বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা, পাকিস্তানের কোহাটে নিহত অন্তত ১৬
সকাল সকাল ডেস্ক পেশোয়ার: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট। শুক্রবার পুরনো পুলিশ লাইনস এলাকার একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন পুলিশকর্মী এবং ১১ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবারের নমাজের সময়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের একটি অংশ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম দিকে উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ সাত জনের মৃত্যু এবং ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়ে। আহতদের কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি পুরনো পুলিশ লাইনস এলাকায় ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পর স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের কাছেও এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র হামলাকারীদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। পুলিশ লাইনস চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্ফোরণের পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধার অভিযানও চালানো হয়। হামলার নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আহতদের দ্রুত সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্টও চেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানি তালিবান বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে কোহাটের শুক্রবারের হামলার দায় তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। পুলিশ লাইনসের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। হামলাকারীদের পরিচয় এবং বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ক্রিপ্টো থেকে ড্রোন, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ পাকিস্তানের
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ছে। সেই ধারায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে পাকিস্তান সেনা এবং মার্কিন ড্রোন নির্মাতা সংস্থা পাওয়ারআসের সমঝোতা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওয়ারআস পাকিস্তান সেনার সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক অর্ডারও। তবে কতগুলি ড্রোন বা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে, চুক্তির আর্থিক মূল্য কত এবং ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তি দেওয়া হবে—সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থার তরফে ভবিষ্যতে পাকিস্তানে যৌথভাবে ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নের আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে। পাওয়ারআস সামরিক ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক মানববিহীন যান এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথে রয়েছে। ওই মার্কিন সংস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগ তহবিলের অর্থ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের দুই ছেলে জানিয়েছেন, তাঁদের বিনিয়োগ নিষ্ক্রিয় বা ‘প্যাসিভ’ এবং পাওয়ারআসের পরিচালনা বা পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনায় তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। এই চুক্তি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের উষ্ণতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। ২০২৫ সালের জুনে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। একই মাসে পাকিস্তান সরকার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম সুপারিশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, ডিজিটাল অর্থনীতিতেও ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান এসসি ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজিসের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের সহযোগী। ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল ডলার-নির্ভর ‘ইউএসডি১’ স্টেবলকয়েনকে সীমান্তপারের লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো নিয়ে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা খতিয়ে দেখা। পাকিস্তানের কাছে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান ও ঋণের চাপ সামলাতে দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়নের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ ঔরঙ্গজেব জানিয়েছেন, আমেরিকার কাছ থেকে প্রস্তাবিত ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে চিনের সঙ্গে বিদ্যমান কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অংশীদার চিন। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে পাকিস্তানের নতুন যোগাযোগ সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রচেষ্টার অংশ কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনায় মানববিহীন আকাশযান এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির গুরুত্ব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। ফলে মার্কিন সংস্থার সহযোগিতায় পাকিস্তান যদি ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে ড্রোন তৈরি বা প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতা বাড়ায়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে। যদিও বর্তমান সমঝোতার প্রযুক্তিগত বিবরণ এবং সরবরাহের পরিমাণ প্রকাশ্যে না আসায় সম্ভাব্য সামরিক প্রভাব সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। সব মিলিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ড্রোন প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, পাওয়ারআসের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা শুধু প্রাথমিক সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ভবিষ্যতে যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পাকিস্তানে স্থানীয় উৎপাদনের দিকেও এগোয়।
চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নেপালের সেনাপ্রধানের
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: চিন সফরে রয়েছেন নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোকরাজ সিগদেল| তিনি চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সামরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। নেপালের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ ও তথ্য দফতরের তরফে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোকরাজ সিগদেল শুক্রবার চিনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিও পরিদর্শন করেন। এছাড়া, তিনি বেজিংয়ে আয়োজিত ১৩-তম বেজিং শিয়াংশান ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
ইরানের সঙ্গে ভালো চুক্তি, নইলে কোনও সমঝোতা নয়; তেহরানকে বার্তা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরান সমঝোতা করতে চায়, তবে তাঁর ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী তেহরান এখনও তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে এমন ভালো চুক্তি করা হবে, তা না হলে কোনও সমঝোতাই হবে না। মিডিয়া সংস্থা ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরান আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করতে চাইলেও এখনও তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোনও সমঝোতা আমেরিকার প্রত্যাশা অনুযায়ীই হতে হবে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি-র সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য সামনে এলো। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের উপর মার্কিন হামলায় দেশটির পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, তা না হলে এতদিনে তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকত। ইরান অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির অর্থনীতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ৩০০ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সামরিক বাহিনী ও পুলিশকর্মীরাও বেতন পাচ্ছেন না। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব। জানি না, সেটা কোনও চুক্তির মাধ্যমে হবে কি না। তবে আমরা ইতিমধ্যেই জিতছি।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির বিপরীতে পেন্টাগনের এক প্রাক্তন আধিকারিক দাবি করেছেন, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ পেন্টাগনের প্রাক্তন আধিকারিক ব্রেন্ট স্যাডলারের বক্তব্য উল্লেখ করে জানিয়েছে, তেহরানের উপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়ছে। সেই কারণেই নভেম্বরের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। স্যাডলার বলেন, “আর্থিক ও মুদ্রানীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পরিসংখ্যান নিশ্চিতভাবেই এই ফলাফলের দিকেই ইঙ্গিত করছে।” তাঁর মতে, বছরের শেষ হওয়ার আগেই অথবা নভেম্বরের নির্বাচন চলাকালীন এই সংঘর্ষের অবসান হতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং অর্থনৈতিক যুদ্ধের অন্যান্য পদ্ধতিই তাঁর এই অনুমানের প্রধান কারণ বলে জানান স্যাডলার।
ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভান্ডারে বাড়ছে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ, বড় চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন, ২৯ অগস্ট: ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল চুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুতের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শুক্রবার চুক্তির কথা ঘোষণা করে একে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই চুক্তির হাত ধরে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আসবে বলেও দাবি তাঁর। বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কারাকাসের উপর ওয়াশিংটনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাদুরোর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদে আমেরিকার প্রভাব বাড়ানোর আগ্রহের কথা আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির ঘোষণা করে তিনি দাবি করেন, এর ফলে আমেরিকার হাতে থাকা তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন। তাঁর দাবি, এই সমঝোতা আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ক্রমশ উন্নত হতে থাকা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। চুক্তিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার কাছাকাছি অঞ্চলেই স্থিতিশীল তেলের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রুবিও দাবি করেন, চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। যদিও এই বিপুল বিনিয়োগ কী ভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছিল, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে প্রায় এক ডজন উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই তেলক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যা ভেনেজুয়েলার মোট প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। দুই মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত কয়েক দশকের মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিচু স্তরে থাকার সময়ে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি ওয়াশিংটনের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তির প্রভাবে আমেরিকায় পেট্রলের দাম কমবে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম মার্কিন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তেলের সরবরাহে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপের মুখে রয়েছে প্রশাসন। এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও দীর্ঘদিনের অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো এবং অতীতে বিদেশি সংস্থার সম্পদ অধিগ্রহণের নজিরের কারণে অনেক মার্কিন সংস্থাই এখনও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অন্যতম বড় মার্কিন তেল সংস্থা শেভরন গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, তাদের দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ উৎপাদন আরও প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে মার্কিন সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশটির সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গালোয়ান-ডোকলামে চিনা বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা জেনারেল ঝাওকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরাল বেজিং
