সকাল সকাল ডেস্ক।
রাঁচি : ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গোয়ার এবং মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বৃহস্পতিবার রাজধানী রাঁচির ঐতিহাসিক জগন্নাথপুর মন্দিরে আয়োজিত রথযাত্রা মহোৎসবে অংশ নেন। তাঁরা ভগবান জগন্নাথ, দেবী সুভদ্রা এবং বলভদ্রের পূজা-অর্চনা করে রাজ্যের মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী প্রথা মেনে রথের দড়ি টেনে রথযাত্রার সূচনা করেন। এসময় ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর।
রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গোয়ার রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভগবান জগন্নাথ সকলের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বয়ে আনুন। তাঁর মতে, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি, বিশ্বাস, সম্প্রীতি এবং জনকল্যাণের এক জীবন্ত প্রতীক। এই উৎসব সমাজে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, সেবা ও আধ্যাত্মিক চেতনার বার্তা বহন করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।
ভক্তদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেন, জগন্নাথপুর মন্দির ঝাড়খণ্ডের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই ঐতিহাসিক মন্দিরকে জাতীয় পর্যায়ে নতুন পরিচিতি দিতে রাজ্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তিনি ঘোষণা করেন, জগন্নাথপুর মন্দিরকে রাজ্যের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও উন্নত করা হবে, যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও ভক্তরা এখানকার সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধুরভায় অবস্থিত জগন্নাথপুর মন্দিরকে দূর থেকেই সহজে চেনার জন্য মন্দিরমুখী সড়কে একটি দৃষ্টিনন্দন তোরণদ্বার নির্মাণ করা হবে। তাঁর কথায়, এই তোরণদ্বার মন্দিরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং ভক্তদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কাজও সরকার হাতে নেবে।
তিনি আরও বলেন, রথযাত্রা মহোৎসবের জন্য ভক্তরা সারা বছর অপেক্ষা করেন। এদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমই এই উৎসবের জনপ্রিয়তা এবং জগন্নাথপুর মন্দিরের মাহাত্ম্যের প্রমাণ। আগামী দিনে রথযাত্রা মেলাকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয়ভাবে আয়োজনের পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটনেরও প্রসার ঘটানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রথযাত্রার সূচনালগ্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাজার হাজার ভক্ত রথ টানায় অংশ নেন এবং ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তি, উৎসব ও ধর্মীয় আবেগে ভরে ওঠে। ভক্তরা ভগবান জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের দর্শন করে রাজ্য ও দেশের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা মহোৎসব সম্পন্ন হয়।
No Comment! Be the first one.