৫ বড় কারণে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস

৫ বড় কারণে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ ঘোষণা করল ব্রিটেন, আরও তলানিতে লন্ডন-তেহরান সম্পর্ক

সকাল সকাল ডেস্ক

নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ব্রিটেনের। সমর্থন বা অর্থসাহায্য করলে হতে পারে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডন। নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান ও ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নতুন নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শবনম মাহমুদ জানিয়েছেন, বিদেশি রাষ্ট্রের মদতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে জড়িত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসি ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত।


আইআরজিসি-কে সমর্থন করলেই কঠোর শাস্তি

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন মিললে আইআরজিসি-র পক্ষে প্রচার, সমর্থন, সদস্য সংগ্রহ, অর্থসাহায্য, তহবিল সংগ্রহ কিংবা অন্য যেকোনও ধরনের সহযোগিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

৫ বড় কারণে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস

গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার হামলার অভিযোগ

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্রিটেনে ইরান-সমর্থিত গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা এবং নাশকতার একাধিক তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্রিটেনে ইরান-সমর্থিত একাধিক ষড়যন্ত্রের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সাইবার হামলা, সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এবং বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর দুই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের মতে, বিদেশে অবস্থানকারী ইরানবিরোধী সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমের দুই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন।


আইআরজিসি নিয়ে ব্রিটেনের অভিযোগ

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ইগলের দাবি, আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং ইরানের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা এবং বিদেশি কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম প্রধান শক্তি।

তাঁর অভিযোগ, এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা, গোপন অভিযান পরিচালনা এবং বিদেশে ইরানের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


আরও দুই সংগঠন নিষিদ্ধের তালিকায়

আইআরজিসি-র পাশাপাশি ইরান-ঘনিষ্ঠ ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট’ এবং রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ‘জিআরইউ ভলান্টিয়ার কর্পস’-কেও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ব্রিটেন।

সরকারের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে এটি একটি সমন্বিত পদক্ষেপ।


আইআরজিসি কেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসি বর্তমানে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, বিশেষ বাহিনী পরিচালনা এবং বিদেশে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলির অভিযোগ, আইআরজিসি সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত। যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।


কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত ইরান-যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ


পটভূমি

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী ইস্যু এবং ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক নিরাপত্তা অভিযোগের মধ্যেই ব্রিটেন এই সিদ্ধান্ত নিল। দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠছিল।


প্রভাব

  • ইরান-ব্রিটেন কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা।
  • পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা।
  • ইউরোপে ইরান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা।
  • আইআরজিসি-র আন্তর্জাতিক কার্যকলাপের ওপর বাড়তে পারে নজরদারি।
  • বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত সংগঠনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে পশ্চিমা দেশগুলি।

সরকারি বক্তব্য

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত হুমকি মোকাবিলার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


জনস্বার্থে তথ্য

আইন কার্যকর হলে ব্রিটেনে আইআরজিসি-র পক্ষে প্রচার, সমর্থন, অর্থসাহায্য বা তহবিল সংগ্রহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হবে। সাধারণ নাগরিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

Read More