ইরানের ‘গুরুতর হুমকি’! আমেরিকা থেকে নেতানিয়াহু-পুত্রকে জরুরি ভিত্তিতে ফেরাল ইজরায়েল

সকাল সকাল ডেস্ক

তেল আভিভ/ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইয়ার নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁর জীবনের উপর ‘গুরুতর হুমকি’ রয়েছে বলে জানিয়ে আমেরিকা থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি নেতানিয়াহুও দাবি করেছিলেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ার নেতানিয়াহুকে ক্ষতি করার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দ্রুত ফ্লোরিডা থেকে ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকি ছিল, কারা তার নেপথ্যে ছিল কিংবা কখন তাঁকে আমেরিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, সেই বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি শিন বেত।

গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়েছে, ইয়ারের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দিষ্ট হুমকি চিহ্নিত হওয়ার পর ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। তার ভিত্তিতেই তাঁর নিরাপত্তা দলের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ইজরায়েলে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, গত বছরের ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় ইয়ার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের সন্ধান পেয়েছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দারা।

ইজরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শিন বেত নিউ ইয়র্কে ইজরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন এজেন্টকেও ওই অভিযানে কাজে লাগিয়েছিল। অভিযোগ, ইরানের সঙ্গে যুক্ত গুপ্তচরেরা ইয়ারের বাসস্থান এবং তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ইয়ার বেশ কয়েক বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছিলেন। হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁকে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি। পরিস্থিতি এতটাই জরুরি ছিল যে নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংগ্রহ করার সুযোগ না নিয়েই তিনি ইজরায়েলে ফিরে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে নিশানা করেছিল। তাঁর কথায়, ইরান তাঁর ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে সেই সময় কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনা করা হয়েছিল বা তার বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

ইয়ার নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা নিয়েও ইজরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযানের জন্য বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ সেনাকে যখন ডাকা হয়েছিল, সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর ছেলে কেন বিদেশে রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সমালোচকদের একাংশ।

কড়া নিরাপত্তায় ব্যারন ট্রাম্প

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাবাকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনার পর রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের আবহে ব্যারন নিজের চলাফেরা অনেকটাই সীমিত রেখেছেন।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করার পাশাপাশি ব্যারন জনসমক্ষে উপস্থিতি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির বড় অংশ তিনি মা তথা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারে কাটিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ব্যারন সাধারণত বাইরে খুব একটা বের হন না এবং প্রচারের আলো থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁকে আশপাশে ঘুরতে বা নিয়মিত জনসমক্ষে দেখা যায় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট বা প্রত্যক্ষ প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওই প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

নিউ ইয়র্ক পোস্ট আরও দাবি করেছে, রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং কার্কের হত্যার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ব্যারন তাঁর বাবাকে ফোন করেছিলেন।

নেতানিয়াহু-পুত্রকে ঘিরে কথিত ইরানি হুমকি এবং ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের বাড়তি নিরাপত্তা—দুই ঘটনাই পশ্চিম এশিয়া ও আমেরিকায় চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে শীর্ষ রাজনৈতিক পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More