৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা
SIR Process-কে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজ্যের সমস্ত বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিলেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) কে. রবি কুমার। শনিবার রাঁচির নির্বাচন সদন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা SIR Process-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই SIR Process শুধুমাত্র যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। যাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন অথবা স্বেচ্ছায় ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তাঁদের ইনুমেরেশন ফর্ম পূরণ বা স্বাক্ষর না করে সংশ্লিষ্ট ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর কাছে অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩০ জুন থেকে শুরু হবে ইনুমেরেশন অভিযান
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ইনুমেরেশন পর্ব। এই সময়ের মধ্যে বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আংশিকভাবে পূরণ করা ইনুমেরেশন ফর্ম বিতরণ করবেন। একই সঙ্গে ভোটারদের বর্তমান রঙিন ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত ফর্ম সংগ্রহ করা হবে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ভোটার তালিকাকে আরও হালনাগাদ ও নির্ভুল করতে এই SIR Process অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের তথ্য যাচাই করে তালিকাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।
ভুল তথ্য দিলে হতে পারে শাস্তি
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, ফর্মে ভুল তথ্য দেওয়া বা ভুয়ো ঘোষণা করে তথ্য জমা দেওয়া আইনত অপরাধ। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৩১ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রতিটি তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হবে। ফলে নাগরিকদের সঠিক তথ্য প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নাগরিকত্ব যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সময়সীমা
প্রশিক্ষণে ভারতীয় নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলির ভিত্তিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ব্যাখ্যা করা হয়।
- ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ১ জুলাই ১৯৮৭-এর মধ্যে ভারতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক।
- ১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে পিতা বা মাতার মধ্যে অন্তত একজনের ভারতীয় নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক।
- ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য। একজন ভারতীয় নাগরিক হলে অন্যজনের বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা আবশ্যক।

এই নির্দেশিকা SIR Process চলাকালীন নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে নির্বাচন দফতর।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
৫ আগস্ট প্রকাশ হবে খসড়া ভোটার তালিকা
মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাঁরা ইনুমেরেশন ফর্ম জমা দেবেন, তাঁদের নাম আগামী ৫ আগস্ট প্রকাশিতব্য খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলে অধিকাংশ ভোটারকে আর অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
বিশেষ নজর থাকবে পাঁচ ধরনের ভোটারের উপর
প্রশিক্ষণে বিভাগীয় কমিশনারদের অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত, নকল এবং স্বাক্ষর করতে অস্বীকারকারী ভোটারদের শনাক্তকরণ ও তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম-৬ বিতরণ এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির মধ্যে যেকোনও একটি জমা দিয়ে নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করা যাবে।
মাঠপর্যায়ে তিনবার পরিদর্শনের নির্দেশ
ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি বিভাগীয় কমিশনারকে অন্তত তিনবার মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সময়মতো SIR Process বাস্তবায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই উদ্যোগ ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকে আরও নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সুবোধ কুমার, রাজ্য প্রশিক্ষণ নোডাল আধিকারিক দেবদাস দত্ত, উপ নির্বাচন আধিকারিক ধীরাজ কুমার ঠাকুর, অবর নির্বাচন আধিকারিক সুনীল কুমার সিং এবং রাজ্যের সমস্ত বিভাগীয় কমিশনার অনলাইনে অংশ নেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন সাধারণ ভোটারদের কাছে আবেদন করেছে, তাঁরা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইনুমেরেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করেন। কমিশনের মতে, নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতাই একটি নির্ভুল, স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির প্রধান ভিত্তি, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
No Comment! Be the first one.