সকাল সকাল ডেস্ক
Rajya Sabha Election 2026-এ বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক, বিধানসভায় উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য।
Rajya Sabha Election 2026-কে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল সোমবার। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন তিন হেভিওয়েট নেতা সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বিধানসভায় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মনোনয়ন জমার এই ছবি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই তিন নেতাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব Rajya Sabha Election 2026-এর জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। সোমবার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তব রূপ পায়।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই রাজ্যসভার টিকিট
গত বৃহস্পতিবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এরপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
সোমবার বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। Rajya Sabha Election 2026-এ বিজেপি এই প্রার্থীদের মাধ্যমে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
তৃণমূল ছাড়ার পর বদলে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ
গত মাসে প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেন। এরপর একে একে দল ছাড়েন সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও।
দলত্যাগের পর থেকেই তাঁরা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং Rajya Sabha Election 2026-এর আগে বিরোধী শিবিরকে আরও শক্তিশালী করে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
‘তৃণমূলীকরণ নয়, ব্যতিক্রম’— শমীক ভট্টাচার্য
এই তিন নেতার বিজেপিতে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন, বিজেপিতে কোনওভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জায়গা নেই।
তিনি বলেন, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক কোনও সাধারণ দলবদলু নন। তাঁরা প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ, শিক্ষিত ও জনজীবনে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের পরিচয় এখন একটাই—তাঁরা বিজেপির কর্মী।
শমীকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই তিন নেতার অন্তর্ভুক্তি বিজেপির নীতির ব্যতিক্রম নয়, বরং বিশেষ পরিস্থিতিতে গৃহীত একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল
বর্তমান বিধানসভার দলীয় সমীকরণ বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, রাজ্যসভার এই তিনটি আসনেই বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। সংখ্যার নিরিখে বিজেপি যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।
Rajya Sabha Election 2026-এর ফলাফল শুধু রাজ্যসভার আসন সংখ্যাই নির্ধারণ করবে না, বরং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকনির্দেশও দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Official Statement
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক এখন বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী। তাঁদের অতীত পরিচয়ের বদলে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকেই গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Background
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এরপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের Rajya Sabha Election 2026-এর উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে।
Impact
এই মনোনয়ন বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। একই সঙ্গে তৃণমূল থেকে একাধিক পরিচিত মুখের বিজেপিতে যোগদান রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
No Comment! Be the first one.