রসদ পরিবহণ ব্যবস্থায় আঘাত হানা। যদিও ইরানের দাবি, হামলায় গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পরিবহণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পশ্চিম ইরানের বুশেহর শহরেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। শহরটিতেই ইরানের একমাত্র অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে ওই কেন্দ্রের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। হামলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, আহভাজ শহরের কাছে একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আহভাজের এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরপর একাধিক বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। তাঁর দাবি, কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্তত ১১ থেকে ১২টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার অভিঘাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের পাল্টা হামলার পর সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন মিত্র দেশগুলিও। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। বাহরিনেও বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সেনাকে গোটা অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। গত জুন মাসে হওয়া সমঝোতার পর অল্প সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হলেও সম্প্রতি তেহরান ঘোষণা করেছে, মার্কিন সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলির উপর নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ওমান উপসাগরে একটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প পথে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব। তবে ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও সমঝোতার মূল্য তখনই থাকবে, যখন তার শর্ত বাস্তবে কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে তার কঠোর মূল্য দিতে হবে ইরানকে। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু-সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর হামলা বাড়ানো হতে পারে। ইরানের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া নতুন মার্কিন হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
‘২২ কোটি ভোটারের তথ্য চুরি করেছে চিন’, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের; অভিযোগ উড়িয়ে দিল বেজিং
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ওই নির্বাচনের সময় চিন প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পরিকাঠামোতে এমন গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ভোটে কারচুপির সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গোপন গোয়েন্দা নথি প্রকাশ (ডিক্লাসিফাই) করার ঘোষণাও করেছেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে খারিজ করে দিয়েছে বেজিং। হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রচারিত প্রায় ২৪ মিনিটের এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় চিনের সরকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী তথ্য চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং বিষয়টি আড়াল করতে মার্কিন প্রশাসনের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর কিছু সদস্যও ভূমিকা পালন করেন। ট্রাম্পের কথায়, “এই তথ্য চুরি আমেরিকার নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার একটি নিরাপদ ও নির্ভুল ভোটব্যবস্থা পাওয়া, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপির কোনও সুযোগ থাকবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় এমন একাধিক নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা রয়েছে, যা এতদিন সাধারণ মানুষের অজানা ছিল। সেই কারণেই নির্বাচনী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এই নথি প্রকাশিত হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার সম্ভাব্য দুর্বলতা সম্পর্কে জনগণ বিস্তারিত জানতে পারবেন। তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছেন। যদিও ওই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া ৬০টিরও বেশি মামলায় কোনও আদালত নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি। পুনর্গণনা, নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছিল। ভাষণের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’ (সেভ অ্যাক্ট) দ্রুত পাস করার আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। তবে ভোটাধিকার রক্ষাকারী একাধিক সংগঠনের আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে বহু বৈধ মার্কিন নাগরিকও ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। যদিও মার্কিন আইনে অ-নাগরিকদের ভোটদান আগেই নিষিদ্ধ এবং এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল। শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থাই নয়, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এবিসি ও এনবিসি-সহ কয়েকটি সম্প্রচারমাধ্যম তাঁর নির্বাচনী জালিয়াতি সংক্রান্ত বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করেনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার সংস্থাগুলির লাইসেন্স বাতিলের দাবিও জানান তিনি। তাঁর মতে, কিছু সংবাদমাধ্যম নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে চিন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং এক বিবৃতিতে বলেন, “চিন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয় এবং তার ফল নির্ধারণ করেন মার্কিন ভোটাররাই। চিন কখনও মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।” ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই অভিযোগকে ঘিরে ফের মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে তাঁর দাবির সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা বা সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়ে গেছে। প্রয়োজনে এটিকে ৬০০ শব্দ, ৮০০ শব্দ বা প্রথম পাতার প্রিন্ট সংস্করণের আরও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও রূপান্তর করা যেতে পারে।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ জঙ্গি
