বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ, কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: টানা তিন দিনের বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন মার্কিন শুল্কের পাল্টা হিসেবে সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনোর জন্য শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হওয়ায় নতুন শুল্ক কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তের জবাবে তাঁর দেশও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের প্রভাব থেকে দেশের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন সহায়তা ব্যবস্থার ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কার্নির বক্তব্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছনোর লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। তবে কানাডার স্বার্থ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সেই অগ্রগতি যথেষ্ট ছিল না। অন্যদিকে, আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য কানাডাকেই দায়ী করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। তাঁর অভিযোগ, সপ্তাহের শুরুতে যে সমস্ত শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, তার ভিত্তিতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে রাজি হয়নি অটোয়া। উল্টে নতুন দাবি তোলার পাশাপাশি আগে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি থেকেও কানাডা সরে এসেছে বলে অভিযোগ তাঁর। নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্পযন্ত্র এবং দুগ্ধজাত সামগ্রী। কানাডার মোট মার্কিন রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ এর ফলে প্রভাবিত হতে পারে। এর আগে ইস্পাত, কাঠ এবং মোটরগাড়ির উপর আরোপিত মার্কিন শুল্কও বহাল রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। কানাডার বিরুদ্ধে মার্কিন পণ্যের প্রতি ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল অটোয়াও। তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। শুক্রবারও ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনোর বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে শুরু হল শুল্কের লড়াই। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন বাজারের উপর নির্ভরশীল বহু কানাডীয় ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপর।
সরাফা বাজারে দামি হল সোনা, বড় লাফ রুপোর দামেও
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: মার্কিন বন্ড বাজারে পতনের প্রভাব পড়ল বিশ্বজুড়ে বুলিয়ন মার্কেটে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তার প্রভাব শুক্রবার দেশের সরাফা বাজারেও দেখা গিয়েছে। প্রাথমিক লেনদেনে দেশের অধিকাংশ বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৩,৯৭০ টাকা থেকে ৪,৩২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০,২০০ টাকা। দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বিভিন্ন সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৯,২৮০ টাকা থেকে ১,৫৯,৪৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ২২ ক্যারেট সোনার দাম রয়েছে প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪৬,০১০ টাকা থেকে ১,৪৬,১৬০ টাকার মধ্যে। দিল্লিতে রুপোর দাম বেড়ে প্রতি কিলোগ্রাম ২,৫৫,১০০ টাকায় পৌঁছেছে। দিল্লি-মুম্বইয়ে কত সোনার দাম দিল্লির সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৯,৪৩০ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৬,১৬০ টাকায়। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৯,২৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের দাম ১,৪৬,০১০ টাকা। আমদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৯,৩৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের দাম ১,৪৬,০৬০ টাকা। চেন্নাই ও কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫৯,২৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৬,০১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুর-লখনউয়েও চড়া দাম ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৯,৩৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের দাম ১,৪৬,০৬০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫৯,৪৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৬,১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৯,৩৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের দাম ১,৪৬,০৬০ টাকা। লখনউয়ে যথাক্রমে ১,৫৯,৪৩০ টাকা এবং ১,৪৬,১৬০ টাকা। বেঙ্গালুরু-হায়দরাবাদ-ভুবনেশ্বরেও ঊর্ধ্বমুখী সোনা কর্নাটক, তেলঙ্গানা এবং ওড়িশার বাজারেও সোনার দামে জোরালো বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৯,২৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৬,০১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার জেরেই দেশীয় বাজারে দাম এক ধাক্কায় এতটা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সোনা কেনার পরিকল্পনা করা সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে নতুন করে চাপ বাড়তে পারে।
‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে ভয়াবহ পরিণতি’, তেহরানকে কোণঠাসা করতে বিশ্বকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহের মধ্যেই ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা বা কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেনে যুক্ত দেশগুলিকেও ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের কথাও ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে সমঝোতায় পৌঁছনোর জন্য তাঁর মতো সুযোগ আর কেউ দেয়নি। কিন্তু তেহরান সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, কোনও দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান হতে চলেছে এটি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই চাপ শুধুমাত্র তেহরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর হুঁশিয়ারি, কোনও দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংস্থা, বিমানবন্দর বা সরকারি প্রতিষ্ঠান ইরানকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশকেও কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বিস্তারিত জানাননি তিনি। তেল থেকে অর্থ লেনদেন, নজরে একাধিক ক্ষেত্র ইরানের তেল বাণিজ্য, অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজের রেজিস্ট্রি এবং ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে ব্যবসা—সব ধরনের ব্যবস্থাই বন্ধ করার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশ বা সংস্থা এই পথে ইরানকে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, তিনি কাদের উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলি তা জানে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির আগে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চিন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো দেশ ছিল। ফলে ওয়াশিংটন যদি তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক ব্যবস্থা আরোপ করে, তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার মিত্র দেশগুলিকেও ইরানকে অর্থনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করার অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কড়া বার্তা অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ইরানের অর্থের জোগান বন্ধ করার লক্ষ্যেই গত কয়েক মাস ধরে নিষেধাজ্ঞাভিত্তিক ‘অপারেশন ইকনমিক ফিউরি’ চালাচ্ছে মার্কিন ট্রেজারি। ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন এবং তেল থেকে আয়ের পথ সংকুচিত করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। আলোচনা নিয়েও মার্কিন প্রশাসনে ভিন্ন বার্তা এদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে কোনও আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী চালু রয়েছে। অন্যদিকে, তার আগের দিন ট্রাম্পের জামাতা তথা বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার দাবি করেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে এবং আগের তুলনায় তা আরও সক্রিয় হয়েছে। ফলে একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা, অন্যদিকে আলোচনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভিন্ন বার্তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এখন নজর, ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অভিযানের বাস্তব প্রয়োগ কী ভাবে হয় এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন সত্যিই কোনও নতুন ব্যবস্থা নেয় কি না।
ধনকুবের থেকে যাবজ্জীবন জেল! এভারগ্রান্ড কর্তা শু জিয়াইনের নাটকীয় পতন
সকাল সকাল ডেস্ক বেজিং: একসময় চিনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন তিনি। সম্পত্তির পরিমাণ পৌঁছেছিল কয়েক লক্ষ কোটি টাকায়। আবাসন ব্যবসা থেকে ফুটবল ক্লাব—সাম্রাজ্যের বিস্তার ছিল বিশাল। সেই এভারগ্রান্ড প্রতিষ্ঠাতা শু জিয়াইন এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। চিনের আবাসন বাজারের অভূতপূর্ব উত্থানের অন্যতম মুখ থেকে কারাগারে পৌঁছনোর তাঁর এই যাত্রা কার্যত একটি যুগের পতনের প্রতীক। চিনের ধসে পড়া আবাসন সংস্থা এভারগ্রান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ৬৭ বছরের শু জিয়াইনকে একাধিক আর্থিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে শেনঝেন ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট। ক্যান্টনিজ ভাষায় হুই কা ইয়ান নামেও পরিচিত এই শিল্পপতির বিরুদ্ধে প্রতারণা, ঘুষ, তহবিল আত্মসাৎ-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিপুল জরিমানা, সম্পত্তি উদ্ধারের নির্দেশ আদালত শু-র উপর ৮.৮২ বিলিয়ন ইউয়ান, অর্থাৎ প্রায় ১.