ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত ৩ পুলিশ, আহত ৩৪
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক দুটি জঙ্গি হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার লোয়ার দির জেলার হায়দার এলাকার লাদাম টপের কাছে একটি পুলিশ কনভয়ের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। প্রথমে কনভয় লক্ষ্য করে হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এরপর স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং অন্তত ১৯ জন আহত হন। হামলার সময় দুষ্কৃতীরা পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এদিকে, একই দিনে বান্নু জেলার মিরিয়ান পুলিশ স্টেশনেও আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় বিস্ফোরকবোঝাই একটি যানবাহন লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুলি করে ধ্বংস করা হয়। এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি। বন্দুকযুদ্ধে চার হামলাকারী নিহত হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পেশোয়ারে পাঠানো হয়েছে। বান্নু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ফুরকান বিলাল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের প্রতিহত করা হয়। ঘটনার পর বান্নু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও বান্নুর ডোমেল পুলিশ স্টেশনে একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং এক পুলিশ সদস্য-সহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক হামলার পর ফের খাইবার পাখতুনখোয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনায় বড় সিদ্ধান্ত, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে উইন্ডফল কর বাড়াল কেন্দ্র
সকাল সকাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে কর বৃদ্ধি, পেট্রোল রপ্তানিতে কর কমাল কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশীয় বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও বিমান চলাচলের জ্বালানির রপ্তানির উপর আরোপিত উইন্ডফল কর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল রপ্তানির উপর আরোপিত কর কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্র। নতুন করহার ১৬ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্কের আওতায় এই নতুন করহার কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত মুনাফার একটি অংশ রাজস্ব হিসেবে আদায় করা এবং দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত জ্বালানির মজুত বজায় রাখা। ডিজেল রপ্তানিতে বড় কর বৃদ্ধি নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজেল রপ্তানির উপর উইন্ডফল কর প্রতি লিটারে ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৭ টাকা কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রাখতে রপ্তানি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। বিমান জ্বালানির রপ্তানিতেও বাড়ল কর ডিজেলের পাশাপাশি বিমান চলাচলের জ্বালানির রপ্তানির উপরও কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটারে ৭ টাকা ৫০ পয়সা কর থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ এবং সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে বিমান জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে। ফলে অতিরিক্ত রপ্তানি হলে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পেট্রোল রপ্তানিতে মিলল স্বস্তি অন্যদিকে পেট্রোল রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোল রপ্তানির উপর আরোপিত কর প্রতি লিটারে ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ মে প্রথমবার পেট্রোল রপ্তানির উপর নতুন করে কর আরোপ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এবার সেই করের হার কমানো হয়েছে। দেশীয় বাজারে কী প্রভাব পড়বে? অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রপ্তানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা পেট্রোল ও ডিজেলের উপর বর্তমানে যে কর কাঠামো রয়েছে, তাতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দামের উপর এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কেন বাড়ানো হল উইন্ডফল কর? উইন্ডফল কর এমন একটি কর, যা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোনও সংস্থা অতিরিক্ত বা অপ্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করলে আরোপ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়লে রিফাইনারি সংস্থাগুলি রপ্তানির মাধ্যমে বেশি লাভ করে। সেই অতিরিক্ত লাভের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে আনা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই এই করের মূল উদ্দেশ্য। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে কোনও জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণমূলক কর বজায় রাখছে কেন্দ্র। প্রতি পনেরো দিনে পর্যালোচনা করবে সরকার কেন্দ্রীয় সরকার মার্চ মাসে প্রথম ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানির উপর এই কর চালু করেছিল। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং রিফাইনারিগুলির মুনাফার পরিমাণ বিবেচনা করে প্রতি পনেরো দিন অন্তর করের হার পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হলে অথবা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পরিবর্তন এলে ভবিষ্যতেও কর কাঠামোয় সংশোধন আনা হতে পারে। পটভূমি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি রপ্তানির উপর উইন্ডফল করের হার পুনর্বিবেচনা করেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নতুন করহার কার্যকর করা হয়েছে। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জনসাধারণের জন্য তথ্য দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের বর্তমান কর বা খুচরা দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অবিলম্বে জ্বালানির দামে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
