নিয়ম না মানায় মুথুট ফাইন্যান্স-সহ ছয় সংস্থাকে জরিমানা করল আরবিআই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মুথুট ফাইন্যান্স-সহ ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর জরিমানা করেছে। সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিয়ম না মানা এবং তদারকির ক্ষেত্রে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে ২.৭০ লক্ষ টাকা থেকে ৬.২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। আরবিআইয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুথুট ফাইন্যান্সের উপর ৫.৮০ লক্ষ টাকা, অবেল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের উপর ৬.২০ লক্ষ টাকা, সত্য মাইক্রোক্যাপিটাল লিমিটেড ও প্যান এমামি কসমেডের উপর ৩.১০ লক্ষ টাকা করে এবং ধনী লোনস অ্যান্ড সার্ভিসেস ও মুথুট ভেহিকল অ্যান্ড অ্যাসেট ফিনান্সের উপর ২.৭০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, মুথুট ফাইন্যান্স গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাস নিয়মিত পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা এবং তার যথাযথ রিপোর্টিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি নিয়ম মেনে চলেনি। আরবিআই আরও জানিয়েছে, অবেল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, প্যান এমামি কসমেড, সত্য মাইক্রোক্যাপিটাল এবং অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধেও পৃথক পৃথক নিয়ন্ত্রক ত্রুটির প্রমাণ মিলেছে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির উপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তবে আরবিআই স্পষ্ট করেছে, এই জরিমানা শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির গ্রাহকদের সঙ্গে হওয়া কোনও লেনদেন বা পরিষেবার বৈধতার কোনও সম্পর্ক নেই।
এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা ৫,২৫৩ কোটি টাকা, এনপিএ-ও কমল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি রাষ্ট্রায়ত্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) চলতি অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই সময়ে ব্যাঙ্কের একক ভিত্তিতে নিট মুনাফা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে ৫,২৫৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ১,৬৭৫ কোটি টাকা। শেয়ার বাজারে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন, ২০২৬-এ শেষ হওয়া প্রথম ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের মোট আয় প্রায় স্থিতিশীল থেকে ৩৭,২৩১ কোটি টাকা হয়েছে। তবে সুদ থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৩২,৮৯৭ কোটি টাকা, যা গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে ছিল ৩১,৯৬৪ কোটি টাকা। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের পরিচালন মুনাফা বেড়ে ৭,৫১৯ কোটি টাকা হয়েছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭,০৮১ কোটি টাকা। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই সময়ে সম্পদের গুণগত মানেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। স্থূল অনুৎপাদক সম্পদ (গ্রস এনপিএ) মোট ঋণের ২.৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩.৭৮ শতাংশ। একইভাবে নেট এনপিএ কমে ০.২৬ শতাংশ হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ০.৩৮ শতাংশ। মোট অঙ্কের হিসাবে গ্রস এনপিএ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫,৩৮১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ছিল ৪২,৬৭৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে নেট এনপিএ কমে হয়েছে ৩,৪৩৩ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৪,১৩২ কোটি টাকা। পিএনবির এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট, ব্যাঙ্কের লাভজনকতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের গুণগত মানেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমেরিকা-ইরান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র, হরমোজগানে তিন নাগরিক নিহত, মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে হামলা, পাল্টা হামলা এবং একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের দাবি, শনিবার ভোরে হরমোজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে পাতা মাইনে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়েছে। আল জাজিরা, সিএনএন, গালফ নিউজ এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। এদিকে বন্দর আব্বাসে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও রেল স্টেশন লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাতার জানিয়েছে, দোহার কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহযোগিতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দুবাই প্রশাসনও শহরের ডাউনটাউন এলাকায় বিস্ফোরণের দাবিকে গুজব বলে জানিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে টানা সপ্তম রাত ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন বিমান হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইয়াজ্দ, লার, আহভাজ, সিরিক, বুশেহর, বন্দর আব্বাস, দারাব এবং কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হরমোজগান প্রদেশের প্রশাসনের দাবি, দুটি সেতু ও একটি সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। প্রদেশের উপ-রাজ্যপাল জানিয়েছেন, একাধিক স্থানে হামলায় তিনজনের মৃত্যু এবং আটজন আহত হয়েছেন। আইআরজিসির দাবি, বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার কথাও নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা আমেরিকা-সমর্থিত চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যৌথ অভিযানে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সমুদ্রে পাতা মাইনের কারণে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, গোলাবারুদ ডিপো এবং সংযোগকারী সেতু, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি ও আল আজরাক বিমানঘাঁটি এবং সামরিক জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেইয়ের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ১৪ দফা সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পরও যদি আমেরিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, তবে তেহরান কেবল পাল্টা হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উত্থান শেয়ার বাজারে, বাড়ল টাকার দাম
