হুথি হামলার পর ‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে প্রশ্ন, সামরিক পদক্ষেপে সতর্ক পাকিস্তান
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াধ: পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সমঝোতা ‘মক্কা প্যাক্ট’ স্বাক্ষরের পর হুথি হামলা নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য কোনও দেশের উপর বাইরের শক্তির হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার কথা। কিন্তু সৌদি আরবে হুথি হামলার পর পাকিস্তান সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সাহায্য চেয়েও রিয়াধ সরাসরি সামরিক সহযোগিতার আশ্বাস পায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরবে হুথি হামলার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, ‘মক্কা প্যাক্ট’-এর আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক কী ভূমিকা নেবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেও ইসলামাবাদের বিদেশমন্ত্রক সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা থেকে আপাতত দূরত্ব বজায় রেখেছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে এমন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত সময়ে চুক্তির আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাকিস্তানের তরফে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ওই সমঝোতা পূর্ব থেকে চলতে থাকা কোনও সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ চুক্তি স্বাক্ষরের পর নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের ক্ষেত্রেই তার শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা। এই অবস্থানের ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবিলম্বে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত কমেছে। এদিকে, ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি ঘোরালো হওয়ায় সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। হুথিদের অগ্রগতি এবং উপকূলীয় মোখা এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে রিয়াধের উদ্বেগের কথাও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনও আপাতত হুথি-সৌদি সংঘাতে সরাসরি সামরিক ভাবে জড়াতে আগ্রহী নয় বলে দাবি। পরিবর্তে হুথিদের গতিবিধি সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সৌদি আরবকে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কৌশলে ইরানের দিকে নজর রাখা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘মক্কা প্যাক্ট’-এর আর এক সদস্য তুরস্কের ভূমিকার দিকেও নজর রয়েছে। তবে আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থের কারণে রিয়াধ আঙ্কারার কাছে সরাসরি সামরিক সাহায্য চাইবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষত বাব আল-মান্দাব প্রণালী ও সংলগ্ন অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৌদি আরবের কূটনৈতিক হিসাবকে আরও জটিল করতে পারে। সব মিলিয়ে হুথি হামলা সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পাকিস্তান আপাতত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ থেকে দূরে, আর আমেরিকাও প্রত্যক্ষ সংঘাতে নামার পরিবর্তে সীমিত সহযোগিতার পথে থাকতে চাইছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে রিয়াধ কোন কৌশল নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
নভেম্বরের ভোটের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে, দাবি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানের পক্ষে দীর্ঘদিন সংঘাত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যদিও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ মহলের একাংশ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন, সংঘাত তাঁর বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় পর্যন্তও গড়াতে পারে। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই যুদ্ধ দ্রুত থেমে যাবে। তাঁর আরও অভিযোগ, ইরান বর্তমানে আমেরিকার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। এর মধ্যেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালন পর্ষদ ইরানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবের পক্ষে ২৩টি দেশ ভোট দিয়েছে। রাশিয়া, চিন ও নাইজার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। আটটি দেশ ভোটদানে বিরত থেকেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি দাবি করেছেন, আমেরিকার চাপেই এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের কোনও আইনি বা বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধানও হবে না। অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে ইরান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা আরও বড় সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। ইরানের বর্তমান শাসনের অবসান ঘটানোর পক্ষেও ফের সওয়াল করেছেন তিনি। যুদ্ধের প্রভাব আন্তর্জাতিক জলপথেও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক অভিযানে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার আগে জাহাজগুলির কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। ফলে ওই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর দাবি, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল। সেই চেষ্টা প্রতিহত করার পরই ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইরান ফের একই ধরনের হামলার চেষ্টা করলে আরও তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এদিকে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে খবর। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান ওই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমতি এবং নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়ার দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের নির্বাচনের পর যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। একদিকে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলা, অন্যদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা—সব মিলিয়ে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