ইরানে শিশু ক্যানসার হাসপাতালের কাছে বিস্ফোরণের দাবি, হরমুজ ঘিরে নতুন সংঘাতে তীব্র উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক আহওয়াজের শিশু ক্যানসার হাসপাতালের আশপাশে হামলার অভিযোগ ইরানের। একই রাতে বন্দর শহরগুলিতে একাধিক বিস্ফোরণ, সামরিক স্থাপনাতেই হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহওয়াজ শহরে অবস্থিত শহিদ বাঘাই শিশু ক্যানসার হাসপাতালের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। একই সময়ে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক-সহ দক্ষিণ উপকূলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। তবে হাসপাতালকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলার দাবি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন বাহিনীও এমন কোনও হামলার কথা স্বীকার করেনি। ইরানের অভিযোগ, বিস্ফোরণের জেরে হাসপাতালের পরিবেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় চিকিৎসাধীন শিশু ও অন্যান্য ক্যানসার রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সামরিক অবকাঠামো। আহওয়াজের হাসপাতালে আতঙ্ক, রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুধবার গভীর রাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আহওয়াজের শহিদ বাঘাই শিশু ক্যানসার হাসপাতাল। বিস্ফোরণের অভিঘাতে হাসপাতালের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীই শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত। আতঙ্কের কারণে বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। সংকটজনক অবস্থায় থাকা কয়েকজন রোগীকে চিকিৎসার স্বার্থে ভেতরেই রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে কোনও শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ উপকূলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ইরানের দাবি অনুযায়ী, একই রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক এবং আরও কয়েকটি উপকূলবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এসব ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের সংখ্যা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। কী বলছে মার্কিন সেনাবাহিনী? মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন দফার অভিযানে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক কমান্ড অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। তবে হাসপাতাল বা অন্য কোনও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার কথা মার্কিন বাহিনী উল্লেখ করেনি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাদের দাবি, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এই পাল্টা হুঁশিয়ারির জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে— হাসপাতালকে লক্ষ্য করেই হামলা হয়েছিল কি? এই ঘটনাকে ঘিরে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ইরানের দাবি, হাসপাতালের আশপাশে হামলার ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং রোগীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে। তবে হাসপাতালটি সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মার্কিন প্রশাসনও হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পৃথক কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে আসায় বিভ্রান্তি থেকেই গেছে। পটভূমি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ক্রমশ মুখোমুখি হয়ে উঠছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য ইরানের অভিযোগ, হাসপাতালের আশপাশে বিস্ফোরণের ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের অভিযান শুধুমাত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলার কথা তারা উল্লেখ করেনি। জনসাধারণের জন্য তথ্য হাসপাতালকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যাও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নভাবে জানানো হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্কে নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ, বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রাজিল-আমেরিকা সম্পর্ক
সকাল সকাল ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা। কফি, ইস্পাত, কৃষিপণ্য-সহ একাধিক রপ্তানি খাতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য বাজার, ধাতু শিল্প এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি। সেই কারণেই আমদানি শুল্ক বাড়ানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত? মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিকে ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। রুবিওর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিকবার আলোচনার সুযোগ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্য সমঝোতার পথে এগোয়নি। বরং রাজনৈতিক অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, লুলা সরকারের অর্থনৈতিক নীতি শুধু মার্কিন শিল্প ও ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর নয়, তা ব্রাজিলের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের পক্ষেও অনুকূল নয়। কোন কোন পণ্যে পড়তে পারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব? যদিও এখনও পর্যন্ত শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ব্রাজিলের প্রধান রপ্তানি খাতগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাবিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে মার্কিন আমদানিকারকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও কমে যেতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কৃষি ও শিল্পবাজারে নতুন মূল্যচাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কী প্রভাব পড়বে? অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক এবং ব্রাজিল অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে— এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নতুন সরবরাহকারী খুঁজতে হতে পারে। ব্রাজিলের প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে নয় এখনও পর্যন্ত ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা কিংবা দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিল প্রথমে কূটনৈতিক আলোচনার পথেই এগোতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক আরোপ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির আওতায় বিদেশি আমদানির উপর কঠোর অবস্থান নিয়ে এসেছে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপ সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আগামী দিনে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল পাল্টা শুল্ক আরোপ, কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি অথবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আইনি প্রক্রিয়ার পথেও হাঁটতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই নতুন শুল্ক সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; লাতিন আমেরিকার অর্থনীতি, বিশ্ব রপ্তানি বাজার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পটভূমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবে অতীতেও একাধিক দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ব্রাজিল সরকার দীর্ঘদিন ধরে গঠনমূলক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি। জনসাধারণের জন্য তথ্য বর্তমানে শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাজিল সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বিনিয়োগকারীরা।
পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ২০২৬: দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ২৫
সকাল সকাল ডেস্ক পঞ্জাবের শেখুপুরায় মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় যাত্রীবাহী বাস; সংঘর্ষের পর দুটি বাসই উল্টে পড়ে কৃষিজমিতে। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। মঙ্গলবার রাতে শেখুপুরা জেলার নারং মান্ডি শহরের কাছে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘিরে ঘটনাস্থলে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে, দুটি বাসই রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের কৃষিজমিতে গিয়ে উল্টে যায়। বাসের ভিতরে বহু যাত্রী আটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কোথায় এবং কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখুপুরা জেলার সিধনওয়ালি বাসস্টপের কাছে কালা খাটাই সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লাহোর থেকে শকরগড়ের দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। সেই সময় আচমকা একটি মোটরসাইকেল বাসটির সামনে চলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে বাসচালক হঠাৎ দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। দ্রুতগতিতে চলতে থাকা বাসটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আচমকা দিক পরিবর্তন এবং বাসের অতিরিক্ত গতিই এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ। তবে পুলিশ এখনও চূড়ান্তভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। সংঘর্ষের পর কৃষিজমিতে উল্টে যায় দুই বাস দুটি বাসের সংঘর্ষের শব্দ আশপাশের বহু দূর পর্যন্ত শোনা যায়। ধাক্কার পর বাস দুটি রাস্তার পাশে ছিটকে গিয়ে কৃষিজমিতে উল্টে পড়ে। জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাসের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। কেউ জানালা ভেঙে, কেউ দরজা কেটে আটকে পড়া যাত্রীদের বাইরে বের করার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ, চিকিৎসক দল এবং উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ভেঙে যাওয়া বাসের ভিতর থেকে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটজনক উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহতদের লাহোরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েকজন আহতের মাথা, বুক এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। অনেকের হাড় ভেঙেছে। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই কারণে পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসচালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি সামনে এলেও দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি বাসের গতি কত ছিল, চালকেরা দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর কারণে ক্লান্ত ছিলেন কি না, বাসে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং যানবাহনগুলির উপযুক্ততা সংক্রান্ত নথি বৈধ ছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। রাস্তার ওই অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছিল কি না এবং যান নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পাকিস্তানে পথ দুর্ঘটনার পটভূমি পাকিস্তানে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা নতুন ঘটনা নয়। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, সড়কের দুর্বল অবস্থা, যানবাহনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিধি না মানার কারণে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনা ঘটে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলির ক্ষেত্রে চালকদের দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো এবং বিশ্রামের অভাবও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের বাধ্যতামূলক উপযুক্ততা পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্ঘটনার প্রভাব এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা আবারও দেশটির যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে দ্রুতগতির যানবাহন, চালকদের দায়িত্ববোধ এবং সড়কে ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কালা খাটাই সড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস দুটি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। প্রশাসনের বক্তব্য পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত ২৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য লাহোরে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় যাচাইয়ের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে দেহ হস্তান্তর করা হবে। সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য চালকদের অতিরিক্ত গতি এড়ানো, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং আচমকা দিক পরিবর্তন না করা অত্যন্ত জরুরি। মোটরসাইকেল আরোহীদেরও প্রধান সড়কে ওঠার আগে দুই দিকের যান চলাচল দেখে নেওয়া প্রয়োজন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসের উপযুক্ততা, চালকের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। শেখুপুরার এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা দেখিয়ে দিল, সামান্য অসতর্কতা মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারে। দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, তার কঠোর প্রয়োগ এবং চালক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি সমানভাবে প্রয়োজন। এসইও শক্তিশালী