সকাল সকাল ডেস্ক
গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য জার্মান মানবাধিকারকর্মীর বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, এখনও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই।
গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য এবং জার্মান মানবাধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, আটকের পর একাধিকবার পোশাক খুলে তল্লাশির নামে তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও কোনও আদালত বা স্বাধীন তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কী অভিযোগ করেছেন অ্যানা লিডকে
২৫ বছর বয়সী অ্যানা লিডকে গত বছরের অক্টোবরে গাজাগামী একটি মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরের সদস্য হিসেবে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযানটি আটক করে এবং পরে তাঁকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে প্রায় পাঁচ দিন হেফাজতে রাখে।
তাঁর অভিযোগ, হেফাজতে থাকার সময় তাঁকে একাধিকবার পোশাক খুলে তল্লাশি করা হয়। তৃতীয়বার তল্লাশির সময় নারী কারারক্ষীরা তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেন।
লিডকের আরও দাবি, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুরুষ নিরাপত্তারক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁদের হাসির শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন এবং তাঁর আশঙ্কা, পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল বা ভিডিও ধারণও করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগগুলোর কোনও স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি।
ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি
অ্যানা লিডকের বক্তব্য, তাঁকে এবং অন্য মানবাধিকারকর্মীদের ভয় দেখিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে কাজ থেকে বিরত রাখাই ছিল এই আচরণের উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, এই ঘটনার ফলে তিনি গভীর মানসিক আঘাত পেয়েছেন। তবুও নীরব না থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, ভুক্তভোগীরা মুখ না খুললে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে।
আরও অভিযোগের দাবি
লিডকে জানিয়েছেন, একই নৌবহরের আরও কয়েকজন সদস্যও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত কারণে তাঁদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি।
ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনদের বিষয়টি জানান। পরে আইনজীবীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
আইনি পদক্ষেপ শুরু
অ্যানা লিডকের আইনজীবীরা ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কারাগারের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
মামলার আইনজীবী মুনা হাদ্দাদের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু একটি ঘটনার বিচার নয়, বরং বন্দিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
অ্যানা লিডকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠছে। এখন বিদেশি মানবাধিকারকর্মীরাও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অতীতে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনও এসব অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
তবে অ্যানা লিডকের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন নজর থাকবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং স্বাধীন তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে। তদন্তের ফল প্রকাশের পরই এই বহুল আলোচিত ঘটনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
প্রেক্ষাপট
- গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক করা হয়েছিল।
- অ্যানা লিডকে প্রায় পাঁচ দিন ইসরায়েলি হেফাজতে ছিলেন।
- পরে তিনি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
প্রভাব
- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- হেফাজতে বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- স্বাধীন তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন মহল সরব হয়েছে।
সরকারি অবস্থান
- ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
- এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
- অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও আদালত বা স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
- তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
No Comment! Be the first one.