ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, প্রায় আট লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
সকাল সকাল ডেস্ক, ভুবনেশ্বর : ওড়িশার বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মহানদী অববাহিকার উজানে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসায় সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বৈতরণী নদী ও তার শাখা-প্রশাখাকে ঘিরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, রাজ্যের ৫৭টি ব্লকের প্রায় আট লক্ষ মানুষ বন্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মহানদী অববাহিকায় জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হীরাকুদ জলাধারের ১২টি স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়েছে। জলাধারে জলের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ১২টি গেট খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ২ লক্ষ ৬৮ হাজার মানুষ বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। জাজপুর জেলায় ব্রহ্মাণী, কানি এবং নুয়া মাহারা নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত সাতটি স্থানে জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে দশরথপুর ব্লক থেকে, যেখানে বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা সিরিজে খেলতে প্রস্তুত বুমরাহ, ফিটনেস পরীক্ষায় সবুজ সংকেত
সকাল সকাল ডেস্ক, বেঙ্গালুরু : শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে বড় স্বস্তি পেল ভারতীয় দল। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে ফিটনেস পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে জাতীয় দলে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন ভারতের তারকা পেসার জসপ্রিত বুমরাহ। সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফরে একদিনের সিরিজ চলাকালীন চোট পাওয়ায় তাঁর ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই চোটের কারণেই লর্ডসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় একদিনের ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ বলে জানিয়েছে বোর্ড। বিসিসিআই-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, জসপ্রিত বুমরাহ চোট কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন এবং সেন্টার অফ এক্সিলেন্স নির্ধারিত সমস্ত ফিটনেস পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। দলের পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টেই বুমরাহকে মাঠে দেখা যাবে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৫ আগস্ট গলে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২৩ আগস্ট থেকে কলম্বোতে।
আরও তিনটি দেহ উদ্ধার, ভিওয়ান্ডিতে বহুতল ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯
সকাল সকাল ডেস্ক, ভিওয়ান্ডি : মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে চারতলা একটি আবাসনের একাংশ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই বিপর্যয়ের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর নেতৃত্বে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ বালাজি নগর এলাকার ভান্ডারি কম্পাউন্ডে অবস্থিত কোহিনূর ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি অংশ আচমকাই ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পৌরসভার আধিকারিকদের মতে, চারতলা ওই ভবনে মোট ৪৮টি আবাসিক কক্ষ ছিল, প্রতিটি তলায় ১২টি করে ঘর। ভবনটিকে আগেই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে মেরামতির কাজ চলছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনের ভিতর থেকে বিকট ফাটল ধরার শব্দ শুনতে পান। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয়রা দ্রুত বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সবাই বেরিয়ে আসার আগেই ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকারী বাহিনী, দমকল এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, নাগরিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে জোর প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও সারের সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জানানো হয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, রান্নার গ্যাস এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস আমদানির উৎসও আরও বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে, যাতে কোনও একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত অপরিশোধিত খনিজ তেল মজুত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন রবি মরসুমে কৃষকদের জন্য সারের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, দেশের কোনও কৃষক যেন সারের অভাবে সমস্যায় না পড়েন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিরাপত্তা, জরুরি সহায়তা, পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের নাগরিক কিংবা বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে সৌরশক্তি-সহ নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব মন্ত্রক ও সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি নির্দেশ দেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেল ‘রামায়ণ’-এর প্রতীক্ষিত ট্রেলার