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২,৫৪৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি এভারগ্রান্ডের চিনের মূল ভূখণ্ডের অন্যতম প্রধান অপারেটিং সংস্থা হেংডা রিয়েল এস্টেটকে ৭ বিলিয়ন ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশের কোনও ফৌজদারি মামলায় কর্পোরেট ক্ষেত্রে আরোপিত সবচেয়ে বড় জরিমানাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ, তহবিল সংগ্রহে প্রতারণা, বেআইনি ঋণ প্রদান, ভুয়ো সিকিউরিটি ইস্যু, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন এবং কর্পোরেট ঘুষ-সহ একাধিক আর্থিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শু। অভিযুক্তদের বেআইনি উপার্জন ও সম্পত্তি উদ্ধারেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই অর্থ বা সম্পত্তি সম্পূর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব না হলে ঘাটতি পূরণে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। শুধু শু নন, তাঁর দুই ছেলে-সহ এভারগ্রান্ডের ৫৬ জন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সাজা ২২ মাস থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। অনেকের উপর জরিমানা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও রয়েছে। দরিদ্র পরিবার থেকে চিনের ধনকুবের ১৯৫৮ সালে চিনের হেনান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম শু জিয়াইনের। মাত্র এক বছর বয়সে মাকে হারান। নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, অভাব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। খাবার থেকে পোশাক—সব ক্ষেত্রেই প্রবল অর্থকষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। পড়াশোনা শেষে ধাতুবিদ্যায় শিক্ষা নিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্পাত কারখানায় চাকরি শুরু করেন। কিন্তু ১৯৯২ সালে শেনঝেনে চলে যাওয়ার পর তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এভারগ্রান্ড। চিনের দ্রুত সম্প্রসারিত আবাসন বাজারকে কাজে লাগিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য তৈরি করে এভারগ্রান্ড। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক আবাসন প্রকল্প শুরু হয়। ২০০৯ সালে হংকংয়ের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয় সংস্থাটি। আইপিও থেকে প্রায় ৭২৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে এভারগ্রান্ড। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শু-কে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪৫.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা। সেই সময় তিনি চিনের ধনীতম ব্যক্তিদের একজন হওয়ার পাশাপাশি এশিয়ার অন্যতম ধনকুবের হয়ে ওঠেন। যে ঋণেই উত্থান, সেই ঋণেই পতন এভারগ্রান্ডের দ্রুত সম্প্রসারণের নেপথ্যে ছিল বিপুল ঋণ। নতুন প্রকল্প, জমি কেনা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ধার নেওয়ার উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল সংস্থাটি। পরিস্থিতি বদলে যায় ২০২০ সালে। আবাসন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঋণ এবং ফাটকাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে বেজিং কঠোর আর্থিক বিধিনিষেধ চালু করে। এর অন্যতম ছিল ‘থ্রি রেড লাইনস’ নীতি। আবাসন সংস্থাগুলির ঋণের মাত্রা এবং আর্থিক অবস্থার উপর কঠোর সীমা আরোপ করা হয়। বিপুল ঋণের বোঝায় থাকা এভারগ্রান্ডের পক্ষে নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো দায় মেটানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে। নগদের সংকট বাড়তে থাকে। চাপ বাড়ে বিনিয়োগকারী, ঋণদাতা এবং বাড়ির ক্রেতাদের উপর। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ফিচ রেটিংস এভারগ্রান্ডকে ডিফল্টার ঘোষণা করে। সংস্থার বিভিন্ন দফতরের বাইরে বিক্ষোভও শুরু হয়। যদিও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কর্মীদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে শু দাবি করেছিলেন, এভারগ্রান্ড দ্রুত ‘অন্ধকার সময়’ কাটিয়ে উঠবে। বাস্তবে সেই প্রত্যাবর্তন আর হয়নি। ফুটবল মাঠেও তৈরি করেছিলেন সাম্রাজ্য আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতিও প্রবল আগ্রহ ছিল শু-র। ২০১০ সালে তিনি সমস্যায় থাকা গুয়াংঝো ফুটবল ক্লাব কিনে নেন। পরবর্তীতে সেটির নাম হয় গুয়াংঝো এভারগ্রান্ড। ক্লাবটির পিছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন শু। আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার ও কোচ আনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই চিনের ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী ক্লাবে পরিণত হয় গুয়াংঝো এভারগ্রান্ড এবং একাধিক বড় সাফল্য পায়। শু-র বিলাসবহুল জীবনযাপনও ছিল আলোচনার বিষয়। দামি গাড়ি, ইয়ট এবং বহুমূল্য পোশাকের প্রতি তাঁর আগ্রহ নিয়ে চিনা সংবাদমাধ্যমে বহু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড হার্মেসের বেল্ট পরার অভ্যাসের কারণে তাঁকে কখনও কখনও ‘বেল্ট শু’ বলেও উল্লেখ করা হত। কয়েক বছরেই উধাও বিপুল সম্পদ এভারগ্রান্ডের আর্থিক সংকট যত গভীর হয়েছে, ততই কমেছে শু-র ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ২০১৭ সালে যেখানে তাঁর সম্পত্তির মূল্য ৪২ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল, কয়েক বছরের মধ্যেই তার বড় অংশ হারিয়ে যায়। ২০২৩ সালে বিভিন্ন ধনী ব্যক্তির তালিকায় তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ১.