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: শুক্রবার স্বস্তির নিশ্বাস ভারতীয় শেয়ার বাজারে। পড়তি বাজারে কম দামে ভালো শেয়ার কেনার হিড়িকে সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে এক ধাক্কায় অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী হলো সূচক। এ দিনের বাজার বন্ধ হওয়ার সময় বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ৯৬৪.৫৮ পয়েন্ট বেড়ে পৌঁছেছে ৭৮,১৫১.৪৫ অঙ্কে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ২৬১.৫৫ পয়েন্ট উঠে ২৪,৩৩৪.৩০ অঙ্কে থিতু হয়েছে। শেয়ার বাজারের পাশাপাশি এ দিন স্বস্তি ফিরেছে মুদ্রার বাজারেও। মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে টানা তিন দিন পতনের পর অবশেষে শুক্রবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় টাকা। এ দিন ডলারের দাম ১৪ পয়সা কমে হয়েছে ৯৬.২৮ টাকা।
এক লক্ষেরও বেশি উপভোক্তাকে ৩,২১৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করলেন নির্মলা সীতারামন
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি/অমরাবতী: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের পালনাড়ু জেলার নরসারাওপেটে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলির ঋণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আওতায় এক লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার হাতে মোট ৩,২১৬ কোটি টাকার ঋণ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুও। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকারি খাতের ব্যাংকগুলির উদ্যোগে আয়োজিত এই বৃহৎ ঋণ সংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণি, কৃষক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপভোক্তাদের ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কৃষি এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নির্মলা সীতারামন এবং মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ইউনিয়ন ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) প্রকল্পের আওতায় দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের মধ্যে সাইকেলও বিতরণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানান, অনুমোদিত ঋণের মধ্যে কৃষি খাতের জন্য ২,৩৬৩ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতের জন্য ৩২৫ কোটি টাকা এবং আবাসন, শিক্ষা, যানবাহন ও সৌরশক্তি প্রকল্পের জন্য ৬২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে নির্মলা সীতারামন ও চন্দ্রবাবু নাইডু ইউনিয়ন ব্যাংকের সিএসআর উদ্যোগে প্রদান করা অ্যাম্বুল্যান্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ছাত্রীদের হাতে সাইকেল তুলে দেন। এই উদ্যোগকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি যুক্তরাষ্ট্রের, পড়াশোনা শেষে দেশ ছাড়তে সময় মাত্র ৩০ দিন
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন নীতিতে ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বিধি কার্যকর হবে। প্রশাসনের দাবি, ভিসার অপব্যবহার রোধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়মিত পর্যালোচনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নতুন নীতির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়ায়ও ফেডারেল সরকারের নজরদারি বাড়বে। বর্তমানে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় পড়াশোনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিদেশি শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে নতুন কোর্সে ভর্তি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দীর্ঘায়িত করেছেন। এতে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।” যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত চার বছর সময় লাগে। তবে স্নাতকোত্তর, গবেষণা এবং পিএইচডি-সহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কোর্স শেষ করতে অনেক ক্ষেত্রেই তার চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক বিষয়গুলিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যক্তিগত কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নির্ধারিত সময়ের বাইরে গড়ায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে অথবা অন্য কোনও বৈধ ভিসা শ্রেণিতে পরিবর্তনের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হতো। নীতির বিরোধিতা করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা)। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর একটি ব্যবস্থার উপর অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করবে এই নীতি। বাস্তবে যে সমস্যা প্রায় নেই, সেটির সমাধানের নাম করে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ এই পদক্ষেপ। এর আগে প্রশাসন কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে মার্কিন হামলা, নিহত ৪; পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে ফের দ্রুত অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতি। এক মাস আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ ইরানের হরমুজ প্রণালীর সংলগ্ন এলাকায় দুটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশে একটি সেতুর উপর হামলায় তিনজন নিহত এবং নয়জন আহত হন। পৃথকভাবে বন্দর আব্বাসে চালানো আরেকটি হামলায় একজনের মৃত্যু ও আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সামরিক রসদ পরিবহণ ব্যবস্থায় আঘাত হানা। যদিও ইরানের দাবি, হামলায় গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পরিবহণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পশ্চিম ইরানের বুশেহর শহরেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। শহরটিতেই ইরানের একমাত্র অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে ওই কেন্দ্রের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। হামলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, আহভাজ শহরের কাছে একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আহভাজের এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরপর একাধিক বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। তাঁর দাবি, কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্তত ১১ থেকে ১২টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার অভিঘাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের পাল্টা হামলার পর সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন মিত্র দেশগুলিও। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। বাহরিনেও বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সেনাকে গোটা অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। গত জুন মাসে হওয়া সমঝোতার পর অল্প সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হলেও সম্প্রতি তেহরান ঘোষণা করেছে, মার্কিন সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলির উপর নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ওমান উপসাগরে একটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প পথে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব। তবে ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও সমঝোতার মূল্য তখনই থাকবে, যখন তার শর্ত বাস্তবে কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে তার কঠোর মূল্য দিতে হবে ইরানকে। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু-সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর হামলা বাড়ানো হতে পারে। ইরানের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া নতুন মার্কিন হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