সকাল সকাল ডেস্ক, বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হল পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির মহাকাব্যভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: প্রথম পর্ব’-এর সরকারি ট্রেলার। ভারতীয় পুরাণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাহিনিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহৎ পর্দায় তুলে ধরার এই প্রয়াস ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রযোজক নমিত মালহোত্রার প্রাইম ফোকাস স্টুডিওস, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভিএফএক্স সংস্থা ডিএনইজি এবং যশের মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটির ট্রেলার হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম-সহ একাধিক ভারতীয় ভাষায় একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে সনি পিকচার্স, আর উত্তর ভারতে মুক্তির দায়িত্ব সামলাবে ধর্মা প্রোডাকশনস। আগামী দীপাবলিতে বিশ্বের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই দুই পর্বের চলচ্চিত্রের প্রথম অংশ। এই ছবিতে ভগবান রামের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে দেখা যাবে যশকে। এছাড়া রাজা দশরথের ভূমিকায় অরুণ গোভিল, লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে, কৈকেয়ীর ভূমিকায় শোভনা, ঋষি বিশ্বামিত্রের চরিত্রে আজিঙ্কা দেব, দেবরাজ ইন্দ্রের ভূমিকায় কুণাল কাপুর এবং শূর্পণখার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাকুল প্রীত সিং। চলচ্চিত্রের কাহিনিতে অযোধ্যা থেকে বনবাস, সীতাহরণ, ধর্ম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাবণের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ—সমস্ত ঘটনাই আধুনিক প্রযুক্তি ও দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চিত্রনাট্য লিখেছেন শ্রীধর রাঘবন। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অস্কারজয়ী হান্স জিমার এবং এ. আর. রহমান। প্রযোজক নমিত মালহোত্রা বলেন, ‘রামায়ণ’ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের দর্শকদের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি আন্তরিক প্রয়াস। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির কথায়, এই কালজয়ী মহাকাব্যকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সঙ্গে পর্দায় উপস্থাপন করাই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁর আশা, ছবিটি আবেগ, নির্মাণশৈলী এবং বিশ্বমানের উপস্থাপনার মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও সমানভাবে আকৃষ্ট করবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন অজিঙ্ক রাহানে
সকাল সকাল ডেস্ক, মুম্বই : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার ও প্রাক্তন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান। ভারতের জার্সিতে রাহানে ৮৫টি টেস্ট, ৯০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মোট রান ৫,০৭৭ এবং ব্যাটিং গড় ৩৮.৪৬। ভিডিও বার্তায় রাহানে বলেন, প্রতিটি যাত্রারই একসময় সমাপ্তি আসে এবং সেই সময়কে সম্মান জানানো প্রয়োজন। তাঁর কথায়, ব্যাটিং জীবনে যেমন সঠিক সময়জ্ঞানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও এটাই তাঁর কাছে উপযুক্ত সময় বলে মনে হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভারতীয় দলের হয়ে খেলার অধ্যায় শেষ হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। খেলাটি তাঁকে যে মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা দিয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি। পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা ভবিষ্যতেও বিভিন্নভাবে পালন করবেন বলেও জানান ভারতের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে দায়িত্বশীল ব্যাটিং, কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াকু ইনিংস এবং নেতৃত্বের গুণে ভারতীয় ক্রিকেটে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন রাহানে। তাঁর অবসরের ঘোষণার পর ক্রিকেট মহল এবং অনুরাগীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা আসতে শুরু করেছে।
বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদ চত্বরে বিরোধীদের বিক্ষোভ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টি
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : বাদল অধিবেশন চলাকালীন বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হল বিরোধী দলগুলি। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে দান সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁর সঙ্গে দলের আরও বহু সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে পেলেট গানের ব্যবহারকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের সাংসদ কে. সি. বেনুগোপাল প্রশ্ন তোলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতাকেও সংসদে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবলও একই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই পেলেট গানের ব্যবহার হয়ে থাকে এবং তার জেরে মানুষ আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায় কার, তা দেশের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেলেট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হলেও পরে আহতদের শরীরে তার প্রমাণ মিলেছে। এত বড় ঘটনার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল গান্ধীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিবল বলেন, বিরোধী দলনেতা যে বিষয়গুলি উত্থাপন করেছেন, তা আহত ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রী এবং মহিলাদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে এলেও সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে আলাদা বিক্ষোভ দেখান। ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ সংবিধানসম্মত অধিকারকে খর্ব করেছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য ব্যাখ্যার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ সংশোধনী বিল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আনা সংশোধনী বিল লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল বুধবার নিম্নকক্ষে অনুমোদন পায়। বৃহস্পতিবার বিলটি রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হবে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভের আবহ তৈরি হয়। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের আন্দোলন কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন প্রহ্লাদ জোশী। এরপরই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করতে সংশোধনী বিল সংসদে আনা হয়। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। তবে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে সেদিন একাধিকবার অধিবেশন মুলতুবি হওয়ায় বিল নিয়ে আলোচনা এগোয়নি। মঙ্গলবার থেকে বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয় এবং বুধবার তা ধ্বনিভোটে গৃহীত হয়। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। রাহুলের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি অভিযোগ করেন, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বিরোধী দলনেতার ক্ষমা চাওয়া উচিত। এ নিয়ে লোকসভায় শাসক ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে স্পিকার স্পষ্ট করে দেন, কোনও ঘটনার তদন্ত দাবি করা যেতে পারে, তবে প্রমাণ ছাড়া নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সংসদের নিয়মের পরিপন্থী। এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সংশোধনী বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা ঘাটতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রথম আইন প্রণয়ন করা হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সংশোধনীতে শাস্তি ও জরিমানার বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার হবে।
প্রায় ছয় দশকের সশস্ত্র হিংসার অবসান, ভারত এখন নকশাল-মুক্ত: সংসদে জানাল কেন্দ্র
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের নকশাল হিংসার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ভারত এখন সম্পূর্ণ নকশাল-মুক্ত বলে বুধবার সংসদে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, এক সময় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির অন্যতম ছিল নকশাল সমস্যা। তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগ এবং নকশাল দমনে ২০১৫ সালের জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ফলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে দেশের কোনও জেলাকেই আর নকশাল-কবলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যেখানে ১২৬টি জেলা নকশাল-কবলিত হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, সেখানে ২০২১ সালের জুলাইয়ে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৭০-এ। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তা কমে হয় ৩৮ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ মাত্র ৮টি জেলা ওই তালিকায় ছিল। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ সেই সংখ্যাও শূন্যে নেমে এসেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৩৭টি জেলাকে ‘লেগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলিকে আর নকশাল-প্রভাবিত বলা না হলেও, সেখানে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেন্দ্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া একটি জেলাকে ‘ডিস্ট্রিক্ট অফ কনসার্ন’ বা বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিস্তার এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় নকশাল কার্যকলাপ কার্যত নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সাফল্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দীর্ঘদিনের একটি বড় নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জের অবসান ঘটিয়েছে।
অসমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবুও সাত জেলায় জলবন্দি তিন লক্ষাধিক মানুষ
জল কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। সকাল সকাল ডেস্ক অসমে বন্যার জল ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও তিন লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে শিবসাগর জেলায় আরও সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জল নামতে শুরু করলেও বহু পরিবার এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শিবসাগর, গোলাঘাট, চড়াইদেও, যোরহাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ (মহানগর) জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যাকবলিত। মোট ২১টি রাজস্ব চক্রের ৬২২টি গ্রাম এখনও জলের নিচে রয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৩৪২ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জল কমলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বহু রাস্তা, বিদ্যালয় এবং সরকারি ভবন এখনও কাদা ও পলিতে ভরে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উজান অসমের চারটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যাও এই এলাকাগুলিতেই বেশি। শিবসাগরের নাজিরা এলাকায় এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না মিললে সরকারি নিয়ম মেনে তাঁদের মৃত ঘোষণা করে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হবে। নতুন সমস্যার মুখে দুর্গত মানুষ বন্যার জল নামার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বহু বাড়ি, বিদ্যালয় ও অন্যান্য ভবনের ভিতরে হাঁটুসমান পলি জমে রয়েছে। অনেক বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বহু পরিবার এখনও ত্রাণশিবিরেই অবস্থান করছে। পানীয় জল, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বর্তমানে ৮১টি ত্রাণশিবির এবং ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। মোট ১১৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ত্রাণশিবিরে বর্তমানে ৩২ হাজার ৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া আরও ১৬ হাজার ৩১৪ জন মানুষ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়ার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা, জেলা প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে কাজ করছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ১২৫টি চিকিৎসক দল দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে। উদ্ধারকাজে ২১টি নৌকা নিয়োজিত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধনশিরি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। তবে পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।