নেপালে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের শ্রম অধিকার ও উন্নত সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু। নেপালে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকরা শ্রম অধিকার, পরিষেবা সুবিধা এবং কর্মস্থলের অবস্থার উন্নতির দাবিতে শনিবার কাঠমান্ডুর মাইতিঘর মণ্ডলায় বিক্ষোভ করেন। “জেনজি সরকার, জেনজি ডাক্তারদের ন্যায় দাও”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে একত্রিত হওয়া চিকিৎসকরা সাত দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রকাশ করে সরকার, মেডিকেল এডুকেশন কমিশন, নেপাল মেডিকেল কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের (ইন্টার্ন ও রেসিডেন্ট ডাক্তার) ডিউটি সময় নেপালের শ্রম আইন ২০৭৪ অনুযায়ী দৈনিক সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একদিন বাধ্যতামূলক ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। তারা আরও দাবি করেন, সব প্রশিক্ষণরত নারী চিকিৎসকদের আইন অনুযায়ী বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করতে হবে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির পর পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক ও স্থায়ী—উভয় ধরনের নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের সমানভাবে মাতৃত্বকালীন সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকরা আরও দাবি করেন, সরকারের বাজেটে বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের অষ্টম স্তরের সমতুল্য পারিশ্রমিক দিতে হবে এবং সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করালে শ্রম আইনের অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়ের ভাতা প্রদান করতে হবে। তারা বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করে নেপাল মেডিকেল কাউন্সিলে প্রোভিশনাল রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। তাই তাদের অন্তত ষষ্ঠ স্তরের সমতুল্য বেতন এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য ভাতা প্রদান করা উচিত। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চিকিৎসকরা জানান, বর্তমান ব্যবস্থা নবীন চিকিৎসকদের জন্য অন্যায্য। শ্রম অধিকার সুরক্ষা, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির আশায় শেয়ার বাজারে ঝড়, একদিনে বিনিয়োগকারীদের লাভ ১০.১৭ লক্ষ কোটি টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার আশায় শুক্রবার দেশের শেয়ার বাজারে জোরালো উত্থান দেখা গেল। বিশ্বের অন্যান্য বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় বাজারও শক্তিশালী অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে। দিনের শেষে সেনসেক্স ২.৩০ শতাংশ এবং নিফটি ১.৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে। সকালে বাজার ইতিবাচক সূচকে শুরু হলেও প্রথমার্ধে মুনাফা তোলার প্রবণতায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাপক কেনাকাটার জেরে বাজারে দ্রুত গতি ফিরে আসে। এর ফলে দিনের শেষভাগে দুই প্রধান সূচকই উল্লেখযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। আইটি খাত ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, রিয়েল এস্টেট এবং অটোমোবাইল খাতের শেয়ারগুলিতে জোরদার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া মূলধনী পণ্য, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ধাতু, তেল ও গ্যাস এবং সরকারি সংস্থার শেয়ারগুলিও লাভের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে আইটি সূচক সামান্য ০.০৯ শতাংশ নিচে নেমে বন্ধ হয়েছে। বৃহত্তর বাজারেও ছিল উত্থানের ছবি। নিফটির মধ্যম মূলধনী সংস্থার সূচক ২.৪৩ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র মূলধনী সংস্থার সূচক ২.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে এই উত্থানের ফলে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ একদিনেই প্রায় ১০.১৭ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬২ লক্ষ কোটি টাকা। আগের দিন যা ছিল ৪৫১.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা। দিনভর লেনদেনে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ৪,৪২২টি শেয়ারে কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৩,২২২টি শেয়ার লাভের মুখে বন্ধ হয়েছে এবং ১,০৪৬টি শেয়ারের দাম কমেছে। জাতীয় শেয়ার বাজারে ২,৯৯৯টি শেয়ারের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ২,৫১৮টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দিনের শেষে সেনসেক্স ১,৬৯৫.৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৫,৫২৭.৯৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৪৬১.৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২৩,৬২২.৯০ পয়েন্টে পৌঁছায়। দিনের সেরা লাভবান শেয়ারগুলির মধ্যে ছিল শ্রীরাম ফাইন্যান্স, বাজাজ ফাইন্যান্স, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন এবং টাইটান। অন্যদিকে নেসলে, ওএনজিসি, টেক মহীন্দ্রা, এসবিআই লাইফ ইনশিওরেন্স এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস দিনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারগুলির তালিকায় জায়গা করে নেয়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল শুক্রবারের শেয়ার বাজারে।
ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, দাবি ট্রাম্পের ; চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা মানতে নারাজ তেহরান
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান : ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং সেই কারণেই তেহরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদন করা হয়নি। ফলে পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের স্তর পর্যন্ত আলোচনা পৌঁছেছে এবং একটি খসড়া চুক্তির কাঠামো ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তাঁর কথায়, আলোচনায় অগ্রগতির জেরেই ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সামরিক হামলা ও বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনাপর্ব শুরু করার বিষয় রয়েছে। তাঁর মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। সপ্তাহান্তে ইউরোপে কূটনৈতিক বৈঠকের সময় এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, একটি সমঝোতা স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে আমেরিকা, ইজরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন ও মিশর-সহ একাধিক দেশ। তবে ওয়াশিংটনের আশাবাদী অবস্থানের বিপরীতে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কোনও চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এখনও অনুমোদিত হয়নি। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলির দাবি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির আগে সেগুলির নিষ্পত্তি প্রয়োজন। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, খসড়া চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর কথায়, কিছু বিষয়ে মতভেদ বজায় রয়েছে এবং ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নির্ধারিত ‘রেড লাইন’-এর সঙ্গে কোনও আপস করবে না। তবে ইরানের কয়েকটি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কিছুটা কমেছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে তেহরান সর্বশেষ প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরমাণু আলোচনা কাঠামো নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, বুধবার কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা বৈঠকে বাকি মতভেদ দূর করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইরান সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার বৃহৎ অংশকে অস্থির করে তুলেছে। এর প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের উপর। বিশ্বের তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে। পাশাপাশি তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, যে কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। দুই পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতির কথা স্বীকার করলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থানের ফারাক স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, চূড়ান্ত সমঝোতার আগে এখনও একাধিক কূটনৈতিক বাধা অতিক্রম করতে হবে। ফলে আগামী কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে, সর্বশেষ আলোচনাপর্ব আদৌ স্থায়ী সমাধানের পথ খুলতে পারে কি না।
কেন্দ্র সরকার ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ওপর উৎপাদ শুল্ক শূন্য করল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি। কেন্দ্র সরকার ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ওপর উৎপাদ শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছে। এই শুল্ক ছাড় পেট্রোলের E22, E25, E27 এবং E30 সংস্করণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলকে উৎপাদ শুল্ক (এক্সাইজ ডিউটি) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২, ২৫, ২৭ এবং ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ওপর উৎপাদ শুল্ক এখন ‘শূন্য’ হবে। ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতেই এই কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি তেল ও গ্যাস বিপণন সংস্থাগুলি মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে পেট্রোল-ডিজেলের দাম প্রায় ৭.৫০ টাকা প্রতি লিটার বাড়ানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকার মার্চ মাসে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর উৎপাদ শুল্ক ১০ টাকা প্রতি লিটার কমিয়েছিল, যার ফলে বার্ষিক রাজস্বে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
ইরান, বাহরাইন, কুয়েতের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টিপাত, হরমুজ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা—এখন শুধু বোমার মাধ্যমেই হবে আলোচনা
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী বর্তমানে ইরানের ওপর মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরানও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা শুরু করেছে। এতে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গাল্ফ নিউজ, আল জাজিরা এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আত্মরক্ষার জন্য হামলা অব্যাহত থাকবে। সেন্টকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে তিন মাস ধরে চলা সংঘাত শেষ করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এখন থেকে কেউ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। তবে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, এই কৌশলগত জলপথ বন্ধ করার দাবি মিথ্যা; বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলো চলাচল করছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটি ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আলি ও আহমেদ এয়ার ফোর্স বেসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। শেইখ ঈসা এয়ার বেস ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা গতকালও ইরানে হামলা করেছি, আজ আরও বড় হামলা হবে। যুক্তরাষ্ট্র কাউকে ভয় পায় না। নেতৃত্বের পতাকা যারা তুলবে, তাদের পরিণতি সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের মতোই হবে।” তার এই বক্তব্যের পর মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বন্দর আব্বাসে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণের শহর সিরিক ও মিনাবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন ইরানের সঙ্গে শুধু বোমার মাধ্যমেই কথা হবে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ঘনঘটা; ইরানে হামলা আমেরিকার, প্রত্যাঘাত তেহরানেরও
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরানে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী “সব ধরনের জাহাজের জন্য বন্ধ” করা হয়েছে। কুয়েত আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে বাহরাইন ও জর্ডনে বিমান হামলার সতর্কবার্তা অথবা সাইরেন বাজার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, “সেন্টকম (সেন্ট্রাল কমান্ড) ব্যস্ত থাকবে; কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমরা ইরানের ওপর কঠোর আঘাত হানব—এবং আমরা তা-ই করব। কারণ ইরানের সামনে একটি ভালো অথবা চমৎকার চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে—যার মাধ্যমে তারা যা করার আগ্রহের কথা বলেছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হতো; অথচ তারা তা করতে রাজি হয়নি।” তেহরানের হুঁশিয়ারি, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কোনও জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকার যদিও দাবি, হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কেবল সিরিক এবং মিনাব শহরেই নয়, বন্দর আব্বাস, কাশেম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হানা রুখতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরান। মুহুর্মুহু মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে ইরানের দক্ষিণের দুই শহর জাস্ক এবং সিরিকে। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে হরমুজ প্রণালীর কাশেম দ্বীপেও।
শুরুর কারবারে শেয়ার বাজার মজবুত অবস্থানে, সেনসেক্স ও নিফটির সূচক উর্ধ্বমুখী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ঘরোয়া শেয়ার বাজারে বুধবার শুরুর দিকে মজবুত অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অবশ্য এদিন বাজার খোলার সময় মিশ্র ও সমান্তরাল ট্রেন্ড দেখা গিয়েছিল। বাজার খুলতেই বিক্রির চাপ বাড়ায় সেনসেক্স ও নিফটি—উভয় সূচকই কিছুক্ষণের জন্য সামান্য নিচে নেমে যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠায় এবং কেনাকাটার হিড়িক বাড়ায় দুই সূচকই ফের ঘুরে দাঁড়ায় এবং দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত লেনদেনের পর সেনসেক্স ০.৬৪ শতাংশ এবং নিফটি ০.৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে লেনদেন চালাচ্ছিল। সকাল ১০টা পর্যন্ত হওয়া কারবারে স্টক মার্কেটের প্রথম সারির শেয়ারগুলির মধ্যে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, নেসলে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস এবং এশিয়ান পেন্টস ২.৬৮ শতাংশ থেকে ১.০২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সাথে ব্যবসা করছিল। অন্যদিকে, হিন্ডালকো ইন্ডাস্ট্রিজ, ইনফোসিস, এটারনাল, আদানি এন্টারপ্রাইজেস এবং শ্রীরাম ফাইন্যান্সের শেয়ার ৩.১৯ শতাংশ থেকে ০.৫৬ শতাংশ পর্যন্ত পতনের সাথে লাল চিহ্নে অবস্থান করছিল। আজকের কারবারে এখনও পর্যন্ত শেয়ার বাজারে ২,৭২৩টি শেয়ারের সক্রিয় লেনদেন হচ্ছিল। এর মধ্যে ১,৬০৭টি শেয়ার লাভের মুখ দেখে সবুজ চিহ্নে এবং ১,১১৬টি শেয়ার লোকসানের সাথে লাল চিহ্নে ট্রেড করছিল। একইভাবে সেনসেক্সের অন্তর্ভুক্ত ৩০টি শেয়ারের মধ্যে ১৯টি শেয়ার ক্রয়ের সমর্থনে সবুজ চিহ্নে টিকে ছিল। অন্যদিকে, বিক্রির চাপে ১১টি শেয়ার লাল চিহ্নে ব্যবসা করছিল। নিফটির অন্তর্ভুক্ত ৫০টি শেয়ারের মধ্যে ৩০টি শেয়ার সবুজ চিহ্নে এবং ২০টি শেয়ার লাল চিহ্নে ঘোরাফেরা করছিল। বিএসই-র সেনসেক্স এদিন ৬৯.৫১ পয়েন্ট বৃদ্ধির সাথে ৭৩,৯৮৮.২৭ অঙ্কের স্তরে খোলে। লেনদেন শুরু হতেই বিক্রির চাপ আসায় সূচকটি কিছুটা পড়ে গিয়ে লাল চিহ্নে ৭৩,৮৯৭.৮৩ অঙ্কের স্তরে নেমে যায়। এরপর ক্রেতারা বাজারে গতি আনায় সেনসেক্স দ্রুত রিকভার করে সবুজ চিহ্নে চলে আসে। বাজারে লাগাতার কেনাবেচার মধ্যে সকাল ১০টা নাগাদ সেনসেক্স ৪৭৫.৪৪ পয়েন্ট মজবুত হয়ে ৭৪,৩৯৪.২০ অঙ্কের স্তরে লেনদেন করছিল। সেনসেক্সের বিপরীতে এনএসই-র নিফটি এদিন ৮.১৫ পয়েন্টের সামান্য দুর্বলতার সাথে ২৩,২৩৩.৯৫ অঙ্কের স্তর থেকে কারবার শুরু করে। বাজার খুলতেই বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় সূচকটি নেমে ২৩,২১৭.৩০ অঙ্কের স্তরে পৌঁছায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাজারে কেনাকাটা শুরু হওয়ায় এই সূচকটিও ঘুরে দাঁড়িয়ে সবুজ চিহ্নে প্রবেশ করে। লাগাতার ক্রয়ের সমর্থনে প্রথম আধ ঘণ্টার কারবারেই নিফটি লাফিয়ে ২৩,৩৮৪.৪৫ অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলে। এরপর ফের হালকা বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় সূচকে সামান্য পতন দেখা গেলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত লেনদেনের পর নিফটি ২৩,৩৬৩ অঙ্কের স্তরে ব্যবসা করছিল।
ফের আফগানিস্তানে হামলা পাকিস্তানের, নিহত ১৩ জন
সকাল সকাল ডেস্ক কাবুল: ফের আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। প্রাণঘাতী বিমান হামলার মাধ্যমে আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের হামলায় ১৩ জন নিরপরাধ সাধারণ নাগরিক মারা গিয়েছেন। তালিবানের প্রধান মুখপাত্র জবিহউল্লাহ মুহাজিদ জানিয়েছেন, খোস্ত, কুনার এবং পাকটিকা প্রদেশে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কমপক্ষে ১৩ জন ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১১ জনই শিশু। যদিও পাকিস্তানের তরফে হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি এখনও। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একে অপরের উপর হামলা চালাচ্ছে। প্রাণ হারিয়েছেন প্রচুর মানুষ। মাঝে হস্তক্ষেপ করেছিল চিন। কিছু সময়ের জন্য যু্দ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার রাতে ফের হামলা চালালো পাকিস্তান। কাবুলে ক্ষমতাসীন তালিবান সরকার বুধবার জানিয়েছে, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো রাতের বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন মারা গিয়েছেন এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ফিলিপিন্সে ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৪৬, এখনও অব্যাহত উদ্ধারকাজ
সকাল সকাল ডেস্ক ম্যানিলা: ফিলিপিন্সে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বুধবার উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া একটি সুপারমার্কেটের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক জনের দেহ উদ্ধার করেছেন। এর ফলে সেখানের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৬। স্থানীয় উদ্ধারকর্মী মিশেল চুয়া বুধবার জানান, উদ্ধার অভিযানের শুরুর দিকে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণের স্পন্দন পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ধ্বংশস্তূপের নীচ থেকে যখন দেহ বার করা আনা হয়, তখন তাতে কোনও সাড় ছিল না। উল্লেখ্য, সোমবার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয় ফিলিপিন্সে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৮ মাত্রা। ভূকম্পনের অভিঘাতে ফিলিপিন্সে বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পে ৪৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এইচডিএফসি ব্যাংক এমসিএলআর-ভিত্তিক ঋণের হার ০.১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি । বেসরকারি খাতের এইচডিএফসি ব্যাংক সীমান্তিক ব্যয় ভিত্তিক ঋণ হার (এমসিএলআর) ০.১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। দুই বছরের মেয়াদের ঋণে এখন এই হার ৮.৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.৫৫ শতাংশ হয়েছে। নতুন হার ৮ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। ব্যাংক মঙ্গলবার জারি করা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে সেই সব ঋণগ্রহীতার উপর, যাদের ঋণ এমসিএলআর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে গাড়ি, আবাসন ও ব্যক্তিগত ঋণসহ অধিকাংশ ভোক্তা ঋণের জন্য মানদণ্ড হিসেবে ধরা এক বছরের এমসিএলআর ০.০৫ শতাংশ বেড়ে এখন ৮.৪০ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা, তিন মাস, ছয় মাস এবং তিন বছরের মেয়াদের ঋণের হারেও ০.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমসিএলআর কী? এমসিএলআর হলো সেই ভিত্তি হার, যার উপর ব্যাংক তাদের অধিকাংশ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের মাসিক কিস্তিতে প্রভাব পড়তে পারে। এইচডিএফসি ব্যাংকের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এসেছে, যখন রিজার্ভ ব্যাংক নীতি সুদের হার রেপো রেট টানা দ্বিতীয়বার অপরিবর্তিত রেখেছে। বর্তমানে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে।