রাওয়ালকোটে পাক পুলিশের নির্বিচারে গুলি, নিহত ১৪ জন আন্দোলনকারী
সকাল সকাল ডেস্ক রাওয়ালকোট: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে পাক পুলিশের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১৪ জন আন্দোলনকারী মারা গিয়েছেন। জখম আরও অনেকে। সূত্রের খবর, সোমবার প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। আচমকাই তাঁদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয়। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি দাবি করেছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্য একটি সূত্রের খবর, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। ওই ঘটনার পরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় রাওয়ালাকোটে পুলিশের গুলিবর্ষণে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির অন্যতম সদস্য ইমতিয়াজ আসলাম বলেছেন, “পাকিস্তানের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের নিরীহ যুবকদের ওপর গুলি চালিয়েছে; এর ফলে আমাদের ১৪ জন তরুণ নিহত হয়েছেন। আমি প্রবাসী কাশ্মীরিদের কাছে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি: আপনারা অবশ্যই পাকিস্তানের দূতাবাস, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থা এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করুন।”
অস্ত্রের ঘাটতির জল্পনা উড়িয়ে ট্রাম্পের দাবি, ‘প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গোলা বারুদ রয়েছে’
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১৩ দিনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রয়োজনে যে কোনও সময় ফের হামলা শুরু করা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “বিশ্বের অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত আছে।” গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক পথ এখনও খোলা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে চান বলেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত একটি বড় সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হয়। প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও তাঁরা এটাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং প্রয়োজনে যে কোনও সময় নতুন করে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ-এর চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কিছুটা কমেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের মূল্যায়ন ভিন্ন। তাঁর মতে, গোলাবারুদের বর্তমান পরিস্থিতি বড় কোনও সামরিক সমস্যা তৈরি করবে না। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা হলে দেশটির পাল্টা বিমান হামলার সক্ষমতাই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। একদিকে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যেতে পারে। অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগও রয়েছে। তাঁর দাবি, “ইরান এখন চুক্তি করতে আগ্রহী।” বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অস্থির। কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে অঞ্চলটিতে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শতাব্দী প্রাচীন গাণিতিক সমস্যার সমাধান, ফিল্ডস মেডেলে সম্মানিত দুই চীনা গণিতবিদ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/বেইজিং: এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত থাকা জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে গণিতের সর্বোচ্চ সম্মান ফিল্ডস মেডেল অর্জন করলেন দুই চীনা গণিতবিদ হং ওয়াং ও ইউ দেং। তাঁদের এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে প্রথমবার কোনও চীনা গণিতবিদ ফিল্ডস মেডেল পেলেন। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি বছরের ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন মোট চারজন গণিতবিদ। হং ওয়াং ও ইউ দেং ছাড়াও সম্মানিত হয়েছেন মার্কিন গণিতবিদ জন পারডন এবং কানাডার জ্যাকব সিমারম্যান। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পদক ও ১৫ হাজার কানাডীয় ডলার করে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে গবেষণা ও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ৩৫ বছর বয়সী হং ওয়াং ফিল্ডস মেডেলজয়ী ইতিহাসের তৃতীয় নারী। তাঁর এই অর্জন চীনের গণিতচর্চার ক্ষেত্রেও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হং ওয়াং সহকর্মী জশ জালের সঙ্গে ১৯১৭ সালে জাপানি গণিতবিদ সোইচি কাকেয়ার উত্থাপিত বিখ্যাত কাকেয়া সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সমাধান উপস্থাপন করেন। প্রশ্নটি ছিল, একটি পেন্সিলকে সম্পূর্ণ একবার ঘোরাতে গেলে সর্বনিম্ন কতটুকু ক্ষেত্রফল প্রয়োজন। ওয়াং ও তাঁর সহকর্মী ত্রিমাত্রিক জ্যামিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যাটির নতুন সমাধান দেন এবং গত বছর সেই গবেষণা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ৩৭ বছর বয়সী ইউ দেং জার্মান গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্টের ১৯০০ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত হিলবার্টের ষষ্ঠ সমস্যা-র গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধনের জন্য এই সম্মান পেয়েছেন। গ্যাসের অণুগুলির আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে পৃথক কণার গতিবিধি থেকে একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার আচরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব। সম্মাননা পাওয়ার পর হং ওয়াং বলেন, বিভিন্ন শাখার বহু জটিল সমস্যার সঙ্গে এই গবেষণার সম্পর্ক রয়েছে, তাই বিষয়টি গবেষকদের দীর্ঘদিন ধরে আকৃষ্ট করে এসেছে। ইউ দেংও প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যাঁদের কাজ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাঁদের নামের পাশে নিজের নাম যুক্ত হওয়া তাঁর কাছে বিরাট সম্মানের। ফিল্ডস মেডেলকে গণিতের ‘নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি চার বছর অন্তর ৪০ বছরের কম বয়সী অসাধারণ কৃতিত্বপূর্ণ গণিতবিদদের এই সম্মান প্রদান করা হয়। দুই গবেষকের এই সাফল্য চীনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবো ও রেডনোটে ‘ফিল্ডস মেডেল’ এবং ‘প্রথম চীনা গণিতবিদদের ফিল্ডস মেডেল জয়’-সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই একে চীনের বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করেছেন। হং ওয়াং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অন্যদিকে, ইউ দেং স্কুলজীবন থেকেই গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিতেন। পরে এমআইটি ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।
সিয়াটলের খাদ্য উৎসবে বন্দুক বাজের হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৪
সকাল সকাল ডেস্ক সিয়াটল : ফের বন্দুকবাজের হামলায় রক্তাক্ত হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটল শহরের বিখ্যাত স্পেস নিডল-এর অদূরে অনুষ্ঠিত জনপ্রিয় খাদ্য উৎসব ‘বাইট অব সিয়াটল’-এ গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। সিয়াটল পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, সিয়াটল সেন্টারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তদন্ত চলছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ উৎসব চলাকালীন হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরপর সাত থেকে আটটি গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই উৎসবস্থলে হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টার-এ ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় সিয়াটল সেন্টারে শতাধিক খাদ্য স্টল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশন চলছিল। ফলে সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনার পর মানুষের প্রাণভয়ে দৌড়ে পালানোর দৃশ্য দেখা গেলেও, ওই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী এস্টান ওয়াকোনাবো জানান, গুলির শব্দ শোনামাত্রই চারদিকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং আতঙ্কিত মানুষ একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে তিনি একাধিক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের মধ্যে একজনের দেহ হলুদ চাদরে ঢাকা ছিল বলে তিনি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। হামলায় একাধিক বন্দুকধারী জড়িত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ‘বাইট অব সিয়াটল’ ১৯৮২ সাল থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে। তিন দিনব্যাপী এই জনপ্রিয় খাদ্য উৎসবে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ অংশ নেন। এবারের উৎসবে ঘটে যাওয়া এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইরান যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনার মৃত্যু, ৬২৪ জন আহত; সমালোচনার মুখে তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করল পেন্টাগন
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন : তীব্র সমালোচনার মুখে ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত নিহত ও আহত সেনাদের তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন। শনিবার প্রকাশিত সংশোধিত তথ্যে আরও ১৪০ জন আহত সেনা এবং গত সপ্তাহে ইরানের হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার নাম যুক্ত করা হয়েছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। সিএনএন ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন তাদের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম-এ নিহত ও আহত সেনাদের জন্য ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে একটি নতুন ট্র্যাকিং বিভাগ চালু করেছে। গত সপ্তাহে এই তথ্য প্রকাশে অসঙ্গতি নিয়ে পেন্টাগনকে সংবাদমাধ্যম ও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি লিখে তথ্য গোপনের অভিযোগে ব্যাখ্যা দাবি করেন। প্রতিরক্ষা দফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, ওয়েবসাইটে সাময়িক তথ্যগত সমস্যার কারণে প্রকৃত সংখ্যা দেখা যাচ্ছিল না। এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এই তথ্যভাণ্ডারের অসঙ্গতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। পরে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানান, ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম-এ সাময়িক তথ্যগত বিঘ্নের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি এই ইস্যুতে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সমালোচনাও করেন।
