পাকিস্তানে ভয়াবহ হামলায় ১৫ নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু, পাল্টা অভিযানে নিহত ১২ জঙ্গি
সকাল সকাল ডেস্ক পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বড়সড় জঙ্গি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার একটি নিরাপত্তা চৌকিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, আত্মঘাতী হামলাকারী এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা একসঙ্গে হামলা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে নিরাপত্তা চৌকিতে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে থাকা জওয়ানরা তাদের প্রতিরোধ করেন। এরপর জঙ্গিরা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি চৌকির বাইরের দেওয়ালে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নিরাপত্তা চৌকির বড় অংশ ভেঙে পড়ে এবং বহু নিরাপত্তাকর্মী তার নিচে চাপা পড়েন। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনা জওয়ান, দু’জন পুলিশকর্মী এবং বন দফতরের এক প্রাক্তন আধিকারিক। বিস্ফোরণের তীব্রতায় চৌকির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলায় জড়িত অন্য জঙ্গিদের খুঁজতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলার পিছনে রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। যদিও এই হামলার দায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি টিটিপি। এই সংগঠনটি আফগানিস্তানের তালিবান থেকে আলাদা হলেও, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, টিটিপি-র জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় পায়। সেখান থেকে তারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আফগানিস্তানের মাটি কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সংখ্যা আবার বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে এই সাম্প্রতিক হামলা আবারও দেখিয়ে দিল, সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ এখনও পাকিস্তানের জন্য বড় নিরাপত্তা সংকট হয়ে রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি এবং বারবার এমন হামলার ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্রিটেনের নতুন মন্ত্রিসভায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উত্থান, মন্ত্রী থাকছেন কলকাতা-যোগ থাকা লিসা নন্দী
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিন লেবার সাংসদ—কানিশ্ক নারায়ণ, সৎবীর কৌর এবং হরপ্রীত উপ্পল। তাঁদের অন্তর্ভুক্তির ফলে ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষস্তরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আরও জোরদার হল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বিহারের মুজফ্ফরপুরে জন্মগ্রহণকারী কানিশ্ক নারায়ণ। তাঁকে দেশের নবগঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি ক্যাবিনেট অফিসের পাশাপাশি ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন। এআই নীতি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন সংক্রান্ত সরকারি পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে ব্রিটেনে পাড়ি দেওয়া কানিশ্ক নারায়ণ ওয়েলসে বেড়ে ওঠেন। ইটন কলেজ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ২০২৪ সালে ভেল অব গ্ল্যামরগান কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার সাংসদ সৎবীর কৌরও। তাঁকে সমতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে হিংসা প্রতিরোধ, সমতা রক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তাঁর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আর এক সাংসদ হরপ্রীত উপ্পলকে অ্যাসিস্ট্যান্ট হুইপ করা হয়েছে। সংসদে সরকারি কাজের সমন্বয়, গুরুত্বপূর্ণ ভোটে সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোটদানে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। ২০২৪ সালে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার আগে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মেয়র নির্বাচনী প্রচারেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার তামিল হিন্দু বংশোদ্ভূত উমা কুমারনকে বিদেশ মন্ত্রকের জুনিয়র মন্ত্রী করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান ফ্রন্ট বেঞ্চে দুই হিন্দু ও দুই শিখ মন্ত্রী রয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত লিসা নন্দী সংস্কৃতি সচিব হিসেবে নিজের পদ ধরে রেখেছেন। তাঁর পারিবারিক শিকড় কলকাতার সঙ্গে যুক্ত। লিসা নন্দীর বাবা কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে মন্ত্রিসভার রদবদলে কয়েকজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা দায়িত্ব হারিয়েছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক প্রাক্তন মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা এবং প্রাক্তন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রীত কৌর গিল নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। তাঁরা সাধারণ সাংসদ হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিফলন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যতমুখী খাতে কানিশ্ক নারায়ণের নিয়োগ আন্তর্জাতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ইয়েমেনে, হোদেইদাহর হুথি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াদ/সানা : লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা এবং সামুদ্রিক উত্তেজনার জেরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ প্রদেশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। জোটের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজকে হুমকি দেওয়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনাগুলিকেই লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে (আরটি) এবং তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং হোদেইদাহ বন্দরকে লক্ষ্য করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, হোদেইদাহ, রাস