জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে বিদেশি মানবসদৃশ রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশে তৈরি নতুন প্রজন্মের মানবসদৃশ রোবট ও উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে চীনে নির্মিত অত্যাধুনিক রোবট সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিদেশি পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) জানিয়েছে, মানবসদৃশ রোবট, চার পায়ের স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং নির্দিষ্ট ধরনের পাওয়ার ইনভার্টারকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই কারণেই এগুলিকে সংস্থার ‘কভার্ড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা-ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য ও পরিষেবার তালিকা রাখা হয়। এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, বিদেশে তৈরি উন্নত পাওয়ার ইনভার্টার ও রোবোটিক যন্ত্রের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ, তথ্য চুরি, নজরদারি কিংবা সাইবার হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালানো হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি রাষ্ট্র বা তাদের মদতপুষ্ট গোষ্ঠী এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারে বলেই ওয়াশিংটনের দাবি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র নতুন মডেলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। যেসব পণ্য ইতিমধ্যেই এফসিসির অনুমোদন পেয়েছে বা বাজারে রয়েছে, সেগুলির আমদানি ও বিক্রির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, বাণিজ্যিক বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে ভিত্তিহীন অজুহাতে চীনা প্রযুক্তিপণ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। চীনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের স্বার্থবিরোধী যে কোনও পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। চীনা দূতাবাস আরও জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে বিশ্বকল্যাণে ব্যবহার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’ পরিহার করে চীনা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই ক্রমশ বাড়ছে। উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইতিমধ্যেই চীনের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে, মানবসদৃশ রোবট তৈরির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত অগ্রগতি করেছে চীনা সংস্থাগুলি। শিল্পক্ষেত্র থেকে গৃহস্থালি—বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের উপযোগী রোবট ইতিমধ্যেই বাজারে এনেছে তারা। অনেক ক্ষেত্রেই টেসলা ও বোস্টন ডাইনামিকসের মতো মার্কিন সংস্থার আগেই চীনা নির্মাতারা বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি বাজারজাত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন নেই, পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভর করতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে সামরিক হামলা চালাতেও পিছপা হবে না ওয়াশিংটন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে তাঁকে আলাদা করে কিছু বোঝানোর প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, “আমাকে এসব বিষয়ে ‘বিবি’র কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার দরকার নেই। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই জানে কী ঘটছে এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরানের পাহাড়ঘেরা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র সম্পর্কে ট্রাম্পকে বিস্তারিত তথ্য দিতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওই কেন্দ্রের গতিবিধির উপর আমেরিকার কড়া নজর রয়েছে এবং সেখানে কী চলছে, সে সম্পর্কে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ অবগত। ইরানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অতীতে তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করেছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে করব। আলোচনা সফল না হলে ওই কেন্দ্র ধ্বংস করতে আমাদের কোনো দ্বিধা থাকবে না।” একই সঙ্গে, ইরান সংক্রান্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ্যে আনার অভিযোগে নেতানিয়াহুর সমালোচনাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমি শুনলাম বিষয়টি প্রকাশ্যে বলা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, আগে আমাকে জানানো হয়নি কেন?” যদিও ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ কেন্দ্র নিয়ে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন— এমন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন কৌশলেই এগোতে চায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসরায়েলের উপর নির্ভরশীল হতে আগ্রহী নয়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের কূটনৈতিক আলোচনার সময়সীমা শেষের পথে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আসন্ন বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ঘাঁটিতে মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক বাগদাদ: ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ)-এর একাধিক ঘাঁটিতে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। গত ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অভিযানের আগে ইরান জর্ডনে অবস্থিত তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও সৌদি বাহিনীর হামলার পর ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নিনেভেহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বসরা প্রদেশের একাধিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বসরায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকজুড়ে তাদের একাধিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। নিনেভেহ প্রদেশে অন্তত আট জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে হুথিদের দাবি, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। উল্লেখ্য, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স ইরাকের একটি সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী। ২০১৪ সালের ১৫ জুন ইরান-সমর্থিত একাধিক শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে একত্রিত করে এই বাহিনী গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীটি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও, বাস্তবে এর উপর ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করা হয়ে আসছে।
জাপানের কুমামোটোয় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ১৩, শপিং মলে বিস্ফোরণে নিহত ২