আমেরিকা-ইরান হামলা আপাতত বন্ধ, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিস্ফোরণে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/ওয়াশিংটন : পশ্চিম এশিয়ায় আপাতত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সামুদ্রিক মাইনে ধাক্কা লাগার পর প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। আমেরিকা আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছে। টানা প্রায় দু’সপ্তাহের বোমাবর্ষণের পর তেহরানও এই অঞ্চলে পাল্টা হামলা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসার খবর সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, আমেরিকা আগের আলোচনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তবে তা সত্ত্বেও তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সামুদ্রিক মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরণের মুখে পড়ে। তাদের দাবি, ট্যাঙ্কারটি ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে এগিয়ে যাচ্ছিল। টানা দু’দিন শান্ত থাকার পর হরমুজ প্রণালীতে এই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ রবিবার জানান, ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে টানা ১৩ রাত হামলা চালানোর পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সুযোগ দিতে ট্রাম্প প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে পাকিস্তান, কাতার এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ আমেরিকা ও ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে তাদের পাল্টা হামলাও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে তৈরি কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেই ছবিগুলিতে আমেরিকার সামরিক শক্তিকে তুলে ধরে দেশটিকে “বিশ্বের রক্ষক” হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ছবিগুলি আমেরিকার রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলগত বার্তাকেও তুলে ধরছে।
বার্লিনে উৎসবের ভিড়ে গাড়ি তুলে হামলা, নিহত ১, আহত অন্তত ১৬
সকাল সকাল ডেস্ক বার্লিন: জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ভিড়ের মধ্যে একটি গাড়ি উঠে যাওয়ার ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাকে সম্ভাব্য হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে জার্মান পুলিশ। শনিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গ গেট সংলগ্ন টিয়ারগার্টেনের দক্ষিণাংশে এই ঘটনা ঘটে। হতাহতের পরপরই অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং উপস্থিত মানুষকে শান্তভাবে এলাকা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাগেস স্পিগেল পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একটি সাদা রঙের ছোট গাড়ি হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। একাধিক মানুষকে চাপা দেওয়ার পর সেটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রোববার তিনি বলেন, অভিযুক্তকে ধরতে শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ওই ব্যক্তির ‘ইসলামিক বলয়ের’ সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ঘটনাস্থলের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে ২৫০টিরও বেশি যানবাহন প্রতিরোধক নিরাপত্তা ব্যারিয়ার বসানো ছিল এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিও চলছিল। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে একটি গাড়ি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। ঘটনার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা চালানো হয়। পুলিশি হেলিকপ্টার নিচু দিয়ে টহল দেয়, সার্চলাইট ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয় এবং ড্রোন মোতায়েন করা হয়। জার্মান পার্লামেন্ট ভবন রাইখস্টাগ সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়। ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ জার্মানিতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সমঅধিকার, বৈষম্যের অবসান এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার দাবিতে পালিত একটি বার্ষিক উৎসব। এ উপলক্ষে বার্লিন ও কোলনে সবচেয়ে বড় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস একে “ভয়ংকর অপরাধ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনারও এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি আমাদের স্বাধীন ও উন্মুক্ত সমাজের ওপর সরাসরি আঘাত। শান্তিপূর্ণ ও বর্ণিল এই সমাবেশকে নৃশংসভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।”
মিলেই ও নেতানিয়াহুর সমর্থনে ব্রাজিলে নির্বাচনী প্রচার শুরু ফ্লাভিও বলসোনারোর
