Bangladesh Flood 2026: বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লক্ষের বেশি মানুষ
সকাল সকাল ডেস্ক টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা, উদ্ধার ও ত্রাণে সেনাবাহিনী-নৌবাহিনীর যুদ্ধকালীন তৎপরতা। টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বন্যা পরিস্থিতি। বাংলাদেশ ফ্লাড ২০২৬-এর জেরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বহু এলাকা এখনও জলমগ্ন, হাজার হাজার পরিবার জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ফ্লাড ২০২৬ দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার, একাধিক জেলা বন্যার কবলে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার বন্যার প্রভাবের মুখে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে। কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই জেলাতেই ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও এই জেলার অন্তর্গত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রবল বর্ষণের ফলে একাধিক ভূমিধসে এক ডজনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর প্রশাসন লাউডস্পিকার, স্বেচ্ছাসেবক এবং জরুরি সতর্কবার্তার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়। তবুও শিবিরগুলিতে এখনও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ইকবাল হুসেন জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা নৌকার সাহায্যে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ বিতরণ করছেন। বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় জলপথই এখন প্রধান ভরসা। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাড়ছে দুর্ভোগ বন্যার জেরে বহু রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্কও ব্যাহত হওয়ায় দুর্গত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জল নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট ক্রমশ বাড়ছে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, তাঁর বাড়িতে এখনও হাঁটুসমান জল রয়েছে। রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না এবং ঘরে থাকা শুকনো খাবারও প্রায় শেষ। বেশিরভাগ পরিবার বর্তমানে চিঁড়ে, মুড়ি, বিস্কুটসহ শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করছে। শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ মানুষের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধি এবং আরও এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী অবকাঠামো, আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া জরুরি। ব্যাকগ্রাউন্ড বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের ঘটনা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হবে। পাবলিক ইনফরমেশন প্রশাসন দুর্গত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার করা এবং জরুরি প্রয়োজনে সরকারি সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬: হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা, ভারতীয় নাবিক নিহত, পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সামরিক সংঘাত, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির; তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাবের আশঙ্কা। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬-এর নতুন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ঘিরে নৌ অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তৃতীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে তারা মার্কিন মিত্র দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই ওমান উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হওয়ায় নয়াদিল্লি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। ফলে হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬ এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নতুন দফার অভিযান চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের খবরও নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে এবং হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী নতুন অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করবে। ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি, ওমান উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক। এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইরানের পাল্টা দাবি ও সামরিক অবস্থান ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা জর্ডন, বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, তেহরানের দাবি, তারা মার্কিন আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনে সেগুলিকে অচল করে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) জানিয়েছে, ওমান উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলায় এক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে (ডেপুটি চিফ অব মিশন) তলব করেছে। সিএনএন, সিবিএস নিউজ ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তৃতীয় রাতেও মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম বন্দর আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। ইরান আরও জানিয়েছে, তাদের উপকূল সংলগ্ন নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার না করলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তেল বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে উদ্বেগ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ দিনে ইরান প্রায় আট কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। তবে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হলে আরও প্রায় তিন কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক হামলায় কোনারক, চাবাহার, কেশম, আবু মুসা, কিশ, ওমিদিয়েহ, বুশেহর এবং বন্দর আব্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বাহরিন দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরিন ডিফেন্স ফোর্সের অভিযোগ, ইরান বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যাকগ্রাউন্ড হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেই এই জলপথ বৈশ্বিক কূটনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান সেই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের তেল রপ্তানি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বজায় রেখেছে। পাবলিক ইনফরমেশন ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Gold Price Today: 8 শহরে সোনা-রুপোর দামে স্বস্তি, সপ্তাহের শুরুতেই কমল Gold Rate
