সকাল সকাল ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০২৬-এ শুধুমাত্র বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নয়, এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর জোর দিচ্ছে সরকার।
রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাকে সামনে রেখে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যেই আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০২৬। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দুর্গাপুজোর আগেই আয়োজিত এই শিল্প সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে অতীতের শিল্প সম্মেলনগুলির তুলনায় এবার কৌশল ও লক্ষ্য অনেকটাই আলাদা হতে চলেছে।
সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০২৬ শুধুমাত্র বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি সংগ্রহের অনুষ্ঠান হবে না। বরং এমন প্রকল্পগুলিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে, যেগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই যার বাস্তব ফল রাজ্যের মানুষ দেখতে পাবেন।
বাস্তব বিনিয়োগে জোর, কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে নয়
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন শিল্প সম্মেলনে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষণার কথা শোনা গেলেও তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বাস্তবভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পশ্চিমবঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যেই দেশি ও বিদেশি একাধিক শিল্পগোষ্ঠী আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিল্প দফতর এবং শিল্পোন্নয়ন নিগমের কাছে জমা পড়েছে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রস্তাব। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সেই প্রস্তাবগুলির আর্থিক সক্ষমতা, জমির প্রয়োজন, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা খতিয়ে দেখছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র বাস্তবসম্মত এবং দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব এমন প্রকল্পগুলিকেই সেপ্টেম্বরের সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
নতুন প্রণোদনা প্রকল্পে শিল্পমহলের আশা
শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে একাধিক আর্থিক প্রণোদনা প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এই খাতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, এই আর্থিক সহায়তা বিশেষত শ্রমনির্ভর মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ে আটকে থাকা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার শিল্প ভর্তুকি প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শিল্পমহলের একাংশ মনে করছে, যদি এই ভর্তুকি প্রকল্পগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
একক-জানালা পরিষেবায় দ্রুত অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি
পশ্চিমবঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০২৬-এর আগে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু নীতিগত সংস্কারের কথাও ঘোষণা করেছে সরকার। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চালু করা হচ্ছে একক-জানালা অনুমোদন ব্যবস্থা। এর ফলে শিল্পপতিদের বিভিন্ন সরকারি দফতরে আলাদা আলাদা অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না।
নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন, বাণিজ্যিক লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ একাধিক প্রশাসনিক অনুমোদন একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অনেকটাই কমে আসবে।

শিল্প করিডর ও জমি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শিল্প করিডরভিত্তিক গুচ্ছ শিল্পাঞ্চল তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ প্রণোদনা কাঠামোর মাধ্যমে শিল্প সংস্থাগুলিকে অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শিল্পের জন্য নতুন ভূমি ভাণ্ডার গঠন, বন্ধ কারখানার অব্যবহৃত জমির পুনর্ব্যবহার এবং দ্রুত জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিল্পমহলের মতে, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলে বহু নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে।
https://www.sokalsokal.com/তারাতলা গোডাউন ধস: ভয়ংকর দুর্ঘটনায় ১৭ মৃত্যু, বিধ্বস্ত বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ
তথ্যপ্রযুক্তি ও নবউদ্ভাবন খাতে বিশেষ গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০২৬-এ তথ্যপ্রযুক্তি এবং নবউদ্ভাবন খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নবীন উদ্যোগ নীতি, মেধা আকর্ষণ তহবিল, বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র নীতি এবং কলকাতা শেয়ার বাজার পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।
সরকারের বিশ্বাস, এই পদক্ষেপগুলি রাজ্যে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
সরকারি বক্তব্য ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্ব
প্রশাসনের দাবি, শিল্পায়নের মাধ্যমে রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং বেকারত্ব কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিল্পমহলের আস্থা ফিরিয়ে এনে বাস্তব বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেই পশ্চিমবঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০২৬ সফল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জন্যও এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের এই শিল্প সম্মেলন শুধু একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান নয়, বরং নতুন সরকারের শিল্পনীতি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রথম বড় পরীক্ষা। বাস্তব বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন নজর শিল্পমহল ও সাধারণ মানুষের।
No Comment! Be the first one.