Gunda Act West Bengal

Gunda Act West Bengal: বঙ্গে কার্যকর গুন্ডাদমন আইন, সংগঠিত অপরাধ দমনে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

সকাল সকাল ডেস্ক

Gunda Act West Bengal কার্যকর হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, হার্মাদ ও তৃণমূলী গুন্ডাদের দমনেই এই আইনের প্রয়োজন ছিল; জেনে নিন নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

Gunda Act West Bengal সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, বেআইনি জমি দখল এবং অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে এই নতুন আইন কার্যকর করেছে রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্যসভার উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্বে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই আইনের প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল আমলে গড়ে ওঠা সন্ত্রাস, গুন্ডাবাহিনী ও সংগঠিত অপরাধ দমনের জন্য এই আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভায় আইনটি পাশ হওয়ার পর রাজ্যপালের অনুমোদনও মিলেছে। Gunda Act West Bengal কার্যকর হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের হাতে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো এসেছে বলে সরকারের দাবি।

কোন কোন অপরাধ এই আইনের আওতায় আসবে

নতুন আইনে ‘অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি’ বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সংজ্ঞা অনেকটাই বিস্তৃত করা হয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দেওয়া, বেআইনি জমি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ খনি, বালি ও পাথর উত্তোলন এবং বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণীর ক্ষতিসাধন—সবই এই আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ফলে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পাশাপাশি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি খনি ও অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধেও একইসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

কারা ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন

Gunda Act West Bengal-এ ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যক্তি যদি নিজে বা কোনও গ্যাং, সিন্ডিকেট বা সংগঠিত অপরাধচক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁকে এই আইনের আওতায় আনা যাবে।

এছাড়া অস্ত্র আইন, মাদক আইন, বিস্ফোরক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন অথবা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তি কিংবা সেই ধরনের অপরাধের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারবে।

১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার ক্ষমতা

এই আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)-এর ব্যবস্থা। রাজ্য সরকার, পুলিশ কমিশনার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সরকার মনোনীত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক প্রয়োজন মনে করলে কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন।

এই আইনের অধীনে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখা সম্ভব। যদিও অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখা যাবে না এবং নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

চার্জশিট ছাড়াই পদক্ষেপের সুযোগ

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। যদি পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট থাকে যে তিনি সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত অথবা ভবিষ্যতে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও আটকাদেশ জারি করা যাবে।

তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অ্যাডভাইজরি বোর্ডের নজরদারি

আটকের পর সরকারকে তিন সপ্তাহের মধ্যে মামলার নথি অ্যাডভাইজরি বোর্ডে পাঠাতে হবে। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের বিচারপতি অথবা প্রাক্তন বিচারপতি হবেন। সঙ্গে থাকবেন বিচারপতি হওয়ার যোগ্য আরও দু’জন সদস্য।

বোর্ড পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে আটক রাখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে কি না। পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে আটকাদেশ বাতিল করে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হবে।

তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ও জেলা ছাড়ার নির্দেশ

Gunda Act West Bengal-এর আওতায় পুলিশকে তল্লাশি চালানো, যানবাহন থামিয়ে পরীক্ষা করা, অপরাধে ব্যবহৃত নথি, সম্পত্তি বা অর্থ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও প্রশাসনের ধারণা হলে যে কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। এই নির্দেশ সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।

Official Statement

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই আইন দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অতীতে হার্মাদ বাহিনী এবং পরে তৃণমূল আমলে বেড়ে ওঠা গুন্ডাবাহিনী, তোলাবাজি ও সংগঠিত অপরাধ দমনের জন্য এই আইন কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

Background

রাজ্য সরকারের দাবি, বিদ্যমান আইনি কাঠামো সংগঠিত অপরাধ, সিন্ডিকেট রাজ, জমি দখল, তোলাবাজি এবং পুনরাবৃত্ত অপরাধ দমনে যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। সেই কারণেই নতুন Gunda Act West Bengal প্রণয়ন করা হয়েছে।

Impact

সরকারের মতে, এই আইন কার্যকর হলে সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে। তবে চার্জশিট ছাড়াই আটক, নন-বেলেবল বিধান এবং প্রশাসনিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রেও পরিণত হতে পারে।

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

Read More