সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি/রাঁচি: নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ভারত টেক্স ২০২৬-এর তৃতীয় দিনেও ঝাড়খণ্ড প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পূর্ব সিংভূম জেলার বহড়াগোড়ার অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টারের তৈরি বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ দেশ-বিদেশের ক্রেতা, শিল্প প্রতিনিধিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই পণ্যগুলি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনযাত্রার বার্তা বহন করছে। বাঁশ ও স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি বিশেষ বোতলটি গরম বা ঠান্ডা পানীয়ের তাপমাত্রা প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে বাঁশ, স্টেনলেস স্টিল এবং খাদ্য-নিরাপদ প্লাস্টিকের ঢাকনা ব্যবহার করে তৈরি মগে পানীয়ের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বজায় থাকে।
রাজ্য সরকারের মতে, ‘লোকাল টু গ্লোবাল’ ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ভারত টেক্স ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তসর রেশম, ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃত পণ্য, হস্ততাঁত, হস্তশিল্প এবং বাঁশ-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সামগ্রীর মাধ্যমে ঝাড়খণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পরিচিতি আরও শক্তিশালী করছে।

অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টার শুধু ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পকেই নতুন রূপ দিচ্ছে না, বরং আধুনিক নকশা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যও তৈরি করছে। লেজার কাটিং, লেজার খোদাই, সিএনসি রাউটিং এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ নকশা তৈরির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস্টারটি বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী, আসবাবপত্র ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করছে।
এবারের ভারত টেক্স ২০২৬-এ ১৩০টিরও বেশি দেশের ৬ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ঝাড়খণ্ডের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, কারিগর ও উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের হস্তশিল্প ও বাঁশ-ভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
No Comment! Be the first one.