ঈসা এবং আল-সালিফসহ ইয়েমেনের সব প্রধান বন্দর সমুদ্রপথে চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে। অন্যদিকে, হুথিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টিভি দাবি করেছে, হামলায় হোদেইদাহ প্রদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের কামরান দ্বীপ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হুথিদের দাবি, হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন। সংগঠনের রাজনৈতিক শাখা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।” হামলার কিছুক্ষণ পরই সৌদি আরবের শিল্পনগরী জাজান-এ হুথিদের পাল্টা হামলার খবরও সামনে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকো-র একটি স্থাপনায় আগুন লেগেছে। এর আগে হুথিরা দাবি করেছিল, তারা চলতি সপ্তাহে সৌদি মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগলেও অন্যটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর চলমান “অবরোধের” প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ। এর পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের ফলে ইয়েমেনে গভীর মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হুথিরা ইসরায়েল এবং ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে শুরু করে। তাদের দাবি, এটি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে নেওয়া পদক্ষেপ। যদিও ২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার পর হামলা কিছুটা কমে যায়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে “কঠোর সামরিক ব্যবস্থা” নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ইরান-সমর্থিত সংগঠন বলে উল্লেখ করেছেন।
ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের তাণ্ডব, ঘরছাড়া ২ লক্ষের বেশি মানুষ
সকাল সকাল ডেস্ক প্যারিস/মাদ্রিদ : ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের জেরে দুই দেশের ২ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় স্পেনে প্রথমবারের মতো দাবানলকে ঘিরে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গাড়ি ও নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে আগুন দ্রুত বোর্দো শহর ও সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। স্পেনে মাদ্রিদের উপকণ্ঠে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে আরও বড় আকার ধারণ করেছে। আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে ৪৩০-রও বেশি প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চলছে সান মার্টিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস এলাকায়। স্পেনের আঞ্চলিক নেত্রী ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এই দাবানলকে ওই অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রশাসনের দাবি, প্রবল বাতাস, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসে আর্দ্রতার ঘাটতি আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি পরিষেবার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে ফ্রান্স ও স্পেন—দুই দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দাবানলের ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘনঘন এবং আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠছে। স্পেনের গুয়াদালাহারা প্রদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সক্রিয় দাবানল জ্বলছে। গত এক সপ্তাহে সেখানে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার সমস্ত উপলব্ধ সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে।
তীব্র দাবানলে পুড়ছে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো মানুষ
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ/প্যারিস/রোম: তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রবল বাতাসের জেরে দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালির বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিন দমকলকর্মী। ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বন অগ্নি তথ্য ব্যবস্থা (ইএফএফআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকাল এখনও অর্ধেকও শেষ হয়নি। এর মধ্যেই দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ গত দুই দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ইতালির সিসিলি দ্বীপে কয়েক দিন ধরেই একাধিক দাবানল জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ছয় হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য কাজ করছেন। ইতালি সরকার জানিয়েছে, আগুন নেভানোর সময় অসুস্থ হয়ে এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের জেরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বোর্দোর উপকূলবর্তী পাইন অরণ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার ১০ হাজারেরও বেশি পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা জুলি লিওনার্দ জানান, বিকেলের দিকে আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। ফরাসি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে লে পর্জ এলাকায় প্রায় ২,৪০০ হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রাণহানির খবর না মিললেও, মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বেশিরভাগ বাসিন্দাকে বাড়িতে ফিরতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মাদ্রিদের উত্তরের গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরও একটি ভয়াবহ দাবানল এখনও জ্বলছে। সেখানে শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