৮ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে নেমে আসে। ২০২৩ সালে শু-কে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার খবর সামনে আসে। তারপর দীর্ঘ সময় তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ২০২৫ সালে এভারগ্রান্ডের শেয়ার বাজার থেকে বাদ পড়ার সময়ও জনসমক্ষে দেখা যায়নি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাকে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেনঝেনের আদালত জানিয়েছিল, একাধিক অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন শু। কয়েক মাসের মধ্যেই এল তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়। একসময় চিনের আবাসন ব্যবসার সাফল্যের অন্যতম প্রতীক ছিলেন শু জিয়াইন। আজ তাঁর ঠিকানা কারাগার। ফলে তাঁর উত্থান-পতনের কাহিনি শুধু এক ধনকুবেরের ভাগ্যবদলের গল্প নয়, একই সঙ্গে বিপুল ঋণের উপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া আবাসন সাম্রাজ্যের ঝুঁকিরও এক নজির হয়ে থাকল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও কয়েক ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে জেলে ইমরান, পাকিস্তানে নতুন বিতর্ক
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের কারাগারে পাঠানো হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৭৩ বছরের ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চোখের সমস্যা-সহ একাধিক শারীরিক জটিলতার কারণে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। পিটিআইয়ের দাবি, পরবর্তী শুনানি অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে রেখে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা থাকার পরেই তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসার পর প্রথমে স্বস্তি প্রকাশ করেছিল পিটিআই। দলের তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়, হাসপাতালে পৌঁছনো তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, এটি শুধুমাত্র একটি ধাপ। তাদের মূল লক্ষ্য দেশের ‘প্রকৃত স্বাধীনতা’ এবং একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান। ২০২২ সালে আস্থাভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর থেকেই একের পর এক মামলায় জড়িয়েছেন পিটিআই প্রধান। তাঁর দল ও সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই কারণেই তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার পর সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান ইমরান। মঙ্গলবার আদিয়ালা কারাগারে স্ত্রী বুশরা বিবি এবং বোন নুরিন নিয়াজির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। প্রায় ন’মাস পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বোনের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট এবং বুশরা বিবির সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট কথা বলেন ইমরান। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইমরান। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২২ সালে আস্থাভোটে ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৫ সালে আল-কাদির ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ইমরান এবং তাঁর স্ত্রীকে সাজা দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালে গোপন সরকারি নথি সংক্রান্ত মামলাতেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ কারাবাসের পরেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরানের প্রভাব কমেনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও যথেষ্ট। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও নানা বাধার মধ্যেও ইমরান-সমর্থিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইমরানকে ফের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, তাঁকে ফের কবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কতটা নিশ্চিত করা হবে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে।
বালোচ লিবারেশন আর্মির দাবি, আট দিনে পাকিস্তানের ২৬ সামরিক কর্মকর্তা ও জওয়ান নিহত
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ। বালোচিস্তানকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে সশস্ত্র অভিযান চালানো বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছে। বিএলএ-র মুখপাত্র জেয়ান্দ বালোচ সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, গত আট দিনে বালোচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাদের হামলায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ২৬ জন কর্মকর্তা ও জওয়ান নিহত হয়েছেন। ‘দ্য বালোচিস্তান পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সম্প্রতি সোরাব এবং পাঞ্জগুরে সাধারণ মানুষ ও বন্দিদের হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএলএ। জেয়ান্দ বালোচ ১৬ আগস্ট গভীর সন্ধ্যায় পাঠানো বিবৃতিতে দাবি করেন, বিদ্রোহীরা আট দিনে ২২টি পৃথক স্থানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তথাকথিত ‘ডেথ স্কোয়াড’-এর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ২৬ জন সামরিক কর্মকর্তা ও জওয়ান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ডেথ স্কোয়াড’-এর এক সদস্যকে জীবিত আটক করার দাবিও করেছে সংগঠনটি। জেয়ান্দ বালোচের দাবি অনুযায়ী, বিদ্রোহীরা একাধিক থানা ও নিরাপত্তা চৌকির পাশাপাশি কয়েকটি সেতু বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছে। নয়টি সরকারি যানবাহনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষে বিএলএ-র দুই কমান্ডারও নিহত হয়েছেন। ৯ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে এসব সংঘর্ষ হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিএলএ আরও দাবি করেছে, এই সময়ে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও থানা থেকে শতাধিক অস্ত্র তাদের হাতে এসেছে। ১২ আগস্ট দিনের বেলায় চাগাইয়ের চেথর থানায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই দিন রাতে কালাতের রুডিঞ্জো এলাকায় সামরিক যানবাহনে হামলা চালিয়ে ১৭ জন কর্মকর্তা ও জওয়ানকে হত্যা করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সোমবার সকালে মাস্তুং ও খুজদার এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কোয়েটায় আফগান সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন কমান্ডার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবাসিক এলাকাতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইন্দোনিয়েশিয়ায় ফের ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূকম্পন, বিপর্যয়ের আবহ ফ্লোরেস অঞ্চলে
সকাল সকাল ডেস্ক জাকার্তা : গত শনিবারে হওয়া ভয়াবহ ৭.৭ মাত্রার জোরালো ভূমিকম্পের আতঙ্কের আমেজ কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে পুনরায় কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চল। জার্মানির ‘জিএফজেড রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস’ -এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে সোমবারের এই কম্পনের ঔতীব্রতা ছিল ৫.৯। সোমবারে পুনরায় হওয়া এই কম্পনে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর না পাওয়া গেলেও শনিবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে ৭.৭ মাত্রার এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। ওই কম্পনের পর দ্রুত সুনামি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছিল। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫৩-তে। ফ্লোরেস প্রদেশের মানগাড়াই, ইস্ট মানগাড়াই এবং নাগাকে ও অঞ্চল তিনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার প্রধান আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, ভূকম্পের ধাক্কায় দেশজুড়ে প্রায় ৯০০টি ঘরবাড়ি একবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ইস্ট নুসা টেঙ্গারা অঞ্চলে আরও ৪৫০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমগ্র অঞ্চলে প্রায় ৫,০০০-এরও বেশি মানুষ আপাতত গৃহহীন অবস্থায় ত্রাণ শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবারের মূল কম্পনের পর থেকে এ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে অন্তত ৯৯৫টি আফটার শক (পরবর্তী মৃদু কম্পন) নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৬টি কম্পন স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পেরেছেন। ভূমিকম্পের ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সড়ক পরিবহণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ট্রান্স-ফ্লোরেস হাইওয়ে’ জায়গায় জায়গায় ধসে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফ্রিকার নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগ করছে ইউক্রেন
সকাল সকাল ডেস্ক বেনগাজি (লিবিয়া)। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্রের দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউক্রেন। প্রশিক্ষণের পর তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে। এর আগে লিবিয়ার সংবাদমাধ্যমে সুদানের এক সমাজকর্মীর বক্তব্য প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি দেওয়ার কথা বলে সুদান এবং আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নাগরিকদের লিবিয়ায় নিয়োগ করা হচ্ছে। এরপর তাঁদের জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ইউক্রেন ও মালিতে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হচ্ছে। সূত্রটি জানিয়েছে, “সুদানি সাংবাদিকের দেওয়া এই তথ্য কোনও গোপন বিষয় নয়। বাস্তবে তাজুরা এবং রাজধানী ত্রিপোলির বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ‘এট-টিকবালি’তেও একই ধরনের একটি কেন্দ্র রয়েছে। এসব জায়গায় ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। তাঁরা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কৌশল তৈরিতে অংশ নিয়েছেন এবং হামলাকারী ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন।” সূত্রের দাবি, প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের আফ্রিকায় রাশিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হতে পারে। বর্তমানে লিবিয়ায় দুটি সরকার রয়েছে, যারা একে অপরকে স্বীকৃতি দেয় না। প্রথম সরকারটি ত্রিপোলিতে রয়েছে এবং সেটি রাষ্ট্রসংঘের সমর্থনপ্রাপ্ত। এই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন আবদুল হামিদ দবেইবাহ। অন্যদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলে ওসামা হাম্মাদের নেতৃত্বাধীন সংসদ-সমর্থিত সরকার কাজ করছে। এই সরকারকে খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি সমর্থন করে। ২০১১ সালের মার্চ মাসের ঘটনাবলির পর লিবিয়ায় এই দ্বৈত ক্ষমতা কাঠামোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সমর্থন করে লিবিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। বর্তমানে উভয় পক্ষই সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের করাচিতে স্বাধীনতা দিবসের রাতে তাণ্ডব: গুলিবর্ষণে নিহত মহিলা, আহত অন্তত ৯৪
