তারাতলা গোডাউন ধস: ভয়ংকর দুর্ঘটনায় ১৭ মৃত্যু, বিধ্বস্ত বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ

সকাল সকাল ডেস্ক

তারাতলা গোডাউন ধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে শুধু শ্রমিক নয়, বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নও।

কলকাতার তারাতলায় ঘটে যাওয়া তারাতলা গোডাউন ধস এখন শুধু একটি নির্মাণ দুর্ঘটনা নয়, বরং এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার কয়েক দিন পরেও হাসপাতাল, মর্গ এবং দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে চলছে স্বজনদের কান্না আর অপেক্ষা। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে মৃত্যুর মর্মান্তিক ছবি। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারাতলা গোডাউন ধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। দুর্ঘটনার ফলে বহু পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। ফলে শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাও গ্রাস করেছে অসংখ্য পরিবারকে।

তারাতলা গোডাউন ধস: কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়

বুধবার দুপুরে তারাতলার একটি নির্মাণাধীন গোডাউন এলাকায় আচমকা ভেঙে পড়ে বিশাল কংক্রিটের কাঠামো। মুহূর্তের মধ্যে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

উদ্ধার অভিযান রাতভর চললেও ধ্বংসস্তূপের বিশাল আকারের কারণে কাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন। একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ১৭-তে।

একই পরিবারের তিন ভাইয়ের মৃত্যু

তারাতলা গোডাউন ধসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে বিহারের মুঙ্গের জেলার একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি। জীবিকার সন্ধানে একই পরিবারের ছয় সদস্য কলকাতায় এসে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ঘি কুমারের। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর ভাই মন্নু কুমারকে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

তারাতলা গোডাউন ধস

অন্য ভাই শিরচাঁদ কুমারের দেহ দীর্ঘ সময় পরে উদ্ধার হয়। দেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তাঁকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্রে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একই পরিবারের তিন ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা গ্রাম।

শেষ ফোনালাপই হয়ে রইল শেষ স্মৃতি

এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শ্রমিক নবীন সিংও। বুধবার সকালে স্ত্রী নেহা দেবীর সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়। কাজের ফাঁকে তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন, “এখন মেশিন চালাচ্ছি, পরে কথা বলব।” কিন্তু সেই ‘পরে’ আর আসেনি। দুর্ঘটনার খবর টেলিভিশনে দেখে উদ্বেগে পড়ে যান নেহা। একাধিকবার ফোন করেও কোনও উত্তর না পেয়ে তিনি ছেলে নিয়ে কলকাতায় ছুটে আসেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর হাসপাতালের মর্গে একটি বিচ্ছিন্ন হাতে উল্কি করা ‘নবীন সিং’ নাম দেখে স্বামীকে শনাক্ত করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নবীনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

প্রথমবার কলকাতা এসে প্রাণ হারাল ১৭ বছরের সাহিল

তারাতলা গোডাউন ধসের আরেকটি মর্মান্তিক অধ্যায় ১৭ বছরের সাহিল সরদারকে ঘিরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা সাহিল প্রথমবার কলকাতা দেখতে এসেছিল। কাকার সঙ্গে শহরে এসে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তার। মহানগরীকে কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন, নতুন অভিজ্ঞতার আনন্দ—সবকিছু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল সাহিল। কংক্রিটের বিশাল অংশ ভেঙে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে চাপা পড়ে যায় তার কচি প্রাণ। পরিবারের সদস্যরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে কয়েক ঘণ্টা আগেও হাসিখুশি থাকা ছেলেটি আর ফিরে আসবে না।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সরকারি বক্তব্য

দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলেও তদন্ত চলবে। একই সঙ্গে নির্মাণস্থলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তারাতলা গোডাউন ধস আবারও মনে করিয়ে দিল, নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তার সামান্য ত্রুটিও কত বড় মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ধ্বংসস্তূপ একদিন সরিয়ে ফেলা সম্ভব হলেও স্বজন হারানোর যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা কোনওদিনই মুছে যাবে না।

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

রাঁচি স্টেডিয়াম পদদলিতের ঘটনায় জেএসসিএ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র আক্রমণ, এফআইআরের দাবি

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচি স্টেডিয়ামে সাম্প্রতিক পদদলিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা...

ডুরান্ড কাপ আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচির কাঁকে রোডে অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার...

মাদকাসক্তি বিরোধী সচেতনতায় রাঁচিতে ম্যারাথন দৌড়, তরুণদের শপথ ঝাড়খণ্ডকে নেশামুক্ত গড়ার

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হেমন্ত সোরেনের নির্দেশে ঝাড়খণ্ডজুড়ে মাদকাসক্তি বিরোধী...

ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড়...

Read More