হরমুজের লারাক দ্বীপে ওয়াশিংটনের বোমাবর্ষণ, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক আম্মান/তেহরান/ওয়াশিংটন,। হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণের জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রায় এক মাস পর ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় আমেরিকা। এর পরই পাল্টা জবাব দেয় ইরানের সেনাবাহিনী। হামলায় রকেট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আল জাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার লারাক দ্বীপে হামলা চালায় আমেরিকা। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানের কিং হুসেন এবং আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষের পর এই প্রথম দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত এতটা তীব্র আকার নিল। আইআরজিসির দাবি, এই হামলায় প্রযুক্তিগত ও মেরামত সংক্রান্ত পরিকাঠামোর পাশাপাশি শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলিও ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসি হামলার কথা ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই জর্ডন জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। জর্ডনের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, লারাক দ্বীপে এমন কয়েকটি লঞ্চারকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলি হরমুজ প্রণালীর দিকে সামুদ্রিক মাইন থাকা এলাকায় রকেট ছোড়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। আমেরিকার দাবি, তেহরানের অবরোধ সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক নিরাপত্তার অধীনে এই জলপথ দিয়ে কয়েক লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, জলপথটি বন্ধ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে এই জলপথের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ সম্পূর্ণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, এখন কোনও জাহাজ বা নৌযান নতুন করে সামুদ্রিক মাইন বসানোর চেষ্টা করলে সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে। এক মার্কিন আধিকারিকের বক্তব্য, মার্কিন সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে ফের স্বাভাবিক সামুদ্রিক যাতায়াত চালু করার জন্য একটি প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। কাতার-সহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা এই আলোচনাকে সমর্থন করেছে। ইরানের আধিকারিকরা বারবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। রবিবারের এই হামলা ২৯ জুলাইয়ের পর ইরানের ভূখণ্ডে প্রথম মার্কিন হামলা। এদিকে, রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় পর আমেরিকা ইরানে প্রথম হামলা চালিয়েছে—এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ক্রুডের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫.৬৪ ডলারে পৌঁছেছে।
হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে উদ্ধারকাজ জারি, মৃত্যু বেড়ে ৯০৩
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু,: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে এখনও জোরকদমে চলছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ। একইসঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সোমবার পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বতে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০৩। এখনও আড়াই হাজারের বেশি মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে অনেক ভারতীয় রয়েছেন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০৩। এছাড়াও আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাণের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে নেপালে। হড়পা বানে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাসুয়া জেলায়। এছাড়াও নেপালের আরও কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, নেপালের নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মীর এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। হড়পা বানের সময় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের মধ্যে ওই কর্মীরা কাজ করছিলেন। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনও নিখোঁজ ৩ হাজার ৪৮ জন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ১৪৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা গিয়েছে।
পাকিস্তানের বালুচিস্তানে সেনার সাঁজোয়া বহরে হামলা, ১৩ জওয়ান নিহতের দাবি বিএলএ-র
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বালুচিস্তানে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ির বহরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৩ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। হামলার দায় স্বীকার করে সংগঠনটির সরকারি চ্যানেল ‘হাকাল’ এক মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। হাকাল মিডিয়ার সূত্র উল্লেখ করে ‘দ্য বালুচিস্তান পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির সদস্যরা মাস্তুংয়ের খড়কোচা এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আইইডি বিস্ফোরণে একটি সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও একটি সাঁজোয়া গাড়ি এবং কনভয়ের সঙ্গে থাকা অন্যান্য গাড়ির উপরও অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। বিএলএ-র দাবি, হামলায় ১৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সংগঠনটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অভিযানে তাদের স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশন স্কোয়াডও অংশ নেয়। এই ইউনিটটি ‘ফতেহ স্কোয়াড’ নামেও পরিচিত। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কনভয় আসার আগে একটি সেতুর নিচে বিস্ফোরক স্থাপন করা হচ্ছে। সাঁজোয়া গাড়ির কনভয় সেখানে পৌঁছনোর পর একটি গাড়ি শক্তিশালী বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। হামলার পর ড্রোন থেকে ধারণ করা কিছু দৃশ্যও ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে। বিএলএ পাকিস্তানে সক্রিয় একটি সশস্ত্র বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। চলতি বছরের ১১ মার্চ বোলান জেলায় জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলা চালিয়ে ১৮০ জনের বেশি মানুষকে পণবন্দি করার ঘটনার দায়ও সংগঠনটি নিয়েছিল। ওই অভিযানে বিএলএ-র ফিদায়িন ইউনিট ‘মজিদ ব্রিগেড’-এর পাশাপাশি স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশন স্কোয়াড অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। বালুচিস্তানকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সালে বিএলএ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর এবং চিনের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পকে অতীতে একাধিকবার নিশানা করেছে সংগঠনটি। বিএলএ-র বিভিন্ন অভিযান মূলত মজিদ ব্রিগেড, ফতেহ স্কোয়াড এবং অন্যান্য সশস্ত্র ইউনিটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব ইউনিট মূলত গেরিলা কৌশলে হামলা চালানোর জন্য পরিচিত। মজিদ ব্রিগেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। এটি বিএলএ-র বিশেষ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এবং আত্মঘাতী হামলায় এই ইউনিটকে ব্যবহার করা হয়। ব্রিগেডটির নাম রাখা হয়েছে আব্দুল মজিদ বালুচের নামে। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন আব্দুল মজিদ বালুচ। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানে একাধিক বড় হামলার সঙ্গে মজিদ ব্রিগেডের নাম জড়িয়েছে। অন্যদিকে, ফতেহ স্কোয়াড প্রধানত বালুচিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক টহলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা অভিযান পরিচালনা করে বলে জানা যায়। বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ‘অপারেশন হেরোফ’-এর সময় ফতেহ স্কোয়াড অন্য ইউনিটগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বালুচিস্তানের ১৪টি স্থানে অবরোধ তৈরি করেছিল এবং সেই অভিযানে ৬২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছিলেন। তবে এই সংখ্যাগুলি বিএলএ-র নিজস্ব দাবি। স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশন স্কোয়াডকে বিএলএ-র একটি বিশেষ ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ইউনিট মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। বশির জাইব বালুচের নেতৃত্বাধীন বিএলএ-র এই ইউনিট পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের স্থানীয় সহযোগীদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। বালুচিস্তানের বর্তমান সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও দীর্ঘ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় কালাত রাজ্য স্বাধীনতা ঘোষণা করে। বর্তমান বালুচিস্তানের একটি বড় অংশ তখন কালাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কালাতের সম্পর্ক নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে কালাত পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিতে অসন্তোষ ও সশস্ত্র বিদ্রোহের বিভিন্ন পর্যায় দেখা যায়। ১৯৪৮ সালের পর ১৯৫৮-৫৯, ১৯৭৩-৭৭ এবং ২০০৪ সালের পরবর্তী সময়েও বালুচিস্তানে একাধিক বিদ্রোহ হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও স্থানীয় মানুষ তার যথাযথ সুবিধা পান না। বিভিন্ন বালুচ গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সম্পদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব এবং অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন সময় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করেছে। এসব অভিযানকে ঘিরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে।
তিব্বতের কেরুং-এ বন্যায় ৪৯ ভারতীয়-সহ নিখোঁজ ৫৪৬ জন
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমাণ্ডু,: চিনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কেরুং-এ ভয়াবহ বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৫৪৬ জন নিখোঁজ। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন নেপালের নাগরিকরা। জানা গেছে, ১০৪ জন নেপালি নাগরিক এবং ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। চিনের সরকারি টেলিভিশন সিসিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে – নেপাল: ১০৪ জন, ভারত: ৪৯ জন, লাটভিয়া: ৩৩ জন, আমেরিকা: ১৮ জন, ব্রিটেন: ১৫ জন, কানাডা: ৬ জন, অস্ট্রেলিয়া: ৬ জন, দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪ জন, মালয়েশিয়া: ৩ জন, জার্মানি: ৩ জন, রাশিয়া: ৩ জন, এছাড়া ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড, এস্তোনিয়া ও আয়ারল্যান্ড এর ২ জন করে; ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরি: এক জন করে| জানা গেছে, চিনের আধিকারিকরা নিখোঁজ নাগরিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দূতাবাসকে এই বিষয়ে অবহিত করেছেন। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকাটি বিদেশ মন্ত্রক, জননিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন সংস্থার যৌথ তদন্ত ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভান্ডারে বাড়ছে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ, বড় চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন, ২৯ অগস্ট: ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল চুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুতের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শুক্রবার চুক্তির কথা ঘোষণা করে একে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই চুক্তির হাত ধরে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আসবে বলেও দাবি তাঁর। বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কারাকাসের উপর ওয়াশিংটনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাদুরোর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদে আমেরিকার প্রভাব বাড়ানোর আগ্রহের কথা আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির ঘোষণা করে তিনি দাবি করেন, এর ফলে আমেরিকার হাতে থাকা তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন। তাঁর দাবি, এই সমঝোতা আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ক্রমশ উন্নত হতে থাকা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। চুক্তিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার কাছাকাছি অঞ্চলেই স্থিতিশীল তেলের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রুবিও দাবি করেন, চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। যদিও এই বিপুল বিনিয়োগ কী ভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছিল, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে প্রায় এক ডজন উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই তেলক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যা ভেনেজুয়েলার মোট প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। দুই মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত কয়েক দশকের মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিচু স্তরে থাকার সময়ে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি ওয়াশিংটনের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তির প্রভাবে আমেরিকায় পেট্রলের দাম কমবে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম মার্কিন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তেলের সরবরাহে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপের মুখে রয়েছে প্রশাসন। এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও দীর্ঘদিনের অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো এবং অতীতে বিদেশি সংস্থার সম্পদ অধিগ্রহণের নজিরের কারণে অনেক মার্কিন সংস্থাই এখনও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অন্যতম বড় মার্কিন তেল সংস্থা শেভরন গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, তাদের দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ উৎপাদন আরও প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে মার্কিন সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশটির সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গালোয়ান-ডোকলামে চিনা বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা জেনারেল ঝাওকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরাল বেজিং
সকাল সকাল ডেস্ক বেজিং, ২৯ অগস্ট: ডোকলাম ও গালোয়ান সংঘাতের সময় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে থাকা জেনারেল ঝাও জোংকিকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা ‘চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্স’ (সিপিপিসিসি)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে বলে চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। ২০১৭ সালে ডোকলাম এবং ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের সময় পিএলএ-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল ঝাও। ফলে তাঁকে আচমকা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া ঝাওকে পদ থেকে সরানোর বিষয়টি জানিয়েছে। তবে কেন তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত চলছে কি না, সেই বিষয়েও বেজিংয়ের তরফে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমলে চিনের সামরিক নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হয়েছে। পিএলএ-র বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই আবহে ঝাওকে সরানোর সিদ্ধান্ত নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তবে তাঁর অপসারণের সঙ্গে পিএলএ-র অভ্যন্তরে চলা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ২০২০ সালে ‘ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত এবং পরে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর উদ্ধৃত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী গালোয়ান উপত্যকায় যে সামরিক অভিযানের জেরে ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তাতে ঝাওয়ের অনুমোদন ছিল। ২০১৭ সালের ডোকলাম অচলাবস্থার সময়ও ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ান শহিদ হন। চিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। যদিও চিনের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন দাবি প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালে ডোকলামকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনী টানা ৭২ দিনেরও বেশি সময় মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। ডোকলামকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে ভুটান, অন্যদিকে ওই এলাকায় নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে চিন। ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় ডোকলামের পরিস্থিতি নয়াদিল্লির কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনের রাস্তা নির্মাণের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সেনা সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সংঘাতের সময় চিনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে থাকা ঝাওকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদ থেকে সরানোর ঘটনা তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে বা কোন কারণে তাঁকে সরানো হয়েছে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেজিং।
ভোটেকোশী-ত্রিশূলীর বন্যায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ যোগাযোগহীন হওয়ার আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যার তৃতীয় দিনেও ঠিক কতজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তার স্পষ্ট চিত্র উঠে আসেনি। তবে সরকারের প্রাথমিক প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বন্যার পর প্রায় ৫,০০০ মানুষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্যার আগে রসুয়ার গোসাইঙ্কুণ্ড থেকে নুয়াকোটের দেবীঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ মোবাইল ব্যবহারকারী সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু বন্যার পর তাঁদের সাথে আর যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। নেপালের প্রধান দুটি টেলিকম সংস্থা— ‘নেপাল টেলিকম’ এবং ‘এনসেল’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১,৯২৪ জন মানুষ যোগাযোগহীন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারী। বন্যা ও ধসের পর প্রায় ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকের সাথেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে এই সংখ্যা নিয়েও এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্টতা নেই। নেপাল সরকার শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ বা যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রায় ২,০০০টি আবেদন পেয়েছে। যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের মধ্যে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গোসাইঙ্কুণ্ডে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। আধিকারিকদের মতে, দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং উপদ্রুত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার কারণে নিখোঁজদের সম্পূর্ণ বিবরণ জোগাড় করতে সমস্যা হচ্ছে। সরকার ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার হলো যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়া, উপদ্রুত অঞ্চলগুলিতে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করা এবং বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় প্রথম মস্তিষ্কের টিউমার অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি ফিরল রোগীর