মূলশব্দপাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। মঙ্গলবার রাতে শেখুপুরা জেলার নারং মান্ডি শহরের কাছে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘিরে ঘটনাস্থলে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে, দুটি বাসই রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের কৃষিজমিতে গিয়ে উল্টে যায়। বাসের ভিতরে বহু যাত্রী আটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কোথায় এবং কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখুপুরা জেলার সিধনওয়ালি বাসস্টপের কাছে কালা খাটাই সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লাহোর থেকে শকরগড়ের দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। সেই সময় আচমকা একটি মোটরসাইকেল বাসটির সামনে চলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে বাসচালক হঠাৎ দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। দ্রুতগতিতে চলতে থাকা বাসটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আচমকা দিক পরিবর্তন এবং বাসের অতিরিক্ত গতিই এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ। তবে পুলিশ এখনও চূড়ান্তভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। সংঘর্ষের পর কৃষিজমিতে উল্টে যায় দুই বাস দুটি বাসের সংঘর্ষের শব্দ আশপাশের বহু দূর পর্যন্ত শোনা যায়। ধাক্কার পর বাস দুটি রাস্তার পাশে ছিটকে গিয়ে কৃষিজমিতে উল্টে পড়ে। জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাসের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। কেউ জানালা ভেঙে, কেউ দরজা কেটে
Iran-US Tension ২০২৬: পশ্চিম এশিয়ায় ফের সংঘাতের আশঙ্কা, ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধে চরম উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী, ইরানের বন্দর অবরোধ, সমঝোতা স্মারক থেকে সরে আসা এবং ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে নতুন করে অস্থির পশ্চিম এশিয়া। পশ্চিম এশিয়ায় আবারও সংঘাতের মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে। Iran-US Tension নতুন মোড় নেওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলিকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের নতুন অবরোধমূলক পদক্ষেপ এবং তার পাল্টা জবাবে তেহরানের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন এবং আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক থেকে ইরানের সরে আসার ঘোষণাও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান Iran-US Tension শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। ইরানের বন্দরে নতুন মার্কিন অবরোধ সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে কঠোর নজরদারি ও অবরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সেই বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সীমিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের কৌশলগত রসদ পরিবহণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে Iran-US Tension আরও তীব্র হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত। চাপের কাছে নতি স্বীকারে নারাজ তেহরান মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিদেশি চাপের কাছে তারা কোনওভাবেই মাথা নত করবে না। তেহরানের সরকারি মহল জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইরানের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের অধিকার রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। তাই মার্কিন অবরোধের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে বদল ট্রাম্পের অবস্থানে কয়েক দিন আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তা পরিষেবার বিনিময়ে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সেই পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। মার্কিন প্রশাসনের মতে, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সমঝোতা স্মারক থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইরান মার্কিন পদক্ষেপের পাল্টা জবাবে কূটনৈতিকভাবে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। ইরান ঘোষণা করেছে, আমেরিকার সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং একতরফাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই ওই সমঝোতায় থাকার আর কোনও যৌক্তিকতা নেই বলে তাদের দাবি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। একই সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও নতুন করে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি চাইছে, কোনওভাবেই যেন এই উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে পরিণত না হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। সামনে কী? বর্তমানে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইরানও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, কোনও ধরনের বিদেশি চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুলবে। আপাতত Iran-US Tension ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক মার্কিন অবরোধ সেই সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতেই ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নতুন নজরদারি ও অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, বিদেশি চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। পাবলিক ইনফরমেশন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের সামুদ্রিক তেল পরিবহণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
