সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১৩ দিনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রয়োজনে যে কোনও সময় ফের হামলা শুরু করা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “বিশ্বের অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত আছে।”
গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক পথ এখনও খোলা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে চান বলেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত একটি বড় সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হয়। প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও তাঁরা এটাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং প্রয়োজনে যে কোনও সময় নতুন করে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ-এর চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কিছুটা কমেছে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের মূল্যায়ন ভিন্ন। তাঁর মতে, গোলাবারুদের বর্তমান পরিস্থিতি বড় কোনও সামরিক সমস্যা তৈরি করবে না। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা হলে দেশটির পাল্টা বিমান হামলার সক্ষমতাই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যদিও জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। একদিকে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যেতে পারে। অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগও রয়েছে। তাঁর দাবি, “ইরান এখন চুক্তি করতে আগ্রহী।”
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অস্থির। কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে অঞ্চলটিতে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
No Comment! Be the first one.