৮ আগস্ট প্রকাশ্যে আসছে ‘টক্সিক’-এর ট্রেলার
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই : রকিং স্টার যশের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এবার ছবির নির্মাতারা প্রকাশ করলেন নতুন পোস্টার। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ৮ আগস্ট মুক্তি পাবে ছবির বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেলার। নতুন পোস্টারে যশকে তাঁর চরিত্র ‘রায়া’-র রহস্যময় রূপে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টারে তাঁর মুখ স্পষ্ট দেখা না গেলেও হাতে একটি টমি গান নিয়ে ছায়াময় উপস্থিতি ছবির রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্মাতারা এবারও গল্প সম্পর্কে কোনও ইঙ্গিত না দিয়ে কৌতূহল অটুট রেখেছেন। ফলে পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সমাজমাধ্যমে ছবির কাহিনি ও যশের চরিত্র নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৮ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছবির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে। দিনটি ছবির নির্মাতাদের কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ওই দিনই ‘টক্সিক’-এর শুটিং শুরুর দুই বছর পূর্ণ হবে। ট্রেলারের মাধ্যমে প্রথমবার দর্শকরা ছবির জগত, প্রধান চরিত্রগুলির রূপ এবং কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ ঝলক দেখতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরিচালক গীতু মোহনদাসের পরিচালনায় নির্মিত এই গ্যাংস্টারধর্মী ছবিতে যশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদবাণী, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং হুমা কুরেশি। কেভিএন প্রোডাকশন্স এবং মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশন্সের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি একযোগে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় শুট করা হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও মালয়ালম ভাষাতেও এটি মুক্তি পাবে। ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ আগামী ২৬ আগস্ট ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও মশাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে, ২০৩০-এ আহমেদাবাদে শতবর্ষের আসর
সকাল সকাল ডেস্ক গ্লাসগো : গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও মশাল। এর মধ্য দিয়েই ২০৩০ সালে গুজরাটের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমসের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। রবিবার রাতে গ্লাসগোর দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ভারতের প্রতিনিধি নীরজ চোপড়া, ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার সভাপতি পি টি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভির হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মশালও ভারতের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভারত ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। ভারতের পরিবেশনা তিনটি পৃথক পর্বে সাজানো হয়। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের উপস্থিতিতে শতাধিক নৃত্যশিল্পী ভারতের বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা করেন। একইসঙ্গে আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়, যেখানে আগামী গেমসের আয়োজক শহরের ঐতিহ্য, আধুনিক পরিকাঠামো ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় পর্বে ভারত ও স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ঐক্যের অনন্য নিদর্শন দেখা যায়। সেতারশিল্পী ঋষভ শর্মা এবং স্কটিশ সংগীতশিল্পী রস আইনসলির যুগলবন্দি দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর সংগীতশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন তাঁর দুই ছেলে সিদ্ধার্থ ও শিবমকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে পরিবেশন করেন বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশ নেন গুজরাটের জনপ্রিয় গায়িকা ভূমি ত্রিবেদীও। সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিউক অব এডিনবরার প্রিন্স এডওয়ার্ড। তিনি ক্রীড়াবিদ, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কমনওয়েলথ গেমস ঐক্য, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার এক অনন্য প্রতীক। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষ উদযাপনের আসরে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। গ্লাসগোর সফল আয়োজনের পর এবার নজর আহমেদাবাদের দিকে। শতবর্ষের ঐতিহাসিক আসরকে স্মরণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে এই আনুষ্ঠানিক পতাকা ও মশাল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে।
কেরলমে বৃষ্টি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী সতীশন