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বান্নু জেলায় গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পাকিস্তান পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই জঙ্গিরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়। তবে কয়েকজন জঙ্গি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পলাতক জঙ্গিদের খোঁজে অভিযান এখনও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি কালাশনিকভ রাইফেল, দশটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি ব্যান্ডোলিয়ার, দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, শুধু জঙ্গিরাই নয়, তাদের সহযোগী ও আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের হুঁশিয়ারি, হামলা হলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান: ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা হলে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) এই সতর্কবার্তা দেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেকারচি। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতির কোনও বৈধতা নেই। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে অস্থিরতার মূল কারণ মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও নৌ অবরোধ। তিনি আরও বলেন, “ইরানের ক্ষতি করা হলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক পরিকাঠামো আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেব এবং প্রয়োজনে বহু বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।” শেকারচি প্রতিবেশী দেশগুলিকেও ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর এই মন্তব্যের আগে একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। এই সংস্থা ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র মধ্যে সামরিক অভিযান সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সর্ববৃহৎ অপারেশনাল কমান্ড। খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই কড়া বার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলিকে ঘিরে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে এবং দক্ষিণ ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা বৃদ্ধি করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা না হলে মার্কিন হামলা আরও বিস্তৃত হবে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহ ইরানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাবে।”
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও ভক্তির জোয়ারে ভাসল পুরী, আস্থার আবহে অনুষ্ঠিত হল শ্রীজগন্নাথের রথযাত্রা
সকাল সকাল ডেস্ক ভুবনেশ্বর: প্রবল বর্ষণও থামাতে পারেনি ভক্তদের উচ্ছ্বাস। অটুট বিশ্বাস ও ভক্তিভাবকে সঙ্গী করে বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পুরীর শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা। ওডিশা-সহ দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রথযাত্রায় অংশ নেন। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে পুরী ও উপকূলীয় ওডিশার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে যায়। তবুও ভক্তদের ঢল থামেনি। ভোর থেকেই পুরীর বড়দাণ্ডে ভিড় জমাতে শুরু করেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। ‘জয় জগন্নাথ’ এবং ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রথযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ছিল নজরকাড়া। বৃষ্টিভেজা পথেই বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী ঐতিহ্যবাহী ও শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষ করে ওডিশি নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা ভক্তদের মন জয় করে নেয়। প্রাচীন রীতি ও আচার মেনেই জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রার সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সকালে ভোগমণ্ডপে ধূপ নিবেদন দিয়ে দিনের সূচনা হয়। এরপর দেবদেবীদের রথে আরোহনের বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করা হয়। ‘পাহান্ডি বিজে’ অনুষ্ঠানে ঘণ্টা, কাহালি ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনির মধ্যে শোভাযাত্রা করে গর্ভগৃহ থেকে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে রথে আনা হয়। ভগবান জগন্নাথের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং দেবী সুভদ্রার দর্পদলন রথে দেবদেবীদের প্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিন পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব ঐতিহ্যবাহী ‘ছেরা পাহাঁড়া’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সাদা পোশাক পরে রূপোর পালকিতে এসে তিনি সোনার ঝাড়ু দিয়ে তিনটি রথ পরিষ্কার করেন। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সুগন্ধি জল ছিটিয়ে সম্পন্ন হয় এই আচার। এই অনুষ্ঠান সমাজে সমতা ও বিনয়ের বার্তা বহন করে বলে মনে করা হয়। সমস্ত আচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় রথ টানা। প্রথমে বলভদ্রের তালধ্বজ, পরে সুভদ্রার দর্পদলন এবং সবশেষে মহাপ্রভু জগন্নাথের নন্দীঘোষ রথ টানতে শুরু করেন ভক্তরা। তবে দীর্ঘ আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার তিনটি রথই নির্ধারিত গন্তব্য মৌসিমা মন্দিরে পৌঁছতে পারেনি। শুক্রবার সকালে আবার রথ টানা হবে বলে মন্দির প্রশাসন জানিয়েছে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৩ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে ছিল রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জল জমার সমস্যা মোকাবিলাতেও প্রশাসনের তরফে বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল, যার ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় উৎসব।
সোনার দামে বড় উল্লম্ফন, রুপোর দাম অপরিবর্তিত
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশীয় স্বর্ণালঙ্কার বাজারে বৃহস্পতিবার সোনার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে, টানা চতুর্থ দিনের মতো রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। চেন্নাই বাদে দেশের অধিকাংশ শহরে ১০ গ্রাম প্রতি সোনার দাম ৭২০ থেকে ৭৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চেন্নাইয়ে ১০ গ্রাম প্রতি সোনার দাম বেড়েছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা। দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অধিকাংশ বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৫৮০ টাকা থেকে ১,৪৩,৭৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম রয়েছে ১০ গ্রাম প্রতি ১,৩১,৬১০ টাকা থেকে ১,৩১,৮১০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় দিল্লির বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম আগের মতোই ২,৩৪,৯০০ টাকায় স্থির রয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৭৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৭৬০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৫৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬১০ টাকায়। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬৬০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৩,৭৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৮১০ টাকায়। কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬১০ টাকা। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুর ও লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৭৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৭৬০ টাকা। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৬৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এছাড়া বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরের বাজারেও সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এই তিন শহরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৩,৫৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবেই সোনার দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। তবে রুপোর বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
দিনভর ওঠানামার পর প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বন্ধ শেয়ার বাজার
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দিনভর ব্যাপক ওঠানামার পর প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষ করল দেশের শেয়ার বাজার। লেনদেনের শুরুতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের টানাপোড়েনে সেনসেক্স ও নিফটির গতিপথ বারবার বদলেছে। দিনের শেষে সেনসেক্স সামান্য ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হলেও নিফটি অল্প পতনের সঙ্গে লেনদেন শেষ করেছে। বম্বে শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক সেনসেক্স ২০২.৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩৮৮.৪২ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। পরে কেনাবেচার চাপের কারণে সূচকটি সর্বোচ্চ ৭৭,৫৭৯.৬৯ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠলেও একসময় নেমে আসে ৭৭,০৮৬.৪২ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত সেনসেক্স মাত্র ১.৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,১৮৬.৮৭ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে, জাতীয় শেয়ার বাজারের নিফটি ৬৩.৬০ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,১৪২.১০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। দিনের মধ্যে সূচকটি সর্বোচ্চ ২৪,১৮৬.৫০ পয়েন্টে পৌঁছায়। তবে বিক্রির চাপ বাড়ায় একসময় তা নেমে আসে ২৪,০৫০ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত নিফটি ৫.৭৫ পয়েন্ট কমে ২৪,০৭২.৭৫ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ করে। দিনভর লেনদেনে ভোগ্যপণ্য, গণমাধ্যম এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য কেনাকাটা দেখা যায়। এছাড়া মোটরগাড়ি, দ্রুত ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য, ওষুধ, মূলধনী পণ্য এবং তেল ও গ্যাস খাতও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে, আবাসন খাতে দিনভর বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক, ধাতু এবং সরকারি সংস্থার শেয়ার সূচকও নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। বৃহত্তর বাজারেও চাপ ছিল। ফলে মধ্যম মূলধনী সংস্থার সূচক শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র মূলধনী সংস্থার সূচক শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। দিনের লেনদেনে বম্বে শেয়ার বাজারে মোট ৪,৪৪১টি শেয়ারের কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২,০১২টি শেয়ারের দাম বেড়েছে, ২,২২৪টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং ২০৫টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় শেয়ার বাজারে ২,৯৮০টি শেয়ারে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১,৩০৭টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ১,৬৭৩টি শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। দিনের শেষে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন, বিপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, বজাজ ফিন্যান্স এবং মারুতি সুজুকির শেয়ারে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ইটার্নাল, এসবিআই লাইফ ইনস্যুরেন্স, ভারত ইলেকট্রনিক্স, শ্রীরাম ফিন্যান্স এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ারে।
কাতারের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নেপালের উপরাষ্ট্রপতির, প্রাক্তন আমিরের মৃত্যুতে জানালেন শোক
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু/দোহা: নেপালের উপরাষ্ট্রপতি রামসহায় প্রসাদ যাদব কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দোহায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নেপালের উপরাষ্ট্রপতির দপ্তর জানিয়েছে, কাতার সফরের সময় দোহার লুসাইল প্রাসাদে দুই নেতার মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক্তন কাতারি আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে নেপাল সরকার ও সে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাতেই উপরাষ্ট্রপতি রামসহায় প্রসাদ যাদব কাতার সফরে গিয়েছেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতারের রাজপরিবার এবং সে দেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই শোকের সময় তাঁদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন। এদিন নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তাও আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে তুলে দেন উপরাষ্ট্রপতি যাদব। বৈঠকে নেপালের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পাশাপাশি কাতার সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রতিফলন হিসেবেই এই সাক্ষাৎকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানে আটক মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি মুক্ত, তেহরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প; উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত
সকাল সকাল ডেস্ক প্রায় সাত মাস পর মুক্তি পেলেন ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও মানবিক পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারিকে মুক্তি দিয়েছে তেহরান। প্রায় সাত মাস আটক থাকার পর তাঁকে দেশ ছাড়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের ধন্যবাদবার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেনা কারারির মুক্তির খবর জানান। তিনি বলেন, মুক্তিপ্রাপ্ত মার্কিন নাগরিক বর্তমানে নিরাপদে ইরানের বাইরে রয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন,“তিনি এখন ইরানের বাইরে নিরাপদে ও সুস্থ আছেন। ইরানের এই সদিচ্ছাপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কৃতজ্ঞ।” প্রথমে তিনি মুক্তিপ্রাপ্ত নারীর পরিচয় প্রকাশ না করলেও পরে তাঁর আইনজীবী পরিচয় নিশ্চিত করেন। কে এই ডেনা কারারি আইনজীবী জ্যারেড গেনসার জানান, ডেনা কারারি ইরানি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক। তাঁর দাবি, ভিত্তিহীন গুপ্তচরবৃত্তি এবং শত্রুরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আটক করা হয়েছিল। আইনজীবীর বক্তব্য, এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ কখনও প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে ডেনা কারারি নিরাপদে ইরানের বাইরে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে আছেন। কেন আটক করা হয়েছিল ডেনা কারারির আইনজীবীর দাবি, তিনি চিলড্রেন অব মেহর ফাউন্ডেশন নামে একটি অলাভজনক সংস্থা পরিচালনা করতেন। এই সংস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনুদানে ইরানের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হতো। তাঁর অভিযোগ, এই সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণেই ইরানি কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন ডেনা কারারি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ইরানের নীরবতা ডেনা কারারির মুক্তির খবর সামনে এলেও ইরান সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তেহরান এখনও জানায়নি— ফলে তাঁর মুক্তির প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তেজনার মধ্যেই মানবিক পদক্ষেপ ডেনা কারারির মুক্তি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই একজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কূটনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকেরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বিদেশি নাগরিকদের মুক্তি অনেক সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাঁদের মতে, ডেনা কারারির মুক্তি ভবিষ্যতে সীমিত আস্থার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক বিরোধের মতো বড় ইস্যুগুলিতে দুই দেশের অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর ডেনা কারারির মুক্তিকে ইতিবাচক মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। একদিকে একজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি কূটনৈতিক নমনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ আগের মতোই অব্যাহত। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে, এই মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সংলাপের পথ তৈরি করে কি না, নাকি এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রেক্ষাপট প্রভাব সরকারি বক্তব্য জনসাধারণের জন্য তথ্য
ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অ্যানা লিডকের, স্বাধীন তদন্তের দাবিতে সরব আন্তর্জাতিক মহল
সকাল সকাল ডেস্ক গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য জার্মান মানবাধিকারকর্মীর বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, এখনও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই। গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য এবং জার্মান মানবাধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, আটকের পর একাধিকবার পোশাক খুলে তল্লাশির নামে তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও কোনও আদালত বা স্বাধীন তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কী অভিযোগ করেছেন অ্যানা লিডকে ২৫ বছর বয়সী অ্যানা লিডকে গত বছরের অক্টোবরে গাজাগামী একটি মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য হিসেবে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযানটি আটক করে এবং পরে তাঁকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে প্রায় পাঁচ দিন হেফাজতে রাখে। তাঁর অভিযোগ, হেফাজতে থাকার সময় তাঁকে একাধিকবার পোশাক খুলে তল্লাশি করা হয়। তৃতীয়বার তল্লাশির সময় নারী কারারক্ষীরা তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেন। লিডকের আরও দাবি, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুরুষ নিরাপত্তারক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁদের হাসির শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন এবং তাঁর আশঙ্কা, পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল বা ভিডিও ধারণও করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগগুলোর কোনও স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি। ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি অ্যানা লিডকের বক্তব্য, তাঁকে এবং অন্য মানবাধিকারকর্মীদের ভয় দেখিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে কাজ থেকে বিরত রাখাই ছিল এই আচরণের উদ্দেশ্য। তিনি জানান, এই ঘটনার ফলে তিনি গভীর মানসিক আঘাত পেয়েছেন। তবুও নীরব না থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, ভুক্তভোগীরা মুখ না খুললে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে। আরও অভিযোগের দাবি লিডকে জানিয়েছেন, একই নৌবহরের আরও কয়েকজন সদস্যও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত কারণে তাঁদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি। ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনদের বিষয়টি জানান। পরে আইনজীবীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। আইনি পদক্ষেপ শুরু অ্যানা লিডকের আইনজীবীরা ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কারাগারের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলার আইনজীবী মুনা হাদ্দাদের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু একটি ঘটনার বিচার নয়, বরং বন্দিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ অ্যানা লিডকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠছে। এখন বিদেশি মানবাধিকারকর্মীরাও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অতীতে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনও এসব অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে অ্যানা লিডকের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল বিশেষজ্ঞদের মতে, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন নজর থাকবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং স্বাধীন তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে। তদন্তের ফল প্রকাশের পরই এই বহুল আলোচিত ঘটনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ প্রেক্ষাপট প্রভাব সরকারি অবস্থান জনসাধারণের জন্য তথ্য