সকাল সকাল ডেস্ক
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক দুটি জঙ্গি হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার লোয়ার দির জেলার হায়দার এলাকার লাদাম টপের কাছে একটি পুলিশ কনভয়ের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। প্রথমে কনভয় লক্ষ্য করে হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এরপর স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং অন্তত ১৯ জন আহত হন। হামলার সময় দুষ্কৃতীরা পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, একই দিনে বান্নু জেলার মিরিয়ান পুলিশ স্টেশনেও আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় বিস্ফোরকবোঝাই একটি যানবাহন লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুলি করে ধ্বংস করা হয়। এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি। বন্দুকযুদ্ধে চার হামলাকারী নিহত হয়।
এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পেশোয়ারে পাঠানো হয়েছে। বান্নু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ফুরকান বিলাল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের প্রতিহত করা হয়।
ঘটনার পর বান্নু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও বান্নুর ডোমেল পুলিশ স্টেশনে একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং এক পুলিশ সদস্য-সহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক হামলার পর ফের খাইবার পাখতুনখোয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
No Comment! Be the first one.