ইরান আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক কুয়েত সিটি,। ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কোনও আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে রয়েছেন রুবিও। সফরকালে তিনি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কুয়েত সিটিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রতিটি ধাপে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও সমন্বয় বজায় রাখা হবে। রুবিও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণভাবে একজোট থাকব। আলোচনার বিষয়ে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।” সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগের স্পষ্ট সমাধান এখনও উঠে আসেনি। তবে মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যা তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা বা স্বার্থের পরিপন্থী হয়। এদিকে, হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যদিও আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আজ বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হতে চলা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মার্কো রুবিওর। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে বামপন্থী শিবিরের উত্থান, মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন বামঘেঁষা রাজনৈতিক ধারার প্রার্থীরা। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থিত একাধিক প্রার্থী নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হওয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত লড়াইটি হয় নিউইয়র্কের টেনথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে। সেখানে বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেছেন প্রগতিশীল নেতা ব্র্যাড ল্যান্ডার। চূড়ান্ত ফলাফলে ল্যান্ডার প্রায় ৬৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। গোল্ডম্যান পান ৩৪.১ শতাংশ ভোট। ইসরায়েল-গাজা সংঘাতকে ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, এই নির্বাচন তারও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ব্র্যাড ল্যান্ডার দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ড্যান গোল্ডম্যান ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনের পর ল্যান্ডার বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা এমন নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছেন, যারা অন্যায় ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে প্রস্তুত। এদিকে, নিউইয়র্কের সেভেনথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজ বিজয়ী হয়েছেন। একইভাবে থার্টিনথ ডিস্ট্রিক্টে ডক্টরাল শিক্ষার্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কর্মী দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়েরও জয় লাভ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করেন। এসপাইলাত টানা পাঁচ মেয়াদ ধরে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন এবং কংগ্রেসনাল হিস্পানিক ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর পরাজয়কে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জোহরান মামদানি বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি ভোটারদের সমর্থনকে স্বাগত জানান। মার্কিন বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম মুখ বার্নি স্যান্ডার্সও ব্র্যাড ল্যান্ডারের প্রচারে সমর্থন দিয়েছিলেন। অন্যদিকে পরাজয় স্বীকার করে ড্যান গোল্ডম্যান বলেন, ভোটাররা তাঁদের রায় দিয়েছেন এবং তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে ফোন করে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি সামাজিক মাধ্যমে গোল্ডম্যানকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল ও মূলধারার শিবিরের শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা দিল এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে জল ডুবে মৃত্যু ৪০; ব্যাহত শিক্ষা ও পরিবহন ব্যবস্থা
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন/প্যারিস। তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের একাধিক দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পৌঁছেছে। চরম গরমের প্রভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফ্রান্সে গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও সমুদ্রে নামতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে মৃতদের অধিকাংশই তরুণ। লাইফগার্ডবিহীন জলাশয়ে নামার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে এসব মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিসো এলাকায় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর জুন মাসে এটি অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহ। যুক্তরাজ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দক্ষিণ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর জেরে শত শত স্কুলে আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মেট অফিস ও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বিশেষ সতর্কতা জারি করে জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে রেললাইনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি রুটে ট্রেনের গতি সীমিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে নদী ও হ্রদে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিট এক্সহস্টশন, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন স্কুলে ইউনিফর্ম নীতিতে শিথিলতা, অতিরিক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং খেলাধুলা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে প্রবাহিত উষ্ণ বায়ু এবং ‘হিট ডোম’ পরিস্থিতির কারণে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও ঘনত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপ দ্বিগুণেরও বেশি হারে উষ্ণ হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে ৭০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। একই বছর যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, যা দেশটির আবহাওয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইরান আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক কুয়েত সিটি,। ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কোনও আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে রয়েছেন রুবিও। সফরকালে তিনি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কুয়েত সিটিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রতিটি ধাপে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও সমন্বয় বজায় রাখা হবে। রুবিও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণভাবে একজোট থাকব। আলোচনার বিষয়ে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।” সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগের স্পষ্ট সমাধান এখনও উঠে আসেনি। তবে মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যা তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা বা স্বার্থের পরিপন্থী হয়। এদিকে, হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যদিও আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আজ বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হতে চলা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মার্কো রুবিওর। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
