সকাল সকাল ডেস্ক
ডাবলিন: হাওয়াই থেকে লেক টাহো—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সম্পত্তির মালিক মার্ক জাকারবার্গ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আয়ারল্যান্ডের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি দুর্গ। মেটার প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের ঐতিহাসিক স্ট্র্যানক্যালি দুর্গ ও সংলগ্ন প্রায় ৪৪০ একর জমি কিনেছেন বলে খবর।
কয়েক সপ্তাহ আগে গোপনীয় চুক্তির মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর হয়েছে। ঠিক কত অর্থে জাকারবার্গ দুর্গটি কিনেছেন, তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ‘দ্য আইরিশ টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গথিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি দুর্গ এবং সংলগ্ন জমির মূল্য প্রায় ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে।
ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুটের এই দুর্গ দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডের ইওগাল শহর থেকে গাড়িতে প্রায় ৩০ মিনিটের দূরত্বে। গত দুই দশক ধরে ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির সংস্কারের কাজ হয়েছে।
১৮৩০-এর দশকে টোরি দলের সংসদ সদস্য জন কেইলির জন্য স্ট্র্যানক্যালি দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। এর নকশা করেছিলেন স্থপতি জেমস পেইন এবং জর্জ রিচার্ড পেইন। আয়ারল্যান্ডের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নকশার সঙ্গেও তাঁদের নাম জড়িত।
জাকারবার্গ সম্পত্তিটি কিনেছেন মাইকেল ও জিয়ানকার্লা অ্যালেন বাকলির কাছ থেকে। প্রায় ২৫ বছর ধরে দুর্গটির মালিক ছিলেন তাঁরা। বিক্রেতা দম্পতি জানিয়েছেন, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার দুর্গ এবং সংলগ্ন জমিতে ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
তবে এই সম্পত্তি কেনার অর্থ জাকারবার্গ পরিবার স্থায়ীভাবে আয়ারল্যান্ডে চলে যাচ্ছে, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন এবং আয়ারল্যান্ড সফরের সময় দুর্গটি ব্যবহার করবেন।
আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জাকারবার্গের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অবশ্য দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সাল থেকে ডাবলিনে মেটার ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে। দেশটিতে সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীও রয়েছেন। গত বছরই আয়ারল্যান্ডে একটি বড় সম্পত্তি কেনার বিষয়ে জাকারবার্গের আগ্রহের খবর সামনে এসেছিল।
বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি জাকারবার্গের যুক্তরাষ্ট্রেও একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে। হাওয়াইয়ের কাউয়াই দ্বীপে এক হাজার একরের বেশি জমির মালিক তিনি। সেখানে বড় বাড়ির পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের খবরও অতীতে প্রকাশিত হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া-নেভাডা সীমান্তের লেক টাহোতেও তাঁর একাধিক সম্পত্তি রয়েছে।
এ ছাড়া মায়ামির অভিজাত ইন্ডিয়ান ক্রিক দ্বীপেও জাকারবার্গ ও চ্যান বিপুল অর্থে একটি বাড়ি কিনেছেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ধনকুবেরদের একাধিক বাড়ি থাকার কারণে এলাকাটি ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামেও পরিচিত।
এদিকে আয়ারল্যান্ডে নতুন সম্পত্তি কেনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মেটা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একাধিক মার্কিন অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বৈশিষ্ট্য শিশু-কিশোরদের মধ্যে আসক্তিমূলক ব্যবহার বাড়াতে পারে এবং নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। মেটা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
No Comment! Be the first one.