সকাল সকাল ডেস্ক তিরুবনন্তপুরম : টানা বৃষ্টিতে কেরলমের একাধিক জেলায় উদ্ভূত দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। সোমবার তিনি রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে বিভিন্ন জেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ত্রাণ শিবিরগুলির কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাথানামথিতায় একটি এনডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে। কোট্টায়ামে ইতিমধ্যেই দুটি এনডিআরএফ দল উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর আরাক্কোনাম থেকে আরও দুটি এনডিআরএফ দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য একটি হেলিকপ্টারও রাজ্যে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী আলাপ্পুঝায় ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর জওয়ানদের মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, প্রয়োজনে কান্নুর ও ওয়ানাড জেলায় ডিফেন্স সিকিউরিটি কর্পসের কর্মীদেরও কাজে লাগানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ১৬৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে অন্তত ৩,৫৯৬ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে চূড়ান্ত সমীক্ষা শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন। রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেরলমে বৃষ্টি দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, চার জেলায় জারি লাল সতর্কতা
সকাল সকাল ডেস্ক তিরুবনন্তপুরম : টানা ভারী বৃষ্টিতে কেরলমে দুর্যোগজনিত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজ্যের চারটি জেলায় এখনও লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রবল বর্ষণে কোট্টায়াম, আলাপ্পুঝা, ইদুক্কি-সহ একাধিক জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিজনিত ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। কেরলমের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মালাপ্পুরম জেলায় টানা বৃষ্টির জেরে চালিয়ার নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদী ও সংলগ্ন জলাশয়ে প্রবেশ না করার জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন উদ্ধারকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৫,৭৯২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ২০৯টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিতে ২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৯৬টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং যাঁদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা নষ্ট হয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে মুঝিয়ার, কাল্লারকুট্টি, ইরাত্তায়ার, লোয়ার পেরিয়ার এবং পোরিঙ্গালকুথু বাঁধে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জলাধারগুলির পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিটদের, সর্বকালের সেরা পদক জয়ের নজির
সকাল সকাল ডেস্ক গ্লাসগো : ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিটরা। গ্লাসগো আসরে সাতটি পদক জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে দেশের সর্বকালের সেরা সাফল্য অর্জন করলেন তাঁরা। এই আসরে ভারতীয় প্যারা দল তিনটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য এবং দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতে অভিযান শেষ করেছে। শনিবার প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ভারতীয় প্যারা ক্রীড়াবিদরা একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং মোট সাতটি পদক নিশ্চিত করেন। ২৮ সদস্যের ভারতীয় দল তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস রচনা করে। রবিবার প্যারা বিভাগে ভারতের আর কোনও ইভেন্ট নেই। ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসে প্রথমবার প্যারা স্পোর্টস অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে গ্লাসগোর আগে পর্যন্ত ভারত মোট সাতটি পদক জিতেছিল। সেই রেকর্ড এবার এক আসরেই স্পর্শ করল ভারতীয় প্যারা দল, যা দেশের প্যারা ক্রীড়ার অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস ছিল ভারতের সবচেয়ে সফল আসর। সেবার ভাবিনা প্যাটেল প্যারা টেবিল টেনিসে স্বর্ণ এবং সোনলবেন প্যাটেল ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। যদিও প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে স্বর্ণজয়ী সুধীর পরে ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর পদক কেড়ে নেওয়া হয়। গ্লাসগো গেমসে ভারতীয় প্যারা অ্যাথলেটিক্স দলই সবচেয়ে বেশি সাফল্য এনে দিয়েছে। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারত জিতেছে ছয়টি পদক—তিনটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ। এছাড়া প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ঝান্ডু কুমার একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতের পদক সংখ্যা সাতে পৌঁছে দেন। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের দীর্ঘ ২০ বছরের পদক-অপেক্ষারও অবসান ঘটেছে। এর আগে ২০০৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের সিটেড ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে রঞ্জিত কুমার জয়সীলান ভারতের হয়ে শেষ পদক জিতেছিলেন। গ্লাসগোতে প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের একাধিক ইভেন্টে জোড়া পদক এসেছে। মহিলাদের শট পুট এফ-৫৭ বিভাগে শর্মিলা স্বর্ণ এবং শিল্পা শাইলা ব্রোঞ্জ জিতেছেন। পুরুষদের ১০০ মিটার টি-৪৭ বিভাগে দিলীপ মহাদু গাভিত স্বর্ণ এবং মোহাম্মদ বাসিল রৌপ্য জয় করেন। পুরুষদের শট পুট এফ-৫৭ বিভাগে সোমান রানা স্বর্ণ এবং শুভম জুয়াল রৌপ্য পদক অর্জন করেন। এই আসরে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা একটি গেমস রেকর্ড এবং একটি এশিয়ান রেকর্ডও গড়েছেন, যা এই সাফল্যকে আরও গৌরবময় করে তুলেছে। প্যারা অলিম্পিক কমিটি অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া ভারতীয় দলের এই কৃতিত্বের প্রশংসা করে বলেন, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে প্যারা স্পোর্টসে ভারতের এই অভূতপূর্ব সাফল্য গোটা দেশের জন্য গর্বের বিষয়। এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক প্যারা ক্রীড়াবিদকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করবে।