আসিম মুনিরকে হত্যার ছক নিয়ে চাঞ্চল্য, প্রমাণ ছাড়াই মোসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ/জেনেভা। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ব্রাজিলীয় সাংবাদিক ও ভূ-কৌশল বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। তবে এই দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তানের একাধিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষকও অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একটি আন্তর্জাতিক পডকাস্টে অংশ নিয়ে এসকোবার দাবি করেন, জেনেভায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা শান্তি-আলোচনার সময় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা নাকি এমন একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য পেয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল, এমনকি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকেও নিশানা করতে পারে। এসকোবারের দাবি, এই তথ্য পাওয়ার পর পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইজরায়েলকে সতর্কবার্তা পাঠায় এবং জানিয়ে দেয় যে, কোনও ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। তবে তিনি তাঁর দাবির পক্ষে কোনও নথি, গোয়েন্দা রিপোর্ট বা স্বাধীন সূত্রের তথ্য প্রকাশ করেননি। সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেনেভায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়, যেখানে পাকিস্তান ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, এসকোবারের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের সাংবাদিক মহলের একাংশ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ তালাত হুসেন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এই দাবির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।” তাঁর মতে, পাকিস্তানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাও অভিযোগটিকে ‘বিকৃত প্রচার’ বলে অভিহিত করেছেন। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার, সেনাবাহিনী কিংবা ইজরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে মোসাদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ আপাতত যাচাই-বাছাইহীন দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাবে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সরকারি বা স্বাধীন কোনও সূত্র থেকেও এখনও পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সোনা সস্তা, রুপোর দামে পরিবর্তন নেই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি। দেশের স্বর্ণবাজারে আজ প্রাথমিক লেনদেনের সময় সোনার দামে পতনের প্রবণতা দেখা গেছে। দামের এই দুর্বলতার কারণে চেন্নাই ছাড়া দেশের অধিকাংশ বাজারে ১০ গ্রাম প্রতি সোনার দাম ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে চেন্নাইয়ে সোনার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে, যেখানে ১০ গ্রাম প্রতি ২,১০০ থেকে ২,২৯০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। তবে রুপোর দামে আজ কোনও পরিবর্তন হয়নি। দাম কমার ফলে দেশের অধিকাংশ বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৪,৩২০ টাকা থেকে ১,৪৫,৬৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম প্রতি ১,৩২,২৯০ টাকা থেকে ১,৩৩,৪৯০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। রুপোর দামে পরিবর্তন না হওয়ায় দিল্লির বাজারে রুপো আজও প্রতি কেজি ২,৪৪,৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৪,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩২,৪৪০ টাকা। দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৩২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৪,৩৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩২,৩৪০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৫,৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৩,৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৩২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,২৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৪,৩৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩২,৩৪০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৪,৩৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩২,৩৪০ টাকা। লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও ওডিশার বাজারেও আজ সোনার দামে পতন হয়েছে। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম প্রতি ১,৪৪,৩২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঠমান্ডুর যানবাহন ব্যবস্থা উন্নয়নে ১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ নেবে নেপাল সরকার
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু। নেপাল সরকার রাজধানী অঞ্চল কাঠমান্ডুর নগর পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেপাল সরকারের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) প্রণীত কাঠমান্ডু ভ্যালি আরবান ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাস্টার প্ল্যানের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য এই ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জাইকা ২০২৩ সাল থেকে কাঠমান্ডুর নগর পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে এই মাস্টার প্ল্যান ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাঠমান্ডুর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ধাপে ধাপে কাজ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এক সহসচিব জানিয়েছেন, মাস্টার প্ল্যানের প্রথম ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, উপত্যকার পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। শুধুমাত্র দেশীয় পুঁজির ওপর নির্ভর করে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই বিদেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জাইকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। এর মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ২ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মহাশাখার প্রধান ও সহসচিব ড. ধনীরাম শর্মা জানিয়েছেন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে কাঠমান্ডুর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, কাঠমান্ডুর পরিবহন ব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামো এবং পয়ঃনিষ্কাশন (সিউয়ারেজ) ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সমীক্ষা করা