পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ২০২৬: দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ২৫
সকাল সকাল ডেস্ক পঞ্জাবের শেখুপুরায় মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় যাত্রীবাহী বাস; সংঘর্ষের পর দুটি বাসই উল্টে পড়ে কৃষিজমিতে। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। মঙ্গলবার রাতে শেখুপুরা জেলার নারং মান্ডি শহরের কাছে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘিরে ঘটনাস্থলে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে, দুটি বাসই রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের কৃষিজমিতে গিয়ে উল্টে যায়। বাসের ভিতরে বহু যাত্রী আটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কোথায় এবং কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখুপুরা জেলার সিধনওয়ালি বাসস্টপের কাছে কালা খাটাই সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লাহোর থেকে শকরগড়ের দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। সেই সময় আচমকা একটি মোটরসাইকেল বাসটির সামনে চলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে বাসচালক হঠাৎ দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। দ্রুতগতিতে চলতে থাকা বাসটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আচমকা দিক পরিবর্তন এবং বাসের অতিরিক্ত গতিই এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ। তবে পুলিশ এখনও চূড়ান্তভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। সংঘর্ষের পর কৃষিজমিতে উল্টে যায় দুই বাস দুটি বাসের সংঘর্ষের শব্দ আশপাশের বহু দূর পর্যন্ত শোনা যায়। ধাক্কার পর বাস দুটি রাস্তার পাশে ছিটকে গিয়ে কৃষিজমিতে উল্টে পড়ে। জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাসের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। কেউ জানালা ভেঙে, কেউ দরজা কেটে আটকে পড়া যাত্রীদের বাইরে বের করার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ, চিকিৎসক দল এবং উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ভেঙে যাওয়া বাসের ভিতর থেকে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটজনক উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহতদের লাহোরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েকজন আহতের মাথা, বুক এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। অনেকের হাড় ভেঙেছে। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই কারণে পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসচালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি সামনে এলেও দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি বাসের গতি কত ছিল, চালকেরা দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর কারণে ক্লান্ত ছিলেন কি না, বাসে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং যানবাহনগুলির উপযুক্ততা সংক্রান্ত নথি বৈধ ছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। রাস্তার ওই অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছিল কি না এবং যান নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পাকিস্তানে পথ দুর্ঘটনার পটভূমি পাকিস্তানে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা নতুন ঘটনা নয়। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, সড়কের দুর্বল অবস্থা, যানবাহনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিধি না মানার কারণে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনা ঘটে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলির ক্ষেত্রে চালকদের দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো এবং বিশ্রামের অভাবও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের বাধ্যতামূলক উপযুক্ততা পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্ঘটনার প্রভাব এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা আবারও দেশটির যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে দ্রুতগতির যানবাহন, চালকদের দায়িত্ববোধ এবং সড়কে ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কালা খাটাই সড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস দুটি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। প্রশাসনের বক্তব্য পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত ২৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য লাহোরে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় যাচাইয়ের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে দেহ হস্তান্তর করা হবে। সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য চালকদের অতিরিক্ত গতি এড়ানো, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং আচমকা দিক পরিবর্তন না করা অত্যন্ত জরুরি। মোটরসাইকেল আরোহীদেরও প্রধান সড়কে ওঠার আগে দুই দিকের যান চলাচল দেখে নেওয়া প্রয়োজন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসের উপযুক্ততা, চালকের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। শেখুপুরার এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা দেখিয়ে দিল, সামান্য অসতর্কতা মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারে। দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, তার কঠোর প্রয়োগ এবং চালক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি সমানভাবে প্রয়োজন। এসইও শক্তিশালী মূলশব্দপাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। মঙ্গলবার রাতে শেখুপুরা জেলার নারং মান্ডি শহরের কাছে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘিরে ঘটনাস্থলে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে, দুটি বাসই রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের কৃষিজমিতে গিয়ে উল্টে যায়। বাসের ভিতরে বহু যাত্রী আটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কোথায় এবং কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখুপুরা জেলার সিধনওয়ালি বাসস্টপের কাছে কালা খাটাই সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লাহোর থেকে শকরগড়ের দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। সেই সময় আচমকা একটি মোটরসাইকেল বাসটির সামনে চলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে বাসচালক হঠাৎ দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। দ্রুতগতিতে চলতে থাকা বাসটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আচমকা দিক পরিবর্তন এবং বাসের অতিরিক্ত গতিই এই পাকিস্তান সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ। তবে পুলিশ এখনও চূড়ান্তভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। সংঘর্ষের পর কৃষিজমিতে উল্টে যায় দুই বাস দুটি বাসের সংঘর্ষের শব্দ আশপাশের বহু দূর পর্যন্ত শোনা যায়। ধাক্কার পর বাস দুটি রাস্তার পাশে ছিটকে গিয়ে কৃষিজমিতে উল্টে পড়ে। জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাসের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। কেউ জানালা ভেঙে, কেউ দরজা কেটে