সকাল সকাল ডেস্ক বেজিং, ২৯ অগস্ট: ডোকলাম ও গালোয়ান সংঘাতের সময় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে থাকা জেনারেল ঝাও জোংকিকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা ‘চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্স’ (সিপিপিসিসি)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে বলে চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। ২০১৭ সালে ডোকলাম এবং ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের সময় পিএলএ-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল ঝাও। ফলে তাঁকে আচমকা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া ঝাওকে পদ থেকে সরানোর বিষয়টি জানিয়েছে। তবে কেন তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত চলছে কি না, সেই বিষয়েও বেজিংয়ের তরফে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমলে চিনের সামরিক নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হয়েছে। পিএলএ-র বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই আবহে ঝাওকে সরানোর সিদ্ধান্ত নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তবে তাঁর অপসারণের সঙ্গে পিএলএ-র অভ্যন্তরে চলা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ২০২০ সালে ‘ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত এবং পরে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর উদ্ধৃত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী গালোয়ান উপত্যকায় যে সামরিক অভিযানের জেরে ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তাতে ঝাওয়ের অনুমোদন ছিল। ২০১৭ সালের ডোকলাম অচলাবস্থার সময়ও ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ান শহিদ হন। চিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। যদিও চিনের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন দাবি প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালে ডোকলামকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনী টানা ৭২ দিনেরও বেশি সময় মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। ডোকলামকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে ভুটান, অন্যদিকে ওই এলাকায় নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে চিন। ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় ডোকলামের পরিস্থিতি নয়াদিল্লির কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনের রাস্তা নির্মাণের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সেনা সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সংঘাতের সময় চিনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে থাকা ঝাওকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদ থেকে সরানোর ঘটনা তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে বা কোন কারণে তাঁকে সরানো হয়েছে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেজিং।
ভোটেকোশী-ত্রিশূলীর বন্যায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ যোগাযোগহীন হওয়ার আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যার তৃতীয় দিনেও ঠিক কতজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তার স্পষ্ট চিত্র উঠে আসেনি। তবে সরকারের প্রাথমিক প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বন্যার পর প্রায় ৫,০০০ মানুষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্যার আগে রসুয়ার গোসাইঙ্কুণ্ড থেকে নুয়াকোটের দেবীঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ মোবাইল ব্যবহারকারী সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু বন্যার পর তাঁদের সাথে আর যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। নেপালের প্রধান দুটি টেলিকম সংস্থা— ‘নেপাল টেলিকম’ এবং ‘এনসেল’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১,৯২৪ জন মানুষ যোগাযোগহীন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারী। বন্যা ও ধসের পর প্রায় ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকের সাথেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে এই সংখ্যা নিয়েও এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্টতা নেই। নেপাল সরকার শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ বা যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রায় ২,০০০টি আবেদন পেয়েছে। যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের মধ্যে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গোসাইঙ্কুণ্ডে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। আধিকারিকদের মতে, দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং উপদ্রুত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার কারণে নিখোঁজদের সম্পূর্ণ বিবরণ জোগাড় করতে সমস্যা হচ্ছে। সরকার ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার হলো যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়া, উপদ্রুত অঞ্চলগুলিতে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করা এবং বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় প্রথম মস্তিষ্কের টিউমার অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি ফিরল রোগীর