সকাল সকাল ডেস্ক ব্রাসিলিয়া: ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ একাধিক বিদেশি নেতার সমর্থন পেয়েছেন তিনি। শনিবার লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন ফ্লাভিও। সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি দলীয় সম্মেলন নয়, বরং আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা। এটি ভালো ও মন্দের মধ্যকার এক সংগ্রাম।” সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় ফ্লাভিও বলসোনারো এখনও প্রেসিডেন্ট লুলার থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিতর্ক ও ধারাবাহিক ধাক্কার কারণে তাঁর প্রচারাভিযানও প্রত্যাশিত গতি পায়নি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থনের বার্তা তুলে ধরা হলেও ব্রাজিলের মূলধারার বহু রাজনৈতিক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। মধ্য-ডানপন্থী দলগুলির বড় অংশও এখনও ফ্লাভিওর প্রচার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। কারাবন্দি থাকায় সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। তাঁর পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে হাভিয়ের মিলেই প্রেসিডেন্ট লুলার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ফ্লাভিও বলসোনারোই ব্রাজিলকে “সমাজতন্ত্রের হাত” থেকে রক্ষা করতে পারবেন। ব্রাজিল সফরে এসে তিনি সাও পাওলোর গভর্নর তারসিসিও দে ফ্রেইতাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তায় ফ্লাভিওকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আপনি ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য একজন অসাধারণ ব্যক্তি এবং আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বেরও দৃঢ় সমর্থক।” এদিকে প্রেসিডেন্ট লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী ২ আগস্ট জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করছে। সেখানে ৮০ বছর বয়সি লুলার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লাভিও বলসোনারো ও তাঁর শিবিরের বিরুদ্ধে সমালোচনাও বাড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিদেশি সমর্থন কামনা করছেন, যা অনেকের মতে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত। এছাড়া, বাবার মতোই ফ্লাভিওও ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাঁরা দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্বাচন-সংক্রান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে ট্রাম্পের বিরোধিতাও করব: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি বা সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করতেও পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া তাঁর প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। বার্নহ্যাম জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক ইতিবাচক ছিল এবং ট্রাম্পকে তাঁর কাছে ‘খুবই আন্তরিক’ মনে হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ওপর তিনি আস্থা রাখেন কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, তাই বাস্তবতার নিরিখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সোমবার সম্প্রচারিত হতে যাওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, “আমি কখনও বলতে পারি না যে ট্রাম্পের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য হবে না। ব্রিটেনের স্বার্থে প্রয়োজন হলে অবশ্যই ভিন্ন মত প্রকাশ করব।” নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেই অবস্থান বদলাবে না। দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে বার্নহ্যাম স্পষ্ট বলেন, “অবশ্যই। যে কোনও সরকারের প্রথম দায়িত্ব নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।” ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর কাছে যা সঠিক বলে মনে হবে, তা বলতে তিনি কখনও দ্বিধা করবেন না। তবে প্রতিরক্ষা খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের প্রথম লক্ষ্য হবে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। চলতি বছরের শেষের দিকে বাজেট ঘোষণার আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণ হবে কি না—এই প্রশ্নে বার্নহ্যাম বলেন, “আমাদের সেই পথ খুঁজে বের করতেই হবে।” এদিকে ২০২৯ সালের আগে আগাম সাধারণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে দেশের মানুষ নতুন নির্বাচন চায় না। তাই সরকারের মূল লক্ষ্য হবে দেশকে স্থিতিশীল করা এবং উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনা।
জার্মানিতে বাড়ির ছাদে ভেঙে পড়ল ব্যক্তিগত বিমান, নিহত ২
সকাল সকাল ডেস্ক বার্লিন: জার্মানির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার একটি ছোট ব্যক্তিগত বিমান আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির ছাদে ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওল্ডেনবুর্গের কাছে গ্যান্ডারকেজে এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি একটি বাড়ির ঢালু ছাদে সজোরে আছড়ে পড়ে এবং ছাদের ভিতরে ঢুকে যায়। প্রথমে পুলিশ জানিয়েছিল, বিমানে থাকা দুই আরোহীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অপরজন নিখোঁজ রয়েছেন। পরে ধ্বংসাবশেষ সরানোর দীর্ঘ ও জটিল অভিযানের পর নিশ্চিত করা হয়, দুর্ঘটনায় দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বয়স যথাক্রমে ৬৫ ও ৭৭ বছর। তাঁরা দু’জনেই জার্মানির ব্রেমেন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাড়িগুলি খালি করে দেওয়া হয়। ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।