সৌদির তিন শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, আহত ১৩
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াদ: সৌদি আরবের তিনটি শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফ শহরের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার জোটের এক মুখপাত্র জানান, হামলায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ১৩ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত সাতটি বাড়ি এবং দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের পরিচয় কিংবা তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, হুতিরা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক স্থাপনা নিশানা করেছে। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার বা জোটের অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে নতুন করে সংঘর্ষ বৃদ্ধির মধ্যেই সৌদি ভূখণ্ডে এই হামলার খবর সামনে এল। ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের পাশাপাশি লোহিত সাগরের উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সংঘাত তীব্র হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘর্ষের পর ২০২২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে বড় ধরনের লড়াই অনেকটাই কমে আসে। তবে সম্প্রতি পশ্চিম ইয়েমেনে হুতিদের নতুন অগ্রযাত্রার দাবি সেই তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিকে ফের অনিশ্চিত করে তুলেছে। হুতিরা কৌশলগত বন্দর শহর মোখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত মায়ুন বা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য এবং জ্বালানি পরিবহণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ ব্যবহার করে। ফলে সেখানে সংঘর্ষ বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও হুতি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর। এর পাল্টা হিসেবেই সৌদি আরবের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে বলে জোটের অভিযোগ। এর সঙ্গে ইরান ও আমেরিকার চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালি, অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব—বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের তিন শহরে সাম্প্রতিক হামলা ইয়েমেনের সংঘাত ফের আঞ্চলিক স্তরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেন নয়, লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহণের উপরও পড়তে পারে।
রুশ তেল কেনায় বাড়তে পারে চাপ, ভারত-সহ ১০ দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকায়
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ফের বড় ধরনের বাণিজ্যিক চাপ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া ও ইরান সংক্রান্ত একটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিলে নতুন কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সংশোধনীতে ভারত-সহ ১০টি দেশের নাম উল্লেখ করে তাদের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আর একটি সংশোধনীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া সংক্রান্ত ধারাই বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে। ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ নামে বিলটি গত ৭ আগস্ট মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাশ হয়। রাশিয়ার নেতৃত্ব এবং জ্বালানি ক্ষেত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার পাশাপাশি মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে এতে। ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলতে এমন জাহাজের নেটওয়ার্ককে বোঝানো হয়, যেগুলি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে পশ্চিমী দেশগুলির অভিযোগ। ওয়াশিংটনের দাবি, অপরিশোধিত তেল রফতানি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়াকে সাহায্য করছে। সেই কারণেই রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিলের একটি ধারায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। মূল প্রস্তাবে নির্দিষ্ট কোনও দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বরং রুশ তেল ও গ্যাস আমদানির পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। এবার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ার একটি সংশোধনী প্রস্তাবে নির্দিষ্ট ১০টি দেশের নাম যুক্ত করেছেন। তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান। সোমবার মার্কিন হাউস রুলস কমিটির সামনে সংশোধনীটি প্রকাশ্যে আসে। তবে সংশোধনী প্রস্তাবে ভারতের নাম থাকার অর্থ এই নয় যে ভারতের উপর ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে গিয়েছে। প্রস্তাবটি আইনি প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ অতিক্রম করার পর কার্যকর হওয়ার প্রশ্ন আসবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থার বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস পৃথক একটি সংশোধনী এনে বিলের ১১৩ নম্বর ধারা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই ধারাতেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মিকসের আর একটি সংশোধনীতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেই সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও পরিষেবা কেনার জন্য ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সরাসরি ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। ফলে বিলটির চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংশোধনীগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত এবং বিলটি পাশ হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপ সামনে আসবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে। ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ভারত অবশ্য ধারাবাহিকভাবে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে। এখন নজর মার্কিন কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সংশোধনীটি গৃহীত হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বজায় রাখা দেশগুলির উপর নতুন করে বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে ভারত-সহ ১০টি দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এখনও প্রস্তাবের স্তরেই রয়েছে।
