পাকিস্তানে শান্তি মিছিলে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ১৩, আহত অন্তত ২২

সকাল সকাল ডেস্ক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের রক্তাক্ত জঙ্গি হামলা। রবিবার একটি শান্তি মিছিল চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত জেলার একটি শহরে ওই শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় উপজাতি সংগঠন ‘সোয়াত আমান জিরগা’-র উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার দাবিতে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার আর আর্তনাদ। বিস্ফোরণের জেরে বহু মানুষ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং হামলার পদ্ধতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

বিস্ফোরণের পরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবা জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সেখানে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে শান্তির দাবিতে আয়োজিত মিছিলেই এমন রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণ নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

বিশ্লেষকদের মতে, শান্তির দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকেও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রশাসন দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া প্রমাণ খতিয়ে দেখে হামলার নেপথ্যের চক্রান্ত উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

Read More News

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, নাগরিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে জোর প্রধানমন্ত্রীর

সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার...

ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের...

Read More