আসন্ন ১০০টি রবিবার ‘মাদক-মুক্ত ভারত’ গঠনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হবে: প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আগামী ১০০টি রবিবার ‘মাদক-মুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পরিণত হবে। তিনি তরুণদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করে মাদকের বিরুদ্ধে জনআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রবিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘নেশা মুক্ত যুবা, বিকশিত ভারত’ অভিযানের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০০ সপ্তাহ ধরে এই কর্মসূচি চলবে। তাঁর বক্তব্য, “আপনারাই ভারতের ‘অমৃত প্রজন্ম’। আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরে আপনারাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বেন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন। দেশের উন্নয়নের জন্য আপনাদের প্রাণশক্তি, সৃজনশীলতা ও মেধা অপরিহার্য। তাই দেশের স্বার্থে এবং নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য মাদকমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি বলেন, “আগামী ১০০টি রবিবার মাদকবিরোধী লড়াইয়ের ১০০টি শক্তিশালী অধ্যায় হয়ে উঠবে। হাজার হাজার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সমাজের সম্মিলিত সমর্থন, যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।” যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। ভারতের যুবসমাজ সচেতন, দায়িত্বশীল এবং কর্তব্যপরায়ণ—আমার এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। এই অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অধ্যাপকদের প্রতিও বিশেষ আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু পাঠদান নয়, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মাদকের ভয়াবহতা নিয়েও নিয়মিত আলোচনা করুন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেশাবিরোধী সচেতনতা আন্দোলন গড়ে তুলুন। আপনাদের এই উদ্যোগ অসংখ্য তরুণের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।” প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর না হলে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে না: রাহুল
সকাল সকাল ডেস্ক, চেন্নাই : তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করতে হলে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার মহাবলীপুরমে তামিলনাড়ু পর্যটন দফতরের অতিথিশালায় আয়োজিত তামিলনাড়ু কংগ্রেসের জেলা সভাপতিদের প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ শিবিরে জেলা সভাপতি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠন সম্প্রসারণ, বুথস্তরে দলকে আরও শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক কৌশল এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। রাহুল গান্ধী বলেন, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকার অন্যতম কারণ দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে কাজ করার প্রবণতা সংগঠনের সামগ্রিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস তখনই শক্তিশালী হবে, যখন নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। জেলা সভাপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের এলাকায় সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও দৃঢ় যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। জনস্বার্থের বিষয়গুলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনই সংগঠনকে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস কার্যকর হলে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাঁর মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, বরং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, রাজ্যগুলির অধিকার এবং মানুষের সাংবিধানিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাজ্যগুলিকে এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বর্তমান পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াকে সমর্থনকারীদের সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের অবস্থান তামিলনাড়ুর মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থকে দুর্বল করতে পারে। রাহুলের বক্তব্যে স্পষ্ট, সংগঠনের ভিত মজবুত করার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রশ্নেও কংগ্রেস আগামী দিনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।
কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেন প্রীতি
