সকাল সকাল ডেস্ক।
তারাতলা বিপর্যয়ে ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, আনোয়ার খান ও সামস ইকবালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জোরালো হচ্ছে।
কলকাতার বহুল আলোচিত Taratala Collapse Case-এ নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে পড়লেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গোডাউন ভেঙে ১৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের (বিজেএমসি) দক্ষিণ কলকাতা শাখা। এই Taratala Collapse Case ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে কারা রয়েছেন?
বিজেএমসি-র পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগপত্রে শুধু ফিরহাদ হাকিম নন, কলকাতা পুরসভার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার আনোয়ার খান এবং ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সামস ইকবালের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গোডাউন ধসের ঘটনা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে গুরুতর গাফিলতি এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র।
সংগঠনের দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি এমবি মহেশ অভিযোগ করেছেন যে কলকাতা পোর্ট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি নির্মাণ এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট চক্র কাজ করেছে। তাঁর দাবি, এই চক্রের মূল প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
Taratala Collapse Case-এ এফআইআর দায়েরের দাবি
লিখিত অভিযোগে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অভিযোগপত্রকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত শুরু করতে হবে। অভিযোগকারীদের মতে, ১৭ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এই Taratala Collapse Case-এ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, যদি নির্মাণে ত্রুটি থেকেই থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে অনুমোদন দিয়েছিল এবং কেন সময়মতো ত্রুটিগুলি চিহ্নিত করা হয়নি।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি
ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় যখন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তিনি দাবি করেন, তারাতলার যে নির্মাণ প্রকল্পটি পরে বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে, তার অনুমোদিত নকশায় তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট নথি উপস্থাপন করে বলেন, অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম ছিল এবং সেই কারণেই নির্মাণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই বক্তব্যের পর থেকেই Taratala Collapse Case নতুন মোড় নেয়।
ওএসডি গ্রেফতারির পর বাড়ছে চাপ
ঘটনার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করার পর তদন্তকারীরা অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কালীচরণের গ্রেফতারির পর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। ফলে Taratala Collapse Case-এ আরও নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকারের অবস্থান
বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।
তাঁর বক্তব্য, আইনের চোখে সবাই সমান এবং এই ঘটনায় কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের এই অবস্থান তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবি, কোনো নির্মাণ প্রকল্পের নকশায় চূড়ান্ত কারিগরি অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব মেয়রের নয়। সেই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বিভাগের ওপর বর্তায়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে। তদন্তে সত্য সামনে এলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
তারাতলা গোডাউন ধসের ঘটনায় নিহতদের পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং বিভিন্ন নথি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়মকানুন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে Taratala Collapse Case-এর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশ।
No Comment! Be the first one.