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন নজির। বিশ্বে প্রথমবার সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় অস্ত্রোপচার করে এক রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করলেন ব্রিটেনের চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচার না হলে ওই রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে তাঁদের নিরাপদে টিউমার অপসারণে সাহায্য করেছে। রোগীর নাম রিস হিবার্ট। ৪৮ বছরের হিবার্ট দুই সন্তানের বাবা এবং ব্রিটেনের বেডফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে এই অস্ত্রোপচার করেন। প্রায় ১৮ মাস আগে হাঁটার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে খিঁচুনি শুরু হয় হিবার্টের। পরীক্ষায় তাঁর মস্তিষ্কে ১১ মিলিমিটার আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। টিউমারটি ক্যানসারযুক্ত না হলেও মস্তিষ্কের নিচের দিকে থাকা পিটুইটারি গ্রন্থিতে বেড়ে উঠছিল। এর খুব কাছেই রয়েছে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ ক্যারোটিড ধমনি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক স্নায়ু। টিউমারটি বড় হতে থাকায় অপটিক স্নায়ুর উপর চাপ বাড়ছিল। ফলে ধীরে ধীরে হিবার্টের দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। ঝাপসা দেখার কারণে হাঁটার সময় বিভিন্ন জিনিসে হোঁচট খাওয়ার পাশাপাশি ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর নাক দিয়ে একটি সরু ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে খুলির নিচের অংশ পর্যন্ত নিয়ে যান চিকিৎসকেরা। একই সময়ে পৃথক পর্দায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ক্যামেরার দৃশ্য বিশ্লেষণ করে। অস্ত্রোপচারের যন্ত্রগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে চিকিৎসকদের সতর্ক করে দেয় ওই ব্যবস্থা। টিউমারের কোন অংশ দিয়ে অস্ত্রোপচার তুলনামূলক নিরাপদ হবে, সেই নির্দেশনাও পাওয়া যায়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার অপসারণের কয়েকশো অস্ত্রোপচারের দৃশ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দৃশ্যে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর অবস্থান চিহ্নিত ছিল। সেই তথ্য থেকেই মস্তিষ্কের জটিল গঠন শনাক্ত করার ক্ষমতা অর্জন করেছে প্রযুক্তিটি। অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক হানি মার্কাস জানিয়েছেন, একজন চিকিৎসক তাঁর গোটা কর্মজীবনে যত অস্ত্রোপচার দেখেন বা করেন, তার থেকেও বেশি অস্ত্রোপচারের তথ্য এই ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র চিকিৎসকদের সহায়তা করেছে। অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসকদের হাতেই ছিল। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং গুগলের অর্থায়নে কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রথম বাস্তব অস্ত্রোপচারে সাফল্যের পর এবার আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন গবেষকেরা। অস্ত্রোপচারের আট সপ্তাহের মধ্যে হিবার্টের দৃষ্টিশক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তাঁর কর্মশক্তিও ফিরে এসেছে এবং আগের অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও অনেকটাই দূর হয়েছে। হিবার্টের কথায়, এই অস্ত্রোপচার তাঁকে তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।
সব ভিসা নয়, বিশ্বজুড়ে শুধু অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় স্থগিত করল আমেরিকা
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: সব ধরনের ভিসা নয়, বিশ্বজুড়ে শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের জেরে বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে আগে থেকে নির্ধারিত অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন সময় পরে জানানো হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বের সমস্ত মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেই কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অভিবাসী ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাতের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ কত দিন চলবে বা কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে সাক্ষাৎকার শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হল ভিসার আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও দক্ষ করে তোলা। বিশেষ করে কোনও আবেদনকারী ভবিষ্যতে আমেরিকার সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবর প্রথম প্রকাশ করে ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে যাঁদের অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাঁদের বৈদ্যুতিন বার্তার মাধ্যমে সময় পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কয়েকটি পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই আইনি বাধার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি আমেরিকার এক বিচারক বাংলাদেশ-সহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি নীতি বাতিল করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ বৈষম্য বাড়ানোর পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলি। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে সেই নীতি বাস্তবায়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে তাঁর প্রশাসন। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তটি সমস্ত ভিসার ক্ষেত্রে নয়, শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
নেপালে হড়পা বানে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত, উদ্ধার ১৬২টি দেহ
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: পাহাড়ি ঢল ও আচমকা নেমে আসা হড়পা বানের প্রবল তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার সকালে হড়পা বানের প্রচণ্ড জলস্রোতে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার একাধিক এলাকা মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১৬২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনিক অনুমান অনুযায়ী নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ৫৯৮ জন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে সেনাবাধ্যিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।