Australia Social Media Law: শিশুদের সুরক্ষায় প্রযুক্তি সংস্থার জরিমানা 2 গুণের পথে অস্ট্রেলিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। Australia Social Media Law-এ বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এনে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার রোধে ব্যর্থ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানা প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি কমিশনার-এর তদন্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, Australia Social Media Law কার্যকর হলে এটি বিশ্বজুড়ে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম যদি ধারাবাহিকভাবে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানা বর্তমান ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার করা হবে। সরকারের মতে, শুধু নির্দেশিকা জারি করলেই হবে না, আইন অমান্য করলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে কঠোর আর্থিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তি কোম্পানিকে প্রমাণ দিতে হবে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলিকে শুধু দাবি করলেই চলবে না যে তারা বয়সসীমা কার্যকর করছে। বরং কীভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট খোলা রোধ করা হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট প্রমাণও জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে ই-সেফটি কমিশনার সরাসরি তথ্য তলব করতে পারবে এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য যাচাইয়েরও পূর্ণ ক্ষমতা পাবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এখনও আইন বাস্তবায়নে যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এখনও বিপুল সংখ্যক শিশু বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, যা প্রমাণ করে বর্তমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে অথবা নতুন নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে। তবুও প্রশাসনের মতে, বয়স গোপন করে বা ভুল তথ্য দিয়ে অনেক শিশু এখনও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। তদন্তের আওতায় বড় প্রযুক্তি সংস্থা বর্তমানে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, গুগলের ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট এবং টিকটক-সহ একাধিক জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করছে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বয়স যাচাই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং প্ল্যাটফর্মগুলি শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা রোধে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে কি না। পটভূমি প্রায় ছয় মাস আগে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশগুলির অন্যতম হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ চালু করে। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার বুলিং, ডিজিটাল আসক্তি এবং অনলাইন শোষণের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই আইন কার্যকর করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৫০ লাখেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে অথবা নতুন নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। তবুও অনেক শিশু ভুল বয়স উল্লেখ করে বা প্রযুক্তিগত ফাঁকফোকর ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছে। গবেষণায় উঠে এল উদ্বেগজনক তথ্য সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, আইন কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয়দের প্রায় ৮৫ শতাংশ কোনও না কোনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক ব্যবহারকারী নিজেদের বয়স ১৬ বছরের বেশি দেখিয়ে অথবা বয়স যাচাই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে সহজেই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছে। সরকারি বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এখনও আইন বাস্তবায়নে যথেষ্ট আন্তরিক নয়। যোগাযোগমন্ত্রী অ্যানিকা ওয়েলসের মতে, অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি দায় এড়াতে ন্যূনতম পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ প্রভাব ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য নতুন সংশোধনের আওতায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিই নয়, বয়স যাচাই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, অ্যাপ স্টোর পরিচালনাকারী সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে ই-সেফটি কমিশনার। এদিকে, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রেডিট এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের দাবি, এই আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আদালতে এই আইনের পক্ষে অবস্থান নেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, Australia Social Media Law সফলভাবে কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে একই ধরনের কঠোর আইন প্রণয়নের পথে এগোতে পারে।
US Iran Conflict: ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন হামলার পর কুয়েত-বাহরাইনে পাল্টা আঘাতের দাবি ইরানের
