টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগ রাশিয়ার, ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক মস্কো: জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের গুরুতর অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। দেশটির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি-র দাবি, টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে এবং তরুণদের উসকানি দিচ্ছে। এফএসবি-র অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের লক্ষ্য করে নিয়োগ, যোগাযোগ ও হামলার পরিকল্পনা পরিচালিত হয়েছে। সংস্থার দাবি, এসব কার্যকলাপের ফলে প্রাণহানি এবং বিপুল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, ‘ডাইভিংচিক’ নামে একটি পরিষেবার মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয়ে রুশ তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হতো। পরে তাঁদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা হয় বলে অভিযোগ। এফএসবি-র দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের ১৬টি অঞ্চল থেকে এ ধরনের অভিযোগে ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাশিয়ার দণ্ডবিধির ২০৫.১ ধারায় সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাভেল দুরোভের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলে রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাভেল দুরোভ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, টেলিগ্রামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্ল্যাটফর্মটিতে সেন্সরশিপ আরোপের উদ্দেশ্যেই রাশিয়া এই অভিযোগ তুলছে। তিনি বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাশিয়া ছেড়ে দেশত্যাগ করেন পাভেল দুরোভ। বর্তমানে তিনি ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া নিজস্ব মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি টেলিগ্রামের কিছু পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপেও টেলিগ্রামকে ঘিরে বিভিন্ন তদন্ত চলায় সংস্থাটি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগের বিষয়ে এখনও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেই গ্রিন কার্ডের সুযোগ? মার্কিন সিনেটে নতুন বিল, আশায় ভারতীয় এইচ-১বি ভিসাধারীরা
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ সহজ করতে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল পেশ করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে টানা সাত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বহু ভারতীয় পেশাজীবী। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাদিলা এই বিলটি উত্থাপন করেছেন। তাঁর দাবি, প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে আধুনিক করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসী এর সুবিধা পেতে পারেন। বর্তমান আইনে শুধুমাত্র ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নির্দিষ্ট অভিবাসীরাই ‘রেজিস্ট্রি’ বিধানের আওতায় গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে সেই নির্দিষ্ট তারিখের পরিবর্তে ‘রোলিং’ বা চলমান সময়সীমার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আবেদনকারীর টানা সাত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রমাণ এবং অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। ভারতীয় এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য এই প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশভিত্তিক কোটার কারণে বহু ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীকে গ্রিন কার্ডের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সন্তানরা ২১ বছর পূর্ণ করলে ‘এজিং আউট’-এর সমস্যায় পড়েন, যার ফলে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। নতুন বিল আইনে পরিণত হলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষা অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিলের আওতায় শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীরাই নন, বরং ‘ড্রিমার্স’, টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) প্রাপ্ত অভিবাসী এবং আরও কয়েকটি শ্রেণির দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দারাও উপকৃত হতে পারেন। তবে বিলটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি আইনে পরিণত হতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিলটি পাস করানো সহজ হবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবুও দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় পেশাজীবীদের কাছে এই উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের ভিসা নিয়ে বিতর্ক, নীরব নিষেধাজ্ঞার অভিযোগে চাপে ইসলামাবাদ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের ভিসা ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, ইউএই নীরবে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রদান সীমিত বা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আমিরাত প্রশাসন। পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, ভিসা না পাওয়ায় দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বৈঠক, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং বাণিজ্যিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানসহ সব দেশের আবেদনকারীদের ভিসা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। কোনও দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আলাদা করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা। রাওয়ালপিন্ডি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শওকত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউএই-তে ব্যবসা পরিচালনা করা একাধিক পাকিস্তানি উদ্যোক্তাও সম্প্রতি ভিসা পাননি। ফলে তাঁদের ব্যবসায়িক সফর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান নুন উৎপাদক সমিতির চেয়ারম্যান ইসমাইল সুত্তরের দাবি, ইউএই-নির্ভর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে করাচি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইতিমধ্যেই ইউএই-র কনসাল জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে তাদের দাবি। এদিকে, শিগগিরই দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একটি বড় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে অংশগ্রহণ নিয়ে পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং একই সময়ে ইউএই-পাকিস্তান সম্পর্কের কিছু কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই ভিসা বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে ভিসা সমস্যার সঙ্গে এই কূটনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি।
সোনার দামে ফের পতন, রুপোর দামে নেই কোনও পরিবর্তন
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: দেশীয় সোনা-রুপোর বাজারে বৃহস্পতিবারও সোনার দামে পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। দেশের অধিকাংশ বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৬০০ থেকে ৬৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৫০০ থেকে ১,৪৩,৬৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩১,৫৪০ থেকে ১,৩১,৬৯০ টাকার মধ্যে। রুপোর দাম অপরিবর্তিত থেকে দিল্লি বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম ২,৩৪,৯০০ টাকায় স্থির রয়েছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৬৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৬৯০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৫০০ টাকা ও ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৩,৫৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩১,৫৯০ টাকা। চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,৫০০ টাকায় এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে জয়পুর, লখনউ ও দিল্লিতে সোনার দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি রয়েছে। ভোপাল ও পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৩,৫৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩১,৫৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