গাজা নিয়ে বক্তব্যের জেরে স্ত্রী-সহ হত্যার হুমকি পেয়েছি: নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক: গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার জেরে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী একাধিকবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। মার্কিন সাময়িকী রোলিং স্টোন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “মৃত্যুর হুমকির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা সহজ নয়। তবে যখন আপনি বিশ্বাসের জায়গা থেকে মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার কিছু পরিণতি মেনে নিতেই হয়।” তিনি জানান, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য থাকাকালীনও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার সমালোচনা এবং গাজায় ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের হুমকি বাড়তে শুরু করে। মামদানি বলেন, মেয়র পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছিল এবং দায়িত্ব গ্রহণের পরও তা অব্যাহত রয়েছে। শুধু তিনিই নন, গাজা ইস্যুতে তাঁর অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাঁর স্ত্রীও সমালোচনা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক পৃথক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে তাঁর বিচার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে হওয়া উচিত। তবে পরে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনও স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের জব্দ সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের, তেহরানের তীব্র প্রতিবাদ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান: হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলির ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, অন্য একটি দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। জুলাইয়ের শুরু থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দ অর্থসম্পদ থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও এই পদ্ধতিই সবচেয়ে ন্যায্য। শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের ক্ষতিপূরণ মেটানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর মতে, যদি এ ধরনের পদক্ষেপ স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনও দেশের সম্পদই নিরাপদ থাকবে না এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। ইরানের জব্দ সম্পদ দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয়। গত জুনে সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে দুই দেশ যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, সেখানে এই ইস্যুটিও আলোচনায় ছিল। তবে পরে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর প্রথমবার ইরানের সম্পদ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুমান অনুযায়ী, এই জব্দ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে, যা চলতি বছরের ৭ মে-র পর এক দিনে সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরেই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অতিরিক্ত মদ ও মাদকের প্রাণঘাতী মিশ্রণে মৃত্যু সৌদি রাজপুত্রের, লন্ডনের হোটেলে উদ্ধার দেহ
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: অতিরিক্ত মদ্যপান এবং একাধিক মাদক সেবনের জেরে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি রাজপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটেনের একটি আদালতের তদন্তে উঠে এসেছে, অ্যালকোহল ও বিভিন্ন মাদকের প্রাণঘাতী মিশ্রণের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত রাজপুত্রের নাম প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জালাউই আল সউদ। জানা গিয়েছে, লন্ডনের কেনসিংটনের একটি বিলাসবহুল ম্যারিয়ট হোটেলের কক্ষে গত ২৬ নভেম্বর সকালে বাথরুমের মেঝে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেল কর্মীরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে জরুরি পরিষেবায় খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্রিটেনের দ্য সান এবং ডেইলি মিরর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় হোটেলের বাইরে শেষবার ধূমপান করতে দেখা গিয়েছিল রাজপুত্রকে। সেই দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তদন্তে অন্য কারও জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করনার্স কোর্টে জমা দেওয়া টক্সিকোলজি রিপোর্টে জানা যায়, মৃত্যুর সময় তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ব্রিটেনে গাড়ি চালানোর আইনি সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়াও শরীরে গামা-হাইড্রোক্সিবিউটিরেট (জিএইচবি) নামে পরিচিত একটি পার্টি ড্রাগ, মারিজুয়ানা, জ্যানাক্স এবং একাধিক উদ্বেগনাশক ওষুধের উপস্থিতি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই সব পদার্থের সম্মিলিত প্রভাবে হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। আদালতে জানানো হয়, প্রিন্স আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মদ ও প্রেসক্রিপশন ড্রাগে আসক্ত ছিলেন। আসক্তি কাটাতে তিনি ২০২৫ সালে ব্রিটেনের প্রাইওরি ক্লিনিক এবং পরে রেইনফোর্ড হল ক্লিনিকে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, চিকিৎসায় তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন এবং ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াও সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। সহকারী করনার জিন হার্কিন্স তদন্ত শেষে জানান, আত্মহত্যার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই ঘটনাকে ‘ডেথ বাই মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে রায় দিয়েছে। পরে সৌদি রাজপরিবার এক বিবৃতিতে রাজপুত্রের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এবং জানায়, রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