সকাল সকাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে সামান্য কমল সোনা ও রুপোর দাম। দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই-সহ একাধিক শহরে নতুন Gold Price প্রকাশ। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই Gold Price Today-এ মিলল কিছুটা স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে সোমবার দেশের সোনা ও রুপোর দামে সামান্য পতন হয়েছে। যদিও এই মূল্যহ্রাস বড় নয়, তবুও গয়না কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৩২০ টাকা থেকে ১,৪৫,০৮০ টাকা-এর মধ্যে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩২,২৯০ টাকা থেকে ১,৩২,৯৯০ টাকা-এর মধ্যে রয়েছে। এদিকে রুপোর দাম সামান্য কমে দিল্লির বাজারে প্রতি কিলোগ্রামে ২,৩৪,৯০০ টাকা হয়েছে। Gold Price Today: দিল্লি ও মুম্বইয়ে কত দাম? রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৪৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৪,৩২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,২৯০ টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই শহরের দামের এই সামান্য পার্থক্যের পিছনে স্থানীয় কর, পরিবহণ ব্যয় এবং বাজারভিত্তিক চাহিদার ভূমিকা রয়েছে। কলকাতা-সহ পূর্ব ভারতের বাজারে কী দাম? কলকাতার বাজারেও সোনার দামে সামান্য সংশোধন হয়েছে। ভুবনেশ্বরেও একই দাম কার্যকর রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবেই পূর্ব ভারতের বিভিন্ন শহরে এই মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। চেন্নাইয়ে এখনও সর্বোচ্চ Gold Rate দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে এখনও দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৩২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বাজার আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৩৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৩৪০ টাকা। একই দাম বজায় রয়েছে ভোপাল ও পাটনায়। জয়পুর এবং লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৪৭০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৪৪০ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছে। কেন কমল সোনা ও রুপোর দাম? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের শক্তি, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সংক্রান্ত নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়েই প্রতিদিন সোনা ও রুপোর দামে পরিবর্তন আসে। বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩২০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮০ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২৯০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এদিকে, রুপোর দামেও সামান্য সংশোধন দেখা গেছে। দিল্লির বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনায় কতটা বিনিয়োগ করছেন, সেটিও দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে কিছু মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাওয়ায় দাম কিছুটা নেমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ক্রেতাদের জন্য কী বার্তা? গয়না ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমান মূল্যহ্রাস খুব বড় না হলেও বিয়ে, উৎসব বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকলে এটি তুলনামূলকভাবে অনুকূল সময় হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আগামী কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা জরুরি। কারণ এই বিষয়গুলিই আগামী দিনে Gold Price Today-এর গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। Background গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলারের ওঠানামা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সোনা ও রুপোর দামে নিয়মিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ে, আবার মুনাফা তোলার প্রবণতা বাড়লে দাম কিছুটা কমে। Impact বর্তমান মূল্যহ্রাস গয়না ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলালে সোনা ও রুপোর দাম আবারও বাড়তে বা কমতে পারে। Official Statement বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্বাভাবিক প্রভাব। এখনও বড় ধরনের মূল্যপতনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সোনা কেনার আগে ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেটের দামের পার্থক্য, হলমার্ক সার্টিফিকেশন, জিএসটি, মেকিং চার্জ এবং স্থানীয় বাজারদর অবশ্যই যাচাই করা উচিত। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের Gold Rate পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। Public Information
Hormuz Strait Crisis: 10 বড় দাবিতে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি তেহরানের
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সামরিক উত্তেজনা, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবের দাবি আইআরজিসির; বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ। Hormuz Strait Crisis ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের দাবি সামনে এসেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বাহরাইনে একটি মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে উভয় পক্ষের একাধিক দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বেশ কয়েকটি দাবির বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি। Hormuz Strait Crisis ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অভিযানে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামো, ড্রোন ঘাঁটি এবং ছোট আক্রমণাত্মক নৌযান। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, আত্মঘাতী ড্রোন এবং সমুদ্রপথে পরিচালিত ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এটিই অন্যতম বড় সমন্বিত সামরিক অভিযান। পাল্টা হামলার দাবি আইআরজিসির মার্কিন অভিযানের পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, বাহরাইনে অবস্থানরত একটি মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিতেও হামলার দাবি করেছে তেহরান। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইরানে হতাহতের খবর ইরানের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মার্কিন হামলায় খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় একটি কৃষি জল পাম্পিং কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই ঘটনায় এক নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও তুলেছে তেহরান। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার অভিযোগ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে কার্যত ব্যাহত করেছে। তেহরানের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন জল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আগের রাতের অভিযানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযানের ক্ষয়ক্ষতি বা সামরিক সাফল্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি। তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী? Hormuz Strait Crisis-এর গুরুত্ব শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত বড়। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। Background গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অভিযোগ তুলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। Impact বিশেষজ্ঞদের মতে, Hormuz Strait Crisis দীর্ঘায়িত হলে শুধু পশ্চিম এশিয়াই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। Official Statement মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করলেও ইরানের বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি এখনও স্বীকার করেনি। একইভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের একাধিক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। Public Information হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক করিডর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। তাই এই অঞ্চলের যেকোনও সামরিক সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হতে পারে।
পাকিস্তান বালোচিস্তান সংকট: বালোচিস্তান পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে! আসিম মুনিরকে পরোক্ষ কটাক্ষ ফজলুর রহমানের
সকাল সকাল ডেস্ক বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদকে তীব্র আক্রমণ, সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে বললেন—‘রাজনীতি করতে চাইলে উর্দি খুলে ভোটে নামুন’ Pakistan Balochistan Crisis আরও জটিল হয়ে উঠছে। বালোচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সশস্ত্র হামলার বৃদ্ধি এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান অসন্তোষের আবহে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (ফজল)-এর প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান প্রকাশ্যে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও পরোক্ষ কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। Pakistan Balochistan Crisis ঘিরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন পঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফজলুর রহমান দাবি করেন, বালোচিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁর অভিযোগ, বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ বাড়ার পর থেকেই প্রশাসনের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়েছে এবং বর্তমানে বহু অঞ্চলে সরকারের উপস্থিতি কার্যকর নয়। ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের বহু এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হামলা, অপহরণ এবং প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তাঁর কথায়, “দেশ ভেঙে পড়ছে, অথচ শাসকরা নীরব। কয়েক দিনের মধ্যেই পঞ্চাশেরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।” তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা জনসভায় সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর মন্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফজলুর রহমান বলেন, “যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে আগে উর্দি খুলে নির্বাচনে অংশ নিন। তখনই বোঝা যাবে জনগণ উর্দিধারীদের কতটা সমর্থন করে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের প্রভাব ও নেপথ্য ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বালোচিস্তানে বাড়ছে সহিংসতা ও নিরাপত্তা সংকট ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, বালোচিস্তানে ধারাবাহিক হামলা, অপহরণ এবং প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য, “দেশ ভেঙে পড়ছে, অথচ শাসকরা নীরব। কয়েক দিনের মধ্যেই পঞ্চাশেরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।” তবে এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরছে না এবং নিরাপত্তা সংকটের গুরুত্ব আড়াল করার চেষ্টা করছে। খাইবার পাখতুনখোয়াতেও বাড়ছে উদ্বেগ শুধু Pakistan Balochistan Crisis নয়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফজলুর রহমান। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান নিরাপত্তা নীতি কার্যকর নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সাধারণ মানুষকে অস্ত্র ধরার আহ্বান নিয়ে আপত্তি নিরাপত্তা কৌশল প্রসঙ্গেও তিনি কড়া মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান অত্যন্ত বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বিভাজন, প্রতিশোধের রাজনীতি এবং নতুন সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও বাড়ছে অসন্তোষ এদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’-র উদ্যোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপের আহ্বানও তোলেন। Background বিগত কয়েক বছরে বালোচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে নাশকতার ঘটনা বেড়েছে। একই সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায়ও জঙ্গি হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। Impact বিশ্লেষকদের মতে, Pakistan Balochistan Crisis-এর পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি ইসলামাবাদের উপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ফজলুর রহমানের মন্তব্য ভবিষ্যতে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। Official Statement এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফজলুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। Public Information বালোচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ হলেও দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদ, নিরাপত্তা অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই সংকটকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়েওলের ২ বছরের কারাদণ্ড, অবৈধ মতামত সমীক্ষা মামলায় দোষী
