জি-৭-এর চাপ উড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার বার্তা, পরমাণু কর্মসূচিতে কোনও বদল নয়
সকাল সকাল ডেস্ক পিয়ংইয়ং/ইস্তানবুল: উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ যতই বাড়ুক, নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না পিয়ংইয়ং। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হলেও, তার পাল্টা জবাবে দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বোন এবং ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ কিম ইয়ো জং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া আর বদলানোর নয়। জানা গেছে, পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারকে পিয়ংইয়ং জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখে। কিম ইয়ো জংয়ের দাবি, বহিরাগত হুমকির মুখে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে বাইরের চাপ বা কূটনৈতিক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসবে না। ফ্রান্সের এভিয়াঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির নেতারা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মেনে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সাইবার অপরাধ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির মতো কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের কথাও বলেন তাঁরা। এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর কথায়, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পিয়ংইয়ং কোনও আপস করবে না। বরং ভবিষ্যতেও আত্মরক্ষার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পথেই এগোবে উত্তর কোরিয়া। বিশ্বের সাতটি উন্নত শিল্পোন্নত অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানকে নিয়ে গঠিত জি-৭ দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। তবে পিয়ংইয়ং বারবার জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি কোনও আলোচনার বিষয় নয় এবং তা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। এদিকে আরও জানা গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দাবি করেছেন, জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। লি-র বক্তব্য, তিনি ট্রাম্পের কাছে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং ট্রাম্পও পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করেন। উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জনের আগেই আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল বলেও ট্রাম্প আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য আরও গভীর হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে এই ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনাও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।
জি-৭ সম্মেলনে মোদী-জেলেনস্কি বৈঠক, শান্তি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর জোর
সকাল সকাল ডেস্ক এভিয়ঁ: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় নেতা মত প্রকাশ করেন যে, অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে যুদ্ধ-পূর্ব স্তরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বার্তায় বলেন, ভারত সবসময় শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা পালন করবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক ভারত-ইউক্রেন সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চে দুই নেতার এই বৈঠক বিশ্বশান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বার্তাকে আরও জোরালো করেছে।
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত, নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়াল
সকাল সকাল ডেস্ক গাজা : যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজা উপত্যকায় সহিংসতা ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,০০৫ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন সময়ে চালানো হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সংস্থা ‘মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস’-এর গাজা বিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, গাজাবাসীর দুর্ভোগ এখনও শেষ হয়নি। বহু পরিবার এখনও স্বজন হারানোর শোক বহন করছে এবং প্রতিদিন নতুন মানবিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। চুক্তির পরবর্তী ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে এখনও অগ্রগতি হয়নি। হামাসের নেতারা এর আগে জানিয়েছিলেন, অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এদিকে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দফতর (ওসিএইচএ)-র তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কোনও হাসপাতালই পূর্ণ সক্ষমতায় চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। ফলে আহত ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া গাজার মানবিক সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম, এশিয়ার শেয়ার বাজারে উত্থান
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা বাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে। বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৯ শতাংশ কমে যায়। গ্রিনিচ মান সময় ভোর সাড়ে চারটায় আগস্ট সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৮.০৭ ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এটি এখনো প্রায় ৭ শতাংশ বেশি রয়েছে। এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারের ওপরে উঠেছিল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর দেখা দেওয়া অস্থিরতার ফল বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেছিলেন, ইরান ‘সহযোগিতামূলক আচরণ’ না করলে ওয়াশিংটন আবার সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ শতাংশের বেশি এবং কোসপি ১.৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১.৭ শতাংশ কমেছে। মার্কিন শেয়ারবাজার খোলার আগেই ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এদিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তাঁর দাবি, চুক্তির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও কিছু নৌ-অবরোধ শিথিল করবে। তবে এই ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শতাধিক জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলেও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ উদ্যোক্তার এআই স্টার্টআপ ঘিরে চর্চা, আলোচনায় অমনসাঙ্গার
সকাল সকাল ডেস্ক প্রযুক্তি জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর স্টার্টআপগুলির উত্থান নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সেই তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ উদ্যোক্তা অমন সাঙ্গারের নাম। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে মিলে গড়ে তোলা এআই-ভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম ‘কার্সার’-এর (Cursor) মাধ্যমে প্রযুক্তি মহলে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংস্থাটির মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য কর্পোরেট চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চার বন্ধুর উদ্যোগে যাত্রা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-তে অধ্যয়নকালে মাইকেল ট্রুয়েল, সোয়ালেহ আসিফ, আরভিড লুনেমার্ক এবং অমন সাঙ্গার যৌথভাবে এই স্টার্টআপের ভিত্তি স্থাপন করেন। সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাজ আরও দ্রুত ও সহজ করতে এআই-সহায়ক কোডিং টুল তৈরি করাই ছিল সংস্থাটির মূল লক্ষ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রযুক্তি জগতে ‘কার্সার’ উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআই-নির্ভর কোডিং সহায়ক প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সংস্থাটি বিনিয়োগকারী এবং শিল্পমহলের নজর কাড়ে। ভারতীয় শিকড়, বৈশ্বিক সাফল্য অমন সাঙ্গার একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তাঁর বাবা অরবিন্দ সাঙ্গার ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি বোম্বাইয়ের প্রাক্তনী। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। অমনের মা শিল্পা সাঙ্গারও স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্যোক্তা জগতের পরিচিত মুখ। পরিবারের শিক্ষা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব অমনের কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হয়। পড়াশোনা ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ নিউইয়র্কের হোরেস ম্যান স্কুলে পড়াশোনার সময় থেকেই গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে এমআইটি-তে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ক্রীড়াক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন এবং স্কোয়াশ খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিতি পান। নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে অমন সাঙ্গারের উত্থান বিশ্বজুড়ে তরুণদের কাছে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং দলগত উদ্যোগ কীভাবে একটি স্টার্টআপকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারে, তাঁর যাত্রাপথ সেই বার্তাই তুলে ধরছে।
ইরান চুক্তি নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা, বোমা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক প্যারিস/ওয়াশিংটন : ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দু’দিন আগে ফের অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি মার্কিন প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা থাকবে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি কেবল একটি সমঝোতা কাঠামো। যদি আমার এটি গ্রহণযোগ্য না মনে হয় বা ইরান সঠিক আচরণ না করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই ট্রাম্প প্রশাসন চাপ সৃষ্টির কৌশল অব্যাহত রেখেছে। যদিও গত রবিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর অবস্থানের এই পরিবর্তন কূটনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে ওয়াশিংটন আরও সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের পথ খুলতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জি–৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের রসিকতা ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের তৃতীয় দিনের অধিবেশনে একটি হালকা মুহূর্তও তৈরি হয়। আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতিতে ট্রাম্প মজা করে বলেন, “আমিই বস।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। মাক্রোঁও বিষয়টিকে রসিকতা হিসেবেই গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, কানাডায় অনুষ্ঠিত আগের জি-৭ সম্মেলন মাঝপথে ছেড়ে চলে গেলেও এবার ট্রাম্প পুরো সম্মেলনে অংশ নেন এবং যৌথ ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করেন। সম্মেলন শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তিনি ভার্সাই প্রাসাদে একটি বিশেষ নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
১ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক গাড়ির দাম ২.৫ শতাংশ বাড়াচ্ছে টাটা মোটরস
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাতা সংস্থা টাটা মোটরস তাদের কমার্শিয়াল ভেহিকেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি তাদের সমস্ত বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে বিভিন্ন মডেল ও সংস্করণের ভিত্তিতে মূল্যবৃদ্ধির হার ভিন্ন হতে পারে। টাটা মোটরসের মতে, কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান দাম এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ের চাপ আংশিকভাবে সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সংস্থাটি যাত্রীবাহী গাড়ির দাম বৃদ্ধির ঘোষণাও করেছিল। টাটা মোটরসের পেট্রোল, ডিজেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির দামও আগামী ১ জুলাই থেকে বাড়বে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, এসব গাড়ির মূল্য সর্বোচ্চ ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। উল্লেখ্য, টাটা মোটরস দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক যানবাহন প্রস্তুতকারী সংস্থা। একসময় সংস্থাটির নাম ছিল টেলকো (TELCO)। এটি টাটা গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সংস্থা। ভারতের জামশেদপুর, পুনে ও লখনউ-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে সংস্থাটির উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।
ই-পাসপোর্ট ক্রয় প্রক্রিয়া তদন্তে নেপালের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী আরজু দেউয়াও তদন্তের আওতায়
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো) গত বছরের ই-পাসপোর্ট ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী ড. আরজু দেউয়াকেও তদন্তের আওতায় এনেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একটি দল বৃহস্পতিবার বুঢ়ানীলকণ্ঠে অবস্থিত দেউয়া পরিবারের বাসভবনে পৌঁছে ‘জবানবন্দির জন্য হাজির হওয়ার’ নোটিস টাঙিয়ে দেয়। আইনি বিধান অনুযায়ী, জবানবন্দির জন্য ডাকা ব্যক্তি যোগাযোগ না করলে তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় নোটিস প্রদান করা বাধ্যতামূলক। বুঢ়ানীলকণ্ঠ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র শ্রেষ্ঠ জানান, ব্যুরোর দল দেউয়া পরিবারের বাসভবনে গিয়ে পরিবারের কোনও সদস্যকে পায়নি। পরে তারা নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেরবাহাদুর দেউয়ার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউয়াকে ফোন করে নোটিস প্রদানের বিষয়টি জানায়। নোটিস জারির সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি আইনি বাধ্যবাধকতা। ব্যুরোর সন্দেহ, তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী আরজু দেউয়ার হস্তক্ষেপের ফলেই যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ না করা এবং তুলনামূলক বেশি দর প্রস্তাব করা একটি সংস্থা ই-পাসপোর্টের চুক্তি পায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে চলছে। নোটিস জারির পরও তিনি উপস্থিত না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে ব্যুরোর মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রতিনিধি সভা নির্বাচনের আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়া দেউয়া দম্পতি এখনও নেপালে ফেরেননি। দু’দিন আগে তাঁরা সম্পত্তি শুদ্ধিকরণ অনুসন্ধান বিভাগ এবং বিশেষ আদালতে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে আরও দুই মাস পর তাঁরা দেশে ফিরবেন। ব্যুরো-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কাগজে-কলমে সরাসরি কোনও ভূমিকা না থাকলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ার নকশা তৈরি, প্রকল্প প্যাকেজ প্রস্তুত করা এবং ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে শুধু আরজু দেউয়া নন, তাঁর ছেলে জয়বীর দেউয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগও জমা পড়েছে। ব্যুরোর এক তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, তদন্তের সময় কিছু ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং ফোন যোগাযোগের বিশ্লেষণও করা হয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে এবং জবানবন্দির জন্য ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, পাসপোর্ট বিভাগ থেকে ই-পাসপোর্টের চুক্তি অনুমোদনের আগে জয়বীর দেউয়া, রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের তৎকালীন রাজনৈতিক উপদেষ্টা সুনীল থাপার ছেলে সিদ্ধার্থ থাপা এবং পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক তীর্থরাজ আর্য্যালসহ কয়েকজনের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছিল।
সমঝোতার পথে আমেরিকা-ইরান, শান্তিচুক্তিতে রয়েছে ১৪টি শর্ত
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: সংঘাত শেষ করে এবার সমঝোতার পথে আমেরিকা ও ইরান। বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন আধিকারিকেরা কনফারেন্স কলে সমঝোতাপত্রে থাকা শর্তগুলি প্রকাশ্যে এনেছেন। ইরানের তরফে অবশ্য সমঝোতাপত্রের শর্তের বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। আমেরিকা ১৪টি শর্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মউ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজিত নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান বিষয়ক মউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আমেরিকার পক্ষ থেকে যে ১৪টি শর্ত প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে – লেবানন-সহ পশ্চিম এশিয়ার সব প্রান্তে দ্রুত পাকাপাকি ভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে আমেরিকা, ইরান এবং তাদের সহযোগী রাষ্ট্রগুলি। আমেরিকা আর ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানাবে। এছাড়াও চূড়ান্ত চুক্তিস্বাক্ষরের আগে আমেরিকা এবং ইরান ৬০ দিন ধরে আলোচনা করবে ইত্যাদি।
ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত শুরু অস্ট্রেলিয়ার
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যানবেরা। গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহরের ওপর অভিযানের সময় আটক কর্মীদের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। অভিযোগের তির মূলত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। রুশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-র সঙ্গে যুক্ত চারজন নারী কর্মী সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং, বহুসাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান আলি এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। ওই নারীরা মে মাসে আটক হওয়া ১১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের মধ্যে ছিলেন। সে সময় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া নৌবহরটিকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। অধিকারকর্মী জুলিয়েট ল্যামন্ট অভিযোগ করেন, আটক ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়, তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটে। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এক বিবৃতিতে এএফপি জানিয়েছে, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ‘ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ও ট্রমা-সচেতন’ পদ্ধতিতে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের দাবি, অভিযোগগুলির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। দূতাবাসের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পেশাদার উসকানিদাতা এবং তাঁদের তোলা অভিযোগ ইতিমধ্যেই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও অভিযোগ দায়ের করেছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ১৮ মে সাইপ্রাসের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী নৌবহরটিকে ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়। ওই সময় প্রায় ৪০টি দেশের ৪০০-রও বেশি কর্মীকে আটক করা হয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ এবং নৌ অবরোধের প্রতিবাদে তুরস্ক থেকে এই অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ইতালি, ব্রিটেন, কানাডা, তুরস্ক, গ্রিস, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও ছিলেন। বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, আটক কর্মীরা হাত বাঁধা অবস্থায় মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, ওই ভিডিওতে মন্ত্রী তাঁদের উপহাস করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন। বিভিন্ন দেশের একাধিক সাবেক বন্দি মারধর, যৌন নিপীড়ন, অপমানজনক আচরণ এবং আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এর জেরে অস্ট্রেলিয়া ইতামার বেন-গভিরের আচরণের নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও ইতালিও অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কানাডা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, এসব নৌ-অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এবং সেগুলির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হামাসকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাই অভিযোগগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।