৫ বড় সিদ্ধান্তে হরমুজে ফের মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা, জাহাজ থেকে টোল আদায়ের কথা বললেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নৌ অবরোধ, টোল আদায় ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানে বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে আবারও মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির কাছ থেকে নিরাপত্তা পরিষেবার বিনিময়ে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই ঘোষণার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। হরমুজে নৌ অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁর দাবি, এই সমুদ্রপথ ব্যবহারকারী দেশগুলির নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ বহন করা উচিত। ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির কাছ থেকে নিরাপত্তা পরিষেবার জন্য ২০ শতাংশ হারে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অর্থ নৌ টহল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় ব্যয় করা হবে। চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত ইরান মানেনি। তাঁর দাবি, অতীতেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের ঘটনাও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নতুন অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন পরিচালনা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। কড়া জবাব তেহরানের ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বা ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বৈধ ভূমিকা নেই। তাঁর হুঁশিয়ারি, মার্কিন নৌবাহিনীকে সহযোগিতা করা বা অবরোধ কার্যকর করতে সহায়তা করা হলে সেটিকে ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় বাড়ছে উত্তেজনা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, নৌ-বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। অনিশ্চয়তায় শান্তি সমঝোতা গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা। কিন্তু সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক বিরোধ এবং নৌ অবরোধের ঘোষণার ফলে সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের বাড়ছে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। তাঁদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপ শুরু না হলে হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। পটভূমি হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ ও টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। জনস্বার্থে তথ্য বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জ্বালানির দাম, পরিবহণ ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।
৪ বছর পর ভাঙল যুদ্ধবিরতি! সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের, নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় পশ্চিম এশিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক সানা বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ তুলে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি হুতিদের। লোহিত সাগর ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ। প্রায় চার বছর ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হুতিদের অভিযোগ, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে নতুন করে বড় সংঘাতের দিকে এগোতে পারে অঞ্চলটি। সৌদির আকাশেই প্রতিহত ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার দাবি চার বছরের যুদ্ধবিরতির কার্যত অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই ছিল লক্ষ্য হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ২০২২ সালের মার্চ মাসে সৌদির তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই সময় থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলার দায় আর প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি হুতি গোষ্ঠী। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল এবং ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সেই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে কার্যত ভেঙে দিল। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এর ফলে আবারও সীমান্তে ব্যাপক সামরিক সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দর সামরিক ও বেসামরিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মকালে বহু পর্যটকও এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। চার বছরের যুদ্ধবিরতির ইতি ২০২২ সালের মার্চে সৌদির তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় হামলার পর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ চার বছর সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি হুতি গোষ্ঠী। সোমবারের হামলার দাবিকে সেই যুদ্ধবিরতির অবসান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সানা বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ হুতিদের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, ওই হামলার জবাব দিতেই সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ লোহিত সাগর ও জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত বাড়লে লোহিত সাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সৌদি আরব পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুললেও নতুন সংঘাত সেই ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে অস্থিরতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বিরোধ, ব্রিটেনের আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং এখন সৌদি-হুতি সংঘাত—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে গোটা অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখনও পর্যন্ত সৌদি সরকার হামলার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়, তাহলে শুধু ইয়েমেন নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পটভূমি ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ২০২২ সালে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই শান্তি প্রক্রিয়া আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের দাবি, সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। জনস্বার্থে তথ্য লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম, নৌ-বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
৫ বড় কারণে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ ঘোষণা করল ব্রিটেন, আরও তলানিতে লন্ডন-তেহরান সম্পর্ক
সকাল সকাল ডেস্ক নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ব্রিটেনের। সমর্থন বা অর্থসাহায্য করলে হতে পারে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডন। নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান ও ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শবনম মাহমুদ জানিয়েছেন, বিদেশি রাষ্ট্রের মদতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে জড়িত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসি ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত। আইআরজিসি-কে সমর্থন করলেই কঠোর শাস্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন মিললে আইআরজিসি-র পক্ষে প্রচার, সমর্থন, সদস্য সংগ্রহ, অর্থসাহায্য, তহবিল সংগ্রহ কিংবা অন্য যেকোনও ধরনের সহযোগিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার হামলার অভিযোগ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্রিটেনে ইরান-সমর্থিত গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা এবং নাশকতার একাধিক তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্রিটেনে ইরান-সমর্থিত একাধিক ষড়যন্ত্রের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সাইবার হামলা, সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এবং বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর দুই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের মতে, বিদেশে অবস্থানকারী ইরানবিরোধী সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনাও তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমের দুই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন। আইআরজিসি নিয়ে ব্রিটেনের অভিযোগ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ইগলের দাবি, আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং ইরানের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা এবং বিদেশি কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম প্রধান শক্তি। তাঁর অভিযোগ, এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা, গোপন অভিযান পরিচালনা এবং বিদেশে ইরানের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আরও দুই সংগঠন নিষিদ্ধের তালিকায় আইআরজিসি-র পাশাপাশি ইরান-ঘনিষ্ঠ ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট’ এবং রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ‘জিআরইউ ভলান্টিয়ার কর্পস’-কেও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ব্রিটেন। সরকারের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে এটি একটি সমন্বিত পদক্ষেপ। আইআরজিসি কেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসি বর্তমানে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, বিশেষ বাহিনী পরিচালনা এবং বিদেশে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলির অভিযোগ, আইআরজিসি সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত। যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত ইরান-যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী ইস্যু এবং ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক নিরাপত্তা অভিযোগের মধ্যেই ব্রিটেন এই সিদ্ধান্ত নিল। দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠছিল। প্রভাব সরকারি বক্তব্য ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত হুমকি মোকাবিলার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে তথ্য আইন কার্যকর হলে ব্রিটেনে আইআরজিসি-র পক্ষে প্রচার, সমর্থন, অর্থসাহায্য বা তহবিল সংগ্রহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হবে। সাধারণ নাগরিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫ কারণে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি সমঝোতা স্থগিত ইরানের, বাতিল ইসলামাবাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্থগিত তেহরানের। বাতিল ইসলামাবাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মোড়। Iran-US Peace Deal নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তেহরান। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক শান্তি সমঝোতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এই পদক্ষেপের ফলে Iran-US Peace Deal কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে সমঝোতা স্থগিত ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতার শর্ত ও প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করেনি। তাঁর দাবি, চুক্তি অনুযায়ী যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেনি ওয়াশিংটন। বাঘেই স্পষ্ট বলেন, যতদিন না যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে, ততদিন Iran-US Peace Deal কার্যকর থাকবে না। সমঝোতা থেকে সংঘাতের পথে দুই দেশ গত মাসে দীর্ঘ কূটনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর সুইৎজারল্যান্ডে একাধিক দফায় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ধাপে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু ৬ জুলাই হরমুজ প্রণালীর কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। হামলার জন্য উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করে। এরপর থেকেই পাল্টাপাল্টি সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে। আত্মরক্ষার যুক্তিতে সামরিক পদক্ষেপের সাফাই ইসমাইল বাঘেই দাবি করেন, মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অংশ। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে তেহরান। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ হরমুজ প্রণালী নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরান। বাঘেই বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপকূলবর্তী দেশগুলির। নিরাপত্তার অজুহাতে বিদেশি শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। সেই কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে মোতায়েন রয়েছে। তবে ইরানের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক উপস্থিতিই অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। ইসলামাবাদ বৈঠক বাতিল, বাড়ছে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক বাতিল হওয়ায় কূটনৈতিক সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব গোটা পশ্চিম এশিয়া, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর পড়তে পারে। ব্যাকগ্রাউন্ড দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। সুইৎজারল্যান্ডে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর সেই প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত শান্তি সমঝোতা কার্যকর করা হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে তেহরান। পাবলিক ইনফরমেশন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।