মার্কিন হামলার পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন/কায়রো/কুয়েত সিটি : জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলার উপযুক্ত জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরান স্বীকার করেছে, রাতভর মার্কিন বিমান হামলায় বুশেহর প্রদেশের তিনটি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই প্রদেশেই অবস্থিত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, আইআরজিসির একাধিক সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের মতে, এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং উপসাগরীয় দেশগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির উদ্দেশে নিক্ষেপ করা হলেও সেগুলি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের কেশম দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোররাতে মার্কিন বাহিনী একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টা ৫০ মিনিটে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। হরমোজগান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নরও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা বুধবার ভোরে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বুশেহর, জাম এবং খোরমোজ শহরের আশপাশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। তবে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও নিরাপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, হামলার উপযুক্ত জবাব আজই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এই জলপথে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা সংস্থার ভবন লক্ষ্য করে চালানো ইরানি হামলায় এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। হামলায় ভবনটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেজর জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে সামরিক সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক নিউইয়র্কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি পাকিস্তান, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ঘাঁটিতে মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক বাগদাদ : ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ)-এর একাধিক ঘাঁটিতে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। গত ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অভিযানের আগে ইরান জর্ডনে অবস্থিত তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও সৌদি বাহিনীর হামলার পর ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নিনেভেহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বসরা প্রদেশের একাধিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বসরায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকজুড়ে তাদের একাধিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। নিনেভেহ প্রদেশে অন্তত আট জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে হুথিদের দাবি, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। উল্লেখ্য, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স ইরাকের একটি সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী। ২০১৪ সালের ১৫ জুন ইরান-সমর্থিত একাধিক শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে একত্রিত করে এই বাহিনী গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীটি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও, বাস্তবে এর উপর ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করা হয়ে আসছে।
১৪ বছর বয়স থেকেই কারিগরি ও এআই শিক্ষার সুযোগ, ইংল্যান্ডে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কার
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: ইংল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়স থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রচলিত একাডেমিক পাঠের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ প্রযুক্তি, কোডিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে তোলা এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করা। নতুন ব্যবস্থায় গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো বাধ্যতামূলক বিষয়গুলির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় বেছে নিতে পারবে। ফলে একাডেমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা একইসঙ্গে গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার জানিয়েছে, নতুন কোর্সগুলি স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হবে। শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কর্ম-অভিজ্ঞতা অর্জন এবং স্থানীয় নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগও পাবে। এক নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাঁর মতে, আগামী দিনে দক্ষ প্রকৌশলী, ইলেকট্রিশিয়ান, উৎপাদন বিশেষজ্ঞ এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাদারদের চাহিদা আরও বাড়বে। তাই কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার পাঠ্যক্রমের কেন্দ্রে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষাই সফলতার একমাত্র পথ। নতুন শিক্ষানীতিতে সেই ধারণা বদলানো হবে। নির্মাণ, প্রকৌশল, কোডিং কিংবা উৎপাদনশিল্প—সব ক্ষেত্রের দক্ষতাকেই সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান যুব বেকারত্ব কমানো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ লক্ষেরও বেশি তরুণ শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণ—কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত নন। উন্নত কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আগাম সংযোগ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের আশা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় মূল্যায়ন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষা তদারকি সংস্থা অফস্টেড ভবিষ্যতে বিদ্যালয় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার মানকেও গুরুত্ব দেবে। তবে বর্তমান জিসিএসই মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে নতুন কাঠামোর সমন্বয় কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। সরকার জানিয়েছে, এই সংস্কার শুধুমাত্র ইংল্যান্ডে কার্যকর হবে। কারণ যুক্তরাজ্যে শিক্ষা নীতি বিকেন্দ্রীভূত। তবে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডেও সাম্প্রতিক সময়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল বলেন, নিয়োগদাতা সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা তরুণদের স্থানীয় কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অর্থনীতির চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। যদিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষা মহলের একাংশ, তবুও বাস্তবায়ন পদ্ধতি, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং বিদ্যালয়গুলির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হেড টিচার্সের মহাসচিব পল হোয়াইটম্যান বলেন, পরিকল্পনাটি ইতিবাচক হলেও সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে আরও স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ দলের শিক্ষাবিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রটের মতে, কেবল নতুন কারিগরি কোর্স চালু করলেই শ্রমবাজারের সব সমস্যা দূর হবে না। একই সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের শিক্ষাবিষয়ক মুখপাত্র মুনিরা উইলসন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নমনীয়তা থাকা জরুরি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাদের নির্দিষ্ট শিক্ষাধারায় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।
জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে বিদেশি মানবসদৃশ রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশে তৈরি নতুন প্রজন্মের মানবসদৃশ রোবট ও উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে চীনে নির্মিত অত্যাধুনিক রোবট সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিদেশি পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) জানিয়েছে, মানবসদৃশ রোবট, চার পায়ের স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং নির্দিষ্ট ধরনের পাওয়ার ইনভার্টারকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই কারণেই এগুলিকে সংস্থার ‘কভার্ড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা-ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য ও পরিষেবার তালিকা রাখা হয়। এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, বিদেশে তৈরি উন্নত পাওয়ার ইনভার্টার ও রোবোটিক যন্ত্রের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ, তথ্য চুরি, নজরদারি কিংবা সাইবার হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালানো হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি রাষ্ট্র বা তাদের মদতপুষ্ট গোষ্ঠী এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারে বলেই ওয়াশিংটনের দাবি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র নতুন মডেলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। যেসব পণ্য ইতিমধ্যেই এফসিসির অনুমোদন পেয়েছে বা বাজারে রয়েছে, সেগুলির আমদানি ও বিক্রির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, বাণিজ্যিক বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে ভিত্তিহীন অজুহাতে চীনা প্রযুক্তিপণ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। চীনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের স্বার্থবিরোধী যে কোনও পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। চীনা দূতাবাস আরও জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে বিশ্বকল্যাণে ব্যবহার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’ পরিহার করে চীনা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই ক্রমশ বাড়ছে। উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইতিমধ্যেই চীনের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে, মানবসদৃশ রোবট তৈরির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত অগ্রগতি করেছে চীনা সংস্থাগুলি। শিল্পক্ষেত্র থেকে গৃহস্থালি—বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের উপযোগী রোবট ইতিমধ্যেই বাজারে এনেছে তারা। অনেক ক্ষেত্রেই টেসলা ও বোস্টন ডাইনামিকসের মতো মার্কিন সংস্থার আগেই চীনা নির্মাতারা বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি বাজারজাত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন নেই, পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভর করতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে সামরিক হামলা চালাতেও পিছপা হবে না ওয়াশিংটন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে তাঁকে আলাদা করে কিছু বোঝানোর প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, “আমাকে এসব বিষয়ে ‘বিবি’র কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার দরকার নেই। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই জানে কী ঘটছে এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরানের পাহাড়ঘেরা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র সম্পর্কে ট্রাম্পকে বিস্তারিত তথ্য দিতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওই কেন্দ্রের গতিবিধির উপর আমেরিকার কড়া নজর রয়েছে এবং সেখানে কী চলছে, সে সম্পর্কে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ অবগত। ইরানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অতীতে তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করেছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে করব। আলোচনা সফল না হলে ওই কেন্দ্র ধ্বংস করতে আমাদের কোনো দ্বিধা থাকবে না।” একই সঙ্গে, ইরান সংক্রান্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ্যে আনার অভিযোগে নেতানিয়াহুর সমালোচনাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমি শুনলাম বিষয়টি প্রকাশ্যে বলা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, আগে আমাকে জানানো হয়নি কেন?” যদিও ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ কেন্দ্র নিয়ে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন— এমন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন কৌশলেই এগোতে চায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসরায়েলের উপর নির্ভরশীল হতে আগ্রহী নয়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের কূটনৈতিক আলোচনার সময়সীমা শেষের পথে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আসন্ন বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ঘাঁটিতে মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক বাগদাদ: ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ)-এর একাধিক ঘাঁটিতে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। গত ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অভিযানের আগে ইরান জর্ডনে অবস্থিত তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও সৌদি বাহিনীর হামলার পর ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নিনেভেহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বসরা প্রদেশের একাধিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বসরায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকজুড়ে তাদের একাধিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। নিনেভেহ প্রদেশে অন্তত আট জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে হুথিদের দাবি, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। উল্লেখ্য, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স ইরাকের একটি সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী। ২০১৪ সালের ১৫ জুন ইরান-সমর্থিত একাধিক শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে একত্রিত করে এই বাহিনী গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীটি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও, বাস্তবে এর উপর ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করা হয়ে আসছে।