পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান ভেঙে পড়ে ১৩ জনের মৃত্যু
সকাল সকাল ডেস্ক নাজকা (পেরু): দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান ভেঙে পড়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন পাইলট এবং ১১ জন যাত্রী। শনিবার (স্থানীয় সময়) বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নাজকা লাইনস-এর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। পেরুর নাজকা প্রদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন পর্যটক এবং ২ জন পাইলট রয়েছেন। নাজকা শহরের কাছে ‘পুয়েবলো ভিয়েখো’ এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিমানটি পেরুর বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘এরোডায়না’-র ছিল। পিসকো বিমানবন্দর থেকে বিমানটি পর্যটকদের আকাশপথে নাজকা লাইনস ঘুরিয়ে দেখানোর উদ্দেশ্যে ওড়ে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মাথায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিমানে থাকা কোনও আরোহীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি প্রশাসন।
ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত, আলোচনার অগ্রগতির কথা জানালেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন : ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতার খসড়া তৈরি হওয়ায় আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য হল দ্রুত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা-ঝুঁকি দূর করা। ট্রাম্প আরও জানান, এই সিদ্ধান্তে ইজরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশ প্রস্তুত। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তর স্বার্থ, পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইরানের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই তিনি হামলার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে যদি খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হয়।
সরাফা বাজারে বাড়ল সোনার দাম, অপরিবর্তিত রইল রুপোর মূল্য
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সরাফা বাজারে সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। তবে রুপোর দামে আজ কোনও পরিবর্তন হয়নি। বাজারভেদে ১০ গ্রাম সোনার দাম ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দামের এই বৃদ্ধির ফলে দেশের অধিকাংশ বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৬১০ টাকা থেকে ১,৪৪,৭৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩২,৫৬০ টাকা থেকে ১,৩২,৭১০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে, রুপোর দাম অপরিবর্তিত থেকে দিল্লি বাজারে প্রতি কেজি ২,৩৪,৯০০ টাকা রয়েছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৭৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩২,৭১০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৪,৬১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৫৬০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে। আমদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৪,৬৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩২,৬১০ টাকা। একইভাবে চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৬১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩২,৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জয়পুর ও লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৪,৭৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩২,৭১০ টাকা। ভোপাল ও পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার মূল্য ১,৪৪,৬৬০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৩২,৬১০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ার প্রভাবেই দেশীয় বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তবে রুপোর বাজারে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রয়েছে।
সেউতায় অভিবাসী সংকট তীব্র, ৫৭ জনের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ: মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় অন্তত ৫৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। অনেকেই সমুদ্রপথে সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করেন। তবে কীভাবে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেউতার সিভিল গার্ডের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রশিদ সাবিহি পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ মানবিক সংকট’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বহু মানুষ সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া সীমান্তের তারাজাল এলাকায় পদদলিত হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অভিভাবকহীন শিশু-সহ হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে ভিড় নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে একটি বাস ও একাধিক গাড়ি পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। স্পেন সরকার মনে করছে, সাম্প্রতিক একটি আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে মানবপাচারকারী চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্তে জড়ো হয়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন সেউতার পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পেনের সীমান্ত সুরক্ষা নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্সও স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যদিকে, সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই। তবে সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত জনবল ও সহায়তা পাঠানো হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে নতুন দাবি, হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘নীতি লঙ্ঘনকারী’ দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলোর অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারটি জাহাজ তাদের নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। আইআরজিসির দাবি, জাহাজগুলো মার্কিন সামরিক সুরক্ষায় একটি ‘অঘোষিত রুট’ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তবে এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের পর অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত। শুক্রবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে প্রাচীন বিউফোর্ট দুর্গের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর টানেল ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এই হামলা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভেঙে পড়ল মার্কিন এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পাইলট
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যালিফোর্নিয়া: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামারে শুক্রবার মার্কিন মেরিন কর্পসের অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ঠিক আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর তাতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও জরুরি পরিষেবার দল। মার্কিন সেনাবাহিনী এই ঘটনাকে ‘ক্লাস-এ’ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা সামরিক বিমান দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন মেরিন কর্পস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি থার্ড মেরিন এয়ারক্রাফট উইং-এর মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ-১১-এর অন্তর্গত ছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইলটকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং গুরুতর কোনও আঘাত লাগেনি বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রানওয়ের পাশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষে আগুন জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। বিমানটি ভেঙে পড়ার ফলে আশপাশের ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সান দিয়েগো দমকল বাহিনী বিশেষ অভিযান চালায় এবং ফায়ার রিটার্ডেন্ট ব্যবহার করে আগুন নেভায়। তবে মাটিতে থাকা কোনও ব্যক্তি আহত হননি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এফ-৩৫বি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান। অল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উল্লম্বভাবে অবতরণ করার বিশেষ ক্ষমতার জন্য এটি পরিচিত। মূলত মার্কিন মেরিন কর্পস এই যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে। একটি এফ-৩৫বি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামার একসময় মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’ নামেও এই ঘাঁটি পরিচিত। ১৯৯৬ সালে এটি মেরিন কর্পসের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাল এয়ার স্টেশন লেমুরের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমানও দুর্ঘটনায় পড়েছিল। সেই ঘটনাতেও পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও বিমানটি একটি কৃষিজমিতে পড়ে আগুনে পুড়ে যায়।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ফের ট্রাম্পের দাবি, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নাকচ ভারতের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে ফের বিতর্কিত দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য বৃহত্তর সামরিক সংঘাত ঠেকাতে তাঁর প্রশাসন উভয় দেশকে উচ্চ হারে শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তবে ভারত পুনরায় স্পষ্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষবিরতি সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগের ফল এবং এতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মুখে ছিল। সেই সময় তিনি দুই দেশকেই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরু হলে ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তাঁর দাবি, প্রথমে উভয় দেশই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও পরে তারা সংঘাতে না জড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কারণ তাঁর হস্তক্ষেপে এমন একটি সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারত। তবে ভারত সরকার বরাবরের মতোই এই দাবি খারিজ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয় পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের অনুরোধ জানানোর পর। এতে কোনও বিদেশি মধ্যস্থতার ভূমিকা ছিল না। এছাড়া সংঘর্ষে ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ট্রাম্পের দাবিও নাকচ করেছে ভারত। সরকারি সূত্রের দাবি, এই বক্তব্যের কোনও সরকারি ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ মে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি, লঞ্চপ্যাড এবং পরিকাঠামো লক্ষ্য করে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। লক্ষ্যভেদ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ১০ মে পাকিস্তানের ডিজিএমও-র অনুরোধে দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে অভিযান স্থগিত করা হয়। ভারত পুনর্ব্যক্ত করেছে, অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত, সামরিক অভিযান শুরু থেকে স্থগিত করা পর্যন্ত, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনভাবে এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে।
টানা তৃতীয় দিন ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজার, একদিনে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বাড়ল প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও টানা তৃতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করল দেশের শেয়ার বাজার। শুক্রবারের লেনদেন শেষে বিএসই সেনসেক্স ১৬৬.৪৯ পয়েন্ট বা ০.২১ শতাংশ এবং এনএসই নিফটি ৬৬.৪৫ পয়েন্ট বা ০.২৭ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে। বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। দিনের শুরুতে সেনসেক্স ৭০.৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৯৯৮.৬৬-এ খুললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রির চাপে ৭৭,৮০৯.৯৩-এ নেমে যায়। পরে ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচক ঘুরে দাঁড়িয়ে দিনের সর্বোচ্চ ৭৮,২৭২.২৫ পর্যন্ত ওঠে। শেষ পর্যন্ত ১৬৬.৪৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি নিয়ে ৭৮,০৯৪.৬৪-এ লেনদেন শেষ করে। অন্যদিকে, নিফটি ২৪,৩৬১.৪৫-এ লেনদেন শুরু করে। প্রথম দিকে বিক্রির চাপে সূচক ২৪,২৯৯.৭০ পর্যন্ত নেমে গেলেও পরে ক্রয়চাপ বাড়ায় ২৪,৪২৯.৪০-এর উচ্চতায় পৌঁছায়। দিনের শেষে নিফটি ২৪,৩৮৩.৬০ পয়েন্টে বন্ধ হয়। খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্থান দেখা যায় মিডিয়া খাতে। নিফটি মিডিয়া সূচক প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া অটোমোবাইল, তেল ও গ্যাস এবং জ্বালানি খাতেও শক্তিশালী কেনাকাটা দেখা যায়। অটো সূচক ১.৬৪ শতাংশ, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সূচক ১.০১ শতাংশ এবং এনার্জি সূচক ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়। পাশাপাশি ব্যাংকিং, ক্যাপিটাল গুডস, স্বাস্থ্য, ধাতু এবং সরকারি সংস্থার শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। নিফটি আইটি সূচক ১.৫৬ শতাংশ এবং বিএসই টেক সূচক ০.৭৩ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া এফএমসিজি ও কনজিউমার ডিউরেবলস খাতও দিনের শেষে নিম্নমুখী ছিল। বৃহত্তর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। নিফটির মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ—উভয় সূচকই ০.৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছে। বাজারে এই উত্থানের ফলে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৫.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৪৮৪.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একদিনেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদে প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। দিনভর লেনদেনে এনএসই-তে মোট ২,৯৮৯টি শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১,৮৪২টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ১,১৪৭টি শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্সের ৩০টি শেয়ারের মধ্যে ১৬টি এবং নিফটির ৫০টি শেয়ারের মধ্যে ২৯টি শেয়ার লাভের মুখ দেখেছে। দিনের সেরা লাভকারী শেয়ারগুলির মধ্যে ছিল বাজাজ ফাইন্যান্স (৮.৩২%), বাজাজ ফিনসার্ভ (৬.২৭%), জিও ফিনান্সিয়াল (৩.৮৫%), মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা (৩.৫০%) এবং আদানি পোর্টস (১.৯৫%)। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে টিসিএস (২.৭২%), এটার্নাল (২.৬৪%), ম্যাক্স হেলথকেয়ার (২.৩৪%), ইনফোসিস (২.১৬%) এবং উইপ্রো (১.৪৪%)-এর শেয়ারে।
রাশিয়ার ক্যানসার টিকায় আশার ইঙ্গিত, প্রথম রোগীর শরীরে ইতিবাচক ফলের দাবি গবেষকদের
সকাল সকাল ডেস্ক রাশিয়ায় উদ্ভাবিত এমআরএনএ-ভিত্তিক ক্যানসার টিকার প্রাথমিক ফল আশাব্যঞ্জক বলে দাবি করেছেন দেশটির গবেষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, টিকাটি গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বৃহত্তর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। টিকাটির উন্নয়নে যুক্ত গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দর গিনজবার্গ রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি-কে জানান, প্রথম রোগীর শরীরে এমন সক্রিয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যা টিউমার এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার কোষের (মেটাস্টেসিস) বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশীয়ভাবে তৈরি দুটি ক্যানসার চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটি উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি কলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি পেপটাইড-ভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবার মানবদেহে নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে টিকাটি দেওয়া হয় ৬০ বছর বয়সী এক রোগীকে, যিনি তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারে আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। গিনজবার্গ জানিয়েছেন, ওই রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাঁর রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া এবং শারীরিক অবস্থার উপর নিবিড় নজর রাখা হবে। এদিকে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক মেলানোমা টিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেই টিকাগুলি প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজি-র প্রধান আন্দ্রে কাপরিনের মতে, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি এই পদ্ধতির লক্ষ্য রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে পারে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রথমে রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য পৃথকভাবে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে সহায়তা করে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, কলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি অনকোপেপ্ট গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাশাপাশি গামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বৃহৎ পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
সিউটায় অভিবাসীদের ঢল, চাপে স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তা; সমুদ্রপথে প্রাণ হারালেন ৯ জন
সকাল সকাল ডেস্ক মরক্কো থেকে স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশে নতুন করে ইউরোপের অভিবাসন সংকট সামনে এল। বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে সিউটায় ঢুকে পড়ায় কার্যত চাপে পড়ে স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমুদ্রপথে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিউটার প্রশাসন সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আইনি সুযোগ নেই বলেও মাদ্রিদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। সিউটায় দায়িত্বে থাকা স্পেনের সিভিল গার্ড অফিসারদের সংগঠনের প্রধান রশিদ সবিহি জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। তাঁর দাবি, ঠিক কতজন সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব না হলেও কয়েক হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেছেন এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলিও পরিস্থিতিকে ব্যতিক্রমী বলে বর্ণনা করেছে। উত্তর মরক্কোর মানবাধিকার কর্মী আক্রাফ মাইমুনির দাবি, তারাহাল (Tarajal) সীমান্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে খুলে যাওয়ার সুযোগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বহু মানুষ তারাহাল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার ঘুরে হেঁটে সিউটায় ঢুকছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই যুবক হলেও নারী, শিশু এবং পরিবার-সহ বহু মানুষও ছিলেন। কয়েকজনকে ‘ভিভা এস্পানা’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়। তবে এত বড় সংখ্যায় মানুষ একযোগে সীমান্ত পার হওয়ার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার আগের দিনও বহু অভিবাসী সাঁতরে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, মৃতের সংখ্যা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে বহু মানুষকে আটকাচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় চলছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য শুক্রবার সিউটা সফরে যাচ্ছেন স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা। অন্যদিকে, সিউটার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই সিউটায় ১,৫০০-র বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলির ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং বহু মানুষকে অস্থায়ীভাবে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মে মাসে মাত্র দু’দিনে আট হাজারেরও বেশি অভিবাসী মরক্কো থেকে সিউটায় প্রবেশ করেছিলেন, যা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ঘটনার স্মৃতি ফের উসকে দিয়েছে। ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বহু মানুষের কাছে সিউটা এখনও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।