সকাল সকাল ডেস্ক টোকিও : জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোটো অঞ্চলে মঙ্গলবার বিকেলে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে ভূমিকম্পের পর কুমামোটোর একটি ‘আয়ন’ শপিং মলে গ্যাস লিকের জেরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই মহিলার মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক মহিলাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণের আগে প্রায় ২০০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও ভবনের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ায় আরও কয়েকজন ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে ইয়াতসুশিরো শহরে নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাকিদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে। ভূমিকম্পের পর বুধবারও একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। কুমামোটো ও নাগাসাকি অঞ্চলে ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৫০০-রও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, কুমামোটো এলাকায় প্রায় ৩৪ হাজার ৩৬০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে ভূমি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, কুমামোটো, সাগা ও নাগাসাকি অঞ্চলের প্রায় ৮৪ হাজার পরিবারে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ভূমিকম্পে ইয়াতসুশিরো শহরের কিউশু এক্সপ্রেসওয়ের একটি ওভারপাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই এলাকায় একটি সেতুর পথচারী অংশও ভেঙে পড়েছে। ফলে এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য বুধবার সকালে কিউশু শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। জাপান আবহাওয়া সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরও শক্তিশালী আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানান, ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। অন্তত ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও করা সম্ভব হয়নি। ভূমিকম্পের পর জাপান আবহাওয়া সংস্থা এক মিটার উচ্চতার সম্ভাব্য সুনামির সতর্কতা জারি করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে পরমাণু নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের কোনও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রতি বছর সেখানে শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০১১ সালের ৯.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছিলেন। সেই দুর্যোগে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ভ্যান্স ও জেনারেল কেইনের উদ্বেগেই ইরানে হামলা স্থগিতের পথে ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করার পেছনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানে টানা ১৩ দিনের বিমান হামলার পর পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকেই জেনারেল কেইন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত, সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানি এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একটি সূত্রের দাবি, জেনারেল কেইন ট্রাম্পকে জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও, সম্ভাব্য পরিণতিগুলিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আলোচনায় অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রের মতে, বৈঠকে গোলাবারুদের সীমিত মজুতের পাশাপাশি ইরানে বড় ধরনের হামলা চালালে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি, শরণার্থী সংকট এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি পরিশোধন অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বৈঠকে তাঁকে সতর্ক করা হয়, এমন হামলায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ উপদেষ্টা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আরও বড় সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম। তবে সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, মানবিক ও সামরিক পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি। এরপরই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয় বলে জানায় পেন্টাগনের একটি সূত্র। তবে এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী কি না বা ভবিষ্যতে আবার হামলা শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে সব ধরনের পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং টানা ১৩ দিনের সামরিক অভিযানের পর ইরানের উচিত আলোচনার পথে এগিয়ে আসা। অন্যথায় সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তেহরান অবগত। এদিকে জেনারেল ড্যান কেইনের দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টকে দেওয়া গোপন সামরিক পরামর্শ নিয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করবেন না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দফতরও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপরও চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন সামরিক সহায়তা এবং হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে একই সঙ্গে দ্রুত নতুন অস্ত্র উৎপাদনের কাজও চলছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের অভিযোগ, এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সূত্রগুলির দাবি, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সামরিক পদক্ষেপের কথা বললেও, একই সময়ে তিনি পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ বজায় রেখেই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মেক্সিকোয় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পাশে গুলি, একজন নিহত
সকাল সকাল ডেস্ক মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে গুলির ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো পাবলিক স্কয়ারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তাবিষয়ক সচিবালয় এ ঘটনাকে ‘সরাসরি হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বলা হয়েছে, গুলিতে ৪২ বছর বয়সী এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। আহত দুজনও পুরুষ। দুজনেরই বয়স ৩৯ বছর। আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী গুলি করার পরপরই মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনাটি মেক্সিকো সিটির সান্তো ডোমিঙ্গো চত্বরে ঘটেছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলের ভবনে ঘেরা এ জায়গা জাল নথিপত্র তৈরি ও বিক্রির কারণে বেশ পরিচিত। মেক্সিকোয় মাদক পাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোয় এমন গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু রাজধানীতে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পাশে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। যদিও রাজধানীতে ইউনিয়ন তেপিতো ও ফুয়ের্সা অ্যান্টি ইউনিয়নের মতো কয়েকটি সড়কভিত্তিক অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
তিন বছর পর পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কুয়েতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন
সকাল সকাল ডেস্ক কুয়েত সিটি প্রায় তিন বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে কুয়েত। সরকারি গেজেটে চুক্তিটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। কুয়েত টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি গত রবিবার সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়ুম-এ প্রকাশ করা হয়। চুক্তির আওতায় দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে কুয়েত ও পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সামরিক গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রাখা হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যৌথ সামরিক মহড়া, সরকারি সফর এবং বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। নির্ধারিত সময় শেষে কোনও পক্ষ তা বাতিলের সিদ্ধান্ত না নিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। পাশাপাশি গোপন সামরিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চুক্তি-সংক্রান্ত বিরোধ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কুয়েত ও পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকগুলিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে কুয়েত। বিশ্লেষকদের মতে, সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করা হলো। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের পাশাপাশি কুয়েতও সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। ইরানের দাবি ছিল, হামলার লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলি। তবে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনদের সমর্থন কমছে, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন: জরিপ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন ক্রমশ কমছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। একই সঙ্গে অধিকাংশেরই মত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য কী। গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েই গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও প্রায় ৪০ শতাংশ একই মত প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনমত সমীক্ষা দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়া। সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের শুরু থেকেই যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। সাম্প্রতিক দশকের অন্যান্য বড় সামরিক অভিযানের তুলনায় এই সমর্থন অনেক কম। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর সময় প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ২০০১ সালে আফগানিস্তান অভিযানের শুরুতে প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন মেরিন সদস্য অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, কেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে, তা এখনও তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি জানান, অতীতে রিপাবলিকানদের সমর্থন করলেও বর্তমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তাঁর আস্থা কমেছে। যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মার্কিন অর্থনীতিতেও। দেশজুড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিপাবলিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স কোনান্টের মতে, যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায় ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। প্রথমদিকে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ইরান সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সমালোচনাও বেড়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, এই সংঘাতের সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের কোনও তুলনা হয় না। জর্জিয়ার বাসিন্দা রায়ান অ্যান্ডারসন, যিনি ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, বলেন, বিদেশের যুদ্ধের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানেই প্রশাসনের বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “আমাদের মিত্রদের পাশে থাকা জরুরি, কিন্তু নিজের দেশের মানুষের সমস্যাগুলোকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।” রয়টার্স/ইপসোসের এই সমীক্ষায় মোট ১,২৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। সমীক্ষার সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা
সকাল সকাল ডেস্ক টোকিও : জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে মঙ্গলবার ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কম্পনের পরই সুনামি সতর্কতা জারি করেছে জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)। জেএমএ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো প্রদেশে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। সংস্থার আশঙ্কা, উপকূলে সর্বোচ্চ ১ মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কিউশু দ্বীপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কুমামোতো প্রদেশে জাপানের ভূমিকম্প তীব্রতা সূচকে উকি ও হিকাওয়া এলাকায় সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। আশপাশের একাধিক এলাকায় তীব্রতা ৬-এরও বেশি ছিল। স্থানীয় দমকল বিভাগ ও বিদ্যুৎ সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া প্রায় ৪৮ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রতিবেশী কাগোশিমা প্রদেশে কম্পনের তীব্রতা ৫-এর বেশি, আর ফুকুওকা ও সাগা প্রদেশে ৫-এর কম ছিল। কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, কাগোশিমার সেন্দাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সাগা প্রদেশের গেনকাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনও অস্বাভাবিকতা বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সুনামি সতর্কতা জারির পর উপকূলবর্তী এলাকায় অবিলম্বে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আরিয়াকে ও ইয়াতসুশিরো সাগর উপকূলের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সমুদ্রে বা উপকূলের কাছাকাছি না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের উপর নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাওয়ালকোটে পাক পুলিশের নির্বিচারে গুলি, নিহত ১৪ জন আন্দোলনকারী
সকাল সকাল ডেস্ক রাওয়ালকোট: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে পাক পুলিশের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১৪ জন আন্দোলনকারী মারা গিয়েছেন। জখম আরও অনেকে। সূত্রের খবর, সোমবার প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। আচমকাই তাঁদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয়। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি দাবি করেছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্য একটি সূত্রের খবর, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। ওই ঘটনার পরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় রাওয়ালাকোটে পুলিশের গুলিবর্ষণে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির অন্যতম সদস্য ইমতিয়াজ আসলাম বলেছেন, “পাকিস্তানের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের নিরীহ যুবকদের ওপর গুলি চালিয়েছে; এর ফলে আমাদের ১৪ জন তরুণ নিহত হয়েছেন। আমি প্রবাসী কাশ্মীরিদের কাছে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি: আপনারা অবশ্যই পাকিস্তানের দূতাবাস, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থা এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করুন।”