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন নজির। বিশ্বে প্রথমবার সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় অস্ত্রোপচার করে এক রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করলেন ব্রিটেনের চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচার না হলে ওই রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে তাঁদের নিরাপদে টিউমার অপসারণে সাহায্য করেছে। রোগীর নাম রিস হিবার্ট। ৪৮ বছরের হিবার্ট দুই সন্তানের বাবা এবং ব্রিটেনের বেডফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে এই অস্ত্রোপচার করেন। প্রায় ১৮ মাস আগে হাঁটার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে খিঁচুনি শুরু হয় হিবার্টের। পরীক্ষায় তাঁর মস্তিষ্কে ১১ মিলিমিটার আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। টিউমারটি ক্যানসারযুক্ত না হলেও মস্তিষ্কের নিচের দিকে থাকা পিটুইটারি গ্রন্থিতে বেড়ে উঠছিল। এর খুব কাছেই রয়েছে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ ক্যারোটিড ধমনি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক স্নায়ু। টিউমারটি বড় হতে থাকায় অপটিক স্নায়ুর উপর চাপ বাড়ছিল। ফলে ধীরে ধীরে হিবার্টের দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। ঝাপসা দেখার কারণে হাঁটার সময় বিভিন্ন জিনিসে হোঁচট খাওয়ার পাশাপাশি ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর নাক দিয়ে একটি সরু ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে খুলির নিচের অংশ পর্যন্ত নিয়ে যান চিকিৎসকেরা। একই সময়ে পৃথক পর্দায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ক্যামেরার দৃশ্য বিশ্লেষণ করে। অস্ত্রোপচারের যন্ত্রগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে চিকিৎসকদের সতর্ক করে দেয় ওই ব্যবস্থা। টিউমারের কোন অংশ দিয়ে অস্ত্রোপচার তুলনামূলক নিরাপদ হবে, সেই নির্দেশনাও পাওয়া যায়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার অপসারণের কয়েকশো অস্ত্রোপচারের দৃশ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দৃশ্যে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর অবস্থান চিহ্নিত ছিল। সেই তথ্য থেকেই মস্তিষ্কের জটিল গঠন শনাক্ত করার ক্ষমতা অর্জন করেছে প্রযুক্তিটি। অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক হানি মার্কাস জানিয়েছেন, একজন চিকিৎসক তাঁর গোটা কর্মজীবনে যত অস্ত্রোপচার দেখেন বা করেন, তার থেকেও বেশি অস্ত্রোপচারের তথ্য এই ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র চিকিৎসকদের সহায়তা করেছে। অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসকদের হাতেই ছিল। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং গুগলের অর্থায়নে কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রথম বাস্তব অস্ত্রোপচারে সাফল্যের পর এবার আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন গবেষকেরা। অস্ত্রোপচারের আট সপ্তাহের মধ্যে হিবার্টের দৃষ্টিশক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তাঁর কর্মশক্তিও ফিরে এসেছে এবং আগের অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও অনেকটাই দূর হয়েছে। হিবার্টের কথায়, এই অস্ত্রোপচার তাঁকে তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।
সব ভিসা নয়, বিশ্বজুড়ে শুধু অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় স্থগিত করল আমেরিকা
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: সব ধরনের ভিসা নয়, বিশ্বজুড়ে শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের জেরে বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে আগে থেকে নির্ধারিত অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন সময় পরে জানানো হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বের সমস্ত মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেই কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অভিবাসী ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাতের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ কত দিন চলবে বা কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে সাক্ষাৎকার শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হল ভিসার আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও দক্ষ করে তোলা। বিশেষ করে কোনও আবেদনকারী ভবিষ্যতে আমেরিকার সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবর প্রথম প্রকাশ করে ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে যাঁদের অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাঁদের বৈদ্যুতিন বার্তার মাধ্যমে সময় পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কয়েকটি পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই আইনি বাধার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি আমেরিকার এক বিচারক বাংলাদেশ-সহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি নীতি বাতিল করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ বৈষম্য বাড়ানোর পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলি। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে সেই নীতি বাস্তবায়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে তাঁর প্রশাসন। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তটি সমস্ত ভিসার ক্ষেত্রে নয়, শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১০৮টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। এছাড়া পূর্ব নওয়ালপরাসি থেকে ৬২ জন, পশ্চিম নওয়ালপরাসি থেকে ১৫ জন, ধাদিং থেকে ২৭ জন, গোর্খা থেকে ২০ জন, রাসুয়া থেকে ১৭ জন, নুয়াকোট থেকে ১২ জন এবং তানাহুন থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, বন্যায় আহত অন্তত ৫২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষণ হাসপাতালে ২৬ জন, ট্রমা সেন্টারে ২০ জন, বীর হাসপাতালে ২ জন, নারভিক হাসপাতালে ২ জন, মনমোহন হাসপাতালে ১ জন এবং বীরেন্দ্র মিলিটারি হাসপাতালে ১ জনের চিকিৎসা চলছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরকদমে চলছে। দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।