সকাল সকাল ডেস্ক
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। করাচিতে মধ্যরাতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের নামে চালানো হয় বেপরোয়া গুলি। শূন্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের পৃথক একাধিক ঘটনায় এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৯৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রখ্যাত সমাজসেবী সংস্থা ‘এধি ফাউন্ডেশন’-এর মুখপাত্র এই হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সকালে তিনি জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন নারী ও ১৭টি শিশু রয়েছে। গুলিবিদ্ধদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার, সিভিল হাসপাতাল এবং আব্বাসি শহিদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একাধিক সংবাদ মাধ্যম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে— আব্বাসি শহিদ হাসপাতালে ১ জন মহিলা, ৪ জন শিশু সহ মোট ২৪ জন ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলার নিজস্ব খুড়তুতো ভাইই এই ঘটনায় অভিযুক্ত, যাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, জিন্নাহ হাসপাতালে ৩৫ জন এবং সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, করাচির লিয়ারি, সদর, কোরঙ্গি, মালির, আজিজাবাদ, নর্থ নাজিমাবাদ, নাজিমাবাদ, গুলবাহার, গুলশান-এ-ইকবাল, ওরঙ্গি টাউন, জমশেদ কোয়ার্টার্স ও ডিফেন্স কলোনি এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ন্ত্রিত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযানে নেমে করাচির বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ অন্তত ৩০ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই ১৪ আগস্টের রাতে করাচিতে শূন্যে গুলি চালানোর কারণে বহু নির্দোষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালেও অনুরূপ ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৭৫ জন আহত হন। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের রাতেও এই অনিয়ন্ত্রিত উদযাপনের বলি হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল প্রায় ৯৫ জনকে।
অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে জলবণ্টন ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের জন্য জলের প্রতিটি ফোটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জল ইস্যুতে কোনো কারচুপি করা হলে তার যোগ্য ও কড়া জবাব দেওয়া হবে।”
No Comment! Be the first one.