মহিলাদের ৫৪ কেজি বক্সিংয়ে ভারতের গৌরব সকাল সকাল ডেস্ক, গ্লাসগো : ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৫৪ কেজি বক্সিং বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন ভারতের প্রীতি। শনিবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে বিশ্বের তিন নম্বর বক্সার প্রীতি কানাডার স্কারলেট সাভানা দেলগাদোকে একতরফা লড়াইয়ে সর্বসম্মত ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা নিজের নামে করেন। গ্লাসগোতে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন প্রীতি। সেমিফাইনালে বাই পাওয়ার পর তিনি জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপের বিরুদ্ধে রিংয়ে নামেন এবং সেখানেও প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগ না দিয়ে ৫-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেন। সেই লড়াইয়ে প্রীতির আক্রমণাত্মক বক্সিংয়ের সামনে ক্যাথরিনকে তিনবার স্ট্যান্ডিং কাউন্টের মুখে পড়তে হয়। সেমিফাইনালের সেই আত্মবিশ্বাস ফাইনালেও বজায় রাখেন ভারতীয় বক্সার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে কানাডার স্কারলেট সাভানা দেলগাদোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। নিখুঁত পাঞ্চ, দ্রুত গতি এবং রক্ষণভাগে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে প্রতিটি রাউন্ডেই আধিপত্য বিস্তার করেন প্রীতি। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বিচারকই তাঁর পক্ষেই রায় দেন এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তিনি স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন। এই সাফল্যের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি সোনা যোগ হলো। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ দিয়ে প্রীতি ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতাগুলির জন্যও জোরালো বার্তা দিলেন।
নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন, অন্ধ্রপ্রদেশে ১৭,৯০০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, বিজয়নগরম : অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিজয়নগরম জেলার ভোগাপুরামে ‘আল্লুরি সীতারাম রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি তিনি ১৭ হাজার ৯০০ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু, উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু। বিমানবন্দরের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নতুন টার্মিনাল ও অন্যান্য পরিকাঠামো পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরম্পরাগত ‘ধিমসা’ নৃত্য পরিবেশন করেন হাজার হাজার আদিবাসী শিল্পী। তাঁদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৩ হাজারেরও বেশি আদিবাসী মহিলার অংশগ্রহণ, নিষ্ঠা এবং নিজেদের সংস্কৃতির প্রাণবন্ত উপস্থাপনা সত্যিই অনন্য। এই পরিবেশনা ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আদিবাসী ঐতিহ্য সংরক্ষণের উজ্জ্বল উদাহরণ। উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে সব প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে, তার মধ্যে বিমানবন্দর, সড়ক পরিকাঠামো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি আরও বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তিশালী পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এই উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে উন্নয়নের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
হিন্দু রাষ্ট্র বা রাজতন্ত্রের পক্ষে নয় নেপাল সরকার, স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, কাঠমান্ডু : নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর সরকার দেশে হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে নয়। তাঁর বক্তব্য, হিন্দু রাষ্ট্রের প্রশ্নটি রাজতন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পথে এগোনো দেশের স্বার্থে উপযুক্ত হবে না। শুক্রবার মধেশকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ফেডারেল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বৈঠকে উপস্থিত জনতা সমাজবাদী পার্টির মহাসচিব রামকুমার শর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকার হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনও পরিকল্পনা করছে না। তাঁর মতে, তরাই-মধেশ অঞ্চলে হিন্দু রাষ্ট্রের দাবির প্রেক্ষাপট যেমন একরকম, পাহাড়ি অঞ্চলে তার ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক তাৎপর্য ভিন্ন। হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্ন সামনে চলে আসবে, যা ফেডারেল কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। সেই কারণেই সরকার এ ধরনের কোনও পদক্ষেপের পক্ষে নয়। জাতীয় মুক্তি পার্টি নেপালের সভাপতি রাজেন্দ্র মহতো জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পুনরায় আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি এবং তাঁর দল ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সরকারের যে সব চুক্তি হয়েছে, সেগুলিও দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু অসাধু শক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অপচেষ্টা রুখতে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তরাই-মধেশ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনে সরকার সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেন। অন্যদিকে, মধেশকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা বৈঠকে সুনসরি জেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে হওয়া সমঝোতা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে একাধিক চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার যেন সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না করে এবং বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে।