সকাল সকাল ডেস্ক
Rath Yatra উপলক্ষে প্রথমবার সরকারি সক্রিয় অংশগ্রহণ, ৭৫টি সেবাকেন্দ্র, Heritage Temple উন্নয়নে ১০০০ কোটি এবং শ্রাবণী মেলায় জলযাত্রীদের জন্য একাধিক বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।
Rath Yatra West Bengal-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসন এবং ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি জানান, উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার রক্ষা করাও সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা” মন্ত্রকে সামনে রেখে সরকার ধর্মীয় পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে।
বৈঠকে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ইসকন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ-সহ বিভিন্ন আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। Rath Yatra West Bengal-এর ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করা হয়।
প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে রথযাত্রায় সরাসরি অংশগ্রহণ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গের রথযাত্রা শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি রাজ্যের শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম অংশ। কোচবিহার, মাহেশ, মহিষাদল, দিঘা, কাকদ্বীপ থেকে দার্জিলিং— সর্বত্র এই উৎসবকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।
এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে এবার প্রথমবার সরকার সরাসরি রথযাত্রা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। Rath Yatra West Bengal উপলক্ষে রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথমেলা প্রাঙ্গণে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে বিশেষ সরকারি সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুরসভার সহযোগিতায় এই কেন্দ্রগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিশ্রাম, তথ্য সহায়তা-সহ প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা দেওয়া হবে।
৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান
বৈঠকে সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বহু পুরনো কাঠের রথগুলির সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য এই অর্থ ব্যয় করার আবেদন জানানো হয়েছে।
সরকারের মতে, রাজ্যের ঐতিহাসিক রথগুলিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে আরও বেশি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Heritage Temple উন্নয়নে ১০০০ কোটির বিশেষ প্যাকেজ
ধর্মীয় পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য সরকার ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ নামে একটি বৃহৎ প্রকল্প শুরু করছে। এই প্রকল্পের আওতায় মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী মন্দির-সহ রাজ্যের বহু প্রাচীন ও Heritage Temple-এর পুনর্গঠন, সংস্কার ও পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবর্ষেই প্রাথমিকভাবে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত
সরকার শুধুমাত্র মন্দির সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শিক্ষা ও কৃষি সংক্রান্ত উন্নয়নমূলক প্রস্তাবগুলিও গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া কলকাতার শিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটের সংরক্ষণের জন্য ৫ কোটি টাকার করপাস ফান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রাবণী মেলায় জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা
রথযাত্রার পাশাপাশি শ্রাবণ মাসে শিবভক্তদের জন্যও একাধিক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ির জল্পেশ, জয়ন্তী এবং তারকেশ্বর ধামকে কেন্দ্র করে উন্নত পরিষেবা দেওয়া হবে।
শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সরকারি শিবির থাকবে। সেখানে বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস, চিকিৎসা শিবির ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করা হবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার তারকেশ্বরগামী জলযাত্রীদের উপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।
Official Statement
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করা সরকারের দায়িত্ব। রথযাত্রা ও ধর্মীয় পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে।
Background
পশ্চিমবঙ্গে মাহেশ, মহিষাদল, কাকদ্বীপ, দিঘা, কোচবিহার-সহ বহু অঞ্চলে শত শত বছর ধরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর লক্ষাধিক ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন। একইভাবে তারকেশ্বর ও জল্পেশে শ্রাবণ মাসে বিপুল সংখ্যক জলযাত্রীর সমাগম ঘটে।
Impact
সরকারের এই উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রথগুলির সংরক্ষণ, ধর্মীয় পর্যটনের প্রসার, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপদ ও উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
No Comment! Be the first one.