সকাল সকাল ডেস্ক
বেনগাজি (লিবিয়া)। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্রের দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউক্রেন। প্রশিক্ষণের পর তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে।
এর আগে লিবিয়ার সংবাদমাধ্যমে সুদানের এক সমাজকর্মীর বক্তব্য প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি দেওয়ার কথা বলে সুদান এবং আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নাগরিকদের লিবিয়ায় নিয়োগ করা হচ্ছে। এরপর তাঁদের জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ইউক্রেন ও মালিতে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, “সুদানি সাংবাদিকের দেওয়া এই তথ্য কোনও গোপন বিষয় নয়। বাস্তবে তাজুরা এবং রাজধানী ত্রিপোলির বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ‘এট-টিকবালি’তেও একই ধরনের একটি কেন্দ্র রয়েছে। এসব জায়গায় ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। তাঁরা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কৌশল তৈরিতে অংশ নিয়েছেন এবং হামলাকারী ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন।”
সূত্রের দাবি, প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের আফ্রিকায় রাশিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হতে পারে।
বর্তমানে লিবিয়ায় দুটি সরকার রয়েছে, যারা একে অপরকে স্বীকৃতি দেয় না। প্রথম সরকারটি ত্রিপোলিতে রয়েছে এবং সেটি রাষ্ট্রসংঘের সমর্থনপ্রাপ্ত। এই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন আবদুল হামিদ দবেইবাহ। অন্যদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলে ওসামা হাম্মাদের নেতৃত্বাধীন সংসদ-সমর্থিত সরকার কাজ করছে। এই সরকারকে খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি সমর্থন করে।
২০১১ সালের মার্চ মাসের ঘটনাবলির পর লিবিয়ায় এই দ্বৈত ক্ষমতা কাঠামোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সমর্থন করে লিবিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। বর্তমানে উভয় পক্ষই সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
No Comment! Be the first one.