এআই নিয়ে আতঙ্ক ‘ভাঁওতা’, এনভিডিয়ার মঞ্চে ফোনে বার্তা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক লস অ্যাঞ্জেলেস: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন সেই আশঙ্কাকে কার্যত ‘ভাঁওতা’ বলে উড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘অল-ইন সামিট’-এর একটি প্যানেল আলোচনার মাঝেই এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের ফোনে সরাসরি কল করেন ট্রাম্প। মঞ্চেই সেই ফোনালাপে এআই-এর অগ্রগতি, নিরাপত্তা এবং আমেরিকার প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, এআই-এর উন্নয়নের গতি কমানোর যে দাবি উঠছে, তার পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সুবিধা পেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতায় আমেরিকার অগ্রগতি থামানোর চেষ্টা করলে তার সুবিধা পাবে তারাই, যারা এআই ক্ষেত্রে আমেরিকাকে এগিয়ে যেতে দিতে চায় না। ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন করেন জেনসেন হুয়াংও। তাঁর মতে, এআই-এর দ্রুত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাকে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে দেখা ঠিক নয়। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বজায় রেখেও ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা করা সম্ভব। তবে এআই নিয়ে সতর্ক করা গবেষকদের বক্তব্য পুরোপুরি খারিজ করেননি এনভিডিয়ার প্রধান। অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন তিনি। হুয়াংয়ের বক্তব্য, কোনও প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকে কেউ গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করলে তাঁর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। সম্প্রতি এআই-এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে প্রযুক্তি মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের পর কক্সন দাবি করেন, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই-সহ বড় এআই সংস্থাগুলি এমন শক্তিশালী প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যার ঝুঁকি ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সংস্থাগুলি। এই বিতর্কের মধ্যেই অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোডেই একটি দীর্ঘ প্রবন্ধে এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এআই নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রযুক্তি শিল্পের একাংশেও উদ্বেগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এর প্রভাব শেয়ার বাজারেও পড়েছে। এআই ক্ষেত্রে বিনিয়োগের গতি কমতে পারে—এই আশঙ্কায় সোমবার একাধিক মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারে চাপ দেখা যায়। এনভিডিয়ার শেয়ারও ৩.৪ শতাংশ কমেছে। এআই মডেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত চিপের অন্যতম প্রধান নির্মাতা হিসেবে গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে এআই পরিকাঠামো নির্মাণের জোয়ারে সবচেয়ে বেশি লাভবান সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে এনভিডিয়া। অন্যদিকে, ট্রাম্প বরাবরই আমেরিকায় এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণের পক্ষে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বাধা দেওয়ার সমালোচনাও করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি হলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি রাজ্যগুলিও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এআই-কে আগামী দিনের বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবেও তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরে অর্থনীতির ক্ষেত্রে এআই ‘তেলের’ মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি এআই-এর সম্ভাবনা ইন্টারনেটের থেকেও বড় বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে এআই-এর ভবিষ্যৎ ঘিরে প্রযুক্তি দুনিয়ায় মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে একাংশের গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ শক্তিশালী এআই তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি তুলছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য, অতিরিক্ত আশঙ্কা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দ্রুত উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটাই এখন এআই দুনিয়ার অন্যতম বড় প্রশ্ন।
বালুচিস্তানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, পিশিনে নিহত ছয়
সকাল সকাল ডেস্ক পিশিন। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের পিশিন জেলার সারানান এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছয় জঙ্গিকে হত্যা করার দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আধিকারিকদের দাবি, নিহতরা সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা এবং এলাকায় বিভিন্ন হিংসাত্মক কার্যকলাপে জড়িত একটি নিষিদ্ধ বালুচ জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বালুচিস্তানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বালুচিস্তান পালস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট সারানান এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি সড়কে কর্মরত শ্রমিকদের উপর হামলার পর এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, ওই হামলায় প্রথমে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। পৃথক একটি গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত আরও এক শ্রমিক পরে মারা যান। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে পৌঁছয় বলে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, গোয়েন্দা সূত্রে সারানান এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতি ও তাদের গতিবিধির খবর পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই হয়। তাতে ছয় জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, নিহত জঙ্গিরা সাধারণ নাগরিকদের নিশানা করা ছাড়াও ওই অঞ্চলে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে পিশিন এবং সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বেড়েছে। সারানানে শ্রমিকদের উপর হামলার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করেও একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২০ আগস্ট নিষিদ্ধ বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ সারানানের কয়েকটি অংশ এবং সরকারি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছিল। যদিও ওই দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই হয়নি। ফলে আপাতত এটিকে সংগঠনটির নিজস্ব দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বালুচিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। চাগাই, মাস্তুং, খারান, ওয়াশুক-সহ একাধিক জেলায় সাম্প্রতিক অভিযানগুলিতে কথিত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। পিশিনের এই অভিযানকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ সাধারণ শ্রমিকদের উপর হামলার পরই অভিযানটি চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের বক্তব্য, জঙ্গি হিংসা এখন শুধু নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ নাগরিক এবং ওই অঞ্চলে চলা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও তা গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে স্থানীয় স্তরে প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ নাগরিকদের নিশানা করা থেকে আটকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
চিনের হুঁশিয়ারি পানামা ও আমেরিকাকে, তাইওয়ান ইস্যুতে ‘সীমা অতিক্রম’ না করার বার্তা
সকাল সকাল ডেস্ক বেজিং। তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ এবং চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলির মধ্যে যে কোনও ধরনের সরকারি যোগাযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে চিন। বেজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও বহিরাগত শক্তিকে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি পানামার কয়েকজন সাংসদ তথাকথিত ‘পানামা-তাইওয়ান সংসদীয় বিনিময় গোষ্ঠী’ গঠন করেছেন বলে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সাংসদেরাও ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তবে পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এই বিষয়ে জানিয়েছেন, দেশের বিদেশনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকারের নির্বাহী বিভাগের। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনও সাংসদের তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অর্থ এই নয় যে পানামা সরকার সেই পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। গুও জিয়াকুন বলেন, বিশ্বে একটিই চিন রয়েছে এবং তাইওয়ান চিনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাইওয়ান ইস্যুতে বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করার জন্য কয়েকজন রাজনীতিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এই বিষয়ে ‘সীমা অতিক্রম’ করলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তথাকথিত সংসদীয় বিনিময় গোষ্ঠী গঠনকে ‘এক চিন’ নীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পানামা সরকারের বক্তব্য চিনের নজরে এসেছে। বেজিং আশা করে, চিন-পানামা সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি বজায় রাখতে পানামা বাস্তব পদক্ষেপ করবে এবং ‘এক চিন’ নীতির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানাবে। এই ঘটনায় আমেরিকাকেও সতর্ক করেছে চিন। গুও জিয়াকুন আমেরিকাকে ‘এক চিন’ নীতি এবং চিন ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি যৌথ বিবৃতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র পক্ষে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলিকে ভুল বার্তা দেওয়া বন্ধ করতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেজিং। পাশাপাশি চিন-পানামা সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা বা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগের বিরোধিতা করে আসছে চিন। বেজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজস্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চিন ও আমেরিকার মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে।
ইরানে ভেঙে পড়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান, আহত অবস্থায় ৫০ ঘণ্টা আত্মগোপন করে বাঁচলেন আধিকারিক
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভেঙে পড়েছিল মার্কিন বায়ুসেনার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান। প্রাণ বাঁচাতে বিমান থেকে ইজেক্ট করেছিলেন দুই সেনা আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বিমানের ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার প্রায় ৫০ ঘণ্টা ইরানের ভূখণ্ডে আটকে ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে এবং ইরানি বাহিনীর নজর এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করে মার্কিন বাহিনী। গত ২ এপ্রিলের ওই অভিযানে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের মিশন কল সাইন ছিল ‘ড্যুড ৪৪ ব্রাভো’। নিরাপত্তার কারণে তাঁর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলটের কল সাইন ছিল ‘আলফা’। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইস্ফাহানের দক্ষিণে একটি পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছিল এফ-১৫ই বিমানটি। লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনার কাছাকাছি কয়েকটি শিল্পাঞ্চল। সেই সময় বিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ব্রাভোর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। আচমকা প্রবল আঘাতে বিমানটির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। বিমানটিকে রক্ষা করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পাইলট এবং ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার দু’জনেই ইজেক্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। পাইলট আলফা নিরাপদে মাটিতে নামার পর প্রায় ছ’ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার হন। কিন্তু ব্রাভোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি কঠিন। তাঁর দাবি, ইজেক্ট করার পর প্যারাশুটে সমস্যা দেখা দেয়। মাটিতে পড়ার সময় তিনি গুরুতর আহত হন। পিঠ, হাত ও কাঁধে আঘাত পান বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর নিজেকে একটি গভীর উপত্যকার মধ্যে আবিষ্কার করেন ব্রাভো। একদিকে গুরুতর শারীরিক আঘাত, অন্যদিকে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা—এই পরিস্থিতিতে এলাকা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আহত অবস্থাতেই প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন ওই মার্কিন আধিকারিক। নিরাপদ একটি পাহাড়ি খাঁজে পৌঁছে আত্মগোপন করেন।
এআই নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতির পক্ষে ওবামা, সতর্ক করলেন সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির জন্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এআই নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন ওবামা। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রটি অত্যন্ত দ্রুত বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। উপযুক্ত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে এআই নীতি নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির জন্য হাউসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসকে পরামর্শ দিয়েছেন ওবামা। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের এআই নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিতে এই প্রযুক্তির প্রভাব মোকাবিলায় স্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এআই-এর দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রযুক্তি জগতের অন্দরেও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নত এআই ব্যবস্থার আচরণ, তার উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষকদের একাংশ সতর্ক করেছেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের প্রধান দারিও আমোদেই। এআই ব্যবস্থার সক্ষমতা যে গতিতে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্ক হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, উন্নত মডেল তৈরির গতি কিছুটা কমিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতির জন্য আরও সময় নেওয়া প্রয়োজন। এআই নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীন বা তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের গুরুত্বও সামনে এসেছে। উন্নত মডেল সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগে তার নিরাপত্তা, সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার দাবি জোরালো হচ্ছে। এআই নিয়ে এই উদ্বেগ প্রযুক্তি শিল্পের অন্যান্য শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ওপেনএআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই-এর কর্ণধার ইলন মাস্কও অতীতে উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে অত্যন্ত শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা যদি নিজের সক্ষমতা আরও দ্রুত উন্নত করতে পারে, তবে মানুষের পক্ষে তার কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি সাইবার হামলা, ভুয়ো তথ্য ছড়ানো, প্রতারণা, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের উপর প্রভাবের মতো তাৎক্ষণিক ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে এআই নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গতি বজায় রেখেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
রুশ ড্রোন হামলার মধ্যে ইউক্রেন ছাড়লেন বরিস জনসন, সীমান্তে বাড়ল উদ্বেগ
সকাল সকাল ডেস্ক কিয়েভ: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন সফর শেষে পোল্যান্ডে যাওয়ার পথে রুশ ড্রোন হামলার কারণে সাময়িকভাবে থামাতে হল ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে বহনকারী ট্রেন। ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। ঘটনায় জনসন-সহ কোনও যাত্রীর ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। সূত্রের খবর, ইউক্রেন সফর শেষে ‘ইয়ালটা ইউরোপিয়ান স্ট্র্যাটেজি’ বা ‘ইয়েস’ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিয়েভ থেকে পোল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন জনসন। একই ট্রেনে ছিলেন সুইডেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট, জার্মান চ্যান্সেলরের উপদেষ্টা গুন্টার সাউটার-সহ ইউরোপের কয়েকজন কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা আধিকারিক। ট্রেনটি ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এবং পোল্যান্ডের দোরোহুস্ক সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর সময় রুশ ড্রোন হামলার খবর আসে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিছু সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর ফের তাঁদের ট্রেনে তোলা হয় এবং যাত্রা শুরু হয়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বরিস জনসন বা তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কোনও প্রতিনিধির ক্ষতি