অতিরিক্ত মদ ও মাদকের প্রাণঘাতী মিশ্রণে মৃত্যু সৌদি রাজপুত্রের, লন্ডনের হোটেলে উদ্ধার দেহ

সকাল সকাল ডেস্ক

লন্ডন: অতিরিক্ত মদ্যপান এবং একাধিক মাদক সেবনের জেরে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি রাজপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটেনের একটি আদালতের তদন্তে উঠে এসেছে, অ্যালকোহল ও বিভিন্ন মাদকের প্রাণঘাতী মিশ্রণের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত রাজপুত্রের নাম প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জালাউই আল সউদ

জানা গিয়েছে, লন্ডনের কেনসিংটনের একটি বিলাসবহুল ম্যারিয়ট হোটেলের কক্ষে গত ২৬ নভেম্বর সকালে বাথরুমের মেঝে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেল কর্মীরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে জরুরি পরিষেবায় খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রিটেনের দ্য সান এবং ডেইলি মিরর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় হোটেলের বাইরে শেষবার ধূমপান করতে দেখা গিয়েছিল রাজপুত্রকে। সেই দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তদন্তে অন্য কারও জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি।

ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করনার্স কোর্টে জমা দেওয়া টক্সিকোলজি রিপোর্টে জানা যায়, মৃত্যুর সময় তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ব্রিটেনে গাড়ি চালানোর আইনি সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়াও শরীরে গামা-হাইড্রোক্সিবিউটিরেট (জিএইচবি) নামে পরিচিত একটি পার্টি ড্রাগ, মারিজুয়ানা, জ্যানাক্স এবং একাধিক উদ্বেগনাশক ওষুধের উপস্থিতি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই সব পদার্থের সম্মিলিত প্রভাবে হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

আদালতে জানানো হয়, প্রিন্স আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মদ ও প্রেসক্রিপশন ড্রাগে আসক্ত ছিলেন। আসক্তি কাটাতে তিনি ২০২৫ সালে ব্রিটেনের প্রাইওরি ক্লিনিক এবং পরে রেইনফোর্ড হল ক্লিনিকে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, চিকিৎসায় তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন এবং ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াও সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।

সহকারী করনার জিন হার্কিন্স তদন্ত শেষে জানান, আত্মহত্যার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই ঘটনাকে ডেথ বাই মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে রায় দিয়েছে।

পরে সৌদি রাজপরিবার এক বিবৃতিতে রাজপুত্রের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এবং জানায়, রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

Read More News

Read More