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। করাচিতে মধ্যরাতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের নামে চালানো হয় বেপরোয়া গুলি। শূন্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের পৃথক একাধিক ঘটনায় এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৯৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রখ্যাত সমাজসেবী সংস্থা ‘এধি ফাউন্ডেশন’-এর মুখপাত্র এই হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সকালে তিনি জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন নারী ও ১৭টি শিশু রয়েছে। গুলিবিদ্ধদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার, সিভিল হাসপাতাল এবং আব্বাসি শহিদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একাধিক সংবাদ মাধ্যম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে— আব্বাসি শহিদ হাসপাতালে ১ জন মহিলা, ৪ জন শিশু সহ মোট ২৪ জন ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলার নিজস্ব খুড়তুতো ভাইই এই ঘটনায় অভিযুক্ত, যাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, জিন্নাহ হাসপাতালে ৩৫ জন এবং সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, করাচির লিয়ারি, সদর, কোরঙ্গি, মালির, আজিজাবাদ, নর্থ নাজিমাবাদ, নাজিমাবাদ, গুলবাহার, গুলশান-এ-ইকবাল, ওরঙ্গি টাউন, জমশেদ কোয়ার্টার্স ও ডিফেন্স কলোনি এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ন্ত্রিত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযানে নেমে করাচির বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ অন্তত ৩০ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই ১৪ আগস্টের রাতে করাচিতে শূন্যে গুলি চালানোর কারণে বহু নির্দোষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালেও অনুরূপ ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৭৫ জন আহত হন। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের রাতেও এই অনিয়ন্ত্রিত উদযাপনের বলি হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল প্রায় ৯৫ জনকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে জলবণ্টন ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের জন্য জলের প্রতিটি ফোটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জল ইস্যুতে কোনো কারচুপি করা হলে তার যোগ্য ও কড়া জবাব দেওয়া হবে।”
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ছেন ক্যারোলাইন লেভিট
সকাল সকাল ডেস্ক হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ছেন ক্যারোলাইন লেভিট। পরিবার ও দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কারোলিন লেভিটকে নিজের ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের’ একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ার পরও লেভিট তাঁর অন্যতম প্রধান পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও তিনি প্রভাবশালী ভূমিকা রাখবেন। ২৮ বছর বয়সী লেভিট গত বছর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নেন। তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই পদে দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি। গত মে মাসে কন্যাসন্তানের মা হন ক্যারোলাইন লেভিট। স্বামী নিকোলাস রিসিওর সংসারে এটি লেভিটের দ্বিতীয় সন্তান। তাঁদের দুই বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। কন্যাসন্তান জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন লেভিট। গত মাসে তিনি আবার কাজে যোগ দেন। ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন লেভিট। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করা তাঁর জীবনের সবচেয়ে সম্মানের ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তবে একই সঙ্গে মা হওয়া এবং বিশ্বের অন্যতম কঠিন সরকারি দায়িত্ব সামলানো তাঁর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। লেভিট বলেন, কন্যাসন্তান জন্মের পর হোয়াইট হাউসে কাজে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন, প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে যে পরিমাণ সময়, শক্তি ও মনোযোগ দিতে হয়, এর পর তিনি তাঁর দুই সন্তানকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না। এ কারণেই শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লেভিট। তিনি এটিকে জীবনের একটি কঠিন তবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল লেভিটের। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেভিট। রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হলেও সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে হেরে যান। লেভিটের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। তাঁর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম।