ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের তাণ্ডব, ঘরছাড়া ২ লক্ষের বেশি মানুষ

সকাল সকাল ডেস্ক

প্যারিস/মাদ্রিদ : ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের জেরে দুই দেশের ২ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় স্পেনে প্রথমবারের মতো দাবানলকে ঘিরে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গাড়ি ও নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে আগুন দ্রুত বোর্দো শহর ও সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্পেনে মাদ্রিদের উপকণ্ঠে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে আরও বড় আকার ধারণ করেছে। আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে ৪৩০-রও বেশি প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চলছে সান মার্টিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস এলাকায়।

স্পেনের আঞ্চলিক নেত্রী ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এই দাবানলকে ওই অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রশাসনের দাবি, প্রবল বাতাস, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসে আর্দ্রতার ঘাটতি আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরুরি পরিষেবার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে ফ্রান্স ও স্পেন—দুই দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দাবানলের ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘনঘন এবং আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠছে।

স্পেনের গুয়াদালাহারা প্রদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সক্রিয় দাবানল জ্বলছে। গত এক সপ্তাহে সেখানে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার সমস্ত উপলব্ধ সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে।

Read More News

Read More