MSME Sector

MSME Sector হবে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর শক্তিশালী চালিকাশক্তি

সকাল সকাল ডেস্ক।

আন্তর্জাতিক MSME দিবসে উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের বার্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর বৃদ্ধির ওপর জোর

আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নয়াদিল্লির ড. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতিতে MSME Sector-এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরলেন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভারতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে MSME Sector-ই হবে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাঁর মতে, এই খাত শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম নয়, বরং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, নারী স্বনির্ভরতা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাফল্যের প্রতীক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এমএসএমই মন্ত্রী জিতন রাম মাঞ্জি, প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে, খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশনের চেয়ারম্যান মনোজ কুমার, মন্ত্রকের সচিব ভারত খেরা এবং বিভিন্ন শিল্পপতি ও উদ্যোক্তারা।

MSME Sector নিয়ে উপরাষ্ট্রপতির দৃষ্টিভঙ্গি

ভাষণে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করতে MSME Sector-এর সম্প্রসারণ অত্যন্ত প্রয়োজন। তাঁর মতে, প্রতিটি ক্ষুদ্র উদ্যোগের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছোট শিল্পে পরিণত হওয়া এবং প্রতিটি ছোট শিল্পের লক্ষ্য হওয়া উচিত মাঝারি শিল্পে উন্নীত হওয়া। এই ধারাবাহিক অগ্রগতিই ভারতের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই খাতের উন্নয়নের জন্য সহজ ঋণ, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সরকারের নীতিগত সহায়তা অপরিহার্য। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বিকাশ আরও দ্রুত হবে।

উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে সি. পি. রাধাকৃষ্ণন জানান, স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি পিতার আর্থিক সহায়তায় একটি ছোট পোশাক ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীকালে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং ব্যবসা সম্পর্কে ধারাবাহিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে তিনি একটি সফল নিটওয়্যার রপ্তানি ব্যবসা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।

MSME Sector

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুরুতে সীমিত পুঁজি বা বাধা থাকলেও তা সাফল্যের পথে অন্তরায় নয়। ব্যবসা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের চাহিদা বোঝার মাধ্যমে যে কেউ এগিয়ে যেতে পারেন।

গুণমান বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব

উপরাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পণ্যের মানের সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা যাবে না। তাঁর মতে, প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে যখন কম খরচে উন্নতমানের পণ্য ও পরিষেবা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি জানান, ভারতের MSME Sector-কে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে হলে গুণমান, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

Artificial Intelligence ও নতুন সম্ভাবনা

রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ভবিষ্যতে মানবকেন্দ্রিক উদ্যোক্তা’। এই প্রসঙ্গে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। অতীতে কম্পিউটারের আগমনে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, তেমনই Artificial Intelligence বা AI ভবিষ্যতে আরও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদের সমন্বয় ঘটিয়ে MSME Sector আরও দ্রুত বিকাশের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। AI-নির্ভর উৎপাদন, বিপণন এবং পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসার দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব।

খাদি শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন

খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশনের কাজের প্রশংসা করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, মধু উৎপাদন এবং খাদি শিল্পে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে খাদি শিল্পকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিপণন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –

গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে খাদি ও গ্রামোদ্যোগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নতুন পোর্টাল ও উদ্যোগের সূচনা

অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি ২.০ পোর্টাল, সমাধান ২.০ পোর্টাল, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং সাপোর্ট ২.০ পোর্টাল, এমএসএমই গ্লোবাল মার্ট ২.০ পোর্টাল এবং টেস্টিং সেন্টার পোর্টাল।

এছাড়াও এমএসএমই আইডিয়া হ্যাকাথন ৬.০-এর সূচনা করা হয়। আত্মনির্ভর ভারত তহবিল এবং প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা প্রকল্প সংক্রান্ত ই-বইও প্রকাশ করা হয়।

সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, MSME Sector-এর শক্তিশালী বিকাশ দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের নতুন উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নীতিগুলি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন পূরণে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পই হবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় এমএসএমই মন্ত্রী শ্রী জিতন রাম মাঞ্জি, এমএসএমই প্রতিমন্ত্রী সুশ্রী শোভা করন্দলাজে, কেভিআইসি-র চেয়ারম্যান শ্রী মনোজ কুমার, এমএসএমই মন্ত্রকের সচিব শ্রী ভারত খেরা, মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

রাঁচি স্টেডিয়াম পদদলিতের ঘটনায় জেএসসিএ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র আক্রমণ, এফআইআরের দাবি

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচি স্টেডিয়ামে সাম্প্রতিক পদদলিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা...

ডুরান্ড কাপ আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচির কাঁকে রোডে অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার...

মাদকাসক্তি বিরোধী সচেতনতায় রাঁচিতে ম্যারাথন দৌড়, তরুণদের শপথ ঝাড়খণ্ডকে নেশামুক্ত গড়ার

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হেমন্ত সোরেনের নির্দেশে ঝাড়খণ্ডজুড়ে মাদকাসক্তি বিরোধী...

ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড়...

Read More