রিপাবলিকানরা জিতলে প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার, ট্রাম্পের নয়া প্রতিশ্রুতি
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। এই প্রস্তাবিত অর্থের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’। ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প এই ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে এমন অবস্থায় রয়েছে যে সরকার নাগরিকদের এই অর্থ দিতে সক্ষম। তবে এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে, কারা এর আওতায় পড়বেন কিংবা কবে থেকে অর্থ দেওয়া শুরু হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও পরিকল্পনা তিনি প্রকাশ করেননি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, দেওয়া অর্থ আমেরিকার মধ্যেই খরচ করতে হবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কোষাগারের উপর বিপুল আর্থিক চাপ পড়তে পারে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে মোট ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ফলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন। তা সত্ত্বেও রিপাবলিকানদের প্রচারে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবকে সামনে রাখছেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ভোটারদের এমনভাবে ভোট দিতে হবে যেন তিনিও ব্যালটে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থনের পরীক্ষা হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রিপাবলিকানদের প্রধান লক্ষ্য প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বিষয়গুলি ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি রিপাবলিকান প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডালাসের বক্তৃতায় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আমেরিকার নিরাপত্তার সামনে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল। সেই কারণেই সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে অর্থনীতির উপর তৈরি হওয়া চাপের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, সংঘাত শেষ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে পারে এবং তার প্রভাবে খাদ্যপণ্য-সহ অন্যান্য পণ্যের দামও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সাফল্য বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে হরমুজ প্রণালীর নাম নিজের নামে করার কথাও রসিকতার ছলে বলেন তিনি। একই মঞ্চ থেকে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে দেশ ভুল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পথে এগোবে। নভেম্বরের নির্বাচনকে আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সেনেটের একাংশের আসনে ভোট হবে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে কি না, তার উপর ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষমতাও অনেকাংশে নির্ভর করবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে অর্থের উৎস এবং বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বাস্তবে কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সরাফা বাজারে সস্তা হল সোনা, রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন নেই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি। দেশের ঘরোয়া সরাফা বাজারে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক লেনদেনে সোনার দামে পতনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, রুপোর দামে এদিনও কোনও পরিবর্তন হয়নি। চেন্নাই ছাড়া দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৯৭০ টাকা থেকে ১,০৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। চেন্নাইয়ে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,২৭০ টাকা থেকে ১,৩৮০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। দাম কমার পর দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৩০০ টাকা থেকে ১,৫৪,৪৫০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪১,৪৪০ টাকা থেকে ১,৪১,৫৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় দিল্লির সরাফা বাজারে এদিনও প্রতি কিলোগ্রাম রুপো ২,৪৯,৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৪৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৫৯০ টাকা। দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৩০০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪১,৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৩৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৪৯০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৩০০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪১,৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতাতেও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৩০০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৪৪০ টাকা। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,৩৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪১,৪৯০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৪৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪১,৫৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,৩৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪১,৪৯০ টাকা। লখনউয়ের সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৪৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪১,৫৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্নাটক, তেলেঙ্গানা এবং ওড়িশার সরাফা বাজারেও সোনার দামে পতনের প্রবণতা রয়েছে। এই তিন রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫৪,৩০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে এই তিন শহরে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪১,৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলা উচিত, মন্তব্য মার্কিন রাষ্ট্রপতির
