সকাল সকাল ডেস্ক।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, ফ্ল্যাটের দখল নেওয়ার পরও বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন ক্রেতারা
ফ্ল্যাট কেনার পর নির্ধারিত সময়ে দখল না পাওয়া দেশের লক্ষ লক্ষ ক্রেতার জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল সুপ্রিম কোর্ট। Flat Possession Delay সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফ্ল্যাটের প্রকৃত দখল গ্রহণ করার পরও বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার ক্রেতারা হারান না। এই রায়ের মাধ্যমে জাতীয় উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের (এনসিডিআরসি) ২০১৬ সালের একটি আদেশও বাতিল করে দিয়েছে আদালত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা বিতর্ক ও প্রকল্পে দেরির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। Flat Possession Delay-এর কারণে ক্ষতির শিকার বহু মানুষ ভবিষ্যতে এই রায়ের ভিত্তিতে আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন।
কী বলেছে সুপ্রিম কোর্ট?
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং ভি. মোহন-এর বেঞ্চ জানিয়েছে, শুধুমাত্র ফ্ল্যাটের দখল গ্রহণ করলেই কোনও ব্যক্তি উপভোক্তার মর্যাদা হারান না। ফলে ফ্ল্যাটের দখল পাওয়ার আগে যে বিলম্ব হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকারও বহাল থাকবে।
আদালত ৪ জুন দেওয়া রায়ে উল্লেখ করেছে, কোনও আবাসন প্রকল্পে দেরি হলে এবং পরে ক্রেতা ফ্ল্যাটের দখল পেলেও সেই বিলম্বের কারণে হওয়া আর্থিক বা মানসিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা সম্পূর্ণ বৈধ। Flat Possession Delay-এর ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যা ভবিষ্যতের বহু মামলার জন্য দিশা দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলার পটভূমি
এই মামলার সূত্রপাত ২০০৩ সালে। দিল্লির একটি সমবায় গৃহনির্মাণ সমিতির সদস্য হিসেবে এক ব্যক্তি একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাটের দখল না পাওয়ায় তিনি পরিষেবায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে জেলা উপভোক্তা ফোরামের দ্বারস্থ হন।
২০০৯ সালে জেলা ফোরাম অভিযোগ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সমিতিকে নোটিশ পাঠায়। পরে ২০১৩ সালে দিল্লি রাজ্য উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তবে ২০১৬ সালে এনসিডিআরসি আবেদন খারিজ করে জানায়, যেহেতু অভিযোগকারী ইতিমধ্যেই ফ্ল্যাটের দখল নিয়েছেন, তাই তিনি আর উপভোক্তা হিসেবে গণ্য হবেন না।
সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাখ্যাকে ভুল বলে উল্লেখ করে জানায়, Flat Possession Delay-এর কারণে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার দখল গ্রহণের পরেও অটুট থাকে।

সালিশি ধারা থাকলেও অভিযোগ করা যাবে
মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে চুক্তিতে সালিশি (Arbitration) সংক্রান্ত ধারা ছিল। সেই যুক্তিতে দাবি করা হয়েছিল, বিরোধটি উপভোক্তা ফোরামে নয়, সালিশি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
তবে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, কোনও চুক্তিতে সালিশি ধারা থাকলেই উপভোক্তা ফোরামের এখতিয়ার শেষ হয়ে যায় না। ভোক্তারা চাইলে উপভোক্তা ফোরামের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
উপভোক্তা সুরক্ষা আইনের ব্যাখ্যা
আদালত ১৯৮৬ সালের উপভোক্তা সুরক্ষা আইনের ৩ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বলেছে, এই আইন একটি কল্যাণমূলক আইন। এর মূল উদ্দেশ্য সাধারণ ভোক্তাদের দ্রুত, সহজ এবং কম খরচে বিচার ও প্রতিকার প্রদান করা।
বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনের অধীনে পাওয়া প্রতিকার অন্য কোনও আইনি প্রতিকারের বিকল্প নয়, বরং অতিরিক্ত সুবিধা। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি চাইলে অন্য আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি উপভোক্তা ফোরামেও অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য কী প্রভাব পড়বে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে দেশের আবাসন খাতে ক্রেতাদের অধিকার আরও শক্তিশালী হবে। বহু ক্ষেত্রে নির্মাণকারী সংস্থা বা আবাসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করে থাকে। এতদিন অনেকেই মনে করতেন, ফ্ল্যাটের দখল গ্রহণ করার পর ক্ষতিপূরণ দাবি করা সম্ভব নয়।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর Flat Possession Delay-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতারা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আইনি লড়াই চালাতে পারবেন। একই সঙ্গে আবাসন সংস্থাগুলির উপরও সময়মতো প্রকল্প সম্পূর্ণ করার চাপ বাড়বে।
সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ফ্ল্যাটের দখল গ্রহণ করলেই ক্রেতার সমস্ত দাবি শেষ হয়ে যায় না। যদি দখল হস্তান্তরে অযৌক্তিক বিলম্ব ঘটে এবং তার ফলে আর্থিক বা মানসিক ক্ষতি হয়, তাহলে উপভোক্তা ফোরামের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Flat Possession Delay সংক্রান্ত এই ঐতিহাসিক রায় ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ বাড়ি ক্রেতার অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং আবাসন খাতে আরও বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
No Comment! Be the first one.