সকাল সকাল ডেস্ক US Iran Conflict ঘিরে যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন সংঘাত, মার্কিন বিমান হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার দাবি তেহরানের পশ্চিম এশিয়ায় ফের অস্থিরতা বাড়ছে। US Iran Conflict নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির আবহ তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে US Iran Conflict ঘিরে নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগের পর শনিবার রাতে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন এলাকায় ইরানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে সেন্টকমের মতে, অভিযানে নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র এবং সমুদ্রে মাইন পাতা-সংক্রান্ত সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্পের কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত পুনরায় লঙ্ঘিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামোকেই এই অভিযানে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের পর US Iran Conflict আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলার দাবি মার্কিন অভিযানের পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করে, তাদের নৌ ও বিমান ইউনিট যৌথভাবে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাব। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কোনও পদক্ষেপের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পটভূমি গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রচেষ্টায় ধাক্কা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত আবারও লঙ্ঘিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সরকারি অবস্থান মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত রক্ষার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনই প্রথম সামরিক হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, US Iran Conflict আরও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, জাহাজ চলাচল, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। ইতোমধ্যেই একাধিক দেশ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে, তবে তাদের উপস্থাপিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক নজর রাখছে। সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুসরণ এবং সরকারি ভ্রমণ সতর্কতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সংলাপ শুরু না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
Venezuela Earthquake: ফের ভূমিকম্পে আতঙ্ক, মৃত ১,৪৩০, নিখোঁজ প্রায় ৬৯ হাজার
সকাল সকাল ডেস্ক Venezuela Earthquake-এর জোড়া ধাক্কার পর ফের ৫.৬ মাত্রার কম্পন, উদ্ধারকাজে বাধা, গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট ভয়াবহ Venezuela Earthquake-এর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। এরই মধ্যে আবারও রিখটার স্কেলে ৫.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে হওয়া জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪৩০ জনে। আহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৮,৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে Venezuela Earthquake-এর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি। ফের ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্ক সর্বশেষ ভূমিকম্পটি আরাগুয়া উপকূলের অদূরে সমুদ্রের তলদেশে আঘাত হানে। কম্পন রাজধানী কারাকাস-সহ একাধিক শহরে অনুভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। প্রাথমিকভাবে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বহু ভবনের আরও ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এতে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী কারাকাস এবং আশপাশের এলাকায় দিনরাত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। ধসে পড়া বহুতল আবাসন, সরকারি ভবন, হাসপাতাল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরও কাজে লাগানো হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। Venezuela Earthquake-এর পর বহু পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করছেন। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা সরকারি হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১,৪৩০-এ পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো প্রায় ৬৮,৯০০ জনের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন। সেই কারণে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে। পটভূমি কয়েক দিন আগে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই জোড়া ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বহু বহুতল ভবন, সেতু, সরকারি অফিস এবং আবাসন ভেঙে পড়ে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এত বড় ভূমিকম্পের পরে আফটারশক বা পরাঘাত হওয়ার সম্ভাবনা আগেই ছিল। সর্বশেষ ৫.৬ মাত্রার কম্পন সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়হীন Venezuela Earthquake-এর ফলে লক্ষাধিক মানুষ এখন গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। হাজার হাজার পরিবার অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং চিকিৎসা পরিষেবার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন ত্রাণকর্মীরা। সরকারি বিবৃতি ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সামগ্রী, খাদ্য এবং জরুরি ত্রাণ পাঠানো শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে বসবাস করলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। তাই চিকিৎসক দল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জরুরি চিকিৎসা, টিকাকরণ এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রভাব ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য ভূমিকম্পের কারণে বহু এলাকা এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। একাধিক সেতু ভেঙে যাওয়ায় এবং প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের পরিষেবাও অনেক এলাকায় এখনও স্বাভাবিক হয়নি। প্রশাসন নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার এবং আফটারশকের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। উদ্ধারকারী বাহিনী জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান অভিযান চালানো হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, Venezuela Earthquake শুধু একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, এটি বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক দিন উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের গতি পরিস্থিতি কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, তা নির্ধারণ করবে।