হবে। কাঠমান্ডু উপত্যকার পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত এই ঋণ নেপালের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন মাস পর্যন্ত নেপালের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ খরব ৮৩ আরব ৯১ কোটি ৩৭ লাখ রুপি। জাইকার মাস্টার প্ল্যানে ধাপে ধাপে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবহন রুট ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন, বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে গণপরিবহন পরিচালনা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বর্তমানের বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমানে উপত্যকায় চলাচলকারী মোট যানবাহনের ৮০ শতাংশেরও বেশি মোটরসাইকেল। অতিরিক্ত মোটরসাইকেল ব্যবহারের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে এবং পরিবহন এখনও যথেষ্ট নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে জাইকা ছোট ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ৩২ জনের, আহত ৭০০-র বেশি
সকাল সকাল ডেস্ক কারাকাস: জোরালো তীব্রতার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসে একাধিক ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়ে। আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন বহু মানুষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.২ ও ৭.৫। ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এছাড়াও ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি রদ্রিগেজ বলেছেন, ভেনিজুয়েলার একই এলাকায় ৭.২ ও ৭.৫ তীব্রতার ভূমিকম্পের পর ২০-বার আফটারশক অনুভূত হয়েছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল মোরোন থেকে ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ৭.৫। ভূমিকম্পের পর শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হতে পারে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী কারাকাস-সহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা দ্রুত বহুতল ছেড়ে বাইরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এই ভূমিকম্পে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভেনিজুয়েলা সরকার ও জনগণের প্রতি, বিশেষ করে যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, সেই পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের পাশে আছি। ভারত সম্ভাব্য সকল প্রকার সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক স্টারমারের
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কিয়ার স্টারমার। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল ও মসৃণ রাখার লক্ষ্যেই মঙ্গলবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের পর স্টারমার ও বার্নহামের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমস প্রথম এই বৈঠকের খবর প্রকাশ করে। জানা গেছে, দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়। একই সময়ে লেবার পার্টির সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থীদের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের অনুমোদন দিয়েছেন স্টারমার। এর উদ্দেশ্য, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে তারা যেন দ্রুত সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন। এখন পর্যন্ত অ্যান্ডি বার্নহামই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো প্রার্থী সামনে না এলে আগামী ১৭ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী Rachel Reeves-কে মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। যদিও তাঁর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ অর্থমন্ত্রী হিসেবে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন Ed Miliband, Wes Streeting, John Healey এবং Yvette Cooper। এছাড়া, লেবার পার্টির সাবেক মন্ত্রী James Purnell-কে সম্ভাব্য চিফ অব স্টাফ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। তিনি অতীতে ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বেসরকারি খাতে নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেতৃত্বপ্রার্থীদের জন্য সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা দ্রুত শুরু হবে। এসব বৈঠকে সরকার পরিচালনা, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ব্রিফিং দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, নিজ দলের সংসদ সদস্যদের সমর্থন হারানোর পর সোমবার প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন Keir Starmer। তিনি জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। স্টারমার লেবার পার্টির পরিচালনা পর্ষদকে নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ১৬ জুলাই তা শেষ হবে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী যেন সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সরকারের সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়গুলোর যতটা সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করবেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বড় কোনো নীতিগত বা ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে মার্কিন সেনেটে প্রস্তাব গৃহীত
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানকে ঘিরে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নজরদারি জোরদারের লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে অল্প ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হয়। পক্ষে ভোট দেন ৫০ জন সিনেটর, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৮টি। এর আগে গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল। পরে তা চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য সিনেটে পাঠানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও নতুন সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ শুরু করার আগে প্রেসিডেন্টের উচিত কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া। একতরফাভাবে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করার বিষয়েও এতে জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উভয় পক্ষই উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসে গৃহীত প্রস্তাবটিকে ভবিষ্যতে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনসভার ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মার্কিন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারেন। ফলে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভোটাভুটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের মধ্যেও মতভেদের ইঙ্গিত। সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন সদস্য বিরোধী শিবিরের সঙ্গে একমত হয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ইরান নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান তাঁর নিজ দলেও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির ওপর এই রাজনৈতিক বার্তার প্রভাব আগামী দিনে স্পষ্ট হতে পারে।