সকাল সকাল ডেস্ক রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ইউন সুক ইয়েওল, বাজেয়াপ্তের নির্দেশও আদালতের দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়েওল-কে অবৈধভাবে বিনামূল্যে মতামত সমীক্ষা গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালত। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ওন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক তহবিল আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কী অভিযোগ ছিল ইউন সুক ইয়েওলের বিরুদ্ধে? দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মিন জং-কির নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল অভিযোগ করে, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে ইউন সুক ইয়েওল এবং তাঁর স্ত্রী কিম কেওন হি রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী মিউং তে-কিউনের কাছ থেকে মোট ৫৮টি মতামত সমীক্ষা বিনামূল্যে গ্রহণ করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই সমীক্ষাগুলির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি ওন। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমীক্ষাগুলি বিনামূল্যে গ্রহণ করায় তা রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের সামিল বলে অভিযোগ করা হয়। আদালত কী বলল? আদালত অবশ্য তদন্তকারী সংস্থার সমস্ত অভিযোগ গ্রহণ করেনি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৫৮টি নয়, ১৪টি মতামত সমীক্ষা বিনামূল্যে গ্রহণের অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের মতে, এই সমীক্ষাগুলি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলি কার্যত অবৈধ রাজনৈতিক অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। সেই কারণেই ইউন সুক ইয়েওলকে রাজনৈতিক তহবিল আইন ভঙ্গের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রতিশ্রুতির অভিযোগ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মতামত সমীক্ষার বিনিময়ে ইউন সুক ইয়েওল ২০২২ সালের জুন মাসের সংসদীয় উপনির্বাচনে রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী কিম ইয়ং-সনের মনোনয়নে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আদালতের মতে, রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেন কঠোর সাজা দিল আদালত? রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, একজন জাতীয় নেতার কাছ থেকে জনগণ সর্বোচ্চ নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করে। কিন্তু ইউন সুক ইয়েওলের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকে দুর্বল করেছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ওন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা? একই মামলায় অভিযুক্ত রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী মিউং তে-কিউনকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। যদিও সরকারি কৌঁসুলিরা ইউন সুক ইয়েওলের জন্য চার বছর এবং মিউং তে-কিউনের জন্য তিন বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, ইউন সুক ইয়েওলের স্ত্রী ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি কিম কেওন হির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও সিউল হাই কোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আপিল করেছে সরকারি কৌঁসুলিপক্ষ। আইনি লড়াই এখনও শেষ নয় ইউন সুক ইয়েওলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমান রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। ফলে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউন সুক ইয়েওল ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে ঘিরে বিদ্রোহের অভিযোগে আরেকটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। সেই মামলার আপিলও বিচারাধীন রয়েছে। রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু ইউন সুক ইয়েওলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চিত করেনি, বরং দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল রাজনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থায়ন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং জনজবাবদিহি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
Bangkok Pub Fire: ব্যাঙ্ককের পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু, বহু আহত
সকাল সকাল ডেস্ক রাতের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল বিভীষিকায়, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখছে থাইল্যান্ড প্রশাসন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ব্যাঙ্কক পাব ফায়ার-এর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা থাইল্যান্ডে। কীভাবে ঘটল অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় সময় রবিবার গভীর রাত প্রায় ১টা নাগাদ ব্যাঙ্ককের ওই পানশালায় আগুন লাগার খবর পায় দমকল বাহিনী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পানশালার একাংশ আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। ভিতরে আটকে পড়া বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। দমকল বাহিনীর দাবি, দ্রুত অভিযান চালানোর ফলে আগুন পাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোখা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ত্রিশ মিনিটের প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ কয়েকজন আহতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকের শরীরে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন কীভাবে লাগল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না এবং পানশালায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে তৎপর দমকল ও প্রশাসন ঘটনার পরপরই দমকল, পুলিশ এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত বাইরে বের করে আনা হয়। আহতদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। সরকারের প্রতিক্রিয়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য হাসপাতালগুলিতে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি: ৭ বড় বার্তা, বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার ঘোষণা, বাড়ল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর প্রথম বড় বার্তা নতুন সর্বোচ্চ নেতার। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ‘প্রতিশোধ’-এর অঙ্গীকারে নতুন করে চর্চায় পশ্চিম এশিয়া। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে’। তাঁর দাবি, এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, বরং ইরানি জাতির দাবি এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, “প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের জাতির দাবি এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় ইরানের কাছে রয়েছে এবং কেউই জবাবদিহি এড়াতে পারবে না। ‘শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে’ প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে উদ্দেশ করে মোজতবা খামেনি বলেন, “আমরা শপথ করছি, অপরাধীদের কাছ থেকে আপনার পবিত্র রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধের সব শহীদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এই প্রতিশোধ কোনও একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করছে না। তাঁর কথায়, “আমরা বেঁচে থাকি বা না থাকি, এই প্রতিজ্ঞা পূরণ করা হবে।” ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পাল্টা বার্তা মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও হত্যাচেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক জবাব দেবে। ট্রাম্পের ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধের বার্তা সামনে আসায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ট্রাম্পকে হত্যার আশঙ্কা নিয়ে বিতর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনও নতুন বা নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। জনসমক্ষে আসেননি নতুন সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনও পর্যন্ত মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় তিনি আহত হয়েছিলেন। তবে এই দাবির স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। কোনও ভিডিও ভাষণ বা প্রকাশ্য বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক মন্তব্য ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদিও বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে, তবুও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির জেরে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। পটভূমি সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রকাশিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নতুন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। জনসাধারণের জন্য তথ্য আন্তর্জাতিক সংঘাত-সংক্রান্ত খবরের ক্ষেত্রে যাচাই করা সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করা উচিত। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত যাচাইবিহীন তথ্য থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সংক্ষিপ্ত সারাংশ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর এই বিবৃতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লিন্ডসে গ্রাহামের প্রয়াণ: ৭ বড় তথ্য, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর, শোকস্তব্ধ যুক্তরাষ্ট্র
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনের অবসান। রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকের ছায়া মার্কিন রাজনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা এবং সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ৭১ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। শনিবার (স্থানীয় সময়) তাঁর কার্যালয় এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। যদিও তাঁর অসুস্থতার প্রকৃতি বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কঠিন সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সকলের কাছে তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনার আবেদনও করা হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে ২০১৬ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের সময় তিনি ট্রাম্পের নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই নেতার সম্পর্কের বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে গ্রাহাম ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হন এবং কংগ্রেসে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে মার্কিন রাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতারাই তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং জনসেবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মৃত্যুর সময় লিন্ডসে গ্রাহাম মার্কিন সিনেটের বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি অর্থ বরাদ্দ কমিটি, বিচারবিষয়ক কমিটি এবং পরিবেশ ও গণপূর্তবিষয়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। বিচারপতি নিয়োগ, বাজেট এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান লিন্ডসে গ্রাহাম ১৯৯৪ সালে প্রথমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০২ সালে সাউথ ক্যারোলিনা থেকে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ২০০৩ সাল থেকে টানা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা, বাজেট এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। সমালোচক থেকে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ২০১৬ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই নেতার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীতে পরিণত হন এবং কংগ্রেসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও আইন প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় দৃঢ় অবস্থান লিন্ডসে গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইরান, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বরাবরই কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের প্রশ্নেও তিনি রিপাবলিকান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন মৃত্যুর সময় তিনি মার্কিন সিনেটের বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দ, বিচারবিষয়ক এবং পরিবেশ ও গণপূর্ত-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য ছিলেন। বাজেট প্রণয়ন, বিচারপতি নিয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ব্যক্তিগত জীবন লিন্ডসে গ্রাহাম অবিবাহিত ছিলেন। তিনি সাউথ ক্যারোলিনার সেনেকা শহরের বাসিন্দা ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে তিনি স্পষ্টভাষী, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং দৃঢ়চেতা নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর পর কী হবে? মার্কিন আইন অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর ফলে সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটের আসনটি শূন্য হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর একজন অস্থায়ী সিনেটর নিয়োগ করবেন। পরে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে ওই আসনের নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন রিপাবলিকান দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য লিন্ডসে গ্রাহামের কার্যালয় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। পরিবার সকলের কাছে প্রার্থনা চেয়েছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা শোক প্রকাশ করেছেন। জনসাধারণের জন্য তথ্য মার্কিন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, কোনও সিনেটরের মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অস্থায়ী নিয়োগ দিতে পারেন। পরবর্তীতে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। সংক্ষিপ্ত সারাংশ রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা ও মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইন অনুযায়ী, তাঁর শূন্য আসনে প্রথমে অস্থায়ী নিয়োগ এবং পরে বিশেষ নির্বাচন হবে।
টাইফুন বাভির তাণ্ডব: ৫ বড় প্রভাব, চীনে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড়, ফিলিপাইনে মৃত ১৭, তাইওয়ানে আহত ১৩৪
সকাল সকাল ডেস্ক ঝেজিয়াংয়ে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার বেগে আঘাত, ১৭ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে; পূর্ব এশিয়াজুড়ে জারি উচ্চ সতর্কতা। শক্তিশালী টাইফুন বাভি পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শনিবার রাতে চীনের পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং প্রদেশে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। প্রবল ঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একই সময়ে টাইফুনের প্রভাবে ফিলিপাইনে ভূমিধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাইওয়ানে আহত হয়েছেন ১৩৪ জন। তিন দেশেই জোরকদমে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থলভাগে আঘাত হানে টাইফুন বাভি। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়টির কেন্দ্রে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি কিছুটা কমলেও আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয় বড় ঘূর্ণিঝড়ে নতুন সংকটে চীন মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে এটি চীনে আঘাত হানা দ্বিতীয় বড় ঘূর্ণিঝড়। এর আগে ‘মায়সাক’ দক্ষিণ চীনের একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছিল। ফলে নতুন করে বাভির আঘাতে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন আরও তৎপর হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পূর্ব চীনের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শতাধিক বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। বহু রেলপথে ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া ফেরি পরিষেবা, স্কুল, কলেজ এবং একাধিক সরকারি অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনঝু শহরের বাসিন্দা হুয়াং জিংহুয়ান জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই তিনি পরিবারের জন্য কয়েক দিনের খাদ্য, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করেছেন। তাঁর কথায়, অতীতেও একাধিক টাইফুনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চললেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝেজিয়াং-সহ একাধিক প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। চীনের চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কমলা সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে। বিমান, ট্রেন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শতাধিক বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। বহু রেলপথে ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ফেরি পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ এবং একাধিক সরকারি দপ্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনে ভূমিধসে মৃত্যু ১৭ টাইফুনের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর জেরে পাহাড়ি অঞ্চলে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি হিসাবে, অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী, দমকল ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। তাইওয়ানে আহত ১৩৪, সরানো হয়েছে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ তাইওয়ানেও প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ আহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪ হাজার ২১০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তাইচুং শহর এবং হুয়ালিয়েন কাউন্টি থেকে ব্যাপক সংখ্যক বাসিন্দাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্কুল, সরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অধিকাংশ রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও সতর্কতা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি ধীরে ধীরে কমলেও এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন চীন, তাইওয়ান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, প্রবল দমকা হাওয়া এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির প্রশাসন উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করা এবং সরকারি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বর্ষাকালে একাধিক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের ঝড়ের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রভাব সরকারি বক্তব্য চীনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুন বাভির শক্তি ধীরে ধীরে কমলেও আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি ও প্রবল দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের জন্য তথ্য সংক্ষিপ্ত সারাংশ টাইফুন বাভি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে আছড়ে পড়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ফিলিপাইনে ভূমিধসে ১৭ জনের মৃত্যু এবং তাইওয়ানে ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। পূর্ব এশিয়াজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।