সকাল সকাল ডেস্ক
রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ইউন সুক ইয়েওল, বাজেয়াপ্তের নির্দেশও আদালতের
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়েওল-কে অবৈধভাবে বিনামূল্যে মতামত সমীক্ষা গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালত। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ওন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক তহবিল আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কী অভিযোগ ছিল ইউন সুক ইয়েওলের বিরুদ্ধে?
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মিন জং-কির নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল অভিযোগ করে, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে ইউন সুক ইয়েওল এবং তাঁর স্ত্রী কিম কেওন হি রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী মিউং তে-কিউনের কাছ থেকে মোট ৫৮টি মতামত সমীক্ষা বিনামূল্যে গ্রহণ করেছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, এই সমীক্ষাগুলির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি ওন। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমীক্ষাগুলি বিনামূল্যে গ্রহণ করায় তা রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের সামিল বলে অভিযোগ করা হয়।

আদালত কী বলল?
আদালত অবশ্য তদন্তকারী সংস্থার সমস্ত অভিযোগ গ্রহণ করেনি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৫৮টি নয়, ১৪টি মতামত সমীক্ষা বিনামূল্যে গ্রহণের অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতের মতে, এই সমীক্ষাগুলি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলি কার্যত অবৈধ রাজনৈতিক অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। সেই কারণেই ইউন সুক ইয়েওলকে রাজনৈতিক তহবিল আইন ভঙ্গের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রতিশ্রুতির অভিযোগ
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মতামত সমীক্ষার বিনিময়ে ইউন সুক ইয়েওল ২০২২ সালের জুন মাসের সংসদীয় উপনির্বাচনে রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী কিম ইয়ং-সনের মনোনয়নে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
আদালতের মতে, রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কেন কঠোর সাজা দিল আদালত?
রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, একজন জাতীয় নেতার কাছ থেকে জনগণ সর্বোচ্চ নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করে। কিন্তু ইউন সুক ইয়েওলের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকে দুর্বল করেছে।
অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ওন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা?
একই মামলায় অভিযুক্ত রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী মিউং তে-কিউনকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। যদিও সরকারি কৌঁসুলিরা ইউন সুক ইয়েওলের জন্য চার বছর এবং মিউং তে-কিউনের জন্য তিন বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন।
অন্যদিকে, ইউন সুক ইয়েওলের স্ত্রী ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি কিম কেওন হির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও সিউল হাই কোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আপিল করেছে সরকারি কৌঁসুলিপক্ষ।
আইনি লড়াই এখনও শেষ নয়
ইউন সুক ইয়েওলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমান রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। ফলে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউন সুক ইয়েওল ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে ঘিরে বিদ্রোহের অভিযোগে আরেকটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। সেই মামলার আপিলও বিচারাধীন রয়েছে।
রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু ইউন সুক ইয়েওলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চিত করেনি, বরং দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল রাজনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থায়ন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং জনজবাবদিহি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
No Comment! Be the first one.