Karachi Terror Attack: ৯০ মিনিটের এনকাউন্টারে খতম ৬ জঙ্গি, নিহত ৪ পাক সেনা
সকাল সকাল ডেস্ক Karachi Terror Attack-এ সিন্ধ রেঞ্জার্স সদর দফতরে ভয়াবহ হামলা, দীর্ঘ গুলির লড়াইয়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানের করাচিতে ভয়াবহ Karachi Terror Attack-এর ঘটনায় ফের সামনে এল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট। শনিবার সকালে করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় অবস্থিত সিন্ধ রেঞ্জার্সের গুরুত্বপূর্ণ ভিট্টাই উইং সদর দফতরে সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা তীব্র গুলির লড়াইয়ের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ৬ জন জঙ্গিকে নিকেশ করার দাবি করেছে। তবে এই সংঘর্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। Karachi Terror Attack ঘিরে গোটা পাকিস্তানজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হামলার শুরুতেই বিস্ফোরণ, তারপর এলোপাথাড়ি গুলি পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, শনিবার সকালে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত একদল জঙ্গি সিন্ধ রেঞ্জার্সের ভিট্টাই উইং সদর দফতরে আচমকা হামলা চালায়। প্রথমেই তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করে। বিস্ফোরণের পরপরই স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার ঘটনা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালানো হয়। আচমকা এই হামলায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন এবং আশপাশের এলাকায় জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ৯০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস এনকাউন্টার হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী, সিন্ধ রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাল্টা অভিযান শুরু করেন। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হামলাকারীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে তীব্র গুলির লড়াই। Karachi Terror Attack চলাকালীন গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি রোডের মেটিওরোলজিক্যাল চৌরঙ্গির কাছেও বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পালানোর চেষ্টা করা কয়েকজন জঙ্গিকেও লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ৬ জঙ্গি নিহত, প্রাণ হারালেন ৪ পাক সেনা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এই অভিযানে সেনাবাহিনীর ৪ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আহত নিরাপত্তাকর্মীদের দ্রুত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। নিহত সেনাদের পরিচয় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং সিন্ধ প্রদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলির সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। করাচি পাকিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শহরগুলির অন্যতম। সেই শহরেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দফতরে হামলা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। Karachi Terror Attack এই কারণেই আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্ব পেয়েছে। তদন্তে নেমেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ঘটনার পর গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। করাচির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযানও শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং হামলার পরিকল্পনার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা। সরকারি বিবৃতি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রুখতে করাচি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রভাব ও জনসাধারণের জন্য তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, Karachi Terror Attack পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন করাচি এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
US Iran Conflict: ফের হামলা আমেরিকার, ইরানকে ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক US Iran Conflict ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধবিরতি ভেঙে সামরিক হামলার অভিযোগে মুখোমুখি ওয়াশিংটন ও তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে ফের অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে। US Iran Conflict নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যুদ্ধবিরতির পরিবেশের মধ্যেই ইরানের একাধিক সামরিক নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত পরিকাঠামোয় মার্কিন বাহিনীর হামলার দাবি ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে US Iran Conflict ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। মার্কিন হামলার দাবি, লক্ষ্য সামরিক পরিকাঠামো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের এমন কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রস্তুতি চলছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, অভিযানে উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সামরিক নজরদারি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে স্বাধীনভাবে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে আমেরিকা অন্যদিকে, তেহরান স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছে যে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরানের দাবি, মার্কিন হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে সেই পাল্টা হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে US Iran Conflict-এর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দিতেই মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও দুই দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। জাতিসংঘ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানেই জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পটভূমি গত কয়েক বছরে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উত্তপ্ত থেকেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং যুদ্ধবিরতির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। যদিও সেই হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে কিছুটা শান্ত করলেও নতুন এই হামলার অভিযোগ সেই আশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফলে US Iran Conflict আবারও বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ করিডর হওয়ায় উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য, জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আর্থিক বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বহু দেশ ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। সরকারি অবস্থান মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধ করা। অন্যদিকে ইরান সরকার এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী বলে দাবি করেছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখার কথা জানিয়েছে। দুই দেশের পক্ষ থেকেই এখনও কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে নতুন কোনও যৌথ ঘোষণা করা হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক এবং ওই অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকা ব্যক্তিদের সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র থেকে নিয়মিত আপডেট নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে US Iran Conflict কোন দিকে মোড় নেয়, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Trump Passport: নিজের ছবি-সংবলিত নতুন মার্কিন পাসপোর্ট উন্মোচন, বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক Trump Passport উন্মোচনের পর শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট প্রকাশ। ওয়াশিংটন : যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল Trump Passport। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ স্মারক পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর বড় প্রতিকৃতি, স্বাক্ষর এবং দেশপ্রেমমূলক বার্তা স্থান পেয়েছে। সীমিত সংস্করণের এই পাসপোর্ট প্রকাশের পরই তা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং জনমহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে Trump Passport-এর নমুনা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট।” পাসপোর্টে আরও একটি বার্তা যোগ করা হয়েছে—‘স্বাগত, তবে ভদ্রভাবে থাকুন’। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। Trump Passport-এ কী থাকছে? নতুন Trump Passport-এর একটি পাতায় ট্রাম্পের গম্ভীর ভঙ্গির একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সেই ছবির সঙ্গে রয়েছে তাঁর স্বাক্ষর। পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশবিশেষ সংযোজন করা হয়েছে। অন্য একটি পাতায় ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক মুহূর্তের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ‘United States of America 250’ লেখা রয়েছে, যা স্বাধীনতার আড়াই শতক পূর্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হোয়াইট হাউস এই নকশাকে ‘Patriot Passport’ নাম দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এটি জাতীয় গৌরব ও ইতিহাসকে তুলে ধরার একটি বিশেষ উদ্যোগ। নতুন পাসপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও সরকারি নথির সঙ্গে কোনও কার্যরত রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত প্রতিকৃতি যুক্ত করা নজিরবিহীন ঘটনা। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকদের মতে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বকে তুলে ধরার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বিশ্লেষকদের মতে, Trump Passport কেবল একটি স্মারক নথি নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বার্তারও অংশ। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি তাঁর সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ কেন তৈরি হল এই বিশেষ পাসপোর্ট? মার্কিন প্রশাসনের মতে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি শুধুমাত্র একটি জাতীয় উদ্যাপন নয়, বরং দেশের ইতিহাস, মূল্যবোধ এবং জাতীয় পরিচয়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরারও সুযোগ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, অনুষ্ঠান এবং প্রচারাভিযানে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও ব্র্যান্ডিং আরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। এর আগে সরকারি ভবনে তাঁর ছবি-সংবলিত ব্যানার, বিশেষ স্মারক সামগ্রী এবং প্রশাসনিক প্রচারে তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। এই কারণেই Trump Passport-কে একটি স্মারক সংস্করণ হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে। এটি সাধারণ মার্কিন পাসপোর্টের বিকল্প নয় এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য বাধ্যতামূলক নথিও নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই থেকে সীমিত সংখ্যায় এই বিশেষ সংস্করণ বিতরণ শুরু হবে। কীভাবে পাওয়া যাবে? সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক নাগরিক এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ চলবে। প্রশাসনের দাবি, Trump Passport মূলত সংগ্রহযোগ্য স্মারক হিসেবেই প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে এর প্রাপ্যতা সীমিত থাকবে। বিতর্কের কারণ কী? নতুন পাসপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও সরকারি নথির সঙ্গে কোনও কার্যরত রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত প্রতিকৃতি যুক্ত করা নজিরবিহীন ঘটনা। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকদের মতে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বকে তুলে ধরার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বিশ্লেষকদের মতে, Trump Passport কেবল একটি স্মারক নথি নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বার্তারও অংশ। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি তাঁর সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং নিয়ে নতুন আলোচনা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, অনুষ্ঠান এবং প্রচারাভিযানে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও ব্র্যান্ডিং আরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। এর আগে সরকারি ভবনে তাঁর ছবি-সংবলিত ব্যানার, বিশেষ স্মারক সামগ্রী এবং প্রশাসনিক প্রচারে তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, Trump Passport সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। জনমত কী বলছে? নতুন পাসপোর্ট নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ একে দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে রাজনৈতিক প্রচারের একটি নতুন কৌশল বলে মনে করছেন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—Trump Passport প্রকাশের মাধ্যমে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির উদ্যাপনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
Lebanon-Israel Framework Agreement: সংঘাতের অবসানে নতুন আশা, রূপরেখা চুক্তিতে এগোল লেবানন ও ইসরায়েল
সকাল সকাল ডেস্ক Lebanon-Israel Framework Agreement মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যদিও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। ওয়াশিংটন/বেইরুট/জেরুজালেম, ২৭ জুন : দীর্ঘদিনের সংঘাত, সীমান্ত উত্তেজনা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে Lebanon-Israel Framework Agreement। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘোষিত এই রূপরেখা চুক্তিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। যদিও এটি এখনও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নয়, তবুও ভবিষ্যৎ সমঝোতার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio-র উপস্থিতিতে এই চুক্তির ঘোষণা করা হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত Yechiel Leiter এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত Nada Hamadeh। Lebanon-Israel Framework Agreement-এ কী রয়েছে? যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে যে Lebanon-Israel Framework Agreement মূলত সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে। চুক্তির সম্ভাব্য মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে সীমান্ত সংঘর্ষ হ্রাস, উভয় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো গঠন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথকে শক্তিশালী করছে। লেবাননের অবস্থান চুক্তি ঘোষণার পর নাদা হামাদাহ বলেন, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। যুদ্ধের ফলে অবকাঠামো, শিক্ষা এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, Lebanon-Israel Framework Agreement লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে নিরাপদে নিজেদের এলাকায় ফিরিয়ে আনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার জানান, প্রকৃত শান্তি তখনই সম্ভব যখন দুই দেশ একে অপরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে। তিনি বলেন, সীমান্তে স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বহু দশকের সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। ইসরায়েলের মতে, Lebanon-Israel Framework Agreement সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক সংঘাতের পটভূমি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়, যখন ইসরায়েলের অভিযোগ অনুযায়ী হিজবুল্লাহ সীমান্ত অতিক্রম করে রকেট হামলা চালায়। এরপর ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী কয়েক মাসে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তবর্তী বহু অঞ্চল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত গোলাবিনিময় চলতে থাকে। মানবিক বিপর্যয় সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে চার হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কয়েক লক্ষ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই মানবিক সংকটই Lebanon-Israel Framework Agreement-এর প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সামনে কী চ্যালেঞ্জ? বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি ঘোষণা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। কারণ দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনও কাটেনি। চুক্তি ঘোষণার পর রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের ফলে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সমঝোতা লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে এটি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার জানান, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত শান্তি সম্ভব নয়। তাঁর মতে, দুই দেশ যদি একে অপরের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে নিরাপত্তার ভিত্তিতে সহাবস্থান করতে পারে, তাহলে বহু দশকের সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে Hezbollah-র ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সংগঠনটি এই চুক্তিকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এছাড়া সীমান্তে সশস্ত্র উপস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির প্রভাবও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পরে আলোচনার পথে ফিরে আসাটাই একটি বড় সাফল্য। বিশেষজ্ঞদের আশা, Lebanon-Israel Framework Agreement যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা শুধু লেবানন ও ইসরায়েলের জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও একটি ঐতিহাসিক মোড় হয়ে উঠতে পারে।
