মেক্সিকো সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মার্কিন উগ্র ডানপন্থীরা, অভিযোগ প্রেসিডেন্ট শেনবাউমের
US far-right groups plotting against Mexican government, accuses President Sheinbaum
আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশা ট্রাম্পের, আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত তেহরানের
Trump hopes for deal with Iran next week, Tehran hints at return to talks
পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ইইউ-র, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বন্ধ হতে পারে বাণিজ্যিক সুবিধা
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ/ব্রাসেলস : ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা বজায় রাখতে হলে পাকিস্তানকে মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে হবে। ইসলামাবাদকে এমনই স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান Kaja Kallas। সোমবার অনুষ্ঠিত অষ্টম ইইউ-পাকিস্তান কৌশলগত সংলাপে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা, অভিবাসন, টেকসই উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাজা কালাস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা অব্যাহত রাখতে হলে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকারের মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, “মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক মূল্যবোধের অংশ। এই ক্ষেত্রগুলিতে বাস্তব এবং পরিমাপযোগ্য উন্নতি আমরা দেখতে চাই।” বর্তমানে জিএসপি প্লাস কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তান ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়। অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে ইইউ-র সাম্প্রতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে এই সুবিধা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী Ishaq Dar এবং সেনাপ্রধান Asim Munir-এর কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে কাজা কালাস পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলি আঞ্চলিক অস্থিরতা ও চরমপন্থার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তিনি উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পথেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইইউ-র এই বার্তা শুধু মানবাধিকার ইস্যুতেই নয়, পাকিস্তানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জিএসপি প্লাস সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি, পাল্টা কুয়েত-বাহরিনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান/কুয়েত সিটি/মানামা : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলার অভিযোগের পর কুয়েত ও বাহরিনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর দাবি, ইরান কুয়েত, বাহরিন এবং সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছিল। সেই হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে আত্মরক্ষার স্বার্থে কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর বক্তব্য, ইরানের নিক্ষেপ করা বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তারা কঠোরতর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারের কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। এই অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নজরদারি ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো রয়েছে বলে পশ্চিমা দেশগুলির দাবি। ফলে সাম্প্রতিক সংঘাতে দ্বীপটি আবারও আন্তর্জাতিক নজরে এসেছে। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা চললেও সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকে—উত্তেজনা প্রশমিত হবে, নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেবে, সেটাই দেখার।
ভারত-সহ ৬০ দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকার, নতুন চাপের মুখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
সকাল সকাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে আমেরিকার প্রস্তাবিত শুল্কনীতি। ভারত-সহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ধরে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতরের (ইউএসটিআর) অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রম বা ‘ফোর্সড লেবার’-এ তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিন শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডা, ব্রিটেন, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মতো কয়েকটি দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে ভারত-সহ ৫৪টি দেশের আমদানির ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিষয়টি নিয়ে জনমত গ্রহণ, শুনানি এবং পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলবে। সেই কারণে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে একাধিক স্তরের আলোচনা বাকি রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এই সুপারিশ করা হয়েছে। ইউএসটিআরের দাবি, বহু দেশ তাদের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে পর্যাপ্ত কঠোরতা দেখাতে পারেনি। সেই কারণেই বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রস্তাব এমন সময় সামনে এসেছে যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির অধিকাংশ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই সমঝোতা তৈরি হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে মার্কিন অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতির কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিনির্ভর কয়েকটি খাত বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ইরানের হামলায় কুয়েত-বাহরাইনে আতঙ্ক, মার্কিন বাহিনীর দাবি ড্রোন-মিসাইল ভূপাতিত; লেবাননে বিস্ফোরণে নিহত ৫
Iran attack causes panic in Kuwait and Bahrain, US forces claim to have shot down drone and missile; 5 killed in explosion in Lebanon
বালোচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৭ বিদ্রোহী নিহত
17 militants killed in Pakistani security forces operation in Balochistan
তালিবান-পাক সংঘর্ষে তিন মাসে নিহত ৩৭২ আফগান নাগরিক : ইউএনএএমএ রিপোর্ট
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আফগানিস্তানে তালিবান বাহিনী ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩৭২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর মানবাধিকার বিভাগের এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ধসের কবলে নেপালের মুক্তিনাথ যাওয়ার পথ, মাঝরাস্তায় আটকে বহু পুণ্যার্থী
Nepal’s Muktinath road hit by landslide, many pilgrims stranded in the middle of the road
পাকিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২ পুলিশকর্মী-সহ মৃত অন্তত ৭
At least 7 dead, including 2 policemen, in deadly blast in Pakistan