‘২২ কোটি ভোটারের তথ্য চুরি করেছে চিন’, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের; অভিযোগ উড়িয়ে দিল বেজিং
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ওই নির্বাচনের সময় চিন প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পরিকাঠামোতে এমন গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ভোটে কারচুপির সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গোপন গোয়েন্দা নথি প্রকাশ (ডিক্লাসিফাই) করার ঘোষণাও করেছেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে খারিজ করে দিয়েছে বেজিং। হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রচারিত প্রায় ২৪ মিনিটের এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় চিনের সরকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী তথ্য চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং বিষয়টি আড়াল করতে মার্কিন প্রশাসনের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর কিছু সদস্যও ভূমিকা পালন করেন। ট্রাম্পের কথায়, “এই তথ্য চুরি আমেরিকার নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার একটি নিরাপদ ও নির্ভুল ভোটব্যবস্থা পাওয়া, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপির কোনও সুযোগ থাকবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় এমন একাধিক নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা রয়েছে, যা এতদিন সাধারণ মানুষের অজানা ছিল। সেই কারণেই নির্বাচনী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এই নথি প্রকাশিত হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার সম্ভাব্য দুর্বলতা সম্পর্কে জনগণ বিস্তারিত জানতে পারবেন। তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছেন। যদিও ওই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া ৬০টিরও বেশি মামলায় কোনও আদালত নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি। পুনর্গণনা, নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছিল। ভাষণের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’ (সেভ অ্যাক্ট) দ্রুত পাস করার আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। তবে ভোটাধিকার রক্ষাকারী একাধিক সংগঠনের আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে বহু বৈধ মার্কিন নাগরিকও ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। যদিও মার্কিন আইনে অ-নাগরিকদের ভোটদান আগেই নিষিদ্ধ এবং এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল। শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থাই নয়, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এবিসি ও এনবিসি-সহ কয়েকটি সম্প্রচারমাধ্যম তাঁর নির্বাচনী জালিয়াতি সংক্রান্ত বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করেনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার সংস্থাগুলির লাইসেন্স বাতিলের দাবিও জানান তিনি। তাঁর মতে, কিছু সংবাদমাধ্যম নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে চিন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং এক বিবৃতিতে বলেন, “চিন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয় এবং তার ফল নির্ধারণ করেন মার্কিন ভোটাররাই। চিন কখনও মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।” ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই অভিযোগকে ঘিরে ফের মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে তাঁর দাবির সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা বা সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়ে গেছে। প্রয়োজনে এটিকে ৬০০ শব্দ, ৮০০ শব্দ বা প্রথম পাতার প্রিন্ট সংস্করণের আরও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও রূপান্তর করা যেতে পারে।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ জঙ্গি
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বান্নু জেলায় গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পাকিস্তান পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই জঙ্গিরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়। তবে কয়েকজন জঙ্গি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পলাতক জঙ্গিদের খোঁজে অভিযান এখনও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি কালাশনিকভ রাইফেল, দশটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি ব্যান্ডোলিয়ার, দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, শুধু জঙ্গিরাই নয়, তাদের সহযোগী ও আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের হুঁশিয়ারি, হামলা হলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান: ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা হলে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) এই সতর্কবার্তা দেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেকারচি। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতির কোনও বৈধতা নেই। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে অস্থিরতার মূল কারণ মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও নৌ অবরোধ। তিনি আরও বলেন, “ইরানের ক্ষতি করা হলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক পরিকাঠামো আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেব এবং প্রয়োজনে বহু বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।” শেকারচি প্রতিবেশী দেশগুলিকেও ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর এই মন্তব্যের আগে একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। এই সংস্থা ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র মধ্যে সামরিক অভিযান সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সর্ববৃহৎ অপারেশনাল কমান্ড। খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই কড়া বার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলিকে ঘিরে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে এবং দক্ষিণ ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা বৃদ্ধি করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা না হলে মার্কিন হামলা আরও বিস্তৃত হবে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহ ইরানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাবে।”