হয়নি। তবে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পোল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও হামলাটি ইউক্রেনের ভূখণ্ডের মধ্যেই হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর রাশিয়ার সমালোচনা করে ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন জনসন। বিশেষ করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহের কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পশ্চিমী দেশগুলিতে বাজেয়াপ্ত রুশ সম্পদ ইউক্রেনকে সহায়তার কাজে ব্যবহারের পক্ষেও মত দেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কিও রাশিয়ার হামলার সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক হামলা শুধু ইউক্রেন নয়, ইউরোপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ট্রেনটিকেই উদ্দেশ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ইউক্রেনের রেল ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের অসামরিক এলাকাও রুশ বাহিনীর হামলার লক্ষ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে ট্রেনটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে রাশিয়ার তরফে কোনও স্বীকারোক্তি সামনে আসেনি। ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তের কাছে এই ড্রোন হামলা নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে একই সময়ে ইউরোপের একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ওই এলাকায় থাকায় ঘটনাটি কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনও হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা বাড়লে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির প্রতিক্রিয়া কী হবে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন,। আমেরিকায় ডিজেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলিতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রাশিয়া টুডে (আরটি)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকায় ডিজেলের জাতীয় গড় মূল্য চলতি সপ্তাহে প্রথমবার প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার অতিক্রম করেছে। শুক্রবার দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারের বেশি ছিল। এক সপ্তাহ আগে তা ছিল প্রায় ৫.৮৫ ডলার। গত বছরের একই সময়ে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি গ্যালনে প্রায় ৩.৭১ ডলার। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। রাশিয়ায় ডিজেল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা না চালানোর জন্য ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনের সামনে আরও অনেক লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু ডিজেল ও জ্বালানি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনায় হামলা হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে তার প্রভাব পড়তে পারে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন যে, ডিজেলের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা। পরিবর্তে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর ইউক্রেনের হামলাকেই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পিছনে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বেড়ে চলা উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। তবে উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের তুলনায় পেট্রোলের উপর এসব হামলার প্রভাব বেশি পড়েছে। দেশীয় বাজারে জ্বালানির ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান দাম মোকাবিলায় রাশিয়া পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ডিজেল রপ্তানির উপর আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। পরে পেট্রোল উৎপাদকদের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের পরিধি বাড়ানো হয়। ডিজেল রপ্তানির উপর বর্তমান নিষেধাজ্ঞা সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। আমেরিকায় ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহণ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি যন্ত্রপাতি, পণ্যবাহী ট্রাক এবং মালবাহী ট্রেনের একটি বড় অংশ ডিজেলের উপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব কৃষি উৎপাদন, খাদ্য পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার খরচের উপর পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের মোট খরচের মধ্যে জ্বালানির অংশ অঞ্চল ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। ডিজেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্তরে থাকলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব আমেরিকার সাধারণ উপভোক্তাদের পকেটেও পড়তে পারে। ডিজেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২১
সকাল সকাল ডেস্ক কেপ টাউন, ১৪ সেপ্টেম্বর। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। লিউ-গামকা ও প্রিন্স অ্যালবার্টের মধ্যবর্তী একটি মহাসড়কে দুটি মিনিবাস ট্যাক্সি এবং একটি এসইউভির মধ্যে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন (আরটিএমসি) জানিয়েছে, রবিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ২১ জন প্রাণঘাতী আঘাত পান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর মহাসড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়। পুলিশ দুর্ঘটনার ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনায় আহত আরও বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেপ টাউন থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং সিট বেল্ট ব্যবহার না করাকে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরটিএমসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ হাজার ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা পাঁচ শতাংশেরও কম হ্রাস পেয়েছিল। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন পথচারীরা।