US-Iran Conflict: হরমুজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা আঘাতের দাবি তেহরানের
সকাল সকাল ডেস্ক US-Iran Conflict নতুন মোড়ে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন আঘাত, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। ওয়াশিংটন/তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাতের আবহ ঘনীভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে US-Iran Conflict। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত বাহিনী সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি এভার লাভলি’-কে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ফলে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কীভাবে শুরু হল নতুন US-Iran Conflict? মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর দাবি অনুযায়ী, ২৫ জুন ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় ‘এমভি এভার লাভলি’ জাহাজটিকে লক্ষ্য করে একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওয়াশিংটনের মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের উপর সরাসরি আঘাত এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে এমন হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। সেই কারণেই দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা সেন্টকম জানিয়েছে, ২৬ জুন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলিতে নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। US-Iran Conflict-এর এই নতুন অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে আন্তর্জাতিক জলপথে হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে চাপে রাখার কৌশলের অংশ। পাল্টা আঘাতের দাবি তেহরানের অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। যদিও এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও পক্ষই এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তেহরানের দাবি, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, US-Iran Conflict আরও জটিল রূপ নিতে পারে যদি দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকে। ট্রাম্প ও ভ্যান্সের কড়া প্রতিক্রিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জাহাজে হামলার ঘটনাকে ‘যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইরান এর ফল ভোগ করবে। তারা যা করেছে, তা করা উচিত হয়নি।” ট্রাম্পের দাবি, জাহাজটিকে লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি মার্কিন বাহিনী ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance বলেন, “হিংসার জবাব হিংসা দিয়েই দেওয়া হবে।” তাঁর অভিযোগ, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব কেন এত বেশি? বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। এই কারণে US-Iran Conflict-এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। সেন্টকমের দাবি, হামলার জবাবে ২৬ জুন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলিতে নিখুঁত বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। যদিও উভয় পক্ষের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগেও অনিশ্চয়তা উত্তেজনার আবহেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ চুক্তি মানবে না বলে জানিয়ে দেওয়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে শান্তি উদ্যোগ, অন্যদিকে US-Iran Conflict-এর নতুন উত্তেজনা—এই দুই বিপরীত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চিত্রকে আরও জটিল করে তুলছে।
Digital Services Tax: ট্রাম্পের ১০০% শুল্ক হুঁশিয়ারিতে চাপে ইউরোপ, ভারতের উপর কি পড়বে প্রভাব?
সকাল সকাল ডেস্ক Digital Services Tax নিয়ে কড়া অবস্থান ট্রাম্পের, মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর কর আরোপকারী দেশগুলির বিরুদ্ধে ১০০% আমদানি শুল্কের হুঁশিয়ারি। ওয়াশিংটন : বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর Digital Services Tax বা ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপকারী দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যেসব দেশ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির উপর বিশেষ কর চাপাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Digital Services Tax নিয়ে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনও দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার উপর Digital Services Tax আরোপ করে, তাহলে সেই দেশের সমস্ত পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিও কার্যত অকার্যকর বলে বিবেচিত হতে পারে। ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের কর মূলত মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেই নিশানা করে। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য আমেরিকার প্রযুক্তি জায়ান্টদের উপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। কেন বিতর্কের কেন্দ্রে Digital Services Tax? Digital Services Tax মূলত এমন একটি কর ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থাগুলির স্থানীয় বাজার থেকে অর্জিত আয়ের উপর কর আরোপ করা হয়। গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট, মেটা, অ্যাপল এবং অ্যামাজনের মতো সংস্থাগুলি বহু দেশে বিপুল ব্যবসা করলেও অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কর কাঠামোর বাইরে থেকে যায় বলে অভিযোগ ছিল। এই কারণেই ইউরোপের একাধিক দেশ ডিজিটাল পরিষেবা কর চালু করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই করের লক্ষ্যবস্তু মূলত আমেরিকার সংস্থাগুলি, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। ভারতের উপর কি প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে ভারতের উপর সরাসরি কোনও বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ ভারত ইতিমধ্যেই বহুল আলোচিত ‘গুগল ট্যাক্স’ বা Equalisation Levy প্রত্যাহার করেছে। ২০১৬ সালে বিদেশি ডিজিটাল সংস্থাগুলির অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের উপর ৬ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল। পরে ই-কমার্স পরিষেবার উপর ২ শতাংশ কর চালু হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে কেন্দ্র সরকার ধাপে ধাপে এই কর প্রত্যাহার করে নেয়। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের উপর আরোপিত শেষ করটিও বাতিল করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলির উপর বাড়ছে চাপ ট্রাম্পের নতুন অবস্থানের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য দেশ। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন এবং অস্ট্রিয়ার মতো দেশ দীর্ঘদিন ধরে Digital Services Tax কার্যকর রেখেছে। ফ্রান্স ২০১৯ সাল থেকেই বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির স্থানীয় আয়ের উপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল কর আরোপ করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হলেও ডিজিটাল কর সংক্রান্ত বিষয়টি সেই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছিল। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মতবিরোধ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ইউরোপ তার নিজস্ব করনীতি ও আইন প্রণয়নের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, কোনও বাণিজ্যিক চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না বলেও স্পষ্ট করেছে। কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডিজিটাল অর্থনীতিকে করের আওতায় আনা প্রতিটি দেশের সার্বভৌম অধিকার এবং এ বিষয়ে ইউরোপ তার অবস্থান বজায় রাখবে। বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, Digital Services Tax-কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি ট্রাম্প প্রশাসন বাস্তবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, তাহলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এই ইস্যু বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে। ফলে ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বাজার। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই অবস্থানের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হলেও ডিজিটাল পরিষেবা করের বিষয়টি সেই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশেষত ফ্রান্স ২০১৯ সাল থেকেই বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দেশীয় আয়ের উপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল কর আরোপ করে আসছে। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
Rewa Sundarja Mango: জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত রেওয়া সুন্দরজা আমের প্রথম বাণিজ্যিক চালান গেল ইউএই-তে
সকাল সকাল ডেস্ক Rewa Sundarja Mango-এর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু, এক মেট্রিক টন প্রিমিয়াম মানের আম রফতানিতে লাভবান হবেন মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা। নয়াদিল্লি, ২৭ জুন: জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত মধ্যপ্রদেশের বিখ্যাত Rewa Sundarja Mango এবার আন্তর্জাতিক বাজারে পা রাখল। রেওয়ার সুন্দরজা আমের প্রথম বাণিজ্যিক চালান সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পাঠানো হয়েছে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা অ্যাপেডা এই রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করেছে। Rewa Sundarja Mango-এর প্রথম বাণিজ্যিক রফতানি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক মেট্রিক টন প্রিমিয়াম মানের জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত Rewa Sundarja Mango ইউএই-তে রফতানি করা হয়েছে। ২৬ জুন মেসার্স সল্ট রেঞ্জ ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে এই চালান পাঠানো হয়। এই রফতানিকে রেওয়া সুন্দরজা আমের আন্তর্জাতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মরশুমগুলিতে নিয়মিত রফতানির পথ আরও সুগম হবে। কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ স্থানীয় বাজারে রেওয়ার সুন্দরজা আমের দাম বর্তমানে প্রায় ১০০ থেকে ১১০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম। কিন্তু রফতানিকারক সংস্থা এই আম ১৫০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম দরে কিনেছে। ফলে প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা অতিরিক্ত লাভ সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছবে। এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিল, Rewa Sundarja Mango-এর মতো অঞ্চলভিত্তিক কৃষিপণ্যকে রফতানিমুখী ভ্যালু চেনে যুক্ত করলে কৃষকদের আয় বাড়ানো সম্ভব। জিআই ট্যাগের গুরুত্ব জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই ট্যাগ কোনও পণ্যের বিশেষ ভৌগোলিক পরিচয় ও স্বতন্ত্র গুণমানকে স্বীকৃতি দেয়। রেওয়ার সুন্দরজা আম তার সুবাস, স্বাদ ও গুণমানের জন্য পরিচিত। Rewa Sundarja Mango-এর এই সফল রফতানি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বিশেষ কৃষিপণ্যের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের পরিচিতি বাণিজ্য মন্ত্রকের মতে, এই রফতানি ভারতের বিশেষ কৃষিপণ্যকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে রেওয়ার আমচাষিরা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, Rewa Sundarja Mango-এর নিয়মিত রফতানি শুরু হলে মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা আরও ভালো দাম পাবেন এবং দেশের কৃষি রফতানি ক্ষেত্রও শক্তিশালী হবে।