সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান: ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা হলে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) এই সতর্কবার্তা দেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেকারচি।
ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতির কোনও বৈধতা নেই। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে অস্থিরতার মূল কারণ মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও নৌ অবরোধ।
তিনি আরও বলেন, “ইরানের ক্ষতি করা হলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক পরিকাঠামো আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেব এবং প্রয়োজনে বহু বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।”
শেকারচি প্রতিবেশী দেশগুলিকেও ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর এই মন্তব্যের আগে একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। এই সংস্থা ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র মধ্যে সামরিক অভিযান সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সর্ববৃহৎ অপারেশনাল কমান্ড।
খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এই কড়া বার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলিকে ঘিরে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে এবং দক্ষিণ ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা বৃদ্ধি করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা না হলে মার্কিন হামলা আরও বিস্তৃত হবে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহ ইরানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাবে।”
No Comment! Be the first one.