Iran-US Tension ২০২৬: পশ্চিম এশিয়ায় ফের সংঘাতের আশঙ্কা, ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধে চরম উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী, ইরানের বন্দর অবরোধ, সমঝোতা স্মারক থেকে সরে আসা এবং ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে নতুন করে অস্থির পশ্চিম এশিয়া। পশ্চিম এশিয়ায় আবারও সংঘাতের মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে। Iran-US Tension নতুন মোড় নেওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলিকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের নতুন অবরোধমূলক পদক্ষেপ এবং তার পাল্টা জবাবে তেহরানের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন এবং আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক থেকে ইরানের সরে আসার ঘোষণাও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান Iran-US Tension শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। ইরানের বন্দরে নতুন মার্কিন অবরোধ সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে কঠোর নজরদারি ও অবরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সেই বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সীমিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের কৌশলগত রসদ পরিবহণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে Iran-US Tension আরও তীব্র হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত। চাপের কাছে নতি স্বীকারে নারাজ তেহরান মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিদেশি চাপের কাছে তারা কোনওভাবেই মাথা নত করবে না। তেহরানের সরকারি মহল জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইরানের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের অধিকার রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। তাই মার্কিন অবরোধের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে বদল ট্রাম্পের অবস্থানে কয়েক দিন আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তা পরিষেবার বিনিময়ে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সেই পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। মার্কিন প্রশাসনের মতে, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সমঝোতা স্মারক থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইরান মার্কিন পদক্ষেপের পাল্টা জবাবে কূটনৈতিকভাবে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। ইরান ঘোষণা করেছে, আমেরিকার সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং একতরফাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই ওই সমঝোতায় থাকার আর কোনও যৌক্তিকতা নেই বলে তাদের দাবি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। একই সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও নতুন করে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি চাইছে, কোনওভাবেই যেন এই উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে পরিণত না হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। সামনে কী? বর্তমানে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইরানও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, কোনও ধরনের বিদেশি চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুলবে। আপাতত Iran-US Tension ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক মার্কিন অবরোধ সেই সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতেই ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নতুন নজরদারি ও অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, বিদেশি চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। পাবলিক ইনফরমেশন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের সামুদ্রিক তেল পরিবহণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
৫ বড় সিদ্ধান্তে হরমুজে ফের মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা, জাহাজ থেকে টোল আদায়ের কথা বললেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নৌ অবরোধ, টোল আদায় ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানে বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে আবারও মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির কাছ থেকে নিরাপত্তা পরিষেবার বিনিময়ে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই ঘোষণার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। হরমুজে নৌ অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁর দাবি, এই সমুদ্রপথ ব্যবহারকারী দেশগুলির নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ বহন করা উচিত। ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির কাছ থেকে নিরাপত্তা পরিষেবার জন্য ২০ শতাংশ হারে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অর্থ নৌ টহল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় ব্যয় করা হবে। চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত ইরান মানেনি। তাঁর দাবি, অতীতেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের ঘটনাও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নতুন অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন পরিচালনা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। কড়া জবাব তেহরানের ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বা ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বৈধ ভূমিকা নেই। তাঁর হুঁশিয়ারি, মার্কিন নৌবাহিনীকে সহযোগিতা করা বা অবরোধ কার্যকর করতে সহায়তা করা হলে সেটিকে ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় বাড়ছে উত্তেজনা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, নৌ-বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। অনিশ্চয়তায় শান্তি সমঝোতা গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা। কিন্তু সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক বিরোধ এবং নৌ অবরোধের ঘোষণার ফলে সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের বাড়ছে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। তাঁদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপ শুরু না হলে হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। পটভূমি হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ ও টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। জনস্বার্থে তথ্য বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জ্বালানির দাম, পরিবহণ ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।