ভারত, পাকিস্তান-সহ ৬০ দেশের পণ্যে আমেরিকার অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, ভারতের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অভিযোগে ভারত-সহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত-সহ ১৭টি দেশের উপর ১০ শতাংশ এবং আরও ৪৩টি দেশের উপর ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৩০১ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইৎজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে নতুন শুল্ক যোগ করে মোট হার ১০ বা ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তালিকায় চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমশিবিরে কাজে লাগানো হয়। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্বব্যাপী অস্থায়ী ১০ শতাংশ ট্যারিফের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়েই নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একশো বছর ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখন ওয়াশিংটন তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক প্রথা রোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও তিনি দাবি করেন। এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর বাণিজ্য নীতির অংশ। এর আগে ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক আমদানি শুল্ক’ সংক্রান্ত নির্দেশ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপরই ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৩০১ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। নতুন শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে একাধিক দেশ। নরওয়ের বিদেশমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে বলেন, তাদের দেশের বিরুদ্ধে এই শুল্কের কোনও যৌক্তিক ভিত্তি নেই, কারণ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে নরওয়েতে ইতিমধ্যেই কঠোর বিধি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এই শুল্ককে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছে এবং তা প্রত্যাহারের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কানাডার মার্কিন বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঁ বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই বিষয় এবং অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে দুই দেশের নাগরিকরাই উপকৃত হন। অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মৌরা হিলি এক বিবৃতিতে বলেন, এই অতিরিক্ত শুল্কের ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া দেশগুলি অন্যায্য সুবিধা পেয়ে থাকে, যার ফলে মার্কিন সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন শুল্ক বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে বলে প্রশাসনের দাবি। যদিও সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়বে এবং তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের উপরও পড়বে।
টানা চতুর্থ দিন পতন শেয়ারবাজারে, একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির জেরে বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের মতো পতনের মুখে বন্ধ হল দেশের শেয়ারবাজার। সারাদিন জুড়েই বিক্রির চাপ বজায় থাকায় সেনসেক্স ও নিফটি—দুই সূচকই নিম্নমুখী ছিল। দিনের শেষে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির বাজার মূলধন প্রায় ২.৯৯ লক্ষ কোটি টাকা কমে যায়। দিনের শুরুতেই দুর্বল অবস্থানে খোলে বাজার। সেনসেক্স ২৩৯.৯৫ পয়েন্ট নেমে ৭৬,৫১৫.১০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। পরে কিছুটা কেনাকাটার জেরে সূচক ৭৬,৭২৬.৬৬ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়ে। এক সময় সেনসেক্স ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়। শেষ মুহূর্তে সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৬৩.৬৬ পয়েন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ পতনের সঙ্গে ৭৬,৩৯১.৩৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৯১.৪৫ পয়েন্ট কমে ২৩,৯০৪.৮০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। দিনের মধ্যে সূচক ২৩,৯৯০.৭৫ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠলেও পরে টানা বিক্রির চাপে তা ২৩,৮০৭.২০ পয়েন্টে নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত ১২৬.৬৫ পয়েন্ট বা ০.৫৩ শতাংশ পতনের সঙ্গে ২৩,৮৬৯.৬০ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ হয়। এদিন রিয়েলটি, তেল ও গ্যাস, অবকাঠামো, শক্তি, ব্যাঙ্কিং, তথ্যপ্রযুক্তি, এফএমসিজি, স্বাস্থ্য, ধাতু এবং সরকারি সংস্থার সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। তবে অটোমোবাইল ও মিডিয়া খাতে কিছুটা কেনাকাটা হয়। নিফটি অটো সূচক ০.৭০ শতাংশ এবং মিডিয়া সূচক ০.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বৃহত্তর বাজারেও বিক্রির চাপ স্পষ্ট ছিল। নিফটি মিডক্যাপ সূচক ০.৯৯ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ১.০১ শতাংশ নিচে নেমে বন্ধ হয়। বাজারের এই পতনের ফলে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন আগের দিনের ৪৭৯.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৭৬.৮৮ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২.৯৯ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। লেনদেনের নিরিখে বিএসই-তে মোট ৪,৩৯১টি শেয়ারের মধ্যে ১,৬৩৭টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ২,৫৮৫টি শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। এনএসই-তে লেনদেন হওয়া ২,৯৭৩টি শেয়ারের মধ্যে ৯১০টি শেয়ার বেড়েছে, আর ২,০৬৩টি শেয়ার কমেছে। দিনের সেরা লাভকারী শেয়ারের তালিকায় ছিল বাজাজ অটো (২.৫৯%), এসবিআই লাইফ ইন্স্যুরেন্স (২.৫৯%), মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা (১.৭১%), টিসিএস (১.৫৭%) এবং আইশার মোটরস (১.১৭%)। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারের মধ্যে ছিল আদানি এন্টারপ্রাইজেস (৪.৩৭%), শ্রীরাম ফাইন্যান্স (৩.১২%), নেসলে ইন্ডিয়া (৩.০৬%), আদানি পোর্টস (২.২৫%) এবং বাজাজ ফাইন্যান্স (১.৯৩%)। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের লাগাতার বৃদ্ধি আগামী কয়েকদিনও ভারতীয় শেয়ারবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।