সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির গতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে, এখনও পর্যন্ত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট জানান, শুধু আপিল দায়েরের সংখ্যা জানালেই হবে না, সেগুলির মধ্যে কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কী গতিতে কাজ চলছে, সেটিও আদালত জানতে চায়। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে কেউ সরকারি সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, সেই বিষয়টি বর্তমান মামলার আওতায় বিবেচনা করা হবে না। এ ধরনের অভিযোগ থাকলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মামলাকারী অধীররঞ্জন চৌধুরীর আইনজীবী দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া অনেকেই পিডিএস সুবিধা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আদালত অবশ্য জানায়, বর্তমান মামলার মূল বিচার্য বিষয় ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া আপিলের নিষ্পত্তির সংখ্যা ও গতি। কার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে বা বাদ গিয়েছে, তা এই মামলার মূল বিষয় নয়।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু আবেদন করেন, মামলাটি ২৫ অগস্টের অনুরূপ মামলাগুলির সঙ্গে একত্রে শুনানি করা হোক। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
অধীররঞ্জনের অভিযোগ, কমিশনের খামখেয়ালিপনার কারণে বাংলায় প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বর্তমান গতিতে সমস্ত আপিল নিষ্পত্তিতে চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও তাঁর দাবি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে ব্লক–ভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার নজর নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান এবং ২৫ অগস্টের পরবর্তী শুনানির দিকে।
No Comment! Be the first one.