৪ বছর পর ভাঙল যুদ্ধবিরতি! সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের, নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় পশ্চিম এশিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক সানা বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ তুলে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি হুতিদের। লোহিত সাগর ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ। প্রায় চার বছর ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হুতিদের অভিযোগ, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে নতুন করে বড় সংঘাতের দিকে এগোতে পারে অঞ্চলটি। সৌদির আকাশেই প্রতিহত ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার দাবি চার বছরের যুদ্ধবিরতির কার্যত অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই ছিল লক্ষ্য হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ২০২২ সালের মার্চ মাসে সৌদির তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই সময় থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলার দায় আর প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি হুতি গোষ্ঠী। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল এবং ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সেই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে কার্যত ভেঙে দিল। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এর ফলে আবারও সীমান্তে ব্যাপক সামরিক সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দর সামরিক ও বেসামরিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মকালে বহু পর্যটকও এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। চার বছরের যুদ্ধবিরতির ইতি ২০২২ সালের মার্চে সৌদির তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় হামলার পর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ চার বছর সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি হুতি গোষ্ঠী। সোমবারের হামলার দাবিকে সেই যুদ্ধবিরতির অবসান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সানা বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ হুতিদের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, ওই হামলার জবাব দিতেই সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ লোহিত সাগর ও জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত বাড়লে লোহিত সাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সৌদি আরব পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুললেও নতুন সংঘাত সেই ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে অস্থিরতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বিরোধ, ব্রিটেনের আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং এখন সৌদি-হুতি সংঘাত—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে গোটা অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখনও পর্যন্ত সৌদি সরকার হামলার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়, তাহলে শুধু ইয়েমেন নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পটভূমি ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ২০২২ সালে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই শান্তি প্রক্রিয়া আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রভাব সরকারি বক্তব্য সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের দাবি, সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। জনস্বার্থে তথ্য লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম, নৌ-বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
৫ বড় কারণে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ ঘোষণা করল ব্রিটেন, আরও তলানিতে লন্ডন-তেহরান সম্পর্ক
সকাল সকাল ডেস্ক নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ব্রিটেনের। সমর্থন বা অর্থসাহায্য করলে হতে পারে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডন। নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান ও ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শবনম মাহমুদ জানিয়েছেন, বিদেশি রাষ্ট্রের মদতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে জড়িত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসি ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত। আইআরজিসি-কে সমর্থন করলেই কঠোর শাস্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন মিললে আইআরজিসি-র পক্ষে প্রচার, সমর্থন, সদস্য সংগ্রহ, অর্থসাহায্য, তহবিল সংগ্রহ কিংবা অন্য যেকোনও ধরনের সহযোগিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার হামলার অভিযোগ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্রিটেনে ইরান-সমর্থিত গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা এবং নাশকতার একাধিক তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্রিটেনে ইরান-সমর্থিত একাধিক ষড়যন্ত্রের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সাইবার হামলা, সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এবং বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর দুই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের মতে, বিদেশে অবস্থানকারী ইরানবিরোধী সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনাও তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমের দুই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন। আইআরজিসি নিয়ে ব্রিটেনের অভিযোগ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ইগলের দাবি, আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং ইরানের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা এবং বিদেশি কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম প্রধান শক্তি। তাঁর অভিযোগ, এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা, গোপন অভিযান পরিচালনা এবং বিদেশে ইরানের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আরও দুই সংগঠন নিষিদ্ধের তালিকায় আইআরজিসি-র পাশাপাশি ইরান-ঘনিষ্ঠ ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট’ এবং রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ‘জিআরইউ ভলান্টিয়ার কর্পস’-কেও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ব্রিটেন। সরকারের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে এটি একটি সমন্বিত পদক্ষেপ। আইআরজিসি কেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসি বর্তমানে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, বিশেষ বাহিনী পরিচালনা এবং বিদেশে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলির অভিযোগ, আইআরজিসি সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত। যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত ইরান-যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী ইস্যু এবং ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক নিরাপত্তা অভিযোগের মধ্যেই ব্রিটেন এই সিদ্ধান্ত নিল। দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠছিল। প্রভাব সরকারি বক্তব্য ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত হুমকি মোকাবিলার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে তথ্য আইন কার্যকর হলে ব্রিটেনে আইআরজিসি-র পক্ষে প্রচার, সমর্থন, অর্থসাহায্য বা তহবিল সংগ্রহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হবে। সাধারণ নাগরিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫ কারণে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি সমঝোতা স্থগিত ইরানের, বাতিল ইসলামাবাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্থগিত তেহরানের। বাতিল ইসলামাবাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মোড়। Iran-US Peace Deal নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তেহরান। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক শান্তি সমঝোতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এই পদক্ষেপের ফলে Iran-US Peace Deal কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে সমঝোতা স্থগিত ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতার শর্ত ও প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করেনি। তাঁর দাবি, চুক্তি অনুযায়ী যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেনি ওয়াশিংটন। বাঘেই স্পষ্ট বলেন, যতদিন না যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে, ততদিন Iran-US Peace Deal কার্যকর থাকবে না। সমঝোতা থেকে সংঘাতের পথে দুই দেশ গত মাসে দীর্ঘ কূটনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর সুইৎজারল্যান্ডে একাধিক দফায় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ধাপে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু ৬ জুলাই হরমুজ প্রণালীর কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। হামলার জন্য উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করে। এরপর থেকেই পাল্টাপাল্টি সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে। আত্মরক্ষার যুক্তিতে সামরিক পদক্ষেপের সাফাই ইসমাইল বাঘেই দাবি করেন, মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অংশ। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে তেহরান। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ হরমুজ প্রণালী নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরান। বাঘেই বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপকূলবর্তী দেশগুলির। নিরাপত্তার অজুহাতে বিদেশি শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। সেই কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে মোতায়েন রয়েছে। তবে ইরানের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক উপস্থিতিই অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। ইসলামাবাদ বৈঠক বাতিল, বাড়ছে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক বাতিল হওয়ায় কূটনৈতিক সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব গোটা পশ্চিম এশিয়া, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর পড়তে পারে। ব্যাকগ্রাউন্ড দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। সুইৎজারল্যান্ডে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর সেই প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত শান্তি সমঝোতা কার্যকর করা হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে তেহরান। পাবলিক ইনফরমেশন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
Bangladesh Flood 2026: বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লক্ষের বেশি মানুষ
সকাল সকাল ডেস্ক টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা, উদ্ধার ও ত্রাণে সেনাবাহিনী-নৌবাহিনীর যুদ্ধকালীন তৎপরতা। টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বন্যা পরিস্থিতি। বাংলাদেশ ফ্লাড ২০২৬-এর জেরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বহু এলাকা এখনও জলমগ্ন, হাজার হাজার পরিবার জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ফ্লাড ২০২৬ দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার, একাধিক জেলা বন্যার কবলে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার বন্যার প্রভাবের মুখে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে। কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই জেলাতেই ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও এই জেলার অন্তর্গত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রবল বর্ষণের ফলে একাধিক ভূমিধসে এক ডজনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর প্রশাসন লাউডস্পিকার, স্বেচ্ছাসেবক এবং জরুরি সতর্কবার্তার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়। তবুও শিবিরগুলিতে এখনও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ইকবাল হুসেন জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা নৌকার সাহায্যে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ বিতরণ করছেন। বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় জলপথই এখন প্রধান ভরসা। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাড়ছে দুর্ভোগ বন্যার জেরে বহু রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্কও ব্যাহত হওয়ায় দুর্গত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জল নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট ক্রমশ বাড়ছে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, তাঁর বাড়িতে এখনও হাঁটুসমান জল রয়েছে। রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না এবং ঘরে থাকা শুকনো খাবারও প্রায় শেষ। বেশিরভাগ পরিবার বর্তমানে চিঁড়ে, মুড়ি, বিস্কুটসহ শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করছে। শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ মানুষের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধি এবং আরও এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী অবকাঠামো, আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া জরুরি। ব্যাকগ্রাউন্ড বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের ঘটনা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হবে। পাবলিক ইনফরমেশন প্রশাসন দুর্গত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার করা এবং জরুরি প্রয়োজনে সরকারি সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬: হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা, ভারতীয় নাবিক নিহত, পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সামরিক সংঘাত, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির; তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাবের আশঙ্কা। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬-এর নতুন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ঘিরে নৌ অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তৃতীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে তারা মার্কিন মিত্র দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই ওমান উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হওয়ায় নয়াদিল্লি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। ফলে হরমুজ ক্রাইসিস ২০২৬ এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধের ঘোষণা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নতুন দফার অভিযান চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের খবরও নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে এবং হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী নতুন অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করবে। ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি, ওমান উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক। এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইরানের পাল্টা দাবি ও সামরিক অবস্থান ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা জর্ডন, বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, তেহরানের দাবি, তারা মার্কিন আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনে সেগুলিকে অচল করে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) জানিয়েছে, ওমান উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলায় এক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে (ডেপুটি চিফ অব মিশন) তলব করেছে। সিএনএন, সিবিএস নিউজ ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তৃতীয় রাতেও মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম বন্দর আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। ইরান আরও জানিয়েছে, তাদের উপকূল সংলগ্ন নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার না করলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তেল বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে উদ্বেগ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ দিনে ইরান প্রায় আট কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। তবে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হলে আরও প্রায় তিন কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক হামলায় কোনারক, চাবাহার, কেশম, আবু মুসা, কিশ, ওমিদিয়েহ, বুশেহর এবং বন্দর আব্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বাহরিন দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরিন ডিফেন্স ফোর্সের অভিযোগ, ইরান বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যাকগ্রাউন্ড হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেই এই জলপথ বৈশ্বিক কূটনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান সেই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। ইমপ্যাক্ট অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের তেল রপ্তানি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বজায় রেখেছে। পাবলিক ইনফরমেশন ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Gold Price Today: 8 শহরে সোনা-রুপোর দামে স্বস্তি, সপ্তাহের শুরুতেই কমল Gold Rate
সকাল সকাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে সামান্য কমল সোনা ও রুপোর দাম। দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই-সহ একাধিক শহরে নতুন Gold Price প্রকাশ। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই Gold Price Today-এ মিলল কিছুটা স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে সোমবার দেশের সোনা ও রুপোর দামে সামান্য পতন হয়েছে। যদিও এই মূল্যহ্রাস বড় নয়, তবুও গয়না কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৩২০ টাকা থেকে ১,৪৫,০৮০ টাকা-এর মধ্যে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩২,২৯০ টাকা থেকে ১,৩২,৯৯০ টাকা-এর মধ্যে রয়েছে। এদিকে রুপোর দাম সামান্য কমে দিল্লির বাজারে প্রতি কিলোগ্রামে ২,৩৪,৯০০ টাকা হয়েছে। Gold Price Today: দিল্লি ও মুম্বইয়ে কত দাম? রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৪৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৪৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৪,৩২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,২৯০ টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই শহরের দামের এই সামান্য পার্থক্যের পিছনে স্থানীয় কর, পরিবহণ ব্যয় এবং বাজারভিত্তিক চাহিদার ভূমিকা রয়েছে। কলকাতা-সহ পূর্ব ভারতের বাজারে কী দাম? কলকাতার বাজারেও সোনার দামে সামান্য সংশোধন হয়েছে। ভুবনেশ্বরেও একই দাম কার্যকর রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবেই পূর্ব ভারতের বিভিন্ন শহরে এই মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। চেন্নাইয়ে এখনও সর্বোচ্চ Gold Rate দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে এখনও দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৩২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বাজার আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৩৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৩৪০ টাকা। একই দাম বজায় রয়েছে ভোপাল ও পাটনায়। জয়পুর এবং লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৪৪,৪৭০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৪৪০ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছে। কেন কমল সোনা ও রুপোর দাম? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের শক্তি, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সংক্রান্ত নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়েই প্রতিদিন সোনা ও রুপোর দামে পরিবর্তন আসে। বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩২০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮০ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২৯০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এদিকে, রুপোর দামেও সামান্য সংশোধন দেখা গেছে। দিল্লির বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনায় কতটা বিনিয়োগ করছেন, সেটিও দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে কিছু মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাওয়ায় দাম কিছুটা নেমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ক্রেতাদের জন্য কী বার্তা? গয়না ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমান মূল্যহ্রাস খুব বড় না হলেও বিয়ে, উৎসব বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকলে এটি তুলনামূলকভাবে অনুকূল সময় হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আগামী কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা জরুরি। কারণ এই বিষয়গুলিই আগামী দিনে Gold Price Today-এর গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। Background গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলারের ওঠানামা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সোনা ও রুপোর দামে নিয়মিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ে, আবার মুনাফা তোলার প্রবণতা বাড়লে দাম কিছুটা কমে। Impact বর্তমান মূল্যহ্রাস গয়না ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলালে সোনা ও রুপোর দাম আবারও বাড়তে বা কমতে পারে। Official Statement বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্বাভাবিক প্রভাব। এখনও বড় ধরনের মূল্যপতনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সোনা কেনার আগে ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেটের দামের পার্থক্য, হলমার্ক সার্টিফিকেশন, জিএসটি, মেকিং চার্জ এবং স্থানীয় বাজারদর অবশ্যই যাচাই করা উচিত। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের Gold Rate পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। Public Information
Hormuz Strait Crisis: 10 বড় দাবিতে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি তেহরানের
সকাল সকাল ডেস্ক হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সামরিক উত্তেজনা, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবের দাবি আইআরজিসির; বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ। Hormuz Strait Crisis ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের দাবি সামনে এসেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বাহরাইনে একটি মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে উভয় পক্ষের একাধিক দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বেশ কয়েকটি দাবির বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি। Hormuz Strait Crisis ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অভিযানে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামো, ড্রোন ঘাঁটি এবং ছোট আক্রমণাত্মক নৌযান। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, আত্মঘাতী ড্রোন এবং সমুদ্রপথে পরিচালিত ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এটিই অন্যতম বড় সমন্বিত সামরিক অভিযান। পাল্টা হামলার দাবি আইআরজিসির মার্কিন অভিযানের পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, বাহরাইনে অবস্থানরত একটি মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিতেও হামলার দাবি করেছে তেহরান। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইরানে হতাহতের খবর ইরানের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মার্কিন হামলায় খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় একটি কৃষি জল পাম্পিং কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই ঘটনায় এক নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও তুলেছে তেহরান। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার অভিযোগ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে কার্যত ব্যাহত করেছে। তেহরানের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন জল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আগের রাতের অভিযানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযানের ক্ষয়ক্ষতি বা সামরিক সাফল্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি। তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী? Hormuz Strait Crisis-এর গুরুত্ব শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত বড়। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। Background গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অভিযোগ তুলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। Impact বিশেষজ্ঞদের মতে, Hormuz Strait Crisis দীর্ঘায়িত হলে শুধু পশ্চিম এশিয়াই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। Official Statement মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করলেও ইরানের বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি এখনও স্বীকার করেনি। একইভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের একাধিক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। Public Information হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক করিডর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। তাই এই অঞ্চলের যেকোনও সামরিক সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হতে পারে।