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: হরমুজ প্রণালীকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। ইরানের সমালোচনায় সরব হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আমেরিকা জয়লাভ করলেই তেলের দাম কমে যাবে; আর আমরা সেই জয়ের পথেই আছি। আমার মনে হয় হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখা উচিত। আমি নিশ্চিত, এতে ইরানের নেতৃত্ব দারুণ খুশি হবে। অবশ্য আমার মনে হয় না তারা এ নিয়ে খুব একটা খুশি হবে। আসলে কোনও কিছুতেই তাদের খুশি হতে দেখি না। তাদের দেশটাই তো ভেঙে পড়ছে।” ট্রাম্প আরও বলেন, “এখন আমাদের দেশ রাশিয়া ও সৌদি আরবের সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি গ্যাস ও তেল উৎপাদন করছে। আমরাই এখন বিশ্বের বৃহত্তম (তেল উৎপাদনকারী)। আর এর মধ্যে ভেনেজুয়েলাও অন্তর্ভুক্ত—যাদের আমরা সবেমাত্র আমাদের এই ছোটখাটো মজুত ভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করেছি। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি। ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এখন আমাদের দখলে, আর জানেন তো এর মেয়াদ কত বলা হচ্ছে? কত দিন চলবে? ৫০০ বছর। আমাদের সম্পর্কটা চমৎকার।” ডালাসে আয়োজিত আরএনসি-র মধ্যবর্তীকালীন সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালে রিপাবলিকান পার্টি যদি সিনেট ও হাউস—উভয়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তবে তিনি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫,০০০ ডলারের লভ্যাংশ প্রদান করবেন।
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের বিনামূল্যের খাবার খেয়ে তিন দিনে অসুস্থ ১,৭০০-র বেশি
সকাল সকাল ডেস্ক জাকার্তা, ৪ সেপ্টেম্বর: ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি বিনামূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচি ঘিরে ফের উদ্বেগ। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ওই কর্মসূচির খাবার খেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১,৭০০-র বেশি পড়ুয়া ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শুধু মধ্য জাভা প্রদেশেই অসুস্থ হয়েছেন ৭৭৭ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্য জাভার লাসেম এলাকার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বুধবার বিনামূল্যের খাবার খাওয়ার পর ৭৫২ জন পড়ুয়া এবং ২৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ডায়রিয়া ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ওই দিনের খাবারে গ্রিল করা মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয়েছিল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জুহারতুতিক জানিয়েছেন, খাবার পরিবেশনের আগেই একজন পরীক্ষক মুরগির মাংসের কয়েকটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন। সেই অংশগুলি আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষকের দাবি, রান্নাঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁকে জানিয়েছেন, রাত প্রায় ৩টে নাগাদ মুরগির মাংস রান্না করা হয়েছিল। পরে দুপুরে সেই খাবার পড়ুয়াদের পরিবেশন করা হয়। অসুস্থদের অধিকাংশকেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে স্থানীয় চিকিৎসক জোকো পারিয়ান্তোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জন পড়ুয়া ও শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তিন দিনে একাধিক জায়গায় খাদ্যে বিষক্রিয়া মধ্য জাভার ঘটনার আগের দিন, মঙ্গলবার পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে একই কর্মসূচির খাবার খেয়ে ৬৬৪ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রান্নাঘরটি বুধবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই দিনে পূর্ব জাভার নগানজুক শহরে আরও ৪৯ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রার আগাম অঞ্চলে ২৩৭ জন খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন বলে জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উল্লেখ করে পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস জানিয়েছেন, পরপর ঘটে চলা এই ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যবস্থার ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রশ্নের মুখে বহু কোটি ডলারের প্রকল্প ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো গত বছর দেশের কোটি কোটি শিশুর পুষ্টির মান উন্নত করার লক্ষ্যে এই বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচি চালু করেন। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ১ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থা এই কর্মসূচির তদারকি করে। তবে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকেই একাধিক সমস্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। দুর্নীতির অভিযোগ ও পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় খাবার খেয়ে পড়ুয়াদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও বারবার ঘটেছে। খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্নার দীর্ঘ সময় পরে তা পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছনোকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্য জাভার সাম্প্রতিক ঘটনায় রাত ৩টে নাগাদ রান্না করা মুরগির মাংস দুপুরে পরিবেশন করা হয়েছিল বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিয়োনো পার্লামেন্টের শুনানিতে জানিয়েছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলিকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এদিকে গত জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের একটি জনমত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচি নিয়ে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা সন্তুষ্ট। অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বারবার খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা উঠে এসেছে। পরপর কয়েকটি ঘটনায় বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া ও শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন খাবার রান্না, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং গুণমান পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ভারতীয় সংস্থার কাছ থেকে গোলাবারুদ কেনা নিয়ে বিতর্ক, পদত্যাগ এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক তালিন: ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে গোলাবারুদ কেনার চুক্তি ঘিরে বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছেন এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকুর। প্রায় ৭ কোটি ইউরোর ওই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সরবরাহ করা গোলাবারুদের মান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এস্তোনিয়ার রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না—এমন একটি ভারতীয় সংস্থার কাছ থেকে কামানের গোলাবারুদ কেনার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছিলেন পেভকুর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উত্তর ইউরোপের বাল্টিক রাষ্ট্র এস্তোনিয়ায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিতর্কের কেন্দ্রে মূলত দুটি অভিযোগ রয়েছে। প্রথমত, সরবরাহ করা গোলাবারুদের মান প্রত্যাশিত পর্যায়ের ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ গোলাবারুদ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। পেভকুরের পদত্যাগের পর এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচার সংস্থা ইআরআর এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি বিতর্ককে ‘প্রতিরক্ষা ক্রয় কেলেঙ্কারি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও পেভকুর দাবি করেছেন, এই ঘটনার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নন। বিতর্কিত চুক্তির সঙ্গে ভারতের পাশাপাশি একটি ইতালীয় সংস্থার নামও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই চুক্তির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ডেটাসেল’ নামে একটি ছোট ইতালীয় সংস্থা। সংস্থাটি ভারতের নেকো গ্রুপের মালিকানাধীন বলে জানা গিয়েছে। নাগপুরের জয়স্বাল পরিবারের সঙ্গে ওই শিল্পগোষ্ঠীর যোগ রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এস্তোনিয়াকে সরবরাহ করা গোলাবারুদ সরাসরি ভারতে তৈরি হয়েছিল, নাকি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী সংস্থা অন্য কোনও দেশ থেকে তা সংগ্রহ করে এস্তোনিয়ায় পাঠিয়েছিল—সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে গোলাবারুদের উৎপত্তি এবং সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ঘটনাটি ভারতের কয়েক দশক আগের বফর্স বিতর্কের স্মৃতিও উস্কে দিয়েছে। সুইডিশ সংস্থা বফর্সের কাছ থেকে কামান কেনার চুক্তিতে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আশির দশকের শেষদিকে ভারতে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং রাজীব গান্ধী সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। যদিও বফর্স বিতর্ক এবং বর্তমান এস্তোনিয়ার গোলাবারুদ ক্রয় সংক্রান্ত ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ সম্পূর্ণ আলাদা। এস্তোনিয়ার বর্তমান বিতর্কে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া, গোলাবারুদের গুণমান এবং সরবরাহকারী সংস্থা নির্বাচনের পদ্ধতির উপর। তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনায় কী তথ্য সামনে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে এই প্রতিরক্ষা ক্রয় বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।
হরমুজে আমেরিকার সমর্থনে সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে দক্ষিণ কোরিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক সিওল, ৪ সেপ্টেম্বর: হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে আমেরিকাকে সহায়তার জন্য সেখানে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ‘দ্য কোরিয়া হেরাল্ড’-এর শুক্রবারের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতর চিয়ং ওয়া দে-র এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওই আধিকারিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানান, কোরীয় উপদ্বীপে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করেই সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেটিবিসি জানিয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়া সরকার হরমুজ প্রণালীতে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমনকী, সেনা মোতায়েনের অনুমোদন চেয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রস্তাব পেশ করতেও বেশি সময় লাগবে না বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্টের দফতরের ওই আধিকারিক জানান, সরকার এখনও কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ সামুদ্রিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া বাস্তব ও সামরিক অবদান রাখবে বলে সিওলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। আধিকারিক বলেন, “এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমরা সমস্ত বিকল্প বিবেচনা করছি।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সংঘাতের পরিস্থিতিতেও আমেরিকার পাশে দাঁড়াতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালীতে দক্ষিণ কোরিয়ার যে কোনও ধরনের ‘বাস্তব অবদান’-এর আগে কোরীয় উপদ্বীপে দেশের সামরিক প্রস্তুতির উপর তার সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, “কোরীয় উপদ্বীপে আমাদের সামরিক প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমাদের ধারণা, এই পদক্ষেপের ফলে যদি কোরীয় উপদ্বীপে আমাদের সামরিক প্রস্তুতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব না পড়ে, তাহলে কিছুটা সুযোগ থাকতে পারে।” তবে সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ আইনও বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশটির সংবিধানের ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে বিদেশে মোতায়েনের জন্য ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সম্মতি প্রয়োজন। ওই আধিকারিক বলেন, “অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া বলতে শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের সম্মতি নেওয়াকেই বোঝায়। আমরা এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।” কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো ডু জিন-হো মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক জোট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা পাওয়ার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে সিওল। ডু বলেন, “এই মুহূর্তে কেন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে? মনে হচ্ছে, সরকার মনে করছে কোনও ধরনের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। আমার ধারণা, জোটে আরও বেশি অবদান রাখার বার্তা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে বর্তমান জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে সরকার।” শুক্রবার প্রেসিডেন্টের দফতরের ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিকও স্বীকার করেন, বছরের শুরুতে কিছুটা অগ্রগতি হলেও দুই দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা ফের জটিলতার মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, “মে মাসের কাছাকাছি সময়ে আলোচনা আবার সঠিক পথে ফিরেছিল এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আবার কঠিন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি বিষয় জড়িত রয়েছে।” চিয়ং ওয়া দে আগেই স্বীকার করেছিল, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা কার্যত থমকে ছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল আমেরিকায় নথিভুক্ত ই-কমার্স সংস্থা কুপ্যাং-কে ঘিরে বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার তদন্ত থেকে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। মে মাস নাগাদ দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ফের শুরু হয়। এরপর জুনের শুরুতে পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিধান নিয়ে উভয় পক্ষ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করে।
১০ দিন পর নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার ব্যক্তি
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু, : নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার সময় প্রকল্পটির সুড়ঙ্গের ভিতরে কয়েকজন আটকে পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযানের সময় তাঁদের মধ্যে একজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে নেপালের সেনাবাহিনী। শুক্রবার নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলাকালীন সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে কারওর ক্ষীণ আওয়াজ শুনে সেখানে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়। দীর্ঘ ১০ দিন পর সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় ঘটনাটিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে উদ্ধারকারী দল।
ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরানোই সমস্যার একমাত্র সমাধান: ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ
সকাল সকাল ডেস্ক তেল আবিব। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ বলেছেন, ইজরায়েল এখনও ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায়। তাঁর দাবি, ওই এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানো ছাড়া গাজা সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়। ইজরায়েল এখনও এই লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত শুধু এই পরিকল্পনাটি স্থগিত রেখেছেন। মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিকল্পনাকে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা কোনও নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী কিংবা সম্প্রদায়ের মানুষকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াই নেট’-এর একটি সম্মেলনে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কাটজ। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিরা গাজা থেকে সরে গেলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” কাটজের দাবি, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদের শুরুতেই ইজরায়েলের এই ভাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এমনকি একসময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পর আমেরিকা ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং সেই ভূখণ্ডের মালিক হবে। কাটজ বলেন, ইজরায়েল গাজার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত। তবে মিশর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে। তাঁর বক্তব্য, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে ইচ্ছুক অন্য দেশগুলির মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন এই প্রস্তাব পুরোপুরি পরিত্যাগ করেনি। কাটজ বলেন, “এই মুহূর্তে ট্রাম্প পরিকল্পনাটি বাতিল করেননি, তিনি শুধু স্থগিত রেখেছেন।” তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। কাটজের মতে, এই পরিকল্পনা সকলের জন্যই ভালো হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য আমেরিকার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, গত তিন বছরে আমেরিকা ইজরায়েলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চেও ইজরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে গাজায় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনাও রয়েছে।