মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের ইস্তফা, ট্রাম্পের কাছে জমা পদত্যাগপত্র

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন। মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব (আর্মি সেক্রেটারি) ড্যান ড্রিসকল তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কথিত টানাপড়েন ও মতবিরোধের জেরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ড্রিসকল তাঁর পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসও পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও সেনাবাহিনী সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত খবর প্রকাশকারী সংবাদমাধ্যম ‘ডিফেন্স স্কুপ’ এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ তাদের প্রতিবেদনে এই ঘটনাবলির বিস্তারিত উল্লেখ করেছে। ডিফেন্স স্কুপ জানিয়েছে, আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার প্রথম এই খবর প্রকাশ করে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’।

এক সামরিক আধিকারিকের বক্তব্য, “সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন আর্মি সেক্রেটারি এবং তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।” তবে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সেনার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই। সোমবার সন্ধ্যায় ‘ফক্স নিউজ’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ড্রিসকলের ইস্তফা গ্রহণ করেননি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, “আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকল বিভাগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী করে তোলা’র কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানের সময় তিনি অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনাতেও সহায়তা করেছেন। এর ফলে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।”

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের খবরের মধ্যেই তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে এল। চলতি বছরের শুরুতে আর্মি চিফ অফ স্টাফের পদ থেকে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে সরানো এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক আধিকারিককে অপসারণের সিদ্ধান্ত ঘিরে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের পদত্যাগ গ্রহণ করলে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আবহের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী সেনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত নেতৃত্ব ছাড়াই থাকতে পারে। এই সংঘাতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মাইকেল ওবাডল বর্তমানে আর্মির আন্ডার সেক্রেটারি পদে রয়েছেন। ড্রিসকলের পদত্যাগ গৃহীত হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

ড্রিসকল তাঁর স্পষ্টবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তিনি একসময় ‘ড্রোনবাস্টার’ অস্ত্রের মান নিয়ে অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ইয়েল ল স্কুলের স্নাতক ড্রিসকলকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এমনকি একসময় তাঁকে হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হয়েছিল।

মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকলকে ‘ট্রাম্প ২.০’ প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায়ও তিনি কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছেন।

‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেগসেথ ও ড্রিসকলের মধ্যে বিরোধের আরও একটি কারণ ছিল সামরিক আধিকারিকদের পদোন্নতির তালিকা। অভিযোগ, হেগসেথ ওই তালিকা থেকে চারজন আধিকারিকের নাম বাদ দিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এবং দু’জন মহিলা ছিলেন।

ফেব্রুয়ারিতে ড্রিসকলের সিনিয়র উপদেষ্টা কর্নেল ডেভিড বাটলারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যও হেগসেথ চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে অভিযোগ। বাটলার এর আগে জেনারেল মার্ক মিলির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন। ড্রিসকল তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হেগসেথের চাপের বিরোধিতা করেছিলেন।

এ বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলে তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ড্রিসকলও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে ড্রিসকল মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্ষিক বাজেটের পাশাপাশি ১০ লক্ষেরও বেশি সক্রিয় সেনা, ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ সদস্য এবং ৩ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি অসামরিক কর্মীর প্রশাসনিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের একাংশের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন। নভেম্বরে আমেরিকার শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরতে তিনি ইউক্রেন সফর করেছিলেন।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More