সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান/ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে হামলা, পাল্টা হামলা এবং একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের দাবি, শনিবার ভোরে হরমোজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে পাতা মাইনে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়েছে।
আল জাজিরা, সিএনএন, গালফ নিউজ এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। এদিকে বন্দর আব্বাসে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও রেল স্টেশন লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাতার জানিয়েছে, দোহার কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহযোগিতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দুবাই প্রশাসনও শহরের ডাউনটাউন এলাকায় বিস্ফোরণের দাবিকে গুজব বলে জানিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে টানা সপ্তম রাত ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন বিমান হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইয়াজ্দ, লার, আহভাজ, সিরিক, বুশেহর, বন্দর আব্বাস, দারাব এবং কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হরমোজগান প্রদেশের প্রশাসনের দাবি, দুটি সেতু ও একটি সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। প্রদেশের উপ-রাজ্যপাল জানিয়েছেন, একাধিক স্থানে হামলায় তিনজনের মৃত্যু এবং আটজন আহত হয়েছেন।
আইআরজিসির দাবি, বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার কথাও নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা আমেরিকা-সমর্থিত চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যৌথ অভিযানে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সমুদ্রে পাতা মাইনের কারণে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, গোলাবারুদ ডিপো এবং সংযোগকারী সেতু, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি ও আল আজরাক বিমানঘাঁটি এবং সামরিক জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেইয়ের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ১৪ দফা সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পরও যদি আমেরিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, তবে তেহরান কেবল পাল্টা হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
No Comment! Be the first one.