সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশে তৈরি নতুন প্রজন্মের মানবসদৃশ রোবট ও উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে চীনে নির্মিত অত্যাধুনিক রোবট সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিদেশি পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) জানিয়েছে, মানবসদৃশ রোবট, চার পায়ের স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং নির্দিষ্ট ধরনের পাওয়ার ইনভার্টারকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই কারণেই এগুলিকে সংস্থার ‘কভার্ড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা-ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য ও পরিষেবার তালিকা রাখা হয়।
এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, বিদেশে তৈরি উন্নত পাওয়ার ইনভার্টার ও রোবোটিক যন্ত্রের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ, তথ্য চুরি, নজরদারি কিংবা সাইবার হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালানো হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি রাষ্ট্র বা তাদের মদতপুষ্ট গোষ্ঠী এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারে বলেই ওয়াশিংটনের দাবি।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র নতুন মডেলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। যেসব পণ্য ইতিমধ্যেই এফসিসির অনুমোদন পেয়েছে বা বাজারে রয়েছে, সেগুলির আমদানি ও বিক্রির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রভাব পড়বে না।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, বাণিজ্যিক বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে ভিত্তিহীন অজুহাতে চীনা প্রযুক্তিপণ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। চীনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের স্বার্থবিরোধী যে কোনও পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
চীনা দূতাবাস আরও জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে বিশ্বকল্যাণে ব্যবহার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’ পরিহার করে চীনা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই ক্রমশ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইতিমধ্যেই চীনের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে, মানবসদৃশ রোবট তৈরির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত অগ্রগতি করেছে চীনা সংস্থাগুলি। শিল্পক্ষেত্র থেকে গৃহস্থালি—বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের উপযোগী রোবট ইতিমধ্যেই বাজারে এনেছে তারা। অনেক ক্ষেত্রেই টেসলা ও বোস্টন ডাইনামিকসের মতো মার্কিন সংস্থার আগেই চীনা নির্মাতারা বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি বাজারজাত করতে সক্ষম হয়েছে।
No Comment! Be the first one.