হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬

হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬: হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা, ভারতীয় নাবিক নিহত, পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা

সকাল সকাল ডেস্ক

হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সামরিক সংঘাত, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির; তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাবের আশঙ্কা।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬-এর নতুন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ঘিরে নৌ অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তৃতীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে তারা মার্কিন মিত্র দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই ওমান উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হওয়ায় নয়াদিল্লি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। ফলে হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬ এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।


হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নতুন দফার অভিযান চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের খবরও নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে এবং হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী নতুন অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করবে।


ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি, ওমান উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক।

এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬

ইরানের পাল্টা দাবি ও সামরিক অবস্থান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা জর্ডন, বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, তেহরানের দাবি, তারা মার্কিন আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনে সেগুলিকে অচল করে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) জানিয়েছে, ওমান উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলায় এক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে (ডেপুটি চিফ অব মিশন) তলব করেছে।

সিএনএন, সিবিএস নিউজ ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তৃতীয় রাতেও মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম বন্দর আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।

ইরান আরও জানিয়েছে, তাদের উপকূল সংলগ্ন নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার না করলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।


তেল বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ দিনে ইরান প্রায় আট কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। তবে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হলে আরও প্রায় তিন কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

সাম্প্রতিক হামলায় কোনারক, চাবাহার, কেশম, আবু মুসা, কিশ, ওমিদিয়েহ, বুশেহর এবং বন্দর আব্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বাহরিন দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরিন ডিফেন্স ফোর্সের অভিযোগ, ইরান বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ


ব্যাকগ্রাউন্ড

হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেই এই জলপথ বৈশ্বিক কূটনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান সেই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।


ইমপ্যাক্ট

  • আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা।
  • ভারত-সহ এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর চাপ বাড়তে পারে।
  • সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা।
  • পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা।
  • আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি।

অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের তেল রপ্তানি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বজায় রেখেছে।


